নিজের লক্ষ্য অর্জনের জন্য ৬ মাসই যথেষ্ট | Napoleon Hill… — Transcript

নিজের লক্ষ্য অর্জনের জন্য ৬ মাসের নীরব পরিশ্রম কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা নেপোলিয়ন হিলের দর্শনে তুলে ধরা হয়েছে।

Key Takeaways

  • লক্ষ্য গোপন রেখে কাজ করলে মস্তিষ্কের কৃত্রিম সন্তুষ্টি কমে এবং কাজের প্রেরণা বাড়ে।
  • নীরবতা মানে একাকিত্ব নয়, অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তি থেকে দূরে থাকা।
  • ধৈর্য, ধারাবাহিকতা ও পরিশ্রম মিলিয়ে সাফল্যের অপরাজেয় সংমিশ্রণ তৈরি হয়।
  • ছয় মাসের ধারাবাহিক পরিশ্রম অভ্যাস ও পরিচয় পরিবর্তনে যথেষ্ট।
  • সামাজিক মাধ্যম থেকে দূরে থাকলে তুলনার ফাঁদ এড়ানো যায় এবং মনোযোগ বাড়ে।

Summary

  • লক্ষ্য অর্জনের জন্য কাজের গুরুত্ব এবং কথা কম বলার প্রয়োজনীয়তা আলোচনা করা হয়েছে।
  • মনোবিজ্ঞান অনুযায়ী লক্ষ্য ঘোষণা করলে মস্তিষ্ক ডোপামিন রিলিজ করে যা কাজের প্রেরণা কমিয়ে দেয়।
  • নীরবতার শক্তি এবং ছয় মাসের ধারাবাহিক পরিশ্রম জীবনে গভীর পরিবর্তন আনে।
  • নিজেকে এবং কাজকে নিয়ন্ত্রণ করার মাধ্যমে দ্রুত উন্নতি সম্ভব।
  • সামাজিক মাধ্যম ও অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
  • ধৈর্য, ধারাবাহিকতা ও পরিশ্রম সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।
  • সন্দেহ ও বিরক্তি মোকাবেলা করেই প্রকৃত উন্নতি সম্ভব।
  • নিজের অভ্যাস ও চিন্তাধারা পরিবর্তনের জন্য ছয় মাস যথেষ্ট সময়।
  • সফলতার জন্য অহংকার ত্যাগ করে বৈধতা ছাড়া কাজ করার গুরুত্ব।
  • সামাজিক চাপ ও তুলনার ফাঁদ থেকে নিজেকে রক্ষা করার প্রয়োজনীয়তা।

Full Transcript — Download SRT & Markdown

00:00
Speaker A
আজকের ভিডিওটি শুরু করার আগে একটু থামো। ভিডিওটিতে ক্লিক করেছেন তো? এক মিনিটের জন্য ফোনটি স্ক্রল করা বন্ধ করে দাও। চারপাশের সব শব্দ এক মুহূর্তের জন্য থামিয়ে দাও। যদি এখন কোন কাজে ব্যস্ত থাকো তবে কিছুক্ষণের জন্য কাজটাকে সাইডে রেখে মনোযোগ দিয়ে এই কথাগুলি শোনো। আর
00:19
Speaker A
নিজেকে জিজ্ঞেস করো। সত্যিই কি আমি যা চাই তা কাউকে না বলে শুধু কাজ করে গেলে আমার জীবন বদলে যেতে পারে? নাকি এটা শুধুই একটা মোটিভেশনাল লাইন যা শুনতে ভালো লাগে কিন্তু বাস্তবে কাজে আসে না? আর যদি আমি সত্যিই চুপ করে থাকি তাহলে আমি কিভাবে
00:36
Speaker A
বুঝবো আমি সঠিক পথে আছি? যদি আমি একা হয়ে যাই, যদি আমি ব্যর্থ হয়ে যাই। এই প্রশ্নগুলো শুধু তোমার নয়, এই প্রশ্নগুলো তাদেরও যারা কিছু বড় করতে চায়। কিন্তু প্রতিবার মাঝপথে থেমে যায়। আর সত্যি বলতে বেশিরভাগ মানুষ পরিশ্রম থেকে হারে না, তারা
00:54
Speaker A
হারে নিজেরই কথায়, নিজেরই ভয়ে। আর সবচেয়ে বেশি হারে অন্যকে নিজের স্বপ্ন জানানোর অভ্যাস থেকে। নমস্কার বন্ধুরা, আপনাদের সকলের অতি প্রিয় বই থেকে শুরু চ্যানেলে আপনাদের আন্তরিকভাবে স্বাগত। আজকের এই আলোচনা কোন সাধারণ মোটিভেশনাল ভিডিও নয়, এটা একটা গভীর বিশ্লেষণ, একটা বইয়ের সারসংক্ষেপের মতো যেখানে সময়ের পরীক্ষিত নীতি, মনোবিজ্ঞান আর বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা মিলে একটা স্পষ্ট পথ দেখায়। আজ আমরা কথা বলব নীরবতার শক্তি নিয়ে। ছয় মাসের নিঃশব্দ যাত্রা নিয়ে। আর সেই গোপন পরিবর্তন নিয়ে যা বাইরের থেকে দেখা যায় না, কিন্তু ভিতরে পুরো জীবনকে বদলে দেয়।
01:15
Speaker A
তুমি কি কখনো খেয়াল করেছো? ঠিক যখন তুমি কাউকে তোমার লক্ষ্যের কথা বলো, "আমি এটা করতে চাই, আমি এটা হতে চাই," ঠিক সেই মুহূর্তে তোমার ভিতরে এক অদ্ভুত সন্তুষ্টি চলে আসে। মনে হয় যেন তুমি কিছু অর্জন করে ফেলেছ। অথচ বাস্তবে তুমি তখনো কিছু শুরু
01:35
Speaker A
করোনি। মনোবিজ্ঞান বলে যখন আমরা কোন লক্ষ্য ঘোষণা করি, আমাদের মস্তিষ্ক তাকে আংশিকভাবে অর্জিত বলে গণ্য করে। এটা কোন কাল্পনিক কথা নয়। গবেষণায় দেখা গেছে লক্ষ্য জানানোর পর মস্তিষ্ক ডোপামিন রিলিজ করে। আর সেই কৃত্রিম সন্তুষ্টি আমাদের কাজ করার জরুরি ভাব কমিয়ে দেয়। নেপোলিয়ন
01:52
Speaker A
হিল তার লেখায় স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, যখন তুমি তোমার লক্ষ্যকে পৃথিবীর সামনে বলে দাও, তখন তোমার অবচেতন মন সেটা অর্জনের তাগিদ হারিয়ে ফেলে। এর মানে এই নয় যে স্বপ্ন দেখা ভুল, এর মানে এই নয় যে পরিকল্পনা শেয়ার করা খারাপ, এর মানে হলো
02:12
Speaker A
প্রতিটি স্বপ্ন প্রতিটি কানের জন্য নয়। আর তিনি আরো একটা কথা পরিষ্কার করে বলেছিলেন, পৃথিবীকে বলো না তুমি কি করতে যাচ্ছ, আগে করে দেখাও, তারপর পৃথিবী নিজেই দেখে নেবে। এখন একটু ভেবে দেখো, তুমি কতবার এমন করেছো যে তুমি কাউকে তোমার প্ল্যানটা বলেছ আর
02:29
Speaker A
কয়েকদিন পর সেই প্ল্যান ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেছে। শুরুতে উত্তেজনা ছিল, শক্তি ছিল, কিন্তু তারপর ধীরে ধীরে সবটা নিভে গেল। কেন? কারণ তুমি সেই শক্তিকে কাজে লাগানোর বদলে কথায় খরচ করে দিয়েছিলে। আসলে যখন তুমি চুপ থাকো, তখন তোমার সামনে দুটোই
02:46
Speaker A
রাস্তা খোলা থাকে, হয় কাজ করো, নয়তো নিজেকে বোঝাও। আর যখন তুমি বারবার কাজ করে যাও কাউকে না জানিয়ে, তখন তোমার ভিতরে এক আলাদা শক্তি তৈরি হয়। সেই শক্তি কাউকে প্রমাণ করার জন্য নয়, সেই শক্তি শুধু নিজেকে বদলানোর জন্য। একটা ছোট কিন্তু
03:04
Speaker A
বাস্তব উদাহরণ দিয়ে ব্যাপারটা পরিষ্কার করি। একজন তরুণ ছিলেন যাকে সবাই সাধারণ মানুষ বলেই চিনতো। তিনি প্রায়ই বন্ধুদের বলতেন, "আমি কিছু বড় করব, আমি নিজের প্রমাণ দেবো," কিন্তু প্রতিবার কয়েক মাস পর তিনি আগের জায়গাতেই ফিরে যেতেন। একদিন তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন এখন থেকে আর কিছু বলবেন
03:21
Speaker A
না। তিনি ফোনের অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ করে দিলেন, সামাজিক মাধ্যম থেকে দূরে সরে গেলেন, আর প্রতিদিন ছয় থেকে সাত ঘন্টা শুধু নিজের দক্ষতা বাড়ানোর কাজে মনোযোগ দিলেন। প্রথম ১০ দিন তিনি নিজের উপর সন্দেহ করেছিলেন, মনে হয়েছিল হয়তো তিনি ভুল করছেন। কিন্তু তিনি কাউকে কিছু বললেন
03:40
Speaker A
না। ৩০ দিন পর তার মধ্যে সামান্য আত্মবিশ্বাস ফিরে এলো। ৬০ দিন পর তিনি নিজের উন্নতি অনুভব করলেন। আর ছয় মাস পর যারা তাকে আগে উপেক্ষা করত, তারাই এখন তার কাছে পরামর্শ নিতে শুরু করল। এটা কোন চলচ্চিত্রের গল্প নয়, এটা বাস্তবতা।
03:59
Speaker A
পার্থক্য শুধু এতটুকুই ছিল, আগে তিনি বেশি বলতেন আর কম কাজ করতেন, আর পরে তিনি বলা বন্ধ করে দিলেন আর কাজ শুরু করলেন। নেপোলিয়ন হিল বলতেন, মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তার নিয়ন্ত্রিত নীরবতা। যখন তুমি তোমার শক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করো, তোমার
04:17
Speaker A
চিন্তাকে নিয়ন্ত্রণ করো, আর সোরগোল না করে কাজ করে যাও, তখন তোমার বৃদ্ধি সবচেয়ে দ্রুত হয়। এখানে একটা বিষয় পরিষ্কার করে নেওয়া জরুরি। নীরবতার মানে এই নয় যে তুমি একা হয়ে গেছো বা তুমি কাউকে সাহায্য চাইতে পারবে না। নীরবতার
04:34
Speaker A
মানে হলো অপ্রয়োজনীয় কোলাহল থেকে দূরে থাকা। সেই মানুষ থেকে দূরে থাকা যারা তোমার স্বপ্নকে বোঝে না। আর সেই মতামত থেকে দূরে থাকা যা তোমাকে বিভ্রান্ত করে। কারণ সত্যিটা হলো যত মানুষ তত মত। যদি তুমি সবার কথা শোনো, তাহলে তুমি কখনোই
04:50
Speaker A
নিজের কথা শুনতে পাবে না। এখন নিজেকে একটা সরল প্রশ্ন করো। যখন তুমি শেষবার কিছু বড় করার কথা ভেবেছিলে, তখন তুমি সবচেয়ে আগে কি করেছিলে? কাজ শুরু করেছিলে নাকি মানুষকে জানিয়েছিলে? আর যা করেছিলে তার ফল কি হয়েছিল? এখানেই বেশিরভাগ মানুষ
05:07
Speaker A
হেরে যায়। তারা শুরুতেই তাদের শক্তি খরচ করে ফেলে। তাদের মনে হয় অনুপ্রেরণা বাইরে থেকে আসবে। কিন্তু আসল অনুপ্রেরণা তখনই আসে যখন তুমি প্রতিদিন সামান্য সামান্য অগ্রগতি দেখতে থাকো কাউকে না জানিয়ে। আর এই ছ মাস কোন এলোমেলো সংখ্যা নয়। এটা সেই
05:25
Speaker A
সময় যেখানে তুমি তোমার অভ্যাস বদলাতে পারো। তোমার চিন্তাধারা বদলাতে পারো। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তোমার পরিচয় বদলাতে পারো। প্রথম ৩০ দিন তোমার মন প্রতিরোধ করবে। তোমাকে বারবার বিভ্রান্ত করতে চাইবে। পরের ৩০ দিন তোমার হাতে সামান্য নিয়ন্ত্রণ আসবে। কিন্তু ধারাবাহিকতার
05:43
Speaker A
লড়াই চলতেই থাকবে। ৯০ দিন পর তুমি পার্থক্য দেখতে শুরু করবে। আর ১৮০ দিন পর তুমি সেই মানুষ থাকবে না যে তুমি আজ আছো। কিন্তু এটা সবই তখনই হবে যখন তুমি চুপ থাকবে। যখন তুমি তোমার কাজকে কথার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেবে। নেপোলিয়ন হিলের
06:04
Speaker A
আরেকটা শক্তিশালী কথা মনে রাখো, যা মস্তিষ্ক কল্পনা করতে পারে আর বিশ্বাস করতে পারে তা অর্জন করতে পারে। কিন্তু এখানে একটা লুকানো অংশ আছে, কল্পনা আর বিশ্বাসের মাঝখানে নীরবতা থাকে। কারণ যতক্ষণ তুমি তোমার মস্তিষ্ককে বিভ্রান্তি থেকে দূরে রাখবে না, ততক্ষণ সেই বিশ্বাস
06:23
Speaker A
শক্তিশালী হবে না। এখন কল্পনা করো, যদি তুমি আগামী ছ মাস কাউকে কিছু না বলো, কোন আপডেট না দাও, কোন প্রদর্শনী না করো, শুধু প্রতিদিন তোমার কাজ করে যাও, তাহলে কি হবে? শুরুতে মানুষ তোমাকে ভুলে যাবে, তারপর তারা তোমাকে উপেক্ষা করবে, আর তারপর একদিন হঠাৎ
06:43
Speaker A
করে তারা জিজ্ঞেস করবে, "তুই এটা কিভাবে করলি?" আর ঠিক সেই মুহূর্তটিই হবে যখন তোমার সাফল্য নিজেই শব্দ করে উঠবে। কিন্তু এর জন্য তোমাকে একটা সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তুমি কি আগামী ছ মাসের জন্য তোমার অহংকারকে পাশে রাখতে পারবে? তুমি কি বৈধতা ছাড়া কাজ
07:02
Speaker A
করতে পারবে? তুমি কি কোন প্রশংসা ছাড়া পরিশ্রম করতে পারবে? কারণ আসল খেলাটা এখানেই। আজকের আগে হয়তো তুমি অনেকবার শুরু করেছিলে। কিন্তু এবার বিষয়টা আলাদা। এবার তুমি বলবে না, এবার তুমি দেখাবে। আর যখন তুমি দেখাবে, তখন কোন ব্যাখ্যার
07:20
Speaker A
প্রয়োজন হবে না। এখন মনোযোগ দিয়ে শোনো। এই পথটা সহজ নয়। এখানে বিরক্তি আসবে। একাকিত্ব আসবে, সন্দেহ আসবে। কিন্তু এই জিনিসগুলোই তোমাকে বাকিদের থেকে আলাদা করে। কারণ বেশিরভাগ মানুষ এই অনুভূতিগুলো থেকে পালিয়ে যায়। আর কিছু মানুষ এই অনুভূতিগুলোর মুখোমুখী হয়। আর যারা
07:38
Speaker A
মুখোমুখী হয়, তারাই এগিয়ে যায়। এখন এটা তোমার উপর নির্ভর করছে তুমি কি হতে চাও?
07:59
Speaker A
এখন একটু থেমে নিজেকে একটা সরল প্রশ্ন করো। যখন কেউ তোমাকে দেখছে না, যখন কেউ তোমাকে বিচার করছে না, তখন তুমি কি করো?
08:06
Speaker A
কারণ আসল চরিত্র সেখানেই গড়ে ওঠে। সেখানেই ঠিক হয় যে তুমি সত্যিই তোমার লক্ষ্যের জন্য গুরুতর নাকি শুধু সেই অনুভূতির জন্য যা লক্ষ্য নিয়ে ভাবলে আসে। তুমি হয়তো লক্ষ্য করেছো শুরুতে শক্তি বেশি থাকে। তুমি পরিকল্পনা করো, রুটিন লেখো, নিজের সাথে প্রতিশ্রুতি করো। কিন্তু
08:18
Speaker A
যখন ১০ থেকে ১৫ দিন পার হয়, ঠিক সেই মনটাই তোমাকে ধীরে ধীরে বোঝাতে শুরু করে, "আজ একটু বিশ্রাম নাও, কাল থেকে আবার শুরু করব।" আর ঠিক এই জায়গাটিতেই বেশিরভাগ মানুষ হেরে যায়। কোন বড় ব্যর্থতা হয় না, শুধু ছোট
08:39
Speaker A
ছোট অজুহাত জিতে যায়। নেপোলিয়ন হিল বলতেন, সাফল্য আর ব্যর্থতার মাঝের পার্থক্য শুধু একটা অভ্যাসের ধারাবাহিকতা, মানে যে মানুষ থামে না, সেই জিতে। ভিতরে কি চলছে তা যাই হোক না কেন। আর তিনি আরেকটা কথা বলেছিলেন, ধৈর্য, অধ্যবসায় আর
08:57
Speaker A
পরিশ্রম মিলে সাফল্যের এক অপরাজেয় সংমিশ্রণ তৈরি করে। অর্থাৎ ধৈর্য, ধারাবাহিকতা আর পূর্ণ প্রচেষ্টা। এই তিনটে মিলে একটা শক্তি তৈরি করে যাকে কেউ হারাতে পারে না। এখন এটা সহজভাবে বোঝো। ধৈর্য মানে বুঝে নাও যে তোমাকে সাথে সাথে ফল পাবে না। ধারাবাহিকতা মানে ফল না পেলেও
09:19
Speaker A
কাজ করে যাওয়া। আর পরিশ্রম মানে সত্যিকারের প্রচেষ্টা দেওয়া। শুধু ভাবলে হবে না, করতে হবে। এখন ভাবো, যখন তুমি চুপ থাকো, তখন এই তিনটে জিনিস স্বয়ংক্রিয়ভাবে সক্রিয় হয়ে যায়। কারণ তোমার কোন বিভ্রান্তি থাকে না। কোন বৈধতা থাকে না। শুধু তুমি থাকো আর তোমার কাজ থাকে। কিন্তু
09:44
Speaker A
এখানে আর একটা ফাঁদ আসে, তুলনার ফাঁদ। যখন তুমি সামাজিক মাধ্যম খোলো, তখন মনে হয় সবাই তোমার চেয়ে এগিয়ে। কেউ কিছু অর্জন করছে, কেউ সাফল্য দেখাচ্ছে। আর তোমার মস্তিষ্ক সাথে সাথে বলে, "আমি পিছিয়ে পড়েছি।" এখানেই খেলা শেষ হয়ে যায়। কারণ
10:06
Speaker A
তুমি তোমার প্রথম অধ্যায়কে কারো বিংশ অধ্যায়ের সাথে তুলনা করছো। আর এই
10:25
Speaker A
তুমি তোমার প্রথম অধ্যায়কে কারো বিংশ অধ্যায়ের সাথে তুলনা করছো। আর এই তুলনা তোমার শক্তিকে খেয়ে ফেলে। ধীরে ধীরে তোমার মনোযোগ ভেঙে যায়। নেপোলিয়ন হিল এই নিয়ে স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, যখন তুমি অন্যের পথের দিকে তাকাও তুমি নিজের পথ বুঝে যাও। এর মানে এই নয় যে তোমার
10:46
Speaker A
প্রতিযোগী অন্য কেউ। তোমার প্রতিযোগী শুধু সেই মানুষ যে তুমি কাল ছিলে। এখন একটা বাস্তব পরিস্থিতি দেখো। একজন মানুষ জিমে যেতে শুরু করলেন। প্রথম সপ্তাহে তিনি নিয়মিত যান। কিন্তু দ্বিতীয় সপ্তাহে যখন তিনি কাউকে ভারী ওজন তুলতে দেখেন তিনি নিজেকে ছোট মনে করতে শুরু করেন তার মনে
11:07
Speaker A
হয় তিনি ধীর তিনি পিছিয়ে আর ধীরে ধীরে তিনি যাওয়াই বন্ধ করে দেন কিন্তু আরেকজন মানুষ থাকেন যিনি শুধু নিজের উপর মনোযোগ দেন তার কাছে ফারাক পড়ে না কে কতটা তুলছে তিনি শুধু দেখেন তিনি নিজে গতকালের চেয়ে ভালো করছেন কিনা আর ছয় মাস পর ঠিক সেই
11:25
Speaker A
মানুষটাই সবচেয়ে আলাদা দেখায় পার্থক্য শুধু মানসিকতার ছিল এখন তুমি এটা বোঝো এই ছ মাস শুধু কাজ করার নয় এই ছ মাস নিজেকে বোঝার এই সেই সময় যেখানে তুমি তোমার ভিতরের দুর্বলতা গুলো চিনবে আর সেগুলোকে ধীরে ধীরে দূর করবে তোমার বিরক্তি লাগবে
11:44
Speaker A
মনে হবে কিছু মজাদার ঘটছে না কিন্তু এই বিরক্তিই তোমাকে শৃঙ্খলা শেখায় কারণ যখন উত্তেজনা শেষ হয় তখনই আসল পরিশ্রম শুরু হয় আর এই সেই বিন্দু যেখানে মানুষ বলে আমার মন চাইছে না কিন্তু সত্যিটা হলো মনের কাজই হলো হলো বদলানো। আজ করবে কাল করবে
12:02
Speaker A
না। যদি তুমি তোমার কাজকে মনের উপর ছেড়ে দাও তাহলে তুমি কখনোই ধারাবাহিক থাকতে পারবে না। নেপোলিয়ন হিল বলতেন তোমার মস্তিষ্ক তোমার সেবক হওয়া উচিত। মালিক নয় অর্থাৎ তুমি ঠিক করবে কি করতে হবে। তোমার মস্তিষ্ক নয়। আর তিনি আরেকটা কথা
12:18
Speaker A
বলেছিলেন, শৃঙ্খলা মানে হলো এমন কাজ করা যা করতে হবে। এমনকি তখনো যখন তোমার মন করতে চায় না। শৃঙ্খলার আসল অর্থই এই যখন তোমার মন চায় না তখনও তুমি সেটা করো যা প্রয়োজন। এখন একটু কল্পনা করো যদি তুমি প্রতিদিন শুধু সেটাই করো যা তোমার মন
12:36
Speaker A
চায়। তাহলে তুমি কোথায় পৌঁছবে? হয়তো কিছুক্ষণের জন্য ভালো লাগবে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে কিছুই বদলাবে না। কিন্তু যদি তুমি প্রতিদিন সেটাই করো যা প্রয়োজন মন চাক বা না চাক তাহলে ধীরে ধীরে তোমার পুরো জীবন বদলে যেতে শুরু করে। আর এই যে
12:52
Speaker A
পরিবর্তন এটাই তোমাকে করতে হবে। আরেকটা বিষয় যা অনেক মানুষ উপেক্ষা করে তা হলো পরিবেশ। যদি তুমি এমন মানুষের মাঝে থাকো যারা নিজে কিছু করে না যারা সবসময় অভিযোগ করে যারা প্রতিটি জিনিসের সমস্যা খোঁজে তাহলে তুমি যতই অনুপ্রাণিত হও না কেন ধীরে
13:09
Speaker A
ধীরে তুমিও তেমনি হয়ে যাবে। কারণ মানুষ তার আশেপাশের মানুষের গড় হয়ে যায়। তাই যদি তুমি সত্যিই এই ছ মাস গুরুত্বের সাথে নিতে চাও তাহলে তোমাকে তোমার পরিবেশও বদলাতে হবে। জরুরি নয় যে তুমি শারীরিকভাবে কোথাও যাবে কিন্তু মানসিকভাবে তোমাকে ফিল্টার করতে হবে যে তুমি কি দেখছো
13:28
Speaker A
কি শুনছো কার সাথে কথা বলছো কারণ তুমি প্রতিদিন যা গ্রহণ করো তাই তোমার চিন্তা তৈরি করে এখানে একটা সরল সত্যি আছে সফলতা বিরক্তিকর হয় কোন চকচকে মুহূর্ত থাকে না কোন নাটকীয় পরিবর্তন থাকে না শুধু প্রতিদিন ছোট ছোট পদক্ষেপ থাকে যা ধীরে
13:47
Speaker A
ধীরে একটা বড় ফল তৈরি করে আর এই প্রক্রিয়া িয়া এতটাই নীরব হয় যে বাইরে থেকে কিছুই বোঝা যায় না। মানুষের মনে হয় তুমি কিচ্ছু করছো না কিন্তু ভিতরে অনেক কিছু বদলে যাচ্ছে। এই কারণেই শুরুতে কেউ তোমাকে লক্ষ্য করবে না। কিন্তু সময় গড়ানোর
14:04
Speaker A
সাথে সাথে তোমার কাজ নিজেই কথা বলতে শুরু করবে। আর তখন তোমাকে কাউকে ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন হবে না। এখন আবার নিজেকে জিজ্ঞেস করো। তুমি কি সত্যিই এই ছ মাস দিতে পারবে?
14:15
Speaker A
কোন বিভ্রান্তি ছাড়া কোন অজুহাত ছাড়া কোন বৈধতা ছাড়া কারণ যদি তুমি এটা করে ফেলো তাহলে তোমাকে কেউ থামাতে পারবে না কিন্তু যদি তুমি মাঝপথে হার মেনে নাও তাহলে আর ফারাক পড়ে না তোমার লক্ষ্য কতটা বড় ছিল কারণ লক্ষ্যের চেয়ে বেশি
14:32
Speaker A
গুরুত্বপূর্ণ হয় তোমার প্রতিশ্রুতি আর প্রতিশ্রুতি তখনই প্রমাণিত হয় যখন কেউ দেখছে না এখন পরবর্তী ধাপ হলো তোমার দৈনন্দিন কাজগুলো স্পষ্ট করা তোমাকে জানা উচিত প্রতিদিন তোমার কি করতে হবে? কারণ স্পষ্টতা ছাড়া ধারাবাহিকতা সম্ভব নয়। আর যখন তুমি স্পষ্টতার সাথে প্রতিদিন পদক্ষেপ
14:52
Speaker A
নাও তখন ধীরে ধীরে সন্দেহ কমে যেতে থাকে। কারণ সন্দেহ সেখানেই থাকে যেখানে কাজ থাকে না। এই পুরো যাত্রাটা একটা সরল নিয়মের উপর চলে। কম বল বেশি করো। শুরুতে এই নিয়মটা কঠিন লাগবে। কারণ তোমার অভ্যাস আছে শেয়ার করার, জানানোর, দেখানোর।
15:12
Speaker A
কিন্তু যতই তুমি এই অভ্যাসকে নিয়ন্ত্রণ করবে ততই তোমার মনোযোগের শক্তি বাড়বে। আর এই মনোযোগী তোমাকে সেখানে নিয়ে যাবে যেখানে তুমি সত্যিই যেতে চাও। এখন শেষ কথাটা মনোযোগ দিয়ে বোঝো। এই ছয় মাস তোমার জীবনের সবচেয়ে শক্তিশালী মাস হতে পারে। অথবা এটা শুধু আরেকটা চেষ্টা থাকবে
15:31
Speaker A
যা অসমাপ্ত থেকে যাবে। সিদ্ধান্ত তোমার হাতে। তুমি চাইলে আজকের পর সবকিছু একই রাখতে পারো। অথবা আজ থেকে সবকিছু বদলাতে পারো। আর যদি তুমি বদলানোর সিদ্ধান্ত নাও তাহলে মনে রেখো এবার কোন সোর গোল হবে না এবার শুধু কাজ হবে আর সেই কাজই একদিন এত
15:50
Speaker A
জোরে কথা বলবে যে পৃথিবী শুনতে বাধ্য হবে আর এই সেই জায়গা যেখানে আসল পার্থক্য দেখা শুরু হয় কারণ এখন পর্যন্ত তুমি বুঝে নিয়েছো যে চুপ থেকে কাজ করা কেন জরুরি কিন্তু এখন প্রশ্ন ওঠে যখন ভিতরেই লড়াই চলছে যখন প্রতিদিন নিজের সাথেই যুদ্ধ
16:08
Speaker A
হচ্ছে তখন নিজেকে স্থির রাখা যায় যায় কিভাবে? কারণ বাইরের শব্দ তুমি বন্ধ করতে পারো। কিন্তু ভিতরের শব্দ সেটা বারবার আসবে। কখনো সন্দেহ হয়ে, কখনো ভয় হয়ে, কখনো এই ভাবনা হয়ে যে হয়তো আমি এর জন্য তৈরি নই। এখানেই বেশিরভাগ মানুষ ভেঙে পড়ে।
16:26
Speaker A
তোমার মনে হয় সমস্যা বাইরে। সম্পদের অভাব, সময়ের অভাব, সহযোগিতার অভাব। কিন্তু সত্যিটা হলো আসল সমস্যা সবসময় ভিতরে থাকে। স্পষ্টতার বিশ্বাসের আর আত্মনিয়ন্ত্রণের। নেপোলিয়ন হিল বলতেন মানুষ সেই হয় যা সে সারাদিন ভাবে। এখন এর অর্থটা সরল। যদি তুমি সারাদিন সন্দেহ ভাবো তুমি সন্দেহ
16:50
Speaker A
হয়ে যাবে। যদি তুমি সারাদিন ভয় ভাবো তুমি ভয় হয়ে যাবে। আর যদি তুমি বারবার নিজেকে সক্ষম দেখো তাহলে ধীরে ধীরে তুমি তেমনি হয়ে যাবে। আর তিনি আরেকটা গভীর কথা বলেছিলেন, তুমি তোমার ভাগ্যের প্রভু। অর্থাৎ তোমার দিকনির্দেশনা অন্য কেউ ঠিক
17:06
Speaker A
করে না তুমি নিজে ঠিক করো| কিন্তু সমস্যা হলো মানুষ দায়িত্ব নিতে ভয় পায়| তাদের সহজ লাগে দোষারোপ করা পরিস্থিতির মানুষের ভাগ্যের কিন্তু যখনই তুমি এটা মেনে নাও যে আমার জীবনের দায়িত্ব আমার ঠিক সেই মুহূর্তে তোমার ভিতরে এক আলাদা শক্তি আসে
17:24
Speaker A
এখন একটা বাস্তব পরিস্থিতি বোঝো একজন মানুষ আছেন যিনি সবসময় ভাবেন আমার সঠিক পরিবেশ নেই আমার সম্পদ নেই আর অন্য একজন মানুষ আছেন যার হয়তো তার চেয়েও কম আছে কিন্তু তিনি ভাবেন আমার কাছে যা আছে আমি দিয়েই শুরু করি। দুজনের শুরুর বিন্দু
17:40
Speaker A
প্রায় একই। কিন্তু ছয় মাস পর দুজনের জীবন পুরোপুরি আলাদা হয়ে যায়। কেন? কারণ একজন মানুষ অজুহাত খুঁজছিলেন আর অন্যজন সমাধান। এখানে একটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বোঝা জরুরি। মানসিকতা রাতারাতি বদলায় না। এটা প্রতিদিন ছোট ছোট সিদ্ধান্ত থেকে তৈরি হয়। প্রতিবার যখন
17:59
Speaker A
তুমি বিভ্রান্তিকে উপেক্ষা করো। প্রতিবার যখন তুমি অজুহাতকে প্রত্যাখ্যান করো, প্রতিবার যখন তুমি কাজকে বেছে নাও, তুমি তোমার মস্তিষ্ককে প্রশিক্ষণ দিচ্ছ। আর এই প্রশিক্ষণই তোমার একদিন পরিচয় হয়ে যায়। এখন তুমি ভাবো যদি তুমি প্রতিদিন শুধু এক শতাংশ ভালো হও তাহলে ছয় মাস পর তুমি
18:16
Speaker A
কোথায় পৌঁছাবে? আর যদি তুমি প্রতিদিন এক শতাংশ প্রচেষ্টা না দাও তাহলে ছ মাস পর কি বদলাবে? এই সেই সরল অংক যা মানুষ উপেক্ষা করে দেয়। নেপোলিয়ন হিল বলতেন ছোট ছোট ধারাবাহিক প্রচেষ্টায় বড় সাফল্য তৈরি করে। অর্থাৎ কোন রাতারাতি চমৎকার ঘটনা হয়
18:34
Speaker A
না। শুধু প্রতিদিনের কাজ থাকে যা ধীরে ধীরে ফল হয়ে ওঠে। আর তিনি আরেকটা শক্তিশালী কথা বলেছিলেন, "সাফল্যের কোন ব্যাখ্যা লাগে না।" ব্যর্থতা কোন অজুহাত গ্রহণ করে না। অর্থাৎ, যখন তুমি সফল হও, তখন তোমাকে কোন ব্যাখ্যা দিতে হয় না।
18:48
Speaker A
কিন্তু যখন তুমি ব্যর্থ হও, তখন তোমার যতই যুক্তি থাকুক সেগুলো কাজে আসে না। এখন এটা তোমার জীবনে প্রয়োগ করে দেখো। যদি ছয় মাস পর তুমি সফল হয়ে যাও, তাহলে কেউ জিজ্ঞেস করবে না, তুমি কিভাবে করলে? সবাই শুধু ফল দেখবে। কিন্তু যদি তুমি ব্যর্থ
19:04
Speaker A
হও, তাহলে তোমার যতই যুক্তি থাকুক সেগুলো গুরুত্ব পাবে না। তাহলে প্রশ্ন হলো তুমি কোন দিকে দাঁড়াতে চাও? আর একটা বিষয় যা তোমাকে বোঝা উচিত, ধারাবাহিকতা বিরক্তির সাথে লড়াই করে গড়ে ওঠে। শুরুতে সবকিছু রোমাঞ্চকর লাগে। কিন্তু কিছু সময় পর
19:22
Speaker A
সবকিছু পুনরাবৃত্তিমূলক হয়ে যায়। সেই একই কাজ, সেই একই রুটিন, সেই একই প্রক্রিয়া। আর এখানেই মানুষ বলে ওহ আমার আর আগ্রহ লাগছে না কিন্তু সত্যিটা হলো সাফল্য আগ্রহ থেকে আসে না শৃঙ্খলা থেকে আসে যদি তুমি শুধু সেই কাজই করো যেখানে
19:41
Speaker A
তোমার মজা লাগে তাহলে তুমি কখনোই সেই স্তরে পৌঁছাতে পারবে না যেখানে তুমি যেতে চাও কারণ বৃদ্ধি সবসময় আরামদায়ক এলাকার বাইরে ঘটে আর আরামদায়ক এলাকা কখনোই আগ্রহকর হয় না এখন কল্পনা করো একজন লেখক আছেন যিনি শুধু তখনই লেখেন যখন তার মন
20:02
Speaker A
চায়। আর অন্য একজন লেখক আছেন যিনি প্রতিদিন লেখেন মন চাক বা না চাক। ছয় মাস পর কে ভালো হবে? উত্তর সরল। পার্থক্য শুধু এতটুকুই। একজন মানুষ আবেগের উপর চলছিল আর অন্যজন ব্যবস্থার উপর। আর তোমাকেও এটাই করতে হবে। আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করে ব্যবস্থা
20:22
Speaker A
তৈরি করা। এখন ব্যবস্থার মানে কি? মানে তোমার একটা নির্দিষ্ট রুটিন থাকবে। একটা স্পষ্ট পরিকল্পনা থাকবে। আর তুমি সেটা মেনে চলবে প্রতিদিন নতুন সিদ্ধান্ত না নিয়ে। কারণ যত বেশি সিদ্ধান্ত তত বেশি বিভ্রান্তি। আর যখন বিভ্রান্তি বাড়ে তখন কাজ কমে যায়। এই জন্যই সফল মানুষ তাদের
20:44
Speaker A
জীবনকে সরল রাখেন। তারা প্রতিদিন সিদ্ধান্ত নেন না কি করতে হবে। তারা আগে থেকেই সিদ্ধান্ত করে রাখেন। আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ধৈর্য। আজকের প্রজন্ম তাৎক্ষণিক ফল চায়। আজ কাজ করলেও কাল ফল চাই। কিন্তু বাস্তব জগৎ এভাবে কাজ করে না। তোমাকে সময় দিতে হবে। প্রক্রিয়াকে
21:05
Speaker A
বিশ্বাস করতে হবে। নেপোলিয়ন হিল বলতেন, প্রতিটি বড় সাফল্যের পিছনে একটা দীর্ঘ অপেক্ষা থাকে। অর্থাৎ যদি তুমি তাড়াতাড়ি হার মেনে নাও তাহলে তুমি সেই মুহূর্তে পৌঁছাতে পারবে না যেখানে ফল আসে। আর তিনি আর একটা কথা বলেছিলেন বেশিরভাগ মহান মানুষ
21:24
Speaker A
তাদের সবচেয়ে বড় সাফল্যের ঠিক এক ধাপ আগেই থেমে গেছেন। অর্থাৎ বেশিরভাগ মানুষ তাদের সবচেয়ে বড় সাফল্য থেকে শুধু এক ধাপ দূরে থাকে। কিন্তু তারা তার আগেই হার মেনে নেয়। এখন ভাবো কোথাও এমন তো নয় যে তুমিও প্রতিবার সেই বিন্দুতেই থেমে যাও
21:42
Speaker A
যেখান থেকে সামান্য আরেকটু চেষ্টা তোমাকে এগিয়ে নিয়ে যেত। এই সেই জায়গা যেখানে তোমাকে নিজেকে ঠেলতে হবে। এখন ধীরে ধীরে তুমি অনুভব করবে যে তুমি বদলে যাচ্ছো। তোমার চিন্তা বদলে যাচ্ছে। তোমার অভ্যাস বদলে যাচ্ছে। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তোমার আত্মবিশ্বাস বদলে যাচ্ছে। আগে তোমার
22:04
Speaker A
বৈধতা দরকার হতো। এখন তোমার নিজের উপর বিশ্বাস হতে শুরু করেছে। আগে তুমি বলতে, এখন তুমি করো। আর এই পরিবর্তনই তোমাকে আলাদা করে। এখন এই যাত্রা সহজ নয় কিন্তু এটা মূল্যবান। কারণ যে মানুষ এই ছয় মাস পার করে নেয় সে শুধু তার লক্ষ্য অর্জন
22:22
Speaker A
করে না। সে নিজেকে আপগ্রেড করে দেয়। আর যখন মানুষ নিজেকে আপগ্রেড করে নেয় তখন আর কোন লক্ষ্যই তার কাছে কঠিন লাগে না। এখন এই অংশের শেষ কথাটা এই মনে করো না তোমাকে নিখুঁত হতে হবে। নিখুততা একটা ভ্রম। তোমাকে শুধু ভালো হতে হবে প্রতিদিন একটু
22:40
Speaker A
একটু। কারণ অগ্রগতি নিখুততার চেয়ে বেশি শক্তিশালী। এখন আবার নিজেকে জিজ্ঞেস করো, তুমি কি এই প্রক্রিয়ার উপর বিশ্বাস রাখতে পারবে? তুমি কি ফল না দেখেও কাজ করতে পারবে? কারণ যদি তুমি এটা শিখে নাও তাহলে আর তোমাকে কেউ থামাতে পারবে না। আর যদি না
22:57
Speaker A
শেখো তাহলে প্রতিবার সেই একই চক্র ঘুরতে থাকবে। শুরুতে উত্তেজনা তারপর বিভ্রান্তি আর তারপর থেমে যাওয়া। এখন পছন্দ তোমার হাতে। তুমি চক্রে থাকতে চাও নাকি চক্র থেকে বের হতে চাও ? কারণ বাইরে শুধু সেই মানুষই বের হয় যারা ভিতরের আওয়াজকে
23:15
Speaker A
নিয়ন্ত্রণ করতে শেখে। আর যখন তুমি সেই চক্র থেকে বের হতে শুরু করো তখন তোমার কাছে একটা জিনিস খুব স্পষ্ট হয়ে যায়। পৃথিবী ততটা কঠিন নয় যতটা তোমার নিজের মস্তিষ্ক তাকে বানিয়ে দেয়। আসল লড়াই কখনো বাইরে ছিল না। সেটা সবসময় ভিতরে
23:31
Speaker A
ছিল। এখন থেকে খেলাটা আরো গভীর হয়ে যায়। কারণ এখন তোমাকে শুধু পরিশ্রম করতে হবে না| এখন তোমাকে তোমার স্তর ধরে রাখতেও হবে| অনেক মানুষ শুরু করে দেয় কিছু মানুষ ধারাবাহিকতাও বজায় রাখে| কিন্তু খুব কম মানুষই সেই ধারাবাহিকতাকে পরিচয়ে পরিণত
23:48
Speaker A
করতে পারে অর্থাৎ এখন কাজ শুধু এই নয় যে তুমি প্রতিদিন কাজ করবে কাজ হলো তুমি এমন একজন মানুষ হয়ে যাওয়া যার জন্য কাজ করাটা স্বাভাবিক হয়ে যাবে নেপোলিয়ন হেল বলতেন যতক্ষণ না পরিশ্রম তোমার পরিচয় হয়ে ওঠে ততক্ষণ সাফল্য তোমার কাছে
24:05
Speaker A
স্থায়ী হয় না। এর মানে এই নয় যে যদি তুমি শুধু ফলের জন্য কাজ করো তাহলে ফল পেলেই তুমি আলগা হয়ে যাবে। কিন্তু যদি তুমি পরিশ্রমকে তোমার অভ্যাস বানিয়ে নাও তাহলে তুমি প্রতিটি স্তরে বৃদ্ধি পেতে থাকবে। আর তিনি আরেকটা শক্তিশালী কথা
24:20
Speaker A
বলেছিলেন। সঠিক সময়ের অপেক্ষা করো না। সময় কখনোই সঠিক হবে না। অর্থাৎ নিখুত সময় কখনো আসে না। তুমি যা করছো এখন থেকেই সেটা সঠিক। যদি তুমি অপেক্ষা করতে থাকো যে সব ঠিক হলে শুরু করব, তাহলে তুমি কখনো শুরুই করবে না। প্রথম সপ্তাহে তিনি
24:37
Speaker A
নিয়মিত যান। কিন্তু দ্বিতীয় সপ্তাহে যখন তিনি কাউকে ভারী ওজন তুলতে দেখেন তিনি নিজেকে ছোট মনে করতে শুরু করেন তার মনে হয় তিনি ধীর তিনি পিছিয়ে আর ধীরে ধীরে তিনি যাওয়াই বন্ধ করে দেন কিন্তু আরেকজন মানুষ থাকেন যিনি শুধু নিজের উপর মনোযোগ
24:54
Speaker A
দেন তার কাছে ফারাক পড়ে না কে কতটা তুলছে তিনি শুধু দেখেন তিনি নিজে গতকালের চেয়ে ভালো করছেন কিনা আর ছয় মাস পর ঠিক সেই মানুষটাই সবচেয়ে আলাদা দেখায় পার্থক্য শুধু মানসিকতার ছিল এখন তুমি এটা বোঝো এই ছ মাস শুধু কাজ করার নয় এই ছ মাস নিজেকে
25:13
Speaker A
বোঝার এই সেই সময় যেখানে তুমি তোমার ভিতরের দুর্বলতাগুলো চিনবে আর সেগুলোকে ধীরে ধীরে দূর করবে তোমার বিরক্তি লাগবে মনে হবে কিছু মজাদার ঘটছে না কিন্তু এই বিরক্তিই তোমাকে শৃঙ্খলা শেখায় কারণ যখন উত্তেজনা শেষ হয় তখনই আসল পরিশ্রম শুরু
25:30
Speaker A
হয় আর এই সেই বিন্দু যেখানে মানুষ বলে আমার মন চাইছে না কিন্তু সত্যিটা হলো মনের কাজই হলো হলো বদলানো। আজ করবে কাল করবে না। যদি তুমি তোমার কাজকে মনের উপর ছেড়ে দাও তাহলে তুমি কখনোই ধারাবাহিক থাকতে পারবে না। নেপোলিয়ন হিল বলতেন তোমার
25:47
Speaker A
মস্তিষ্ক তোমার সেবক হওয়া উচিত মালিক নয়। অর্থাৎ তুমি ঠিক করবে কি করতে হবে তোমার মস্তিষ্ক নয়। আর তিনি আরেকটা কথা বলেছিলেন, শৃঙ্খলা মানে হলো এমন কাজ করা যা করতে হবে। এমনকি তখনো যখন তোমার মন করতে চায় না। শৃঙ্খলার আসল অর্থই এই যখন
26:06
Speaker A
তোমার মন চায় না তখনও তুমি সেটা করো যা প্রয়োজন। এখন একটু কল্পনা করো যদি তুমি প্রতিদিন শুধু সেটাই করো যা তোমার মন চায়। তাহলে তুমি কোথায় পৌঁছবে? হয়তো [নাক ডাকা] কিছুক্ষণের জন্য ভালো লাগবে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে কিছুই বদলাবে না।
26:21
Speaker A
কিন্তু যদি তুমি প্রতিদিন সেটাই করো যা প্রয়োজন মন চাক বা না চাক তাহলে ধীরে ধীরে তোমার পুরো জীবন বদলে যেতে শুরু করে। আর এই যে পরিবর্তন এটাই তোমাকে করতে হবে। আরেকটা বিষয় যা অনেক মানুষ উপেক্ষা করে তা হলো পরিবেশ। যদি তুমি এমন মানুষের মাঝে
26:38
Speaker A
থাকো যারা নিজে কিছু করে না যারা সবসময় অভিযোগ করে যারা প্রতিটি জিনিসে সমস্যা খোঁজে তাহলে তুমি যতই অনুপ্রাণিত হও না কেন ধীরে ধীরে তুমিও তেমনই হয়ে যাবে। কারণ মানুষ তার আশেপাশের মানুষের গড় হয়ে যায়। তাই যদি তুমি সত্যিই এই ছ মাস
26:55
Speaker A
গুরুত্বের সাথে নিতে চাও তাহলে তোমাকে তোমার পরিবেশও বদলাতে হবে। জরুরি নয় যে তুমি শারীরিকভাবে কোথাও যাবে কিন্তু মানসিকভাবে তোমাকে ফিল্টার করতে হবে যে তুমি কি দেখছো কি শুনছো কার সাথে কথা বলছো কারণ তুমি প্রতিদিন যা গ্রহণ করো তাই
27:11
Speaker A
তোমার চিন্তা তৈরি করে এবার তোমার হাতে প্রমাণ আছে যে তুমি পারো আর সবচেয়ে বড় কথা এবার তোমাকে কাউকে কিছু বলার প্রয়োজন হবে না কারণ তোমার কাজ নিজেই কথা বলবে কিন্তু যদি তুমি আজও সেটাই করতে থাকো যা আগে করতে তাহলে ছ মাস পরও সব একই থাকবে।
27:32
Speaker A
সেই সন্দেহ, সেই হতাশা, সেই অনুশোচনা। আর অনুশোচনা সবচেয়ে ভারী জিনিস। কারণ এটা বারবার তোমাকে মনে করিয়ে দেয় যে তুমি পারতে কিন্তু তুমি করোনি। এখন পছন্দটা খুব সরল। হয় তুমি আজ থেকে পরিবর্তন শুরু করো অথবা সেই একই চক্র ঘোরাও। কিন্তু যদি তুমি
27:52
Speaker A
পরিবর্তন বেছে নাও তাহলে এটাকে গুরুত্বের সাথে নিতে হবে। কোন অর্ধেক প্রচেষ্টা নয় কোন আজ না কাল থেকে নয় এই মানসিকতা এখনই তৈরি করতে হবে এখন একটা ব্যবহারিক কথা ঠিক এই মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নাও যে তোমার পরবর্তী 24 ঘন্টা কিভাবে কাটবে কারণ জীবন
28:13
Speaker A
বছরে বদলায় না দিনে বদলায় আজ তুমি কি করবে সেটাই ঠিক করবে ছ মাস পর তুমি কোথায় দাঁড়িয়ে আছো তাই তোমার বিভ্রান্তিগুলো চিহ্নিত করো সেগুলোকে কাটো তোমার দৈনন্দিন পরিকল্পনা স্পষ্ট করো সেটা মেনে চলো। আর সবচেয়ে জরুরি নিজের সাথে প্রতিশ্রুতি
28:32
Speaker A
করো। আর সেটা ভাঙবে না। কারণ পৃথিবীকে প্রমাণ করার আগে তোমাকে নিজেকে প্রমাণ করতে হবে। আর যখন তুমি নিজেকে প্রমাণ করে দাও তখন আর কেউ তোমাকে সন্দেহ করতে পারে না। এখন শেষ কথাটা গুরুত্বের সাথে নাও। এই ছ মাস শুধু সাফল্যের জন্য নয়। এই ছ মাস
28:51
Speaker A
তোমার রূপান্তরের জন্য। এই সেই সময় যেখানে তুমি নিজেকে পুনঃসঙ্গায়িত করতে পারো। তুমি সেই মানুষ হয়ে উঠতে পারো যে তুমি সবসময় হতে চেয়েছিলে। কিন্তু এটা তখনই হবে যখন তুমি এই সিদ্ধান্তটা শুনে করে দেখাবে। শুধু শুনে নয়। তাই এখন প্রশ্নটা সেই একই। কিন্তু এবার উত্তরটা
29:13
Speaker A
তোমার কাজে দেখা যাবে। তুমি কি আগামী ছয় মাস চুপ থেকে কাউকে না জানিয়ে নিজের উপর এতটা কাজ করতে পারবে যে তোমার সাফল্যই একদিন সবার উত্তর হয়ে উঠবে? যদি হ্যাঁ, তাহলে শুরু করো এখন। কারণ ছ মাস পর হয় তোমার গল্প বদলে যাবে অথবা তোমার
29:30
Speaker A
অজুহাতগুলো একই থেকে যাবে। আজকের আলোচনা এখানেই শেষ করছি। বই থেকে শুরু চ্যানেলের পক্ষ থেকে তোমাকে অনেক ধন্যবাদ এই গভীর বিষয়টা নিয়ে সময় দেওয়ার জন্য। মনে রেখো নীরবতা কোন শূন্যতা নয়। এটা একটা প্রস্তুতি। এটা একটা ভিত্তি। আর যখন ভিত্তি শক্ত হয়, তখন ইমারত নিজে থেকেই
29:51
Speaker A
আকাশ ছোঁয়ায়। প্রতিদিন একটু করে এগো। কথা কম, কাজ বেশি। আর যখন সময় আসবে তখন ফল নিজেই পথ দেখিয়ে দেবে। যদি এই ভিডিওটা তোমার ভিতরে একটুও পরিবর্তন এনে থাকে তাহলে চ্যানেলটাকে সাবস্ক্রাইব করে রেখো। আর হ্যাঁ আজকের পর থেকে একটা কাজ করো।
30:11
Speaker A
ফোনে একটা নোট খোলো লেখো আজ থেকে ছয় মাস আমি বলবো না আমি করবো আর তারপর ফোনটা বন্ধ করে দাও আর কাজে নেমে পড়ো দেখা হবে পরের ভিডিওতে ততদিন পর্যন্ত নিজের উপর বিশ্বাস রাখো আর শব্দ নয় এবার কাজকেই প্রাধান্য
30:30
Speaker A
দাও সফলতা নিশ্চয়ই আসবে ধন্যবাদ
Topics:লক্ষ্য অর্জননীরবতানেপোলিয়ন হিলপরিশ্রমধৈর্যধারাবাহিকতামনোবিজ্ঞানসফলতাস্বপ্নবাংলা মোটিভেশনাল

Frequently Asked Questions

কেন লক্ষ্য কাউকে না বলে কাজ করা উচিত?

লক্ষ্য ঘোষণা করলে মস্তিষ্ক ডোপামিন রিলিজ করে যা কাজের প্রেরণা কমিয়ে দেয় এবং কৃত্রিম সন্তুষ্টি তৈরি করে, ফলে কাজের গতি ধীর হয়।

নীরবতা মানে কি একাকিত্ব?

নীরবতা মানে একাকিত্ব নয়, বরং অপ্রয়োজনীয় কোলাহল ও বিভ্রান্তি থেকে দূরে থাকা এবং নিজের কাজের প্রতি মনোযোগ দেওয়া।

ছয় মাসের নীরব পরিশ্রম কেন গুরুত্বপূর্ণ?

ছয় মাস সময় হলো অভ্যাস, চিন্তাধারা ও পরিচয় পরিবর্তনের জন্য যথেষ্ট, যা ধারাবাহিকতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে জীবনে গভীর পরিবর্তন আনে।

Get More with the Söz AI App

Transcribe recordings, audio files, and YouTube videos — with AI summaries, speaker detection, and unlimited transcriptions.

Or transcribe another YouTube video here →