নেপোলিয়ন হিলের ২৫ বছরের গবেষণায় সফলতার গোপন রহস্য উন্মোচন। কোটিপতিদের অভ্যাস ও মনোভাব নিয়ে অনুপ্রেরণামূলক বক্তৃতা।
Key Takeaways
- সফলতা একটি বিজ্ঞান যা নির্দিষ্ট নিয়ম ও ফর্মুলা অনুসরণ করে অর্জিত হয়।
- লক্ষ্যের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস ও প্রতিদিন লক্ষ্য নিয়ে চিন্তা করা অপরিহার্য।
- জ্ঞান নয়, সঠিক জ্ঞান ও তার ব্যবহারই শক্তি।
- টাকার সাথে ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে তোলা দরকার।
- সময় ব্যবস্থাপনা ও ধৈর্য্য সফলতার মূল চাবিকাঠি।
What the video covers
- নেপোলিয়ন হিল ৪৫ বছরের গবেষণায় ৫০০ কোটিপতিকে নিয়ে সফলতার রহস্য অনুসন্ধান করেছেন।
- সফলতা দুর্ঘটনা নয়, এটি একটি বিজ্ঞান এবং নির্দিষ্ট ফর্মুলা অনুসরণ করে অর্জিত হয়।
- এন্ড্রু কার্নিগি, থমাস এডিসন, হেনরি ফোর্ড, কর্নেল স্যান্ডার্সের জীবনী থেকে শিক্ষা নেওয়া হয়েছে।
- লক্ষ্যের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস ও প্রতিদিন নিজের লক্ষ্য নিয়ে চিন্তা করা গুরুত্বপূর্ণ।
- জ্ঞানই শক্তি নয়, সঠিক জ্ঞান এবং তা ব্যবহার করাই সফলতার চাবিকাঠি।
- অব্যাহত পরিশ্রম ও ধৈর্য্য ছাড়া সফলতা আসে না, অনেক সময় সফলতা মাত্র কয়েক ধাপ দূরে থাকে।
- টাকার সাথে সঠিক সম্পর্ক গড়ে তোলা জরুরি, টাকা একটি শক্তিশালী হাতিয়ার।
- প্রয়োগিত বিশ্বাস বা অ্যাপ্লাইড ফেথের মাধ্যমে নিজের লক্ষ্যে বিশ্বাস রাখা এবং কাজ চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।
- টাইম ম্যানেজমেন্ট ও অপ্রয়োজনীয় সময় অপচয় কমিয়ে নতুন কিছু শেখার উপর ফোকাস করতে হবে।
- নেপোলিয়ন হিল সফল মানুষের অভ্যাস সংগ্রহ করে তা বাস্তবে প্রয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
Chapters
- 00:00সফলতার রহস্য ও নেপোলিয়ন হিলের পরিচিতি
- 00:38ব্যক্তিগত সংগ্রাম ও সফলতার পথে বাধা
- 01:13এন্ড্রু কার্নিগির সাথে সাক্ষাৎ ও গবেষণার শুরু
- 01:45সফলতার বিজ্ঞান ও থমাস এডিসনের উদাহরণ
- 02:29লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতি ও জ্ঞানের সঠিক ব্যবহার
- 03:24ধৈর্য্য, পরিশ্রম ও কর্নেল স্যান্ডার্সের গল্প
- 04:36টাকার সাথে সম্পর্ক ও প্রয়োগিত বিশ্বাস
- 05:08হেনরি ফোর্ডের আত্মবিশ্বাস ও টাইম ম্যানেজমেন্ট
- 05:59সফল মানুষের অভ্যাস ও দর্শকের জন্য বার্তা
Full Transcript — Download SRT & Markdown
Speaker A
আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন কেন কিছু সংখ্যক মানুষ সবকিছুতেই সফল হয়ে যায় আর বাকিরা কেন সারাজীবন শুধু কষ্ট আর হতাশা বয়ে বেড়ায়? আমি নেপোলিয়ন হিল। গত 45 বছরে 500রও বেশি কোটিপতিকে নিয়ে গবেষণা করেছি, ঘাটাঘাটি করেছি তাদের একেকটি সিঙ্গেল বিষয় নিয়ে। এন্ড্রু কার্নিগি থেকে শুরু করে হেনরি ফোর্ট, থমাস এডিসন থেকে থিওডর রুজওল্ট। আজ আমি আপনাদের সামনে সেই রহস্যগুলো উন্মোচন করব, যেগুলো খুঁজতে আমি আমার পুরোটা জীবন ব্যয় করেছি। তাই যদি আপনি আগামী কয়েক মিনিট আমার সাথে থাকেন, তবে আমি কথা দিচ্ছি আজকের পর আপনি
Speaker A
আর সেই আগের মানুষটি থাকবেন না। শুরুতেই একটি বিষয় পরিষ্কার করে বলতে চাই যে আমি জানি আপনি এখানে কেন এসেছেন। কারণ আপনি ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। রোজ সকালে ঘুম থেকে ওঠেন। তারপর সেই একই কাজ, একই মানুষ, একই সমস্যা। এরপর যখন ব্যাংক ব্যালেন্স
Speaker A
চেক করেন, তখন মনটা ভেঙে যায়। টেনশনও বেড়ে যায়। বড় স্বপ্ন দেখছেন ঠিকই, কিন্তু সামনে এগোনোর পথ খুঁজে পাচ্ছেন না। অন্যদিকে আপনার বাবা-মা অনেক আশা নিয়ে বসে আছে। আপনি নিজেও নিজেকে অনেক কথা দিয়েছেন। কিন্তু একটার পর একটা মাস কোনমতে কেটে যাচ্ছে। আর সবচেয়ে খারাপ
Speaker A
লাগে যখন আপনি জানেন যে আপনার ভেতরে প্রতিভা আছে। কিন্তু সেটা প্রকাশ পাচ্ছে না। কি? আমি ঠিক বলছি তো? যদি আপনার সাথেও এমনটা হয়, তাহলে শুনুন। যখন আমার বয়স ছিল 25 বছর, তখন আমার কাছে কিছুই ছিল না। না ছিল টাকা-পয়সা, কারো সাথে যোগাযোগ তো
Speaker A
দূরের কথা। একটা ডিগ্রীও ছিল না। কিন্তু 1908 সালে আমার দেখা হলো পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি এন্ড্রু কার্নিগির সাথে। তিনি আমাকে বললেন, নেপোলিয়ন, আমি তোমাকে একটা রহস্য বলছি। এই রহস্য এতটাই শক্তিশালী যে তুমি যদি এটা পৃথিবীকে জানিয়ে দাও, তবে
Speaker A
লাখ লাখ মানুষের জীবন বদলে যাবে। এরপর তিনি আমাকে একটা চ্যালেঞ্জ দিলেন। তিনি বললেন, তুমি কি কোন টাকা না নিয়ে 20 বছর ধরে এই রহস্যের উপর গবেষণা করতে পারবে?
Speaker A
কোন চিন্তাভাবনা না করে আমি নিমিষেই রাজি হয়ে গেলাম। এরপর পরবর্তী 25 বছরে আমি আমেরিকার প্রতিটি সফল মানুষের সাথে দেখা করেছি। প্রত্যেকের কাছে একটি প্রশ্ন করেছি। আপনি সফল হলেন কিভাবে? আর আজ আমি সেইসব রহস্য আপনাদের সামনে তুলে ধরছি। আমি
Speaker A
প্রথম যে বিষয়টি শিখেছি তা হলো সফলতা কোন দুর্ঘটনাক্রমে ঘটে যাওয়ার বিষয় নয়। এটি একটি বিজ্ঞান। বলতে পারেন একটি নির্দিষ্ট ফর্মুলা। যেমন পানি সবসময় 100 ডিগ্রিতেই ফোটে, তেমনি সাফল্যেরও কিছু নির্দিষ্ট লজ আছে। আর আপনি যদি সেই নিয়মগুলো মেনে চলেন,
Speaker A
তাহলে আপনি অবশ্যই সফল হবেন। এটা আমার ব্যক্তিগত কোন মতামত নয়। এটা আমার 25 বছরের গবেষণার ফল। আমি থমাস এডিসনকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, মিস্টার এডিসন, আপনি 10,000 বার ব্যর্থ হওয়ার পরেও হার মানেননি কেন? তিনি হেসে বললেন, নেপোলিয়ন, আমি কখনো ভাবিনি যে আমি হাঁটতে পারি। আমার
Speaker A
মাথায় তো শুধু বাল্বটি জ্বলতে থাকা অবস্থায় দেখা যেত। একবার নয়, বারবার, প্রতি রাতে, প্রতি সকালে। তাই সেটাকে তো বাস্তবে পরিণত হতেই হতো। আর এটা কোন জাদু নয়। আপনি যা ভাববেন, আপনার সাথে তাই ঘটবে। তাই প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে ওঠার সাথে
Speaker A
সাথেই পাঁচ মিনিট নিজের লক্ষ্যের কথা ভাবুন। কারণ যখন আপনি ভাববেন, তখন সেগুলো শুধু স্বপ্ন থাকে না। সেগুলো হবে মহাবিশ্বের কাছে আপনার কমিটমেন্ট। বাংলায় যাকে বলা হয় প্রতিশ্রুতি। তবে অনেক মানুষ মনে করে জ্ঞানই শক্তি। কিন্তু এটা পুরোপুরি ভুল। ওয়েট, আমি বুঝেই বলছি। ধরুন
Speaker A
আপনি রোজ লাইব্রেরিতে যান, যেখানে লাখ লাখ বই রাখা আছে। কিন্তু আপনি যদি না জানেন যে আপনাকে কোন বইটি পড়তে হবে কিংবা সেটি কিভাবে কাজে লাগাতে হবে, তাহলে সেই জ্ঞানের তো আর কোন মূল্য থাকবে না। তাই কতটুকু দরকার সেটা জানার আগে সর্বপ্রথম জানুন
Speaker A
আপনার কি দরকার। এন্ড্রু কার্নিগি কিন্তু খুব বেশি পড়াশোনা করেননি। কিন্তু তিনি নিজের চারপাশে এমন সব মানুষদের রেখেছিলেন যারা খুবই জ্ঞানী ছিল। আর তিনি মূলত তাদের আইডিয়াগুলোকেই ব্যবহার করতেন। আর আপনাকেও ঠিক সেটাই করতে হবে। পৃথিবীর প্রায় 99 শতাংশ মানুষ তখনই হার মেনে নেয় যখন তারা
Speaker A
সফলতা থেকে মাত্র কয়েক কদম দূরে থাকে। কর্নেল স্যান্ডার্সকে 109 বার রিজেকশন হতে হয়েছিল, যখন তিনি চিকেন রেসিপি বিক্রি করার চেষ্টা করেছিলেন। 65 বছর বয়সে তখন তিনি প্রায় নিঃস্ব, গৃহহীন ছিলেন। কিন্তু 110 তম বাড়ি গিয়ে তিনি হ্যাঁ শব্দটি শুনতে পান। এবং তার মাধ্যমেই
Speaker A
শুরু হয়েছিল বর্তমান বিশ্বে ফাস্টফুড জগতের সবচেয়ে পরিচিত ব্র্যান্ড কেএফসির যাত্রা। তাই যখনই আপনার মনে হবে যেসব ছেড়ে দিবেন, তখন মনে করবেন হয়তো পরের কদমেই আপনার জন্য সফলতা অপেক্ষা করছে। কিন্তু ছোটবেলা থেকে আমাদের শেখানো হয় টাকাই সবকিছু নয়। বেশিরভাগ ধনী মানুষরাই
Speaker A
খারাপ হয়, অহংকারী হয়। তাই টাকার পেছনে না ছুটে কঠোর পরিশ্রম করো, তাহলেই টাকা আসবে। যদিও এগুলো পুরোপুরি মিথ্যা নয়, কিন্তু এগুলো পুরোপুরি সত্যও নয়। কারণ সত্যিটা হলো টাকা এমন একটা হাতিয়ার বা টুল যা ভালো মানুষের সাথে থাকলে তা পৃথিবী
Speaker A
বদলে দিতে পারে। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষ টাকা পায় না, কারণ টাকার সাথে তাদের সম্পর্কটাই খারাপ। তারা মুখে বলে আমার টাকা চায়, কিন্তু মনে মনে ভাবে টাকাটাই হলো সব নষ্টের মূল। আর এই দ্বিধা আপনাকে কখনোই ধনী হতে দেবে না। একই সাথে বিশ্বাস
Speaker A
ছাড়া কিছুই সম্ভব নয়। তবে মনে রাখবেন আমি অন্ধবিশ্বাসের কথা বলছি না। আমি বলছি প্রয়োগিত বিশ্বাস বা অ্যাপ্লাইড ফেথের কথা। প্রয়োগিত বিশ্বাস মানে হলো আপনি কোন কিছুর উপর এতটাই বিশ্বাস করেন যে সে অনুযায়ী অ্যাকশন নিতে শুরু করেন। আমি হেনরি ফোর্ডকে জিজ্ঞেস করেছিলাম যে আপনি
Speaker A
কিভাবে এত আত্মবিশ্বাসী ছিলেন? যে ভিয়েট ইঞ্জিন তৈরি করা সম্ভব হবে, যেখানে বাকি সব ইঞ্জিনিয়াররা বলেছিল এটা প্রায় অসম্ভব। তিনি আমাকে বলেছিলেন, নেপোলিয়ন, আমি আমার মাথায় স্পষ্টভাবে সবকিছু দেখতাম। বারবার আমার মনে হতো এটা অলরেডি তৈরি হয়ে গেছে। তাহলে আমি কেন বাকি ইঞ্জিনিয়ারদের কথা
Speaker A
শুনবো? তাই বাকিদের কথা না শুনে আমি আমার মনের ডাকে সাড়া দিলাম। আর এক বছর পর ভিআইটি ইঞ্জিন তৈরি হয়ে গেল। তাই নিজের লক্ষ্যের উপর এতটাই বিশ্বাস রাখুন যেন কোন সন্দেহ আপনাকে স্পর্শ করতে না পারে। আর যখনই কেউ বলবে এটা সম্ভব নয়, তখন তাদের
Speaker A
কথায় কান্না দিয়ে চুপচাপ নিজের কাজ করে যান। ওয়ারেন বাফেট একবার বলেছিলেন, আমি এমন কোন মিটিং এ যাই না যেখানে আমার থাকা জরুরি নয়। স্টিভ জবস বলেছিলেন, আমি প্রতিদিন হাজারটি জিনিসকে না বলি যাতে হাতে গোনা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জিনিসকে হ্যাঁ বলতে পারি। তাই আজ থেকেই টাইম ম্যানেজমেন্ট শুরু করুন। লিখে রাখুন আগামী সাত দিন আপনি আপনার সময়গুলোকে কোথায় কোথায় ব্যয় করছেন। তারপর দেখুন কতটা সময় আপনি সোশ্যাল মিডিয়ায় অপ্রয়োজনীয় অথবা এমন সব মানুষদের সাথে কাটিয়েছেন যারা আপনাকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করছে না। তারপর সেই সময়গুলোকে ছাঁটাই করুন এবং সেগুলোকে
Speaker A
বিনিয়োগ করুন নতুন কিছু শেখার কাজে। কারণ পাঁচ বছর পর আপনি সেখানেই থাকবেন যেখানে আজ আপনি আপনার সময়কে বিনিয়োগ করছেন। আপনি যদি ভিডিওর এই পর্যন্ত চলে এসে থাকেন, তাহলে আমি বলব আপনি বাকিদের চেয়ে আলাদা। আপনি সেই 1% মানুষের মধ্যে একজন যারা শুধু
Speaker A
শোনে না, বরং কাজ করে দেখায়। দর্শক, নেপোলিয়ন হিল কোন জাদুকর ছিলেন না। তিনি ছিলেন একজন সংগ্রাহক। তিনি সেইসব সফল মানুষের অভ্যাসগুলো সংগ্রহ করেছিলেন যারা শূন্য থেকে শুরু করে সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছেছিলেন এবং তারা যদি পারে, আপনিও পারবেন। আপনার ভেতরে সেই শক্তি আছে, শুধু
Speaker A
প্রয়োজন সেগুলোর সঠিক ব্যবহার ও বাস্তব প্রয়োগ। আজকের মত এখানেই শেষ করছি, কিন্তু আপনার শুরুটা এখান থেকেই হলো। কমেন্টে লিখে জানাবেন কোন ব্যক্তির কোন অভ্যাসটি আপনার জীবন বদলে দিতে পারে। আপনার কমেন্টের অপেক্ষায় থাকবো। তো দেখা হচ্ছে পরবর্তী ভিডিওতে, ততক্ষণ পর্যন্ত সাবস্ক্রাইব করে
Speaker A
নগরবাসীর সাথেই থাকুন। ধন্যবাদ।
Speaker A
প্রয়োজন সেগুলোর সঠিক ব্যবহার ও বাস্তব প্রয়োগ আজকের মত এখানেই শেষ করছি কিন্তু আপনার শুরুটা এখান থেকেই হলো কমেন্টে লিখে জানাবেন কোন ব্যক্তির কোন অভ্যাসটি আপনার জীবন বদলে দিতে পারে আপনার কমেন্টের অপেক্ষায় থাকবো তো দেখা হচ্ছে পরবর্তী ভিডিওতে ততক্ষণ পর্যন্ত সাবস্ক্রাইব করে
Speaker A
নগরবাসপের সাথেই থাকুন। ধন্যবাদ।
Topics:নেপোলিয়ন হিলসফলতাকোটিপতিঅনুপ্রেরণামোটিভেশনাল স্পিচএন্ড্রু কার্নিগিথমাস এডিসনহেনরি ফোর্ডটাইম ম্যানেজমেন্টবিশ্বাস











