১২ দিনের ইস্তেগফার চ্যালেঞ্জ — যেভাবে আল্লাহ আমার জীবন … — Transcript

১২ দিনের ইস্তেগফার চ্যালেঞ্জ কিভাবে আল্লাহর কাছে ফিরে এসে জীবনের পরিবর্তন আনে।

Key Takeaways

  • ইস্তেগফার শুধু দোয়া নয়, এটি আত্মার গভীর কান্না ও আল্লাহর কাছে ফিরে যাওয়া।
  • আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস ও ভরসা জীবনের সংকট মোকাবেলায় শক্তি দেয়।
  • অন্তরের পরিবর্তন ছাড়া জীবনের প্রকৃত পরিবর্তন সম্ভব নয়।
  • আল্লাহ কখনো দেরি করেন না, তিনি সঠিক সময়ে সাহায্য করেন।
  • একটি ছোট আমলও জীবনের বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

Summary

  • ভিডিওতে ১২ দিনের ইস্তেগফার চ্যালেঞ্জের মাধ্যমে ব্যক্তিগত জীবনের পরিবর্তনের গল্প বলা হয়েছে।
  • ইস্তেগফার কেবল মুখে উচ্চারণ নয়, এটি আত্মার কান্না ও আল্লাহর কাছে ফিরে যাওয়ার পথ।
  • চ্যালেঞ্জের প্রথম দিনগুলো কঠিন হলেও ধীরে ধীরে অন্তরে শান্তি ও পরিবর্তন আসে।
  • ইস্তেগফার হৃদয়কে নরম করে এবং মানুষের মনোবল ও ঈমান শক্তিশালী করে।
  • আল্লাহর প্রতি ভরসা ও বিশ্বাস জীবনের কঠিন সময়ে মানুষকে শক্তি দেয়।
  • ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার মাধ্যমে দেখানো হয়েছে কিভাবে ইস্তেগফার জীবনের সংকট ও সম্পর্কের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।
  • আল্লাহ কখনো দেরি করেন না, তিনি সঠিক সময়ে সঠিক পরিকল্পনা দেন।
  • ইস্তেগফার জীবনের পরিস্থিতি বদলানোর আগে অন্তরের পরিবর্তন আনে।
  • আল্লাহর কাছে ফিরে যাওয়া জীবনের সবচেয়ে বড় মিরাকেল এবং শান্তির উৎস।
  • ভিডিওটি দর্শকদের ইস্তেগফার শুরু করার জন্য প্রেরণা দেয়, বিশেষ করে যারা কঠিন সময়ের মধ্যে আছেন।

Full Transcript — Download SRT & Markdown

00:05
Speaker A
মাত্র ১২ দিন, শুধু ১২ দিনের ইস্তেগফার আমার পুরো জীবন বদলে দিয়েছিল। যে আমি রাতের পর রাত কেড়েছি, যে আমি মানুষের কাছে অপমানিত হয়েছি, যে আমি ভাবতাম আমার জীবনে আর কিছুই ভালো হবে না। আজ আমি সেই মানুষ না। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, একটা সময় ছিল যখন আমার সব দরজা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু তারপর আমি এমন একটা আমল শুরু করলাম, যেটা ধীরে ধীরে অসম্ভবকে সম্ভব করে দিল। এই গল্পটা শুধু একটা গল্প না, এটা হয়তো আপনার জীবনও বদলে দিতে পারে। কারণ আজ আমি আপনাকে বলব কিভাবে আস্তাগফিরুল্লাহ আমার ভাঙ্গা জীবনকে আবার আলোয় ভরিয়ে দিয়েছিল।
00:25
Speaker A
রাত অনেক গভীর। চারপাশে নিস্তব্ধ। কোন কোলাহল নেই। জানালার বাইরে বৃষ্টি পড়ছিল ধীরে ধীরে। আর আমি বসেছিলাম সেজদার চাদরের পাশে, ভাঙ্গা একটা মানুষ হয়ে। জীবনে এমন একটা সময় আসে যখন মানুষ আর কাউকে কিছু বলতে পারে না, বুকের ভেতরের কষ্টগুলো শব্দ খুঁজে পায় না, শুধু মনে হয় সব শেষ। আমার জীবনেও ঠিক সেই সময়টাই চলছিল। চারদিকে ব্যর্থতা, মানুষ একে একে দূরে সরে যাচ্ছিল। যাদের জন্য এত কিছু করেছি, তারাই বলছিল তোমার দ্বারা কিছু হবে না। ঘুম আসতো না রাতে, বালিশ ভিজে যেত। ভেতরে ভেতরে আমি শেষ হয়ে যাচ্ছিলাম। নামাজ পড়তাম, কিন্তু মন শান্ত হতো না। দোয়া করতাম, কিন্তু মনে হতো আকাশ পর্যন্ত পৌঁছায় না। একদিন ফজরের পরে ফোন স্ক্রোল করতে করতে একটা কথা চোখে পড়ল, যে ব্যক্তি বেশি বেশি ইস্তেগফার করে, আল্লাহ তার সব দুশ্চিন্তা দূর করে দেন, সব সংকট থেকে বের হওয়ার রাস্তা তৈরি করে দেন এবং এমন জায়গা থেকে রিজিক দেন যা সে কল্পনাও করতে পারে না। কথাটা আমার হৃদয়ে গিয়ে লাগলো। মনে হলো এটা শুধু একটা হাদিস না, এটা যেন আমার জন্য একটা বার্তা। সেদিন আমি সিদ্ধান্ত নিলাম। আমি ১২ দিনের একটা ইস্তেগফার চ্যালেঞ্জ শুরু করব। কারো কাছে বলবো না। শুধু আমি আর আল্লাহ।
00:44
Speaker A
প্রথম দিন খুব সহজ ছিল না। মুখে আস্তাগফিরুল্লাহ বলছিলাম, কিন্তু মন অন্যদিকে চলে যাচ্ছিল। তবুও থামিনি। কারণ আমি জানতাম আমার আর হারানোর কিছু নেই। যখন মানুষ সবদিক থেকে ভেঙে পড়ে, তখন সে শুধু আল্লাহর দিকেই তাকায়। দ্বিতীয় দিন একটা অদ্ভুত শান্তি অনুভব করলাম। সমস্যাগুলো তখনও ছিল, ঋণ ছিল, টেনশন ছিল, ভবিষ্যৎ অন্ধকার ছিল, কিন্তু বুকের ভেতর একটা নরম অনুভূতি কাজ করছিল, যেন কেউ বলছে আমি আছি। এরপর প্রতিদিন আমি নির্জনে বসেই ইস্তেগফার পড়তাম। কখনো ফজরের পরে, কখনো তাহাজ্জুদের সময়, কখনো রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে আস্তাগফিরুল্লাহ, আস্তাগফিরুল্লাহ, আস্তাগফিরুল্লাহ।
01:04
Speaker A
শুরুতে মনে হতো আমি শুধু শব্দ উচ্চারণ করছি, কিন্তু কয়েকদিন পর বুঝলাম ইস্তেগফার শুধু মুখের কথা না, এটা আত্মার কান্না, এটা নিজের ভুল স্বীকার করা, এটা আল্লাহর দরজায় ফিরে আসা। আমি আমার অতীতের কথা ভাবতে শুরু করলাম, কত নামাজ মিস করেছি, কত মানুষকে কষ্ট দিয়েছি, কত সময় অপচয় করেছি, কতবার আল্লাহর দেওয়া নেয়ামতের শোকর করিনি। বুকটা কেঁপে উঠলো। আমি কাঁদতে শুরু করলাম। সেদিন প্রথমবার মনে হলো সমস্যা শুধু বাইরের না, আমার অন্তরটা অসুস্থ হয়ে গিয়েছিল। এরপর থেকে ইস্তেগফার করতে করতে আমি বদলাতে শুরু করলাম।
01:28
Speaker A
আগে মানুষকে দেখে হিংসা হতো। এখন তাদের জন্য দোয়া করতে ইচ্ছে করতো। আগে ছোট ছোট বিষয়েও রাগ উঠতো। এখন ধৈর্য ধরতে শিখছিলাম। আগে মনে হতো আমি একা। এখন মনে হতো আল্লাহ আমাকে দেখছেন। দিনগুলো ধীরে ধীরে বদলাতে লাগলো। একদিন হঠাৎ এমন একজন ফোন দিল, যার কাছ থেকে আমি কখনো সাহায্য আশা করিনি। সে বলল, তোমার জন্য একটা কাজ আছে। আমি অবাক হয়ে গেলাম। কয়েক মাস ধরে যেখানে সব দরজা বন্ধ ছিল, সেখানে হঠাৎ একটা রাস্তা খুলে গেল। আমি বুঝতে পারছিলাম না এটা কি কাকতালীয় নাকি সত্যি ইস্তেগফারের বরকত? তারপর আরো অদ্ভুত কিছু ঘটতে লাগল। যে সম্পর্কটা ভেঙে গিয়েছিল, সেখানে আবার কথা শুরু হলো। বাসার অশান্তি কমে গেল। মনের ভেতরে চাপ ধীরে ধীরে হালকা হতে লাগলো। আমি আগের মত হতাশ হয়ে রাত কাটাতাম না।
01:46
Speaker A
সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটা ছিল আমার অন্তরে। কারণ আগে আমি শুধু দুনিয়া চাইতাম। কিন্তু এখন আমি আল্লাহকে চাইতে শুরু করেছি। এক রাতে তাহাজ্জুদের সময় সেজদায় পড়ে আমি এত কেঁদেছিলাম যে মনে হচ্ছিল বুক ফেঁদে যাবে। আমি শুধু একটা কথাই বলছিলাম, হে আল্লাহ আমি ক্লান্ত, আমি হার মেনে গেছি, আপনি ছাড়া আমার আর কেউ নেই। সেদিন মনে হচ্ছিল আল্লাহ খুব কাছে আছেন। মানুষ ভাবে অলৌকিক পরিবর্তন মানেই হঠাৎ কোটি টাকা পাওয়া না। সবচেয়ে বড় মিরাকেল হল একটা মৃত হৃদয়ের আবার জীবিত হয়ে ওঠা। ইস্তেগফার আমার জীবনের পরিস্থিতি বদলানোর আগেই আমার হৃদয় বদলে দিয়েছিল। আর যখন হৃদয় বদলে যায়, তখন তাকদীরও বদলাতে শুরু করে।
02:04
Speaker A
আমি বুঝলাম আমরা অনেক সময় শুধু সমস্যার সমাধান চাই, কিন্তু আল্লাহ আগে আমাদের ঠিক করতে চান। কারণ ভাঙ্গা হৃদয় নিয়ে সুন্দর জীবন পাওয়া যায় না। ১২ দিনের শেষে আমি সেই আগের মানুষটা ছিলাম না। আমার সমস্যা তখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি, কিন্তু আমি বদলে গিয়েছিলাম। আমার ঈমান শক্ত হয়ে গিয়েছিল। আমি আল্লাহর উপর ভরসা করতে শিখেছিলাম। আর আশ্চর্যের বিষয় হলো, যেসব জিনিসকে আমি অসম্ভব ভাবতাম, সেগুলো একে একে সহজ হতে শুরু করল।
02:25
Speaker A
আমি আজও সেই দিনগুলোর কথা ভুলতে পারি না। কারণ ওই ১২ দিন আমাকে শিখিয়েছে কখনো কখনো আল্লাহ আমাদের ভেঙে দেন যাতে আমরা তার দিকে ফিরে আসি। কখনো কখনো দেরি হয়, কারণ আল্লাহ আমাদের জন্য বড় কিছু প্রস্তুত করেন। আর কখনো কখনো একটা মাত্র শব্দ, আস্তাগফিরুল্লাহ, একটা মানুষের পুরো জীবন বদলে দিতে পারে। আজ যদি আপনি খুব কষ্টে থাকেন, যদি মনে হয় সব দরজা বন্ধ, যদি মনে হয় কেউ আপনাকে বুঝছে না, তাহলে একটা কাজ করুন। আজ থেকেই ইস্তেগফার শুরু করুন। মানুষের কাছে না, আল্লাহর কাছে ফিরে যান। হয়তো আপনার জীবনও বদলে যাবে এমনভাবে, যেটা আজ আপনি কল্পনাও করতে পারছেন না।
02:45
Speaker A
অনেক মানুষ ইস্তেগফারকে শুধু একটা আমল মনে করে। ঠোটে কয়েকবার আস্তাগফিরুল্লাহ বললেই যেন দায়িত্ব শেষ। কিন্তু আমি যখন সেই ১২ দিনের পথ পাড়ি দিচ্ছিলাম, তখন বুঝতে পারলাম ইস্তেগফার আসলে আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়ার সবচেয়ে গভীর দরজা। কারণ মানুষ যখন সত্যিকারের ইস্তেগফার করে, তখন সে শুধু গুনাহ মাফ চায় না, সে নিজের ভাঙ্গা আত্মাটাকে আল্লাহর হাতে তুলে দেয়।
03:10
Speaker A
আমি তখন প্রতিদিন নিজের ভেতরটা নতুন করে দেখতে শুরু করলাম। একদিন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখছিলাম, চোখের নিচে কালো দাগ, মুখে হতাশা। কিন্তু ভেতরে একটা পরিবর্তন হচ্ছিল। মনে হচ্ছিল আমি ধীরে ধীরে অন্ধকার থেকে বের হয়ে আসছি। আমি বুঝতে পারছিলাম এতদিন আমি শুধু দুনিয়ার পিছনে দৌড়েছি। মানুষের প্রশংসা, টাকা, সফলতা সবকিছুকে জীবনের মূল লক্ষ্য বানিয়ে ফেলেছিলাম। কিন্তু আল্লাহকে ভুলে গিয়েছিলাম। আর মানুষ যখন আল্লাহকে ভুলে যায়, তখন সে নিজের শান্তিটাও হারিয়ে ফেলে।
03:28
Speaker A
এক রাতে আমি ছাদে বসে আকাশের দিকে তাকিয়েছিলাম। চারপাশ নিস্তব্ধ। হালকা বাতাস বয়েছিল। আমি ধীরে ধীরে ইস্তেগফার পড়ছিলাম। হঠাৎ মনে হলো আল্লাহ আমাকে এতবার সুযোগ দিয়েছেন, অথচ আমি কতবার দূরে সরে গেছি। এই অনুভূতিটা আমাকে ভেতর থেকে কাঁপিয়ে দিল। আমি কান্না থামাতে পারছিলাম না। কারণ আমি বুঝতে পারছিলাম আল্লাহ কখনো আমাকে ছেড়ে দেননি। আমিই দূরে সরে গিয়েছিলাম।
03:46
Speaker A
সেদিনের পর থেকে আমার দোয়াগুলো বদলে গেল। আগে আমি শুধু বলতাম, হে আল্লাহ আমাকে টাকা দিন, সমস্যা দূর করুন, আমাকে সফল করুন। কিন্তু এখন আমি বলতাম, হে আল্লাহ, আপনি আমার উপর রাজি হয়ে যান। এই একটা পরিবর্তন আমার জীবনকে অন্যরকম করে দিল। কারণ যখন মানুষ আল্লাহকে পেয়ে যায়, তখন দুনিয়ার অনেক কষ্ট ছোট মনে হয়। তারপর এমন কিছু ঘটনা ঘটতে লাগলো, যেগুলো আমি কাউকে বোঝাতে পারতাম না। যে কাজটার জন্য বহুদিন ধরে চেষ্টা করছিলাম, হঠাৎ সেটার রাস্তা খুলে গেল।
04:05
Speaker A
যেই মানুষটা আমাকে অপমান করেছিল, সে নিজে থেকে এসে ভালোভাবে কথা বলল। যে বিষয়ে আমি ভীষণ ভয় পাচ্ছিলাম, সেটা আশ্চর্যজনকভাবে সহজ হয়ে গেল। আমি অবাক হয়ে শুধু একটা কথাই ভাবছিলাম, আল্লাহ এটা কি আপনার রহমত? কিন্তু সবচেয়ে আশ্চর্য ব্যাপার ছিল আমি এখন ছোট ছোট জিনিসেও সুখ খুঁজে পাচ্ছিলাম। ফজরের ঠান্ডা বাতাস, কোরআনের শব্দ, সিজদার শান্তি, মায়ের মুখের হাসি। আগে যেগুলোকে সাধারণ মনে হতো, এখন মনে হতো এগুলোই আসল নিয়ামত। ইস্তেগফার আমার চোখ খুলে দিয়েছিল।
04:22
Speaker A
একদিন এক বন্ধু আমাকে জিজ্ঞেস করল, তুই এত শান্ত কিভাবে হয়ে গেলি? আমি কিছুক্ষণ চুপ ছিলাম, তারপর শুধু বললাম, আমি আল্লাহর কাছে ফিরে গেছি। সে হয়তো পুরোটা বুঝতে পারেনি, কিন্তু আমি জানতাম এই শান্তি কোন মানুষ দিতে পারে না। কারণ দুনিয়ার সবকিছু থাকতে পারে, কিন্তু অন্তরে শান্তি না থাকলে মানুষ ভিতর থেকে ভেঙে পড়ে। আর আল্লাহ চাইলে একটা শব্দ দিয়েই সেই অন্তরকে জীবিত করে দিতে পারেন। আস্তাগফিরুল্লাহ।
04:43
Speaker A
আমি ধীরে ধীরে লক্ষ্য করলাম ইস্তেগফার শুধু আমার জীবন না, আমার চিন্তাভাবনাও বদলে দিচ্ছে। আগে কোন বিপদ আসলে আমি ভয় পেতাম। এখন মনে হতো আল্লাহ আছেন। আগে ভবিষ্যৎ নিয়ে আতঙ্ক কাজ করতো। এখন মনে হতো যিনি আগামীকাল তৈরি করেছেন, তিনি অবশ্যই আমার জন্য ভালো কিছু রেখেছেন। এই বিশ্বাসটাই মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে। কারণ ঈমানহীন হৃদয় খুব দ্রুত ক্লান্ত হয়ে যায়।
05:03
Speaker A
এক রাতে আমি একটা জিনিস গভীরভাবে উপলব্ধি করলাম। হয়তো আল্লাহ আমার দোয়া সঙ্গে সঙ্গে কবুল করেননি। কারণ তিনি চেয়েছিলেন আমি তার আরো কাছে চলে আসি। হয়তো আমার দেরি হচ্ছিল, কারণ তিনি আমাকে প্রস্তুত করছিলেন। হয়তো আমার কান্নাগুলো বৃথা যায়নি। আমরা মানুষ খুব তাড়াহুড়ো করি, সবকিছু দ্রুত চাই। কিন্তু আল্লাহর পরিকল্পনা সব সময় নিখুত। তিনি কখনো দেরি করেন না। তিনি শুধু সঠিক সময়ের অপেক্ষা করেন। আর সেই সময়টা যখন আসে, তখন মানুষ বুঝতে পারে প্রতিটা কষ্টের পেছনে একটা রহমত লুকিয়ে ছিল। আজ যখন আমি পেছনে তাকাই, তখন সেই ভাঙ্গা দিনগুলোর জন্যও আল্লাহর শুকরিয়া আদায়।
05:20
Speaker A
কারণ ভাঙ্গা হৃদয় নিয়ে সুন্দর জীবন পাওয়া যায় না 12 দিনের শেষে আমি সেই আগের মানুষটা ছিলাম না আমার সমস্যা তখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি কিন্তু আমি বদলে গিয়েছিলাম আমার ঈমান শক্ত হয়ে গিয়েছিল আমি আল্লাহর উপর ভরসা করতে শিখেছিলাম আর
05:37
Speaker A
আশ্চর্যের বিষয় হলো যেসব জিনিসকে আমি অসম্ভব ভাবতাম সেগুলো একে একে সহজ হতে শুরু করল করল। আমি আজও সেই দিনগুলোর কথা ভুলতে পারি না। কারণ ওই 12 দিন আমাকে শিখিয়েছে কখনো কখনো আল্লাহ আমাদের ভেঙে দেন যাতে আমরা তার দিকে ফিরে আসি। কখনো
05:54
Speaker A
কখনো দেরি হয় কারণ আল্লাহ আমাদের জন্য বড় কিছু প্রস্তুত করেন। আর কখনো কখনো একটা মাত্র শব্দ আস্তাগফিরুল্লাহ একটা মানুষের পুরো জীবন বদলে দিতে পারে। আজ যদি আপনি খুব কষ্টে থাকেন। যদি মনে হয় সব দরজা বন্ধ। যদি মনে হয় কেউ আপনাকে বুঝছে
06:13
Speaker A
না তাহলে একটা কাজ করুন। আজ থেকেই ইস্তেগফার শুরু করুন। মানুষের কাছে না আল্লাহর কাছে ফিরে যান। হয়তো আপনার জীবনও বদলে যাবে এমনভাবে যেটা আজ আপনি কল্পনাও করতে পারছেন না। অনেক মানুষ ইস্তেগফারকে শুধু একটা আমল মনে করে। ঠোটে কয়েকবার
06:31
Speaker A
আস্তাগফিরুল্লাহ বললেই যেন দায়িত্ব শেষ। কিন্তু আমি যখন সেই 12 দিনের পথ পাড়ি দিচ্ছিলাম তখন বুঝতে পারলাম ইস্তেগফার আসলে আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়ার সবচেয়ে গভীর দরজা কারণ মানুষ যখন সত্যিকারের ইস্তেগফার করে তখন সে শুধু গুনাহ মাফ চায় না সে নিজের ভাঙ্গা আত্মাটাকে আল্লাহর
06:53
Speaker A
হাতে তুলে দেয় আমি তখন প্রতিদিন নিজের ভেতরটা নতুন করে দেখতে শুরু করলাম একদিন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখছিলাম চোখের নিচে কালো দাগ মুখে হতাশা। কিন্তু ভেতরে একটা পরিবর্তন হচ্ছিল। মনে হচ্ছিল আমি ধীরে ধীরে অন্ধকার থেকে বের হয়ে আসছি। আমি বুঝতে পারছিলাম
07:14
Speaker A
এতদিন আমি শুধু দুনিয়ার পিছনে দৌড়েছি। মানুষের প্রশংসা, টাকা, সফলতা সবকিছুকে জীবনের মূল লক্ষ্য বানিয়ে ফেলেছিলাম। কিন্তু আল্লাহকে ভুলে গিয়েছিলাম। আর মানুষ যখন আল্লাহকে ভুলে যায় তখন সে নিজের শান্তিটাও হারিয়ে ফেলে। এক রাতে আমি ছাদে বসে আকাশের দিকে তাকিয়েছিলাম।
07:35
Speaker A
চারপাশ নিস্তব্ধ। হালকা বাতাস বয়েছিল। আমি ধীরে ধীরে ইস্তেগফার [মিউজিক] পড়ছিলাম। হঠাৎ মনে হলো আল্লাহ আমাকে এতবার সুযোগ দিয়েছেন অথচ আমি কতবার দূরে সরে গেছি। এই অনুভূতিটা আমাকে ভেতর থেকে কাঁপিয়ে দিল। আমি কান্না থামাতে পারছিলাম না। কারণ আমি বুঝতে পারছিলাম আল্লাহ কখনো
07:58
Speaker A
আমাকে ছেড়ে দেননি। আমিই দূরে সরে গিয়েছিলাম। সেদিনের পর থেকে আমার দোয়াগুলো বদলে গেল। আগে আমি শুধু বলতাম হে আল্লাহ আমাকে টাকা দিন। সমস্যা দূর করুন। আমাকে সফল করুন। কিন্তু এখন আমি বলতাম হে আল্লাহ আপনি আমার উপর রাজি হয়ে
08:17
Speaker A
যান। এই একটা পরিবর্তন আমার জীবনকে অন্যরকম করে দিল। কারণ যখন মানুষ আল্লাহকে পেয়ে যায় তখন দুনিয়ার অনেক কষ্ট ছোট মনে হয়। তারপর এমন কিছু ঘটনা ঘটতে লাগলো যেগুলো আমি কাউকে বোঝাতে পারতাম না। যে কাজটার জন্য বহুদিন ধরে চেষ্টা করছিলাম
08:36
Speaker A
হঠাৎ সেটার রাস্তা খুলে গেল। যেই মানুষটা আমাকে অপমান করেছিল সে নিজে থেকে এসে ভালোভাবে কথা বলল। যে বিষয়ে আমি ভীষণ ভয় পাচ্ছিলাম সেটা আশ্চর্যজনকভাবে সহজ হয়ে গেল। আমি অবাক হয়ে শুধু একটা কথাই ভাবছিলাম। আল্লাহ এটা কি আপনার রহমত?
08:54
Speaker A
কিন্তু সবচেয়ে আশ্চর্য ব্যাপার ছিল আমি এখন ছোট ছোট জিনিসেও সুখ খুঁজে পাচ্ছিলাম ফজরের ঠান্ডা বাতাস কোরআনের শব্দ সিজদার শান্তি মায়ের মুখের হাসি আগে যেগুলোকে সাধারণ মনে হতো এখন মনে হতো এগুলোই আসল নিয়ামত ইস্তেগফার আমার চোখ খুলে দিয়েছিল একদিন এক বন্ধু আমাকে জিজ্ঞেস করল তুই এত
09:18
Speaker A
শান্ত কিভাবে হয়ে গেলি আমি কিছুক্ষণ চুপ ছিলাম তারপর শুধু বললাম আমি আল্লাহর কাছে ফিরে গেছি সে হয়তো পুরোটা বুঝতে পারেনি কিন্তু আমি জানতাম এই শান্তি কোন মানুষ দিতে পারে না কারণ দুনিয়ার সবকিছু থাকতে পারে কিন্তু অন্তরে শান্তি না থাকলে মানুষ
09:37
Speaker A
ভিতর থেকে ভেঙে পড়ে আর আল্লাহ চাইলে একটা শব্দ দিয়েই সেই অন্তরকে জীবিত [মিউজিক] করে দিতে পারেন আস্তাগফিরুল্লাহ আমি ধীরে ধীরে লক্ষ্য করলাম ইস্তেগফার শুধু আমার জীবন না আমার চিন্তাভাবনাও বদলে দিচ্ছে আগে কোন বিপদ আসলে আমি ভয় পেতাম। এখন মনে হতো আল্লাহ আছেন। আগে ভবিষ্যৎ
09:59
Speaker A
নিয়ে আতঙ্ক কাজ করতো। এখন মনে হতো যিনি আগামীকাল তৈরি করেছেন তিনি অবশ্যই আমার জন্য ভালো কিছু রেখেছেন। এই বিশ্বাসটাই মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে। কারণ ঈমানহীন হৃদয় খুব দ্রুত ক্লান্ত হয়ে যায়। এক রাতে আমি একটা জিনিস গভীরভাবে উপলব্ধি করলাম। হয়তো আল্লাহ আমার দোয়া সঙ্গে
10:20
Speaker A
সঙ্গে কবুল করেননি। কারণ তিনি চেয়েছিলেন আমি তার আরো কাছে চলে আসি। হয়তো আমার দেরি হচ্ছিল, কারণ তিনি আমাকে প্রস্তুত করছিলেন, হয়তো আমার কান্নাগুলো বৃথা যায়নি। আমরা মানুষ খুব তাড়াহুড়ো করি, সবকিছু দ্রুত যাই। কিন্তু আল্লাহর পরিকল্পনা সব সময় নিখুত। তিনি কখনো দেরি
10:41
Speaker A
করেন না| তিনি শুধু সঠিক সময়ের অপেক্ষা করেন| আর সেই সময়টা যখন আসে তখন মানুষ বুঝতে পারে প্রতিটা কষ্টের পেছনে একটা রহমত লুকিয়ে ছিল আজ যখন আমি পেছনে তাকাই তখন সেই ভাঙ্গা দিনগুলোর জন্যও আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করি কারণ যদি আমি না
10:59
Speaker A
ভাঙতাম তাহলে হয়তো কখনো সিজদায় এভাবে [মিউজিক] কাঁদতাম না যদি আমি কষ্ট না পেতাম তাহলে হয়তো কখনো ইস্তেগফারের মিষ্টতা অনুভব করতাম যদি সবকিছু সহজ হতো তাহলে হয়তো আমি কখনো আল্লাহর এতটা কাছে যেতে পারতাম না। তাই এখন আমি বুঝি কিছু কষ্ট শাস্তি না কিছু
11:19
Speaker A
কষ্ট হচ্ছে ডাক আল্লাহর দিকে ফিরে আসার ডাক। আর যে মানুষ সেই ডাকে সাড়া দেয় আল্লাহ তার জীবন এমনভাবে বদলে দেন যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। এরপর আমি একটা বিষয় খুব গভীরভাবে বুঝতে শুরু করলাম। মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় যুদ্ধটা
11:37
Speaker A
বাইরের না ভেতরের। কারণ বাইরে হাজার সমস্যা থাকলেও যদি অন্তর শক্ত থাকে তাহলে মানুষ টিকে থাকতে পারে। কিন্তু অন্তর ভেঙে গেলে ছোট একটা কষ্ট মানুষকে শেষ করে দেয়। আমারও ঠিক সেই অবস্থা হয়েছিল। মানুষের সামনে হাসতাম কিন্তু একা হলেই বুকটা ভারী হয়ে যেত।
11:59
Speaker A
কারো সাথে নিজের কষ্ট শেয়ার করার মত শক্তিও ছিল না। মনে হতো কেউ বুঝবে না। সবাই শুধু ফলাফল দেখে। কেউ ভিতরের যুদ্ধটা দেখে না। আর সেই সময়ই ইস্তেগফার আমার জীবনে আলো হয়ে এলো। আমি ধীরে ধীরে অনুভব করলাম আল্লাহর কাছে ফিরে যাওয়া মানে শুধু
12:18
Speaker A
ধর্মীয় কিছু কাজ করা না। এটা হলো নিজের হারিয়ে যাওয়া আত্মাকে খুঁজে পাওয়া। একদিন ফজরের নামাজ শেষে আমি মসজিদের এক কোণে বসেছিলাম। সবাই চলে গেছে চারপাশ একদম নীরব আমি তসবি হাতে ধীরে ধীরে ইস্তেগফার পড়ছিলাম হঠাৎ আমার মনে একটা প্রশ্ন এলো
12:38
Speaker A
যদি আল্লাহ সত্যিই আমার সব গুনাহ মাফ করে দেন ভাবতেই শরীর কেঁপে উঠলো কারণ মানুষ পৃথিবীর কাছে নিজের ভুল লুকাতে পারে কিন্তু আল্লাহর কাছে কিছুই লুকানো যায় না আমি আমার অতীতের প্রতিটা ভুলের কথা ভাবতে লাগলাম কত অহংকার করেছি কত সময় নষ্ট
12:56
Speaker A
করেছি কত কতবার আল্লাহ ডাক দিয়েছেন। অথচ আমি ব্যস্ত ছিলাম দুনিয়া নিয়ে। তবুও তিনি আমাকে ছেড়ে দেননি। এই চিন্তাটা আমাকে ভেতর থেকে নরম করে দিল। আমি বুঝলাম আল্লাহর রহমত আমাদের গুনাহের চেয়েও বড়। আর সেই মুহূর্ত থেকে ইস্তেগফার আমার কাছে
13:14
Speaker A
শুধু আমল না, ভালোবাসা হয়ে গেল। আমি যখন আস্তাগফিরুল্লাহ বলতাম, তখন মনে হতো আমি আল্লাহর দিকে এক কদম এগিয়ে যাচ্ছি। তারপর জীবনে আরো কিছু পরীক্ষা এলো। কারণ আল্লাহ যখন কাউকে ভালোবাসেন তখন তাকে শুধু নিয়ামত দিয়েই পরীক্ষা করেন না। কখনো
13:33
Speaker A
কখনো কষ্ট দিয়েও পরীক্ষা করেন। একদিন হঠাৎ এমন একটা সমস্যা সামনে এলো যেটা শুনে আমি পুরো ভেঙে পড়েছিলাম। মনে হচ্ছিল সবকিছু আবার অন্ধকার হয়ে যাচ্ছে। পুরনো সেই ভয়ে ফিরে আসছিল। কিন্তু এবার একটা জিনিস আলাদা ছিল। আমি আগের মত ভেঙে
13:50
Speaker A
পড়িনি। কারণ এবার আমি জানতাম আমার রব আছেন। সেদিন রাতে আমি অযু করে দু রাকাত নামাজ পড়লাম তারপর অনেকক্ষণ সিজদায় পড়ে থাকলাম। আমি শুধু বলছিলাম হে আল্লাহ আমি দুর্বল কিন্তু আপনি তো সবকিছুর মালিক। অদ্ভুতভাবে সেদিন আমার ভেতরে একটা সাহস
14:09
Speaker A
জন্ম নিল। সমস্যা তখনো ছিল। পরিস্থিতি তখনো কঠিন ছিল। কিন্তু আমি আর একা অনুভব করছিলাম না। এটাই তো ঈমানের সৌন্দর্য। সব ঝড় থেমে যাওয়ায় শান্তি না। ঝড়ের মাঝেও আল্লাহর উপর ভরসা রাখতে পারাটাই আসল শান্তি। ধীরে ধীরে আমি একটা নতুন মানুষ
14:28
Speaker A
হয়ে উঠছিলাম। আগে আমি মানুষের কথায় খুব ভেঙে পড়তাম। এখন ভাবতাম যদি আল্লাহ আমার সাথে থাকেন তাহলে মানুষের মতামত এত গুরুত্বপূর্ণ কেন? আগে আমি সবকিছু নিজের পরিকল্পনা অনুযায়ী চাইতাম। এখন বলতাম, হে আল্লাহ, আপনি যা ভালো মনে করেন সেটাই দিন।
14:47
Speaker A
এই পরিবর্তনগুলো হঠাৎ আসেনি।” প্রতিটা ইস্তেগফার ধীরে ধীরে আমার হৃদয় পরিষ্কার করছিল। যেভাবে বৃষ্টির পানি ধুলময় রাস্তা পরিষ্কার করে দেয়, ঠিক সেভাবে ইস্তেগফার আমার আত্মাকে পরিষ্কার করছিল। আমি লক্ষ্য করলাম, আগে যেসব গুনাহ খুব স্বাভাবিক মনে হতো, এখন সেগুলো করতে গেলেই ভেতরে কষ্ট
15:07
Speaker A
লাগতো। কারণ হৃদয় যখন জীবিত হয়ে যায়, তখন গুনাহ মানুষকে শান্তি দেয় না। একদিন আমি পুরনো কিছু ছবি দেখছিলাম। সেই সময়ের ছবি যখন আমি বাইরে থেকে খুব হাসি খুশি ছিলাম কিন্তু [মিউজিক] ভিতরে ভিতরে ভেঙে পড়ছিলাম। ছবিগুলোর দিকে তাকিয়ে আমার
15:23
Speaker A
চোখে পানি চলে এলো। কারণ আমি বুঝতে পারছিলাম আল্লাহ আমাকে কতদূর থেকে টেনে এনেছেন। মানুষভাবে পরিবর্তন মানেই বড় কোন ঘটনা। কিন্তু আসল পরিবর্তন হলো যখন একজন মানুষ রাতের অন্ধকারে আল্লাহকে ডেকে কাঁদে। যখন সে গুনাহ থেকে ফিরে আসে। যখন তার হৃদয় নরম হয়ে যায়। যখন সে দুনিয়ার
15:45
Speaker A
চেয়ে আখিরাতকে বেশি গুরুত্ব দিতে শুরু করে। এই পরিবর্তনগুলো চোখে দেখা যায় না। কিন্তু এগুলোই একজন মানুষকে সত্যিকারের সুন্দর বানায়। আমি আজও সেই 12 দিনের কথা ভুলতে পারি না। কারণ ওই দিনগুলো আমাকে শিখিয়েছে। কখনো কখনো আল্লাহ আমাদের সবকিছু কেড়ে নেন যাতে আমরা তাকে খুঁজে
16:04
Speaker A
পাই। কখনো কখনো মানুষ একদম একা হয়ে যায়। যাতে সে বুঝতে পারে আসল ভর্ষা শুধু আল্লাহ। আর কখনো কখনো একটা ছোট আমল একটা আন্তরিক ইস্তেগফার পুরো জীবনের দিকটাই বদলে দেয়। আজ হয়তো আপনি এমন একটা যুদ্ধের মধ্যে আছেন যেটার কথা কেউ জানে
16:22
Speaker A
না। হয়তো আপনি হাসছেন কিন্তু ভিতরে ভিতরে শেষ হয়ে যাচ্ছেন। হয়তো আপনার রাতগুলো খুব কঠিন যাচ্ছে। তাহলে বিশ্বাস করুন আপনার কান্না আল্লাহ দেখছেন আপনার নীরব দোয়া গুলো আল্লাহ শুনছেন আর আপনি যদি সত্যি তার দিকে ফিরে আসেন তাহলে এমন একটা
16:40
Speaker A
সময় আসবে যখন আপনি পেছনে তাকিয়ে বলবেন সেদিনের কষ্টটাই ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় রহমত তারপর থেকে আমার প্রতিটা দিন যেন নতুন একটা অনুভূতি নিয়ে শুরু হতে লাগলো আগে সকালে ঘুম ভাঙলেই বুকের ভেতর চাপ অনুভব করতাম মনে হতো আবার সেই একই যুদ্ধ
16:59
Speaker A
একই দুশ্চিন্তা, একই হতাশা। কিন্তু এখন ফজরের আজান শুনলেই মনে হতো আল্লাহ আমাকে আরেকটা সুযোগ দিয়েছেন। আর এই অনুভূতিটা সত্যিই মানুষকে বদলে দেয়। কারণ যে মানুষ আল্লাহর রহমতের আশা করতে শেখে সে কখনো পুরোপুরি ভেঙে পড়ে না। আমি তখন প্রতিদিন
17:19
Speaker A
একটা ছোট্ট অভ্যাস তৈরি করেছিলাম। ঘুম থেকে উঠে প্রথমেই কয়েক মিনিট চুপচাপ বসে ইস্তেগফার পড়তাম। কোন তাড়াহুড়ো না শুধু মন থেকে বলতাম আস্তাগফিরুল্লাহ শুরুতে এটা শুধু একটা শব্দ ছিল কিন্তু ধীরে ধীরে মনে হতে লাগলো এই শব্দের ভেতর অদ্ভুত এক প্রশান্তি লুকিয়ে আছে যেদিন মন
17:40
Speaker A
বেশি খারাপ থাকতো সেদিন আরো বেশি ইস্তেগফার করতাম আর আশ্চর্যের বিষয় হলো যত বেশি ইস্তেগফার করতাম তত বেশি মনে হতো আমার বুকের ভার হালকা হয়ে যাচ্ছে একদিন বাসায় হঠাৎ খুব বড় একটা সমস্যা তৈরি হল এমন একটা পরিস্থি যেটা আগে হলে আমি হয়তো
17:58
Speaker A
পুরো ভেঙ্গে পড়তাম। কিন্তু সেদিন আমি চুপচাপ অযু করলাম। নামাজ পড়লাম। তারপর অনেকক্ষণ ধরে শুধু ইস্তেগফার করতে লাগলাম। আমি কোন অভিযোগ করিনি। কাউকে দোষ দিইনি। শুধু আল্লাহকে বলেছিলাম। আপনি আছেন এটাই যথেষ্ট। সেদিন প্রথমবার আমি বুঝলাম ঈমান মানুষকে ভেতর থেকে কতটা শক্তিশালী বানিয়ে
18:20
Speaker A
দিতে পারে। কারণ বাইরের শক্তি দিয়ে মানুষ কিছু সময় টিকে থাকতে পারে। কিন্তু অন্তরের শক্তি না থাকলে সে একসময় ভেঙে পড়বেই। ইস্তেগফার সেই অন্তরটাকেই শক্ত করে দেয়। আমি ধীরে ধীরে লক্ষ্য করলাম আমার জীবন থেকে কিছু খারাপ জিনিস নিজে থেকেই দূরে সরে যাচ্ছে। যে মানুষগুলো
18:39
Speaker A
আমাকে আল্লাহ থেকে দূরে নিয়ে যেত, তাদের সাথে যোগাযোগ কমে গেল। যে অভ্যাসগুলো আমাকে ভেতর থেকে অন্ধকার করছিল, সেগুলোর প্রতি আগ্রহ কমে গেল। আগে রাত জেগে অপ্রয়োজনীয় জিনিসে সময় নষ্ট করতাম। এখন রাত হলেই মনে হতো তাহাজ্জুদের জন্য একটু আগে ঘুমানো দরকার। আগে গান শুনে শান্তি
18:58
Speaker A
খুঁজতাম। এখন কোরআনের তেলাওয়াত শুনলেই চোখ ভিজে [মিউজিক] যেত। আমি বুঝতে পারছিলাম আল্লাহ ধীরে ধীরে আমার হৃদয়কে পরিষ্কার করছেন। আর এটা পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর অনুভূতিগুলোর একটি। কারণ মানুষ যখন আল্লাহর দিকে হাঁটা শুরু করে তখন আল্লাহ তার দিকে রহমত নিয়ে এগিয়ে আসেন। এক রাতে
19:16
Speaker A
আমি খুব গভীর একটা উপলব্ধি করলাম। আমি ভাবছিলাম যদি সেই কষ্টগুলো আমার জীবনে না আসতো তাহলে কি আমি কখনো এতটা আল্লাহর কাছে আসতাম ? হয়তো না। তখন বুঝলাম কিছু কষ্ট আসলে শাস্তি না দয়া। হয়তো আল্লাহ আমাকে দুনিয়ার মায়া থেকে বের করে আনতে
19:34
Speaker A
চেয়েছিলেন। হয়তো তিনি চেয়েছিলেন আমি বুঝি মানুষ বদলে যায়। পরিস্থিতি [মিউজিক] বদলে যায়। টাকা পয়সা আসে যায়। কিন্তু আল্লাহ কখনো ছেড়ে যান না। এই উপলব্ধিটা আমার জীবনকে অন্যরকম করে দিল। আমি এখন আর আগের মত দুনিয়ার জিনিস নিয়ে অতটা ভয়
19:50
Speaker A
পাই না। কারণ আমি জানি যিনি আসমান-জমিন নিয়ন্ত্রণ করেন তিনি আমার জীবনও নিয়ন্ত্রণ করছেন। আর তার পরিকল্পনা আমার পরিকল্পনার চেয়েও সুন্দর। ধীরে ধীরে আমার চারপাশের মানুষও পরিবর্তন লক্ষ্য করতে শুরু করল। একজন বলল তোমাকে আগের চেয়ে অনেক শান্ত লাগে। আরেকজন বলল তোমার চোখে
20:10
Speaker A
এখন আলাদা একটা প্রশান্তি আছে। আমি শুধু মুচকি হাসতাম। কারণ তারা বাইরে যা দেখছিল আমি জানতাম সেটা ভেতরের পরিবর্তনের ফল। ইস্তেগফার শুধু আমার সমস্যাগুলো সহজ করেনি। এটা আমাকে নতুন একজন মানুষ বানিয়ে দিয়েছিল। একজন মানুষ যে এখন কষ্ট পেলেও ভেঙে পড়ে না। একজন মানুষ যে দেরি হলেও
20:31
Speaker A
আল্লাহর উপর ভরসা রাখে। একজন মানুষ যে জানে প্রতিটা অন্ধকার রাতের পরই আলো আসে। একদিন আমি ডায়রির পুরনো একটা পৃষ্ঠা খুললাম। সেখানে লেখা ছিল, আমি আর পারছি না। লাইনটা পড়ে আমার চোখে জল চলে এলো। কারণ আজ আমি জানি সেই সময় আমি সত্যিই শেষ
20:49
Speaker A
হয়ে যাচ্ছিলাম। কিন্তু আল্লাহ আমাকে শেষ হতে দেননি। তিনি আমাকে ইস্তেগফারের মাধ্যমে আবার জীবিত করে তুলেছেন। আর আজ যদি কেউ আমাকে জিজ্ঞেস করে তোমার জীবনের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন কি ছিল? আমি বলব সেদিন যেদিন আমি মানুষের দরজা ছেড়ে আল্লাহর দরজায় দাঁড়িয়েছিলাম। সেদিন
21:08
Speaker A
যেদিন আমি প্রথম সত্যিকারের ইস্তেগফার করেছিলাম। কারণ সেদিন থেকেই অসম্ভব জিনিসগুলো ধীরে ধীরে সম্ভব হতে শুরু করেছিল। আমি তখন একটা বিষয় খুব স্পষ্টভাবে বুঝে গিয়েছিলাম আল্লাহ যখন কাউকে বদলাতে চান তখন তিনি প্রথমে তার হৃদয়ে আঘাত করেন। কারণ সুখের সময় মানুষ
21:27
Speaker A
প্রায়ই ভুলে যায় সে কতটা দুর্বল। কিন্তু কষ্ট মানুষকে সত্যের সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়। আমার জীবনেও ঠিক সেটাই হয়েছিল। যে অহংকার একসময় আমার ভেতরে ছিল সেটা ধীরে ধীরে ভেঙে যাচ্ছিল। আগে আমি ভাবতাম সবকিছু আমার পরিশ্রমে হচ্ছে। আমি চাইলে পারবো আমি
21:45
Speaker A
সামলে নেব। কিন্তু যখন একের পর এক দরজা বন্ধ হতে লাগলো তখন বুঝলাম মানুষ আসলে কত অসহায়। আর সেই অসহায়ত্বই আমাকে আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে দিয়েছিল। একদিন বিকেলে আমি একা হাঁটছিলাম। আকাশটা মেঘলা ছিল। চারপাশে মানুষজন ব্যস্ত। সবাই নিজের জীবনের দৌড়ে
22:05
Speaker A
ছুটছে হঠাৎ মনে হলো এই পৃথিবীতে মানুষ কত কিছু নিয়ে চিন্তা করে অথচ মৃত্যুর কথা খুব কমই ভাবে আমি থেমে গেলাম মনে হচ্ছিল আল্লাহ আমার হৃদয়ে কথা বলছেন আমি নিজেকে প্রশ্ন করলাম যদি আজই আমার শেষ দিন হতো প্রশ্নটার উত্তর দিতে গিয়ে বুকটা কেঁপে
22:25
Speaker A
উঠলো কারণ আমি বুঝতে পারছিলাম এতদিন আমি দুনিয়া নিয়ে যতটা চিন্তা করেছি আখিরাত নিয়ে ততটা করিনি সেদিন আমি অনেকক্ষণ ধরে ইস্তেগফার করেছিলাম। আমার মনে হচ্ছিল আমি শুধু গুনাহের জন্য না, হারিয়ে যাওয়ার সময়ের জন্য ক্ষমা চাইছি। মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় ক্ষতি টাকা হারানো না।
22:45
Speaker A
সবচেয়ে বড় ক্ষতি হলো আল্লাহ থেকে দূরে চলে যাওয়া। আর সবচেয়ে বড় সফলতা হলো আবার তার দিকে ফিরে আসা। আমি ধীরে ধীরে অনুভব করলাম ইস্তেগফার শুধু আমার জীবন সহজ করছে না এটা আমার হৃদয়কে নরম করছে আগে কোন গরীব মানুষ দেখলে হয়তো পাশ কাটিয়ে
23:03
Speaker A
চলে যেতাম এখন তাদের কষ্ট দেখলে বুক কেঁপে উঠতো আগে মানুষ ভুল করলে রাগ হতো এখন মনে হতো আমিও তো ভুলে ভরা একজন মানুষ আগে আমি শুধু নিজের সুখ নিয়ে ভাবতাম এখন অন্যের জন্য দোয়া করতে ইচ্ছে করতো এই পরিবর্তনগুলো আমি নিজেও কল্পনা করিনি কারণ
23:22
Speaker A
সত্যিকারের ইবাদত শুধু মানুষের বাহির বদলায় না ভেতরটাও বদলে দেয়। এক রাতে খুব অদ্ভুত একটা ঘটনা ঘটলো। আমি তাহাজ্জুদের পরে চুপচাপ বসেছিলাম। চোখ বন্ধ করে শুধু ইস্তেগফার পড়ছিলাম। হঠাৎ মনে হলো বুকের ভেতরের বহু বছরের একটা চাপ যেন ধীরে ধীরে
23:40
Speaker A
সরে যাচ্ছে। আমি কানছিলাম। কিন্তু সেই কান্নায় হতাশা ছিল না। সেটা ছিল শান্তির কান্না। মনে হচ্ছিল আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করে দিচ্ছেন। সেই অনুভূতিটা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব না। দুনিয়ার কোন আনন্দের সাথে তার তুলনা হয় না। কারণ মানুষ যখন সত্যিকারের তওবা করে তখন তার আত্মা হালকা
24:01
Speaker A
হয়ে যায়। আমি বুঝতে পারলাম আমরা অনেক সময় ভাবি সুখ মানে টাকা, সফলতা বা মানুষের প্রশংসা। কিন্তু আসল সুখ হলো রাতে সিজদায় গিয়ে আল্লাহর সাথে কথা বলতে পারা। আসল সুখ হলো অন্তরে শান্তি অনুভব করা। আসল সুখ হলো এই বিশ্বাস রাখা যে যাই
24:20
Speaker A
হোক না কেন আল্লাহ আমাকে একা ছেড়ে দেবেন না। এরপর থেকে আমার জীবনের প্রতিটা কষ্টকে আমি অন্যভাবে দেখতে শুরু করলাম। আগে সমস্যা এলেই আমি জিজ্ঞেস করতাম কেন আমার সাথে এমন হচ্ছে? এখন আমি বলতাম হে আল্লাহ, এই পরীক্ষার মাধ্যমে আপনি আমাকে কি শেখাতে
24:39
Speaker A
চান? এই একটা চিন্তা মানুষের পুরো জীবন বদলে দিতে পারে। কারণ তখন কষ্ট ইবাদত হয়ে যায়। ধীরে ধীরে আমি লক্ষ্য করলাম যেসব বিষয় নিয়ে আমি আগে অস্থির হয়ে যেতাম এখন সেগুলো নিয়ে এত ভয় লাগে না। কারণ আমি জানতাম রিজিক মানুষের হাতে না সম্মান
24:57
Speaker A
মানুষের হাতে না ভবিষ্যৎও মানুষের হাতে না সবকিছু আল্লাহর হাতে। আর যিনি সবকিছুর মালিক তিনি যদি আমার সাথে থাকেন তাহলে আমি কেন এত ভয় পাবো? একদিন মা আমাকে বললেন, তুই আগের চেয়ে অনেক বেশি ধৈর্যশীল হয়ে গেছিস। আমি কিছু বলিনি। শুধু মনে মনে
25:15
Speaker A
আল্লাহকে শুকরিয়া জানিয়েছিলাম| কারণ আমি জানতাম এই পরিবর্তন আমি নিজে আনতে পারিনি| এটা ছিল ইস্তেগফারের বরকত এটা ছিল আল্লাহর রহমত আজও যখন আমি আস্তাগফিরুল্লাহ বলি তখন আমার সেই কঠিন দিনগুলোর কথা মনে পড়ে যায় আর আমি ভেতর ভেতর কেঁপে উঠি কারণ আমি জানি
25:35
Speaker A
যদি আল্লাহ আমাকে সেই অন্ধকার থেকে বের করে আনতে পারেন তাহলে তিনি যেকোনো [মিউজিক] মানুষকেই বদলে দিতে পারেন হয়তো এই মুহূর্তে আপনিও কোন কঠিন সময় পার করছেন। হয়তো আপনার জীবনেও সবকিছু এলোমেলো হয়ে গেছে। হয়তো আপনি মানুষের কাছে ক্লান্ত হয়ে গেছেন। তাহলে আজ একটা সিদ্ধান্ত নিন।
25:54
Speaker A
মানুষের কাছে কম যান। আল্লাহর কাছে বেশি যান। কারণ পৃথিবীর মানুষ সীমিত সাহায্য করতে পারে। কিন্তু আল্লাহ চাইলে এক মুহূর্তেই অসম্ভবকে সম্ভব করে দিতে পারেন। আর কখনো কখনো সেই পরিবর্তনের শুরু হয় শুধু একটা শব্দ দিয়ে। আস্তাগফিরুল্লাহ। শেষের কয়েকটা দিনে এসে আমি অনুভব করলাম
26:15
Speaker A
আমার ভিতরে যেন এক নতুন পৃথিবী তৈরি হয়েছে বাইরের জীবন পুরোপুরি বদলে যায়নি তখনো সমস্যাগুলো সব জাদুর মত উধাও হয়ে যায়নি কিন্তু আমি বদলে গিয়েছিলাম আর মানুষ যখন ভিতর থেকে বদলে যায় তখন তার পুরো জীবন বদলাতে শুরু করে এক রাতে আমি
26:34
Speaker A
ছাদের এক কোণে বসেছিলাম আকাশ ভরা তারা চারপাশ নিস্তব্ধ দূরে কোথাও হালকা বাতাসে গাছের পাতা নড়ছিল। আমি ধীরে ধীরে ইস্তেগফার পড়ছিলাম। আস্তাগফিরুল্লাহ আস্তাগফিরুল্লাহ। হঠাৎ মনে হলো এই শব্দটাই আমাকে বাঁচিয়ে দিয়েছে। যে আমি একসময় হতাশায় ডুবেছিলাম যে আমি রাতের পর রাত কেঁদেছি যে আমি নিজের
26:58
Speaker A
ভবিষ্যৎ নিয়েই ভয় পেতাম। আজ সেই আমি শান্ত হয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছি। আমার চোখ ভিজে উঠলো। কারণ আমি বুঝতে পারছিলাম আল্লাহ আমাকে ধ্বংস হতে দেননি। তিনি আমার কান্না শুনেছেন, আমার নীরবতা বুঝেছেন, আমার ভাঙ্গা হৃদয়কে জোড়া লাগিয়েছেন। আর সবচেয়ে সুন্দর ব্যাপার হলো, আমি আল্লাহকে
27:21
Speaker A
নতুনভাবে চিনতে শিখেছি। আগে আমি শুধু দোয়া করতাম কিছু পাওয়ার জন্য। এখন আমি দোয়া করি শুধু তার কাছাকাছি থাকার জন্য। আগে আমি মানুষ হারানোর ভয়ে কাঁপতাম। এখন আমি শুধু আল্লাহকে হারানোর ভয় পাই। আগে দুনিয়াকে সবকিছু মনে করতাম এখন বুঝি এই
27:39
Speaker A
দুনিয়া ক্ষণিকের কিন্তু আল্লাহর ভালোবাসা চিরস্থায়ী 12 দিনের সেই ছোট্ট ইস্তেগফার চ্যালেঞ্জ আমাকে এমন কিছু শিখিয়েছে যা হয়তো বহু বই পড়েও শেখা যায় না আমি শিখেছি আল্লাহ কখনো কাউকে হতাশ করেন না তিনি হয়তো দেরি করেন কিন্তু ফিরিয়ে দেন সবচেয়ে
27:58
Speaker A
সুন্দরভাবে আমি শিখেছি কিছু ভাঙ্গন আসলে রহমত কারণ সবকিছু ঠিক থাকলে মানুষ কখনো সিজদায় এভাবে কাঁদতে শেখে না। আমি শিখেছি মানুষের দরজা বারবার বন্ধ হতে পারে কিন্তু আল্লাহর দরজা কখনো বন্ধ হয় না। আর আমি শিখেছি একটা আন্তরিক আস্তাগফিরুল্লাহ একজন
28:18
Speaker A
মানুষের ভাগ্য বদলে দিতে পারে। সেদিন রাতের শেষ প্রহরে আমি সিজদায় পড়েছিলাম। চোখের পানি থামছিল না। আমি শুধু বলছিলাম, হে আল্লাহ, আপনি আমাকে এত ভালোবাসলেন কেন?
28:30
Speaker A
আমি তো এর যোগ্য ছিলাম না। সেদিন মনে হচ্ছিল পৃথিবীর সব শান্তি আমার হৃদয়ে নেমে এসেছে। সম্ভবত এটাই আল্লাহর দিকে ফিরে আসার সৌন্দর্য। আপনি যখন সত্যি সত্যি তার কাছে ফিরে যান তখন তিনি শুধু আপনার সমস্যা কমান না। তিনি আপনার হৃদয়কেও
28:48
Speaker A
আলোয়ে ভরে দেন। আজ যদি কেউ আমাকে জিজ্ঞেস করে তোমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সময় কোনটা ছিল? আমি বলব সেই সময় যখন আমি গভীর রাতে একা বসে ইস্তেগফার করতাম আর আল্লাহ ধীরে ধীরে আমার জীবন বদলে দিচ্ছিলেন। কারণ ওই রাতগুলোতেই আমি শিখেছি মানুষ যতই ভেঙে
29:08
Speaker A
যাক না কেন আল্লাহর রহমতের সামনে কেউ হারিয়ে যায় না। আজ হয়তো আপনি খুব ক্লান্ত। হয়তো আপনার জীবনে অন্ধকার নেমে এসেছে। হয়তো আপনি কাউকে কিছু বলতে পারছেন না। তাহলে দয়া করে একটা কাজ করুন। আজ রাতেই ওযু করুন। দু রাকাত নামাজ পড়ুন|
29:25
Speaker A
তারপর চুপচাপ আল্লাহকে বলুন, হে আল্লাহ, আমি ফিরে এসেছি| তারপর ধীরে ধীরে ইস্তেগফার পড়তে থাকুন। হয়তো আজ আপনি বুঝবেন না কিন্তু কয়েকদিন পরে পেছনে তাকিয়ে দেখবেন, যে রাতগুলোতে আপনি কেঁদেছিলেন, সেই রাতগুলোই ছিল আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় রহমত। আর তখন আপনার
29:45
Speaker A
হৃদয় নিজে থেকেই বলে উঠবে, আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহ আমাকে ভাঙ্গেননি। তিনি আমাকে নতুন করে গড়ে তুলেছেন।
Topics:ইস্তেগফারআল্লাহমোটিভেশনইসলামিক চ্যালেঞ্জআত্মপরিবর্তনআধ্যাত্মিকতাবিশ্বাসবাংলা ইসলামিক ভিডিওদোয়াআত্মশুদ্ধি

Frequently Asked Questions

ইস্তেগফার কী এবং এটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?

ইস্তেগফার হলো আল্লাহর কাছে গুনাহ মাফ চাওয়া এবং আত্মার শুদ্ধি। এটি অন্তরের পরিবর্তন আনে এবং আল্লাহর কাছে ফিরে যাওয়ার পথ খুলে দেয়।

১২ দিনের ইস্তেগফার চ্যালেঞ্জ কীভাবে জীবনে পরিবর্তন আনে?

১২ দিনের ইস্তেগফার চ্যালেঞ্জে নিয়মিত আস্তাগফিরুল্লাহ উচ্চারণের মাধ্যমে অন্তরে শান্তি আসে, ঈমান শক্ত হয় এবং জীবনের সংকট ও সম্পর্কের সমস্যা ধীরে ধীরে সমাধান হয়।

কেন আল্লাহ কখনো দেরি করেন বলে মনে হয়?

আল্লাহ কখনো দেরি করেন না, তিনি আমাদের আরো কাছে আসার জন্য এবং প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য সময় দেন। সঠিক সময়ে তিনি আমাদের জন্য সেরা পরিকল্পনা করেন।

Get More with the Söz AI App

Transcribe recordings, audio files, and YouTube videos — with AI summaries, speaker detection, and unlimited transcriptions.

Or transcribe another YouTube video here →