রমাদানের ২৪ ঘণ্টা সঠিকভাবে কাটানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা ও ইবাদতের পরিকল্পনা।
Key Takeaways
- রমাদানের প্রতিটি সময়কে পরিকল্পনা করে ইবাদতে ব্যয় করা উচিত।
- সালাত জামাতে মসজিদে আদায় করার গুরুত্ব অপরিসীম।
- কুরআন তিলাওয়াত ও দ্বীনি জ্ঞান অর্জন রমাদানের বড় লাভ।
- মিথ্যা ও গীবত থেকে বিরত থাকা রোজার সওয়াব অর্জনে সহায়ক।
- সাদাকা ও দানশীলতা বৃদ্ধি করে সমাজের দুর্বলদের সাহায্য করা প্রয়োজন।
What the video covers
- রমাদান মাসে মুমিনের জন্য তাওবা, ইবাদত ও পরিকল্পনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- রাতের তারাবি আদায় করে দ্রুত ঘুমানো ও সেহরির আগে তাহাজ্জুদ আদায় করার পরামর্শ।
- পাঁচ ওয়াক্ত সালাত জামাতে মসজিদে আদায় করা রমাদানের সবচেয়ে বড় অর্জন।
- কুরআন তিলাওয়াত, তাফসীর অধ্যয়ন ও দ্বীনি লেকচার শুনে সময় কাটানো উচিত।
- মিথ্যা, গীবত, চুগলখুরি থেকে দূরে থাকা ও জবানের হেফাজত করা আবশ্যক।
- সাদাকা ও দানশীলতা বাড়ানো, বিশেষ করে গরীবদের সাহায্য করা।
- ইফতার সময় সঠিক নিয়ম মেনে ইবাদত ও পারিবারিক আলোচনা করা।
- রমাদানের প্রতিটি মুহূর্ত মূল্যবান, অনর্থক কাজে সময় নষ্ট করা যাবে না।
- তাওবা ও ইস্তেগফার রমাদানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল।
- আল্লাহর রহমত ও ক্ষমার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাতে হবে।
Full Transcript — Download SRT & Markdown
Speaker A
নাহমাদুহু ওয়ানুসাল্লি আলা রাসূলিহিল কারীম আম্মাবাদ।
Speaker A
মুসলিম উম্মাহর জীবনে প্রতি বছর রমাদান আসে রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের বার্তা নিয়ে।
Speaker A
দুর্ভিক্ষ, মহামারী আর বিপর্যয়ের এই কঠিন সময়ে যথারীতি আমাদের দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র মাহে রমাদান।
Speaker A
কষ্ট ও পেরেশানির এই দুর্দিনে রমাদান নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের এক বড় নেয়ামত।
Speaker A
প্রিয় ভাই, মুমিনের জীবনে রমাদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এই মাসেই সে তার পুরো বছরের পুঁজি সংগ্রহ করে।
Speaker A
অতীতের সব গুনাহ থেকে তাওবা করে নতুন করে জীবন শুরু করার শপথ গ্রহণ করে, তাই খুব সতর্কতার সাথে হিসাব করে পরিকল্পনা মাফিক এই মাস অতিবাহিত করতে না পারলে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করা যায় না।
Speaker A
উপকৃত হওয়া যায় না রমাদানের আসমানী বরকত থেকে।
Speaker A
মুসলিম ভাইয়েরা, রমাদানের ২৪ ঘণ্টা কিভাবে কাটাবেন এই নিয়ে আজ আমরা সংক্ষিপ্ত কিছু আলোচনা করব।
Speaker A
রাতে তারাবি আদায় করে দ্রুত ঘুমিয়ে পড়ুন।
Speaker A
অনর্থক গল্প গুজব করে সময় নষ্ট করবেন না।
Speaker A
দিনে ঘুমানোর চেয়ে রাতে ঘুমানো আপনার স্বাস্থ্যের জন্য অধিক উপকারী আর এতে আপনার সময়ও প্রচুর সাশ্রয় হবে।
Speaker A
শেষ রাতে সেহরি খাওয়ার জন্য একটু আগে ভাগে উঠে পড়ুন যাতে দু-চার রাকাত তাহাজ্জুদ আদায় করা যায়।
Speaker A
জাগতে না পারার আশঙ্কা থাকলে প্রয়োজনে অ্যালার্ম সেট করে রাখুন।
Speaker A
তাহাজ্জুদ আদায়ের পর আল্লাহর দরবারে প্রাণ ভরে দোয়া করুন নিজের জন্য, পরিবারের জন্য এবং সর্বোপরি মুসলিম উম্মাহর সর্বাঙ্গীন কল্যাণ ও সাফল্যের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করুন।
Speaker A
আপনার অতীত জীবনের গুনাহগুলোর কথা স্মরণ করে কাঁদুন, অশ্রু ঝরান, রোনাজারি করুন।
Speaker A
সুনানে তিরমিজিতে বর্ণিত একটি সহীহ হাদীস এসেছে।
Speaker A
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, জাহান্নামের আগুন দুটি চোখকে স্পর্শ করবে না।
Speaker A
যে চোখ আল্লাহর ভয়ে কাঁদে এবং যে চোখ আল্লাহর রাস্তায় পাহারা দিয়ে নির্ঘুম রাত যাপন করে।
Speaker A
সেহরি দেরি করে খাওয়া সুন্নাহ, তাই আগে ভাগে সেহরি না খেয়ে শেষ সময়ে খাবেন।
Speaker A
সাবধান, সেহরি খাওয়ার পর কখনো বিছানায় শোবেন না।
Speaker A
এতে আপনার চোখে ঘুম নেমে আসতে পারে এবং এতে ফজরের সালাত কাযা হয়ে যেতে পারে।
Speaker A
রমাদানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো পাঁচ ওয়াক্ত সালাত জামাতের সঙ্গে মসজিদে আদায় করা।
Speaker A
খেয়াল রাখবেন, রমাদানের পুরো মাসে এক ওয়াক্ত সালাতের জামাতও যেন আপনার ছুটে না যায়।
Speaker A
যদি এই মাসে জামাতের সালাতে অভ্যস্ত হয়ে উঠতে পারেন, তবে এটিই হবে রমাদানে আপনার সবচেয়ে বড় অর্জন।
Speaker A
করোনা পরিস্থিতির কারণে যদি মসজিদে সালাত আদায় করতে না পারেন, তবে অন্তত বাসায় হলেও জামাত করার চেষ্টা করুন।
Speaker A
ফজরের সালাত পড়ে সাথে সাথে না ঘুমানো ভালো, সময়টি অনেক বরকতপূর্ণ।
Speaker A
এই সময় আপনি সকালের আজকার আদায় করতে পারেন, কুরআন তিলাওয়াত করতে পারেন।
Speaker A
দ্বীনি কিতাবাদি অধ্যয়ন করতে পারেন, একেবারে ইশরাকের সালাত আদায় করে ঘুমাতে পারলে ভালো।
Speaker A
ইশরাকের পর অ্যালার্ম সেট করে ঘুমিয়ে পড়ুন।
Speaker A
রাত আর দিন মিলিয়ে সাত-আট ঘণ্টার বেশি ঘুমানোর দরকার নেই।
Speaker A
রমাদানের প্রতিটি মুহূর্তই খুবই মূল্যবান, তাই প্রতিটি সেকেন্ড থেকে উপকৃত হওয়ার চেষ্টা করুন।
Speaker A
রমাদানের অত্যন্ত মৌলিক একটি আমল হলো তিলাওয়াত।
Speaker A
রমাদান পুরো কুরআন অন্তত একবার হলেও খতম করার চেষ্টা করুন।
Speaker A
প্রতিদিন নিয়ম করে অন্তত এক পারা তিলাওয়াত করুন।
Speaker A
কোন কোন সময় তিলাওয়াত করবেন তার জন্য একটি সময় নির্ধারণ করে নিন।
Speaker A
অনেক ভাই আছেন যারা এখনো তিলাওয়াত করতে পারেন না।
Speaker A
এটি দ্বীনের প্রতি অনেক বড় একটি অবহেলা।
Speaker A
রমাদান তাদের জন্য অনেক বড় একটি সুযোগ।
Speaker A
কোন ওস্তাদ ধরে এই রমাদানে কুরআন শিখে নিন।
Speaker A
প্রাথমিকভাবে অন্তত চারটি সূরা বিশুদ্ধ উচ্চারণে শিখে নিন যাতে সালাত আদায় করতে পারেন।
Speaker A
শুধু এক ধরনের ইবাদত করলে একঘেয়েমি চলে আসতে পারে।
Speaker A
তাই সময়গুলোকে বিভিন্ন ধরনের ইবাদতের জন্য ভাগ করে নিন।
Speaker A
কিছুক্ষণ তিলাওয়াত করুন, কিছুক্ষণ কুরআন তরজমা ও তাফসীর অধ্যয়ন করুন।
Speaker A
কিছু সময় দ্বীনি কিতাবাদি পড়ুন।
Speaker A
একেবারে বেশি ক্লান্ত হয়ে গেলে নির্ভরযোগ্য শায়েখদের লেকচার শুনুন।
Speaker A
খেয়াল রাখবেন, রমাদানের একটি মুহূর্তও যেন অনর্থক বরবাদ না হয়।
Speaker A
সম্ভব হলে রমাদান উপলক্ষে ইন্টারনেট থেকে একেবারে বিদায় নিন।
Speaker A
ফেসবুক, ইউটিউব ইত্যাদির প্রতি আসক্তি আপনার রমাদানকে বরবাদ করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।
Speaker A
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের সবাইকে হেফাজত করুন।
Speaker A
জবানের হেফাজত করুন, মিথ্যা, পরনিন্দা, গীবত, চুগলখুরির মত জঘন্য গুনাহ থেকে নিজেকে দূরে রাখুন।
Speaker A
এসবের কারণে আপনি রোজার সওয়াব থেকে বঞ্চিত হবেন।
Speaker A
সহীহ বুখারীতে এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন।
Speaker A
যে ব্যক্তি মিথ্যা বলা ও সে অনুযায়ী আমল বর্জন করেনি, তার পানাহার পরিত্যাগ করায় আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।
Speaker A
রমাদানের একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো সাদাকা।
Speaker A
আশপাশের গরীব মিসকিনদের খোঁজ খবর নিন, তাদেরকে সাধ্যমত সাহায্য করুন।
Speaker A
তারা যেন সুন্দরভাবে রমাদানের সাওমগুলো আদায় করতে পারে।
Speaker A
সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম এসেছে, হযরত আব্বাস রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বলেন।
Speaker A
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন সর্বাধিক দানশীল, রমাদান মাসে তার দানশীলতা অন্যান্য মাসের চেয়ে বেড়ে যেত।
Speaker A
আসরের পরের সময়টি দোয়া, তিলাওয়াত ও আজকার আদায় করে কাটান।
Speaker A
ইফতার প্রস্তুতিতেও অংশ নিতে পারেন।
Speaker A
ইফতারের সময় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইফতার করে নিন।
Speaker A
ইফতার দেরি করা সুন্নাহ।
Speaker A
ইফতার এত বেশি দীর্ঘ করবেন না যাতে মাগরিবের সালাত কাযা হয়ে যায়।
Speaker A
মাগরিবের সালাতের পর পরিবারের লোকদের সঙ্গে দ্বীনি আলোচনা করতে পারেন।
Speaker A
রিয়াদুস সালিহীন ইত্যাদির মত কোন কিতাব থেকে তালিম করতে পারেন কিংবা অন্য কোন ইবাদতও করতে পারেন।
Speaker A
তারপর যথারীতি ইশার সালাত ও তারাবি আদায় করুন।
Speaker A
খেয়াল রাখবেন, পুরো রমাদানে একদিনও যেন তারাবি মিস না হয়।
Speaker A
তারাবির পর দ্রুত ঘুমিয়ে পড়ুন যাতে শেষ রাতে দ্রুত জেগে উঠতে পারেন।
Speaker A
রমাদানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো তাওবা ও ইস্তেগফার।
Speaker A
তাই রমাদান জুড়েই আপনার চিন্তা থাকবে কিভাবে অতীতের গুনাহগুলো সম্পূর্ণভাবে মাফ করানো যায়।
Speaker A
রমাদান পেয়েও যে নিজের গুনাহ মাফ করাতে পারলো না তার ব্যাপারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদদোয়া করেছেন।
Speaker A
তাই আমাদের খুবই সতর্ক থাকতে হবে।
Speaker A
প্রিয় ভাই, উল্লেখিত নীতিমালার আলোকে আপনি নিজের জন্য ২৪ ঘণ্টার একটি রুটিন তৈরি করে নিন।
Speaker A
এই মাসে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন অনেক মুমিনকে ক্ষমা করে দেবেন।
Speaker A
সুনানে তিরমিজিতে বর্ণিত একটি সহীহ হাদীস এসেছে।
Speaker A
রমাদানের প্রথম রাত যখন শুরু হয় আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন ঘোষক ঘোষণা করেন।
Speaker A
হে কল্যাণ প্রত্যাশী! কল্যাণের দিকে অগ্রসর হও! হে গুনাহের ইচ্ছা পোষণকারী! গুনাহ থেকে বিরত হও! আর আল্লাহর পক্ষ থেকে এই মাসে জাহান্নাম থেকে বহু লোককে মুক্তি দেওয়া হয়।
Speaker A
প্রিয় ভাই, আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যেতে হবে আল্লাহর সৌভাগ্যবান মুক্তিপ্রাপ্ত বান্দাদের তালিকায়।
Speaker A
আল্লাহ যেন আমাদের নামটি অন্তর্ভুক্ত করেন।
Speaker A
আল্লাহ তা'আলা আমাদের সবাইকে আমল করার তৌফিক দিন।
Speaker A
আমিন ইয়া রাব্বাল আলামীন।
Topics:রমাদানইবাদততাহাজ্জুদতারাবিসালাতকুরআন তিলাওয়াতসাদাকাতাওবাইস্তেগফারমসজিদে জামাত











