পৃথিবীর বিখ্যাত সেই ভাষণ! MARK ZUCKERBERG: Harvard Comm… — Transcript

মার্ক জাকারবার্গের হার্ভার্ড সমাবর্তন ভাষণ বাংলায়, স্বপ্ন, বিশ্বাস ও জীবনের উদ্দেশ্য নিয়ে অনুপ্রেরণা।

Key Takeaways

  • জীবনের উদ্দেশ্য শুধু চাকরি নয়, একটি বৃহত্তর লক্ষ্য থাকা উচিত।
  • ভয় ও ব্যর্থতা সত্ত্বেও স্বপ্নের প্রতি বিশ্বাস রাখতে হবে।
  • প্রযুক্তি মানুষের সংযোগ বাড়াতে পারে, কিন্তু সত্যিকারের সংযোগ গড়ে তোলা কঠিন।
  • নিজের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রেখে ধৈর্য্য ও পরিশ্রম করতে হবে।
  • একজন সাধারণ মানুষও বিশ্ব পরিবর্তনের জন্য বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

Summary

  • মার্ক জাকারবার্গের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৭ সালের সমাবর্তন ভাষণের বাংলা অনুবাদ।
  • জাকারবার্গের জীবনের সংগ্রাম, ড্রপআউট হওয়া এবং ফেসবুক গড়ে তোলার গল্প।
  • ভয়, অনিশ্চয়তা ও ব্যর্থতার মধ্যেও স্বপ্নের প্রতি বিশ্বাস রাখা জরুরি।
  • জীবনের লক্ষ্য শুধুমাত্র নিজের জন্য নয়, পুরো পৃথিবীকে বদলানোর জন্য হওয়া উচিত।
  • প্রিয়জনদের সঙ্গে সম্পর্ক এবং ক্যাম্পাস জীবনের স্মৃতি।
  • প্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষের সংযোগ এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের গুরুত্ব।
  • জাকারবার্গের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও প্রেরণামূলক বাণী তরুণদের উদ্দেশ্যে।
  • স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখা এবং থেমে না যাওয়ার বার্তা।
  • সমাজ ও পরিবার থেকে আসা চাপের বিরুদ্ধে লড়াই করার পরামর্শ।
  • একজন সাধারণ তরুণও বিশ্ব পরিবর্তনের অংশ হতে পারে।

Full Transcript — Download SRT & Markdown

00:01
Speaker A
আজকের এই ভিডিওটা হয়তো তোমার জীবনের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করে দিতে পারে। মনে করো তুমি বিশ্বের সবচেয়ে নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছো। হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি কতজনের স্বপ্ন, তাই না?
00:12
Speaker A
কিন্তু ভর্তি হয়ে তোমার ডিগ্রি কমপ্লিট না করেই মাঝপথে বিদায় জানিয়ে দিয়েছো। ঠিক সেই সময় লোকজন তোমাকে কি বলবে? বলবে যে পাগল নাকি? জীবনটাই তো শেষ করে দিলে। তাই না? এমনটা বলাই স্বাভাবিক এবং বাস্তবে একটি ছেলের সাথেও ঠিক এমনটাই হয়েছে।
00:27
Speaker A
কিন্তু কে জানতো? মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই সেই ছেলেটি উঠবে পৃথিবীর কনিষ্ঠতম বিলিয়নিয়ার। আর যে ওয়েবসাইটটা সে বানাতে শুরু করেছিল হার্ভার্ডের একটা ছোট্ট রুমে বসে, তা একদিন পৃথিবীর ৩০৬ কোটিরও বেশি মানুষকে একসাথে কানেক্ট করবে। হ্যাঁ, আমরা কথা বলছিলাম ফেসবুক আর তার প্রতিষ্ঠাতা
00:44
Speaker A
মার্ক জাকারবার্গের কথা। ফেসবুক হলো এমন একটা প্ল্যাটফর্ম যেখানে প্রতি মিনিটে ৪০ লক্ষ পোস্ট শেয়ার করা হয়। কিন্তু আজ আমরা তোমাকে সেই প্ল্যাটফর্মের গল্প বলবো না। আজ আমরা এসেছি কিভাবে ভয়ে, অনিশ্চয়তার, ব্যর্থতার মাঝেও নিজের স্বপ্নের উপর বিশ্বাস রেখে একতর নিজের
01:00
Speaker A
সাম্রাজ্য গড়ে তুলল সেই গল্পটি তোমাদের সঙ্গে শেয়ার করতে। ২০১৭ সালের ২৫ শে মে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৬৬ তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে মার্ক জাকারবার্গ একটি ঐতিহাসিক স্পিচ দিয়েছিলেন। তবে সেটা কোন প্রফেশনাল স্পিচ ছিল না। সেটি ছিল এক তরুণের আত্মা ছুঁয়ে যাওয়ার গল্প। যে নিজের সংগ্রাম, ব্যথা,
01:18
Speaker A
স্বপ্ন আর উদ্দেশ্য নিয়ে মুখ খুলেছিল। সেদিন তিনি বলেছিলেন, এই পৃথিবীতে টিকে থাকার জন্য শুধু একটি চাকরি নয়, দরকার একটি উদ্দেশ্য। আরো বলেছিলেন, আজকের তরুণদের স্বপ্ন দেখতে হবে শুধু নিজের জন্য না বরং পুরো পৃথিবীকে বদলে দেওয়ার জন্য। আজকের এই ভিডিওটা কেবল একটা কনটেন্ট না।
01:34
Speaker A
এটা হতে পারে তোমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো কিছু মিনিট। এখানে তুমি বুঝতে পারবে একটা ভিশন কিভাবে দুনিয়া বদলায়। একটা বিশ্বাস কিভাবে পথ তৈরি করে আর একটা ছোট্ট শুরু কিভাবে নিয়ে যেতে পারে অনেক বড় একটা জায়গায়। বন্ধুরা, স্বাগত
01:48
Speaker A
জানাচ্ছি নগরবেস্কোপের আজকের এই বিশেষ ভিডিওতে। তাহলে আর এক মুহূর্ত দেরি না করে মার্ক জাকারবার্গের সেই বিশ্বসেরা বক্তব্যটি বাংলার অনেক সহজ ভাষায় তোমাদের সামনে উপস্থাপন করছি। কন্ঠে আমি থাকলেও কথাগুলো থাকবে সব মার্ক জাকারবার্গের। তো চল শুরু করা যাক। এই জায়গাটা আমার খুব পছন্দের। আর এত
02:06
Speaker A
বৃষ্টির মধ্যে এখানে আসার জন্য তোমাদের অসংখ্য ধন্যবাদ। চেষ্টা করব তোমাদের আশাটা সার্থক বানাতে। আজ তোমাদের সঙ্গে থাকতে পেরে ভীষণ সম্মানিত বোধ করছি। কারণটা হলো তোমরা যে অর্জন করতে পেরেছ আমি তা পারিনি। আর আমি যদি এখানে আমার এই ভাষণটি আজ শেষ
02:21
Speaker A
করতে পারি তাহলে এটাই হবে সেই প্রথম জিনিস যেটা আমি হার্ভার্ড থেকে কমপ্লিট করতে পেরেছি। ২০১৭ সালের স্নাতক সম্পন্ন করা সকলকে অভিনন্দন জানাই। আর সমাবর্তন বক্তা হিসেবে আমি একটু বেমানান। এজন্য নয় যে আমি ড্রপআউট হয়েছিলাম। বরং কারণটা হলো আমি আর তোমরা
02:37
Speaker A
প্রায় একই প্রজন্মের প্রতিনিধি। এক দশকেরও কম সময়ের ব্যবধানে আমরা এই প্রাঙ্গণে হেঁটেছি। একই লেকচার শুনেছি। আর এই প্রজন্ম থেকে এই পৃথিবী থেকে আমি যা শিখেছি সেটাই আজ তোমাদের বলব। গত কয়েকদিনে পুরনো দিনের কিছু চমৎকার স্মৃতি মনে পড়ে গেল। তুমি হার্ভার্ডে ভর্তির সুযোগ
02:54
Speaker A
পেয়েছো। এই খবরটা যখন প্রথম পেয়েছিলে ঠিক সেই মুহূর্তটা কার কার মনে আছে? আমার কিন্তু মনে আছে। আমি তখন সিভিলাইজেশন নামে একটা ভিডিও গেম খেলছিলাম। সিঁড়ি দিয়ে দৌড়ে নিচে নেমে গিয়েছিলাম বাবাকে খবরটা দেওয়ার জন্য। সত্যি বলছি সেদিনই মা বাবা
03:09
Speaker A
আমাকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি গর্বিত হয়েছিলেন। হার্ভার্ডে প্রথম লেকচার কার ছিল এটা কার মনে আছে? আমার ছিল কম্পিউটার সায়েন্স ওয়ান টু ওয়ান, হ্যারি লুইসের সেই অভয়নীয় ক্লাস। আমি ক্লাসে এসেছিলাম দেরি করে। তাড়াহুড়ো করে উল্টো টিশার্ট পড়ে চলে এসেছিলাম। কেন কেউ আমার সাথে কথা বলছে না
03:26
Speaker A
ঠিক বুঝতে পারলাম না, তবে হ্যাঁ একজন কথা বলছিল। কে এক্স জিন সেদিন ক্লাসে আমরা একসঙ্গে প্রবলেম সেট সমাধান করছি। কে এক্স জিন এখন ফেসবুকের বড় একটা অংশের দেখভাল করে। অতএব ২০১৭ সালের স্নাতকেরা, তোমরা বুঝতেই পারছো কেন মানুষের সঙ্গে ভালো
03:42
Speaker A
ব্যবহার করা উচিত। হার্ভার্ডে আমার সবচেয়ে মধুর স্মৃতি ছিল প্রিসিলার সঙ্গে প্রথম দেখা হওয়ার মুহূর্তটি। তখন আমি ফেসম্যাশ নামের একটা প্র্যাঙ্ক ওয়েবসাইট চালু করেছি। মাত্র খবরটা ছড়িয়ে পড়তেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিভাগ জানালো তারা আমার সঙ্গেই দেখা করতে চায়। সবাই ধরিয়ে
03:58
Speaker A
নিল আমাকে নিশ্চিত বের করে দেওয়া হবে। এমনকি আমার ব্যাগপত্র গোছাতে সাহায্য করতে বাবা মা চলে এলেন। বন্ধুরা আমার জন্য একটা বিদায়ী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ফেলল। আর দেখো কি ভাগ্য। সেই অনুষ্ঠানেই এক বন্ধুর সঙ্গে হাজির হলো প্রিসিলা। প্রোফো বেল্টাওয়ারের প্রশোধন কক্ষের সামনে আমাদের
04:14
Speaker A
দুজনের দেখা। সেদিন প্রিসিলাকে আমি যা বলেছিলাম সেটা নিশ্চয়ই অবিস্মরণীয় প্রেমের বাণীগুলোর মধ্যে স্থান পেতে পারে। আমি বলেছিলাম আগামী তিন দিনের মধ্যে আমাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হবে। অতএব তোমার আর আমার খুব শীঘ্রই একসঙ্গে বসা দরকার। আজ তোমরা
04:31
Speaker A
যারা স্নাতক ডিগ্রি নিচ্ছ, এই বুদ্ধিটা তোমরাও কাজে লাগাতে পারো। প্রিয়জনকে বল আজই আমাকে বের করে দেওয়া হবে। তাহলে পটলেও পড়তে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত হার্ভার্ড থেকে আমাকে বের করে দেওয়া হয়নি। আমি নিজেই বেরিয়ে গিয়েছিলাম। ততদিনেই প্রিসিলার আমি একসঙ্গে সময় কাটাতে শুরু
04:45
Speaker A
করেছি। ফেসবুক নিয়ে যে সিনেমাটা তৈরি হয়েছে, সেটি দেখলে মনে হয় ফেসবুক গড়ে ওঠার পেছনে ফেসম্যাশের একটা বড় অবদান ছিল। সত্যি বলতে কি অবদানটা ততটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। তবে হ্যাঁ, ফেসম্যাশ না থাকলে হয়তো প্রিসিলার সঙ্গে আমার দেখা হতো না। সে আমার জীবনের সবচেয়ে
05:01
Speaker A
গুরুত্বপূর্ণ মানুষ। সেই বিবেচনায় ক্যাম্পাসে থাকাকালীন ফেসম্যাশ আমার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার। এই ক্যাম্পাসেই আমরা সারা জীবনের জন্য কিছু বন্ধু পেয়েছি। কেউ কেউ পেয়েছি জীবনসঙ্গীও। তাই এই জায়গাটার প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা শেষ নেই। ধন্যবাদ হার্ভার্ড। আজ আমি তোমাদের সঙ্গে জীবনের লক্ষ্য নিয়ে
05:19
Speaker A
কথা বলতে চাই। পথ, বাধা, সমাবর্তন বক্তৃতার মত আমি বলবো না তোমার জীবনের লক্ষ্যটা খোঁজো। আমরা ২১ শতকের তরুণ। জীবনের লক্ষ্য খোঁজার কাজটি আমাদের সহজাতভাবেই করার কথা। বরং আমি বলব শুধু তোমার জীবনের লক্ষ্য খোঁজাই যথেষ্ট নয়। আমাদের প্রজন্মের চ্যালেঞ্জ হলো এমন একটি পৃথিবী
05:35
Speaker A
তৈরি করা যেখানে সবাই নিজের জীবনের লক্ষ্য নিয়ে ভাবে। জননে এফ কেনেডির একটা গল্প আমার খুব প্রিয়। তিনি একবার নাসা সেন্টারে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি এক পরিচ্ছন্নতা কর্মীকে ঝাড়ু দিয়ে দেখলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি করছো? লোকটা জবাব দিলেন, মিস্টার প্রেসিডেন্ট, আমি একজন
05:51
Speaker A
মানুষকে চাঁদে যেতে সাহায্য করছি। তোমার লক্ষ্যটা হয়তো আমার গন্ডির চেয়েও বড়। তুমি হয়তো তোমার চেয়েও বড় একটা কিছুর অংশ। লক্ষ্যই মানুষকে সত্যিকারের সুখের সন্ধান দেয়। তোমরা এমন এক সময় স্নাতক সম্পন্ন করছো যখন লক্ষ্য ব্যাপারটা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের বাবা-মা যখন স্নাতক
06:08
Speaker A
করেছিলেন তখন কর্মস্থল গির্জা কিংবা সমাজ তাদের জন্য লক্ষ্য ঠিক করে দিত। কিন্তু এখন প্রযুক্তি অনেক মানুষের কাজের জায়গা দখল করে নিয়েছে। সমাজের ভূমিকা কমে যাচ্ছে। এমন অনেকেই আছেন যাদের সঙ্গে তাদের সম্প্রদায়ের যোগাযোগ কম। তারা হতাশ এবং এই শূন্যতা পূরণের চেষ্টায় ব্যস্ত।
06:24
Speaker A
আমি অনেক জায়গায় ঘুরেছি। কিছুর অপরাধী আর মাদকসক্ত মানুষের সঙ্গেও কথা বলেছি। তারা আমাকে বলেছে স্কুলের সময়টুকুর পর একটা কিছু করার থাকলে হয়তো তাদের জীবনটা তেমন হতো না। আমি কারখানার শ্রমিকদের সঙ্গেও কথা বলেছি। তারা জানেন তাদের প্রয়োজন ফুরিয়ে আসছে। তাই তারা তাদের
06:40
Speaker A
জন্য নতুন চাকরি খুঁজছেন। কারকল্যান্ড হাউজের ছোট্ট ঘরটিতে যেদিন ফেসবুকের যাত্রা শুরু হলো, সেই রাতের কথা আমার মনে পড়ে। হার্ভার্ডের বাসিন্দাদের একসঙ্গে যুক্ত করতে পেরে আমি ভীষণ রোমাঞ্চিত ছিলাম। বন্ধুকে বলেছিলাম, দেখবি একদিন কেউ একদিন সারা পৃথিবীর মানুষকে সংযুক্ত করবে।
06:57
Speaker A
ব্যাপারটা হলো আমাদের মাথায় কখনো আসেনি এই কেউ এককজনটা তো আমি হতে পারি। আমরা ছিলাম কলেজের পুরো বাচ্চা ছেলে। এত বিশাল কিছু সম্পর্কে আমাদের কোন ধারণাই ছিল না। বরং আমাদের চারপাশে বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ছিল। আমরা স্যার মনে করেছিলাম
07:10
Speaker A
একদিন কেউ না কেউ করবে। কিন্তু একটি বিষয় আমি নিশ্চিতভাবে জানতাম, অতি মানুষ অন্যের সঙ্গে সংযুক্ত হতে চায়। অতএব দিনের পর দিন আমরা শুধু কাজ করে গেছি। জানি তোমাদের অনেকেরই এমন কিছু গল্প আছে। তোমরা জানো পৃথিবীতে একটা পরিবর্তন অসম্ভাবী। তোমরা
07:26
Speaker A
যেন কেউ না কেউ সেই পরিবর্তন টানবে। সেই একজনটা কেন তুমি নও? আমি যখন ফেসবুক শুরু করি তখন নিশ্চিত ছিলাম না এটা সফল হবে কিনা। কিছুদিন পর ইয়াহু এক বিলিয়ন ডলারে ফেসবুক কিনে নিতে চেয়েছিল। আমি আমার বন্ধুরা নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চিত
07:42
Speaker A
ছিলাম। কিন্তু একটা জিনিস পরিষ্কার ছিল, আমরা বিশ্বাস করতাম পৃথিবীকে আরো কাছাকাছি আনা সম্ভব। সেই বিশ্বাসই আমাদের চালিয়ে নিয়েছে। ফেসবুক তৈরি করার সময় তার মূল উদ্দেশ্য ছিল কোড লেখা নয়। বরং মানুষকে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত করা। আমি যেটা বুঝতে পেরেছিলাম সেটা হলো সবচেয়ে বড়
07:58
Speaker A
আবিষ্কার বা উদ্যোগগুলোর পেছনে থাকে একটা শক্তিশালী উদ্দেশ্য। যারা প্রযুক্তি তৈরি করে তাদের দায়িত্ব শুধু কোড লেখা নয় বরং সমাজে একটা ইতিবাচক পরিবর্তন আনা। আজকাল আমরা অনলাইনে হাজারো মানুষের সঙ্গে যুক্ত হতে পারি। কিন্তু কারো সঙ্গে সত্যিকারের সংযোগ তৈরি করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
08:14
Speaker A
প্রযুক্তি যতই আধুনিক হোক না কেন, আমরা যদি একে অপরের অনুভূতি না বুঝেই সহানুভূতিতা না দেখাই তাহলে সম...
08:29
Speaker A
বারবার ব্যর্থতার মুখোমুখি হয়েও এগিয়ে গেছি। তোমার স্বপ্নে যদি বিশ্বাস না থাকে তাহলে তুমি বারবার হেরে যাবে। কিন্তু যদি মন থেকে চাও তাহলে ব্যর্থতাগুলোই তোমাকে সফলতার দিকে ঠেলে দিবে। আমি যখন রুমমেট ডাস্টিনকে বলেছিলাম ফেসবুক বানাতে চাই সে তখনই রাজি হয়ে গেল। সে জানতো না এটা সফল
08:47
Speaker A
হবে কিনা। তবুও সে আমার পাশে দাঁড়িয়েছিল। যদিও আমি হাওয়ার্ড ছেড়ে দিয়েছিলাম কিন্তু শেখা ছাড়িনি। শিক্ষার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত শুধু ডিগ্রি অর্জন নয় বরং মানুষের জীবনে একটা ভূমিকা রাখা। একজন বাবা নিজের ছেলেকে হাওয়ার্ডে পাঠাতে জীবনের সবকিছু উৎসর্গ করেছিলেন। সেই বাবা
09:04
Speaker A
যখন সহবর্তনে ছেলের নাম শুনে কাঁদছিলেন তখন আমি উপলব্ধি করলাম এটা শুধু ডিগ্রি নয়। এটাই প্রজন্মের স্বপ্নপূরণ। পারপাস ইজ দ্যাট সেন্স দ্যাট উই আর পার্ট অফ সামথিং বেগার দেন আওয়ারসেলস। অর্থাৎ একটা লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য আমাদের উপলব্ধি করায় যে আমরা আমাদের চিন্তার চেয়েও বড়। এই
09:20
Speaker A
উপলব্ধি একজন মানুষকে শুধু সফল করে না। তাকে বানায় একজন নেতা একজন আদর্শ পত্রদর্শক। তোমাদের দায়িত্ব শুধু নিজেদের স্বপ্ন পূরণ করা নয়। বরং এমন এক পৃথিবী গড়ে তোলা যেখানে প্রত্যেক মানুষ তার স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ পায়। যদি তুমি এখনো নিজের উদ্দেশ্য খুঁজে না পাও তাহলে
09:36
Speaker A
কোন সমস্যা নেই। কিন্তু থেমে যেও না। চেষ্টা চালিয়ে যাও। অন্যদের জন্য কিছু করো। মানুষের জীবনে ভূমিকা রাখো। তাহলেই তুমি নিজের পথ খুঁজে পাবে। আমরা এমন এক প্রজন্ম যাদের বলা হয়েছিল আমরা চাইলে সবকিছু হতে পারি। কিন্তু কেউ বলেনি সেই
09:50
Speaker A
কিছু হওয়ার জন্য আমাদের একসাথে কাজ করতে হবে। একা একা কিছু হওয়া সম্ভব নয়। সবচেয়ে বড় ঝুঁকি কি যেন? কোন ঝুঁকি না নেওয়া। এই পৃথিবী বদলাচ্ছে আর বদলাচ্ছে চোখের পলকে। এমন এক দুনিয়ায় যেখানে ঝুঁকি না নিয়ে চলা মানেই পিছিয়ে পড়া।
10:03
Speaker A
কিন্তু আমরা চাইলে একসাথে গড়ে তুলতে পারি এমন এক পৃথিবী যেখানে প্রতিটা মানুষ নিজের কাজে মূল্য খুঁজে পাবে। নিজের জীবনের উদ্দেশ্য খুঁজে পাবে। এখন প্রশ্ন হলো এই পৃথিবীটা কে করবে? উত্তরটা সহজ এই পৃথিবী গঠনের দায়িত্ব এখন তোমাদের হাতে। আমি
10:18
Speaker A
জানি অনেকেই বসে আছে যাদের নিজের স্বপ্ন আছে। কিন্তু পরিবার বা সমাজের চাপ তাদের সেই স্বপ্নকে হত্যা করছে। আমি শুধু বলতে চাই থেমো না। তোমার স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখো যতদিন না সেটা বাস্তব হয়। অনেকেই ভাবেন সমাজ বদলাদের সরকার বড় কোম্পানি বা
10:33
Speaker A
বিশেষকে লাগবে। আমি বলি না পরিবর্তন তুমি। তুমি যদি একটা ভালো কাজ করো একদিন সেটা সমাজকে বলে দেবে। আমি অনেক নেতাকে দেখেছি যারা ভয়ে থেকে নেতৃত্ব দেয়। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি ভালোবাসা থেকে সবচেয়ে শক্তিশালী নেতৃত্ব জন্ম নেয়। তোমরা পৃথিবীর সবচেয়ে শিক্ষিত ও সম্ভাবনাময়
10:50
Speaker A
প্রজন্ম। তোমরা যদি নিজেদের জীবনে উদ্দেশ্য তৈরি করো তাহলে বিশ্ব বদলাবে। ঠিক যেমন আমাদের প্রজন্ম ইন্টারনেট বানিয়েছে ঠিক তেমনি তোমরাও নতুন কিছু তৈরি করবে। আমি আশা করব তোমরা তোমাদের জীবনকে নিজেদের পাওয়া আশীর্বাদ হিসেবে গ্রহণ করবে এবং পুরো পৃথিবীটাই বদলে দিবে।
11:06
Speaker A
তোমাদের জন্য অনেক অনেক শুভকামনা। সকলকে ধন্যবাদ। ভালো থাকবে। বন্ধুরা তুমি হয়তো এখনো নিজের লক্ষ্য খুঁজে পাচ্ছ না। কিংবা পথটা খুব ঝাপসা মনে হচ্ছে। কিন্তু মনে রেখো মার্ক জাকার একসময় জানতেন না তার কোড লেখা একদিন পুরো পৃথিবীটাকে বদলে দেবে। তাই থেমো না। আর হ্যাঁ এই পৃথিবী
11:23
Speaker A
ঠিক তখনই বদলাবে যখন তুমি নিজেকে বিশ্বাস করা শুরু করবে। তোমার এমনই প্রতিটি মুহূর্তকে ঘিরে গল্পে ভবিষ্যতে এবং স্বপ্নে নগরকোপ আছে সবসময় তোমার সাথে। তাই ভালো লাগলে একটা লাইক করতে ভুলো না। দেখা হবে পরবর্তী ভিডিওতে। ততক্ষণ পর্যন্ত সাবস্ক্রাইব করে নগর বেস্কোপের সাথেই
11:39
Speaker A
থাকো। থ্যাংকস ফর ওয়াচিং
Topics:মার্ক জাকারবার্গহার্ভার্ড সমাবর্তন ভাষণফেসবুকস্বপ্নঅনুপ্রেরণাবাংলা ভাষণজীবনের উদ্দেশ্যতরুণ প্রজন্মপ্রযুক্তিসফলতা

Frequently Asked Questions

মার্ক জাকারবার্গ কেন হার্ভার্ড থেকে ড্রপআউট করেছিলেন?

মার্ক জাকারবার্গ হার্ভার্ড থেকে ড্রপআউট করেছিলেন কারণ তিনি ফেসবুক গড়ে তোলার কাজে মনোযোগ দিতে চেয়েছিলেন, যা পরে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

এই ভাষণের মূল বার্তা কী?

ভাষণের মূল বার্তা হলো জীবনে শুধু চাকরি নয়, একটি বৃহত্তর উদ্দেশ্য থাকা দরকার এবং ভয় ও ব্যর্থতার মধ্যেও স্বপ্নের প্রতি বিশ্বাস রাখা জরুরি।

ফেসবুকের প্রতিষ্ঠার পেছনে কী উদ্দেশ্য ছিল?

ফেসবুকের মূল উদ্দেশ্য ছিল মানুষকে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত করা এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, শুধু কোড লেখা নয়।

Get More with the Söz AI App

Transcribe recordings, audio files, and YouTube videos — with AI summaries, speaker detection, and unlimited transcriptions.

Or transcribe another YouTube video here →