১৯৮২ সালের বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জে ধীরুভাই আম্বানি ও মনু মানেকের মধ্যে রিলায়েন্স শেয়ারের জন্য তীব্র লড়াই ও বাজার যুদ্ধ।
Key Takeaways
- শর্ট সেলিং বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, তবে সঠিক প্রস্তুতি ও কৌশল দিয়ে তা মোকাবেলা সম্ভব।
- ধীরুভাই আম্বানির জনসাধারণের অংশীদারিত্বের ধারণা রিলায়েন্সের দ্রুত উন্নতির মূল চাবিকাঠি ছিল।
- বাজার যুদ্ধ শুধুমাত্র অর্থনৈতিক নয়, বরং রাজনৈতিক ও কৌশলগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।
- বিশ্বাসযোগ্য ব্রোকার নেটওয়ার্ক ও অর্থ সংগ্রহের মাধ্যমে বাজার আক্রমণ প্রতিহত করা যায়।
- বাজারে বড় খেলোয়াড়দের মধ্যে ইগো লড়াই দেশের অর্থনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলে।
What the video covers
- ১৯৮২ সালের ১৮ মার্চ মনু মানেক রিলায়েন্স শেয়ারের ওপর ব্যাপক শর্ট সেলিং আক্রমণ চালান।
- মনু মানেক ছিলেন বিয়ার কার্টেলের নেতা, যিনি বাজারে দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী কোম্পানিগুলোর শেয়ার দাম কমিয়ে মুনাফা করতেন।
- ধীরুভাই আম্বানি সাধারণ মানুষকে শেয়ার বাজারে অংশীদার করে রিলায়েন্সকে দ্রুত উন্নত করেছিলেন।
- মনু মানেকের শর্ট সেলিং আক্রমণ মূলত ধীরুভাইয়ের রাইটস ইস্যুকে ব্যর্থ করার ষড়যন্ত্র ছিল।
- ধীরুভাই আগেভাগেই এনসিডি ইস্যু ও গোপন ব্রোকার নেটওয়ার্ক 'ফ্রেন্ডস অফ রিলায়েন্স' তৈরি করে পাল্টা প্রস্তুতি নিয়েছিলেন।
- আনন্দ জৈন ধীরুভাইয়ের বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে বিপুল অর্থ সংগ্রহ ও বাজারে শেয়ার কিনে আক্রমণ প্রতিহত করেন।
- মনু মানেকের শর্ট সেলিং আক্রমণ বাজারে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে স্টক এক্সচেঞ্জ ৩ দিনের জন্য বন্ধ হয়ে যায়।
- ধীরুভাই আম্বানি রাজনৈতিক সংযোগ ও বাজার কৌশল ব্যবহার করে নিয়ন্ত্রণ ফিরে পান এবং বাজারে দাপট দেখান।
- শেষ পর্যন্ত মনু মানেকের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয় এবং ধীরুভাই আম্বানি রিলায়েন্সকে সফলভাবে রক্ষা করেন।
- এই ঘটনা ভারতীয় শেয়ার বাজারের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইগো লড়াই ও ব্যবসায়িক যুদ্ধ হিসেবে বিবেচিত।
Chapters
- 00:00১৮ মার্চ ১৯৮২: মনু মানেকের শর্ট সেলিং আক্রমণের সূচনা
- 01:15বাজারে ৩ দিনের জন্য বন্ধ: ইগো লড়াই ও বাজারের ধ্বংস
- 02:29মনু মানেকের বাজার কৌশল ও বিয়ার কার্টেলের প্রভাব
- 03:34ধীরুভাই আম্বানি ও রিলায়েন্সের উত্থান
- 04:46পলিয়েস্টার যুদ্ধ ও রাইটস ইস্যুর প্রেক্ষাপট
- 05:55মনু মানেকের ষড়যন্ত্র ও ধীরুভাইয়ের প্রস্তুতি
- 07:03ফ্রেন্ডস অফ রিলায়েন্স: পাল্টা আক্রমণের পরিকল্পনা
- 08:18বাজার যুদ্ধের চূড়ান্ত পরিণতি ও ধীরুভাইয়ের বিজয়
- 10:48ধীরুভাইয়ের রাজনৈতিক সংযোগ ও বাজার নিয়ন্ত্রণ
- 14:20শেষ কথা ও দর্শকদের জন্য আহ্বান
Full Transcript — Download SRT & Markdown
Speaker A
১৮ মার্চ ১৯৮২, বৃহস্পতিবার, দুপুর ১:৩৫। বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের পুরনো ট্রেডিং রিংয়ে সেদিন সবকিছুই স্বাভাবিক মনে হচ্ছিল। ঠিক তখনই ব্ল্যাক কোবরা মনু মানেকের অফিসে ফোন বেজে উঠল। অপর প্রান্তে বিএসই-এর ট্রেডিং রিং থেকে তার সবচেয়ে কাছের ফ্লোর ব্রোকারের কণ্ঠস্বর ভেসে
Speaker A
এল, যে হট্টগোলের মাঝে চিৎকার করছিল। মনু ভাই, রিলায়েন্সের দাম ১৩১-এ দাঁড়িয়েছে। আমরা ১ লাখ শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছি। কিন্তু ক্রেতারা এখনও টিকে আছে। কী করব? মনু মানেক সিগারেটে টান দিয়ে শান্ত গলায় বললেন, থামবে না। আক্রমণের গতি আরও বাড়িয়ে
Speaker A
দাও। বাজারে রিলায়েন্সের শেয়ারে এত শর্ট সেলিং করো যেন আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত রিলায়েন্সের দাম মাটিতে মিশে যায়। আর এভাবেই সেদিন রিলায়েন্সের শেয়ারের ওপর সেই আক্রমণ হলো যা পুরো বাজারকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল। সন্ধ্যা হতে হতে প্রায় ১১ লাখ শেয়ার বাজারে শর্ট
Speaker A
করে দেওয়া হলো। দেখতে দেখতে রিলায়েন্সের দাম ১৩১ টাকা থেকে কমে ১২১ টাকার সর্বনিম্ন স্তরে নেমে এল। মাত্র আধ ঘণ্টার মধ্যে মনু মানেকের সেই এক ফোন কলের নির্দেশে ভারতীয় শেয়ার বাজারে এমন ধ্বংসলীলা চলল যে, মুম্বাইয়ের সবচেয়ে পুরনো স্টক
Speaker A
এক্সচেঞ্জকে টানা ৩ দিনের জন্য তাদের আলো নিভিয়ে দিতে হয়েছিল। অর্থাৎ, ৩ দিনের জন্য বাজার পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এটি কেবল একটি শর্ট সেলিংয়ের আক্রমণ ছিল না। এটি ছিল বাজারের পুরনো সম্রাট এবং এক উদীয়মান সুলতানের মধ্যকার ইগো লড়াই, যা
Speaker A
রিলায়েন্স এবং ধীরুভাই আম্বানির ভাগ্য চিরতরে বদলে দিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত কোবরার বিষের জবাব ধীরুভাই কীভাবে দিয়েছিলেন? তা জানতে চলুন শুরু করা যাক কোবরা বনাম আম্বানির এই অজানা কাহিনি। এই যুদ্ধ বোঝার জন্য আমাদের প্রথমে সেই সময়ের সবচেয়ে রহস্যময় ও
Speaker A
শক্তিশালী ভিলেনের চরিত্রটি বুঝতে হবে। মনু মানেক। দালাল স্ট্রিটে কেউ তাকে মনু ভাই বলত, কেউ বলত কিং মেকার, কিন্তু বাজারের আসল খেলোয়াড়রা তাকে চিনত। ব্ল্যাক কোবরা নামে। মনু মানেক কোনো সাধারণ ট্রেডার ছিলেন না। তিনি সেই সময়ের বিয়ার কার্টেলের অবিসংবাদিত
Speaker A
নেতা ছিলেন। আর তার এই বিয়ার কার্টেল কোনো সাধারণ গোষ্ঠী ছিল না। এর মধ্যে কলকাতার সবচেয়ে প্রভাবশালী কিছু শিল্পপতিও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এটি ছিল একটি সম্পূর্ণ সংগঠিত নেটওয়ার্ক, যার যেকোনো শেয়ারের দাম নিচে নামিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা ছিল। সেই সময়ে শেয়ার বাজারে
Speaker A
কম্পিউটার ছিল না। শুধু রিং থাকত, যেখানে গলার জোর আর বুদ্ধির কৌশলে ব্যবসা চলত। আর মনু মানেকের কথা সেই রিংয়ে পাথরে খোদাই করা লাইন বলে গণ্য হতো। তার পদ্ধতি ছিল খুব পরিষ্কার। তিনি সেই কোম্পানিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতেন যেগুলো খুব দ্রুত ওপরে
Speaker A
উঠছিল। তিনি প্রচুর পরিমাণে সেইসব শেয়ার শর্ট সেলিং করতেন, অর্থাৎ এমন শেয়ার বিক্রি করতেন যা তাঁর কাছে ছিলই না। তাঁর আতঙ্ক এতটাই ছিল যে তিনি বিক্রি শুরু করলেই খুচরো বিনিয়োগকারীরা ভয় পেয়ে যেতেন এবং প্যানিকের চোটে লোকসানে নিজেদের শেয়ার বিক্রি করতে
Speaker A
শুরু করতেন। দেখতে দেখতে শেয়ারের দর মাটিতে নেমে আসত এবং মনু মানেক সস্তায় সেগুলো পুনরায় কিনে কোটি কোটি টাকার মুনাফা করতেন। বলা হয় যে টাটা স্টিল থেকে শুরু করে সেঞ্চুরি টেক্সটাইলস পর্যন্ত এমন কোনো বড় কোম্পানি ছিল না যাকে কোবরা
Speaker A
দংশন করেনি। বড় বড় সম্ভ্রান্ত ব্যবসায়ীরা মনু মানেকের সামনে হাতজোড় করে দাঁড়িয়ে থাকতেন, যাতে তিনি তাঁদের শেয়ার নিয়ে কোনো কারসাজি না করেন। আর যে তাঁর কথা মানত না, তার বাজারে ধ্বংস হতে দেরি লাগত না। কিন্তু ১৯৮২ সালের সেই বছরে
Speaker A
মনু মানেক এমন এক ভুল করলেন যা তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল প্রমাণিত হলো। তিনি এমন একজন মানুষকে চ্যালেঞ্জ করার সিদ্ধান্ত নিলেন, যিনি নিজে বাজারের রন্ধ্রে রন্ধ্রে সবকিছু চিনতেন। ধীরুভাই আম্বানি, এমন এক নাম যা সেই সময়ে দালাল স্ট্রিটের
Speaker A
পুরনো খেলোয়াড়দের চোখে কাঁটার মতো বিঁধছিল। ধীরুভাই ভারতের প্রথম এমন ব্যবসায়ী ছিলেন যিনি সাধারণ মানুষকে ধনী হওয়ার পথ দেখিয়েছিলেন। ১৯৭৭ সালে রিলায়েন্সের প্রথম আইপিও বাজারে আসে। ১০ টাকার একটি শেয়ার সাত গুণ সাবস্ক্রাইব হয়েছিল। সেই সময়ে যখন ভারতের বড় বড়
Speaker A
কোম্পানি কেবল ধনী পরিবারের ওপর নির্ভরশীল ছিল, ধীরুভাই ছোট শহরের মানুষকে রিলায়েন্সের অংশীদার করেছিলেন। তিনি গলিতে গলিতে ঘুরে মানুষকে জানিয়েছিলেন যে শেয়ার বাজার কী। ফলাফল এই হলো যে, ১৯৭৭ সালে রিলায়েন্সের যে শেয়ার ১০ টাকার ছিল, তা ১৯৮২ সালের শুরু পর্যন্ত
Speaker A
১৩১ টাকার গণ্ডি পার করে ফেলেছিল। ধীরুভাইয়ের জনপ্রিয়তা এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে মানুষ নিজেদের সব টাকা রিলায়েন্সে লাগাতে প্রস্তুত থাকত। এখন এখানে একটি অত্যন্ত জরুরি বিষয় বুঝতে হবে, যা অধিকাংশ মানুষ জানেন না। ১৯৮২ সালে ধীরুভাই
Speaker A
আম্বানি একই সাথে দুটি বড় লড়াই লড়ছিলেন। প্রথম লড়াইটি ছিল নুশলি ওয়াদিয়ার বম্বে ডাইংয়ের সাথে। এটি ছিল এক ভয়ঙ্কর পলিয়েস্টার প্রাইস ওয়ার। উভয় কোম্পানি পলিয়েস্টার বাজারে কব্জা করার জন্য একে অপরকে ধ্বংস করতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল। ধীরুভাই পলিয়েস্টার এত সস্তা দামে
Speaker A
বিক্রি করতে শুরু করেছিলেন, যা প্রায় লোকসানের সমান ছিল। শুধু ওয়াদিয়াকে বাজার থেকে বের করার জন্য। এই যুদ্ধ ব্যবসায়িক নয়, বরং অস্তিত্বের লড়াই ছিল। এই যুদ্ধের জন্য টাকার প্রয়োজন ছিল। প্রচুর টাকা এবং সেই কারণেই ধীরুভাই ১৯৮২ সালে একটি রাইটস ইস্যু
Speaker A
আনার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। রাইটস ইস্যু মানে হলো বর্তমান শেয়ার হোল্ডারদের নতুন শেয়ার কেনার সুযোগ দেওয়া। কিন্তু রাইটস ইস্যু তখনই সফল হয় যখন কোম্পানির শেয়ার দর বেশি থাকে। আর এটাই ছিল কোবরার আসল চাল। মনু মানেক এবং তার কার্টেল জানত যে, রাইটস
Speaker A
ইস্যুর আগেই যদি তারা রিলায়েন্সের দর মাটিতে নামিয়ে আনতে পারে, তবে রাইটস ইস্যু ফ্লপ হয়ে যাবে। ধীরু ভাইয়ের কাছে কোনো অর্থ আসবে না। পলিয়েস্টার যুদ্ধে তিনি হেরে যাবেন এবং রিলায়েন্স ধ্বংস হয়ে যাবে। এটি কেবল শর্ট সেলিং ছিল না। এটি ছিল
Speaker A
একটি আস্ত কোম্পানিকে গোড়া থেকে উপড়ে ফেলার ষড়যন্ত্র। মনু মানেক তার বিয়ার কার্টেলের সঙ্গে মিলে একটি গোপন বৈঠক করেছিলেন। পরিকল্পনা পরিষ্কার ছিল, রিলায়েন্সের শেয়ারকে এতটা নিচে নামানো যে বিনিয়োগকারীদের আস্থা চিরতরে ভেঙে যায়। মনু মানেকের কার্টেলের অহংকার ছিল যে তারা
Speaker A
রিলায়েন্সকে শেষ করে দেবে। কিন্তু তারা জানত না যে, তারা যার ওপর আক্রমণ করছে, তিনি যুদ্ধের জন্য আগেই প্রস্তুত ছিলেন। এখান থেকেই আসল গল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ শুরু হয়। খুব কম মানুষই যে বিষয়টি জানে তা হলো, ধীরুভাই আম্বানি এই
Speaker A
হামলার খবর আগে থেকেই পেয়েছিলেন। হ্যাঁ, ধীরুভাই কারো হামলার জন্য অপেক্ষা করছিলেন না। তিনি নিজেই সেই আক্রমণকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছিলেন যাতে পাল্টা জবাব দেওয়ার পুরো সুযোগ পাওয়া যায়। তাই তিনি অত্যন্ত গোপনে এবং বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে তিনটি কাজ সম্পন্ন করেছিলেন। প্রথম কাজ
Speaker A
হিসেবে তিনি এনসিডি অর্থাৎ নন-কনভার্টেবল ডিবেঞ্চারের মাধ্যমে প্রচুর অর্থ সংগ্রহ করেছিলেন। এই অর্থ শেয়ার বাজারে ঢালার জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। অর্থাৎ, কোবরা যেদিন হামলা করবে, সেইদিনই পাল্টা আক্রমণের জন্য কোষাগার তৈরি থাকবে। দ্বিতীয় কাজ হিসেবে তিনি 'ফ্রেন্ডস অফ
Speaker A
রিলায়েন্স' নামে একটি গোপন ব্রোকার নেটওয়ার্ক তৈরি করেছিলেন। ইতিহাস তাদের 'বিয়ার হান্টার্স' নামে চেনে। এরা ছিল সেই বিশ্বস্ত ব্রোকার, যাদের একটিই মিশন দেওয়া হয়েছিল। কোবরা যতটা শেয়ার বিক্রি করবে, ততটাই কিনে নিতে হবে। থামা যাবে না, ইতস্তত করা যাবে না। দর যতই
Speaker A
কমুক না কেন, কারণ তারা জানত যে তারা নিজেরা রিলায়েন্সের শেয়ার কিনতে পারবে না। তৃতীয় কাজ হিসেবে এই পুরো পাল্টা আক্রমণের দায়িত্ব সঁপে দেওয়া হয় আনন্দ জৈনকে। আনন্দ জৈন, যিনি মুকেশ আম্বানির ছোটবেলার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং ধীরুভাইয়ের সবচেয়ে বিশ্বস্ত
Speaker A
যোদ্ধা ছিলেন। তিনি এনআরআই বিনিয়োগকারী এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর ভারতীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করেছিলেন। এই অর্থ আইল অফ ম্যানের মতো জায়গায় নিবন্ধিত কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে এসেছিল। এদের মধ্যেই একজন রহস্যময় ব্যক্তি ছিলেন, যাকে কেবল 'শাহ' নামে জানা যেত। কে এই শাহ? এই
Speaker A
প্রশ্ন আজও অমীমাংসিত। পরবর্তীতে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জি নিজেই সংসদে প্রকাশ করেছিলেন যে, ১৯৮২ থেকে ১৯৮৩ সালের মধ্যে অজ্ঞাত এনআরআই বিনিয়োগকারীরা রিলায়েন্সে প্রায় ২২২ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। আরবিআই-এর তদন্তে রিলায়েন্সকে এই অনিয়মের অভিযোগ থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। কিন্তু শাহ-এর আসল
Speaker A
পরিচয় আজও ইতিহাসের অন্ধকারে কোথাও চাপা পড়ে আছে। এটি ছিল দাবা খেলার ছক আর ধীরুভাই তার চাল আগেই তৈরি রেখেছিলেন। কোবরা ভাবছিল যে সে শিকার করছে। কিন্তু বাস্তবে সে নিজেই এক বিশাল জালে জড়িয়ে পড়ছিল। এবার ফিরে আসা যাক সেই মুহূর্তে
Speaker A
যার কথা আমরা ভিডিওর শুরুতে বলেছিলাম। এক ভয়াবহ দুপুর যা পুরো বাজারের হৃদস্পন্দন থামিয়ে দিয়েছিল। তারিখটি ছিল ১৮ মার্চ ১৯৮২। বৃহস্পতিবার দুপুরে মনু মানেকের সেই এক ফোন কলের অর্ডার রিলায়েন্সের শেয়ারে শর্ট সেলিংয়ের বন্যা বইয়ে দেয়। কোবরার ব্রোকাররা ট্রেডিং
Speaker A
রিংয়ের ভেতরে পাগলের মতো চিৎকার করতে লাগল। রিলায়েন্স বেচো, রিলায়েন্স বেচো। পুরো বাজারে হুলস্থূল পড়ে গেল। মনু মানেক রিলায়েন্সের ১১ লক্ষ শেয়ার বিক্রির অর্ডার দিয়েছিলেন। শুধু রিলায়েন্স নয়, সেই দিন তার কার্টেল টাটা স্টিল সহ আরও অনেক বড় শেয়ারের দাম
Speaker A
হাতুড়ির মতো পিটিয়ে নিচে নামিয়ে দিয়েছিল। এটি ছিল একই সাথে অনেকগুলো ফ্রন্টে লড়া এক যুদ্ধ। দেখতে দেখতে রিলায়েন্সের শেয়ারের দর ১৩১ টাকা থেকে কমে ১২১ টাকার নিচের স্তরে নেমে এল। মাত্র আধ ঘণ্টার মধ্যে। কিন্তু ধীরুভাইয়ের বাহিনী অর্থাৎ 'ফ্রেন্ডস অফ
Speaker A
রিলায়েন্স' এর জন্যই প্রস্তুত ছিল। তারা দরপতন থামিয়ে দিয়েছিল। ১১ লক
Speaker A
সেটলমেন্টের দিনই হবে। এখানে একটি জরুরি বিষয় বুঝতে হবে। সে যুগে বিএসইতে সেটলমেন্ট প্রতি দ্বিতীয় শুক্রবারে হতো । অর্থাৎ প্রতি ১৪ দিনে একবার। সেই দিন গত দুই সপ্তাহের সমস্ত লেনদেন ক্লিয়ার হতো। তবে বাঁচার একটি পথ ছিল। বদলা সিস্টেম। যদি বিক্রেতার
Speaker A
কাছে শেয়ার না থাকে, তবে সে ' বদলা' বা জরিমানা দিয়ে পরের সেটলমেন্ট পর্যন্ত চুক্তি পিছিয়ে দিতে পারত। মনু মানেকের পুরো বাজি ছিল এরই ওপর। তার বিশ্বাস ছিল যে 'ফ্রেন্ডস অফ রিলায়েন্স'-এর কাছে ১১ লক্ষ শেয়ারের ফিজিক্যাল ডেলিভারি নেওয়ার মতো
Speaker A
টাকা নেই। তারা জরিমানা নিয়ে বিষয়টি মিটিয়ে নেবে আর প্রতিবার বদলা দিয়ে বিয়ার কার্টেল সেটলমেন্ট পিছিয়ে দিতে থাকবে। এরই মধ্যে রিলায়েন্সের দর কমবে এবং বিয়ার কার্টেল সস্তায় শেয়ার কিনে ডেলিভারি দিয়ে দেবে। এই কারণেই ২০ মার্চ প্রথম সেটলমেন্ট এল। বিয়ার কার্টেল
Speaker A
বদলা দিয়ে সেটি পিছিয়ে দিল। ৩ এপ্রিল দ্বিতীয় সেটলমেন্ট এল। আবার বদলা দিয়ে পিছিয়ে দিল। ১৭ এপ্রিল তৃতীয় সেটলমেন্ট এল। আবার বদলা দিয়ে পিছিয়ে দিল। প্রতিবার মনু মানেক ভেবেছিলেন যে পরের সেটলমেন্ট পর্যন্ত ধীরুভাইয়ের ' ফ্রেন্ডস অফ রিলায়েন্স' ক্লান্ত হয়ে
Speaker A
পড়বে। কিন্তু প্রতিবারই তিনি ভুল প্রমাণিত হলেন এবং এই পুরো সময় জুড়ে 'ফ্রেন্ডস অফ রিলায়েন্স' চুপচাপ বাজার থেকে রিলায়েন্সের শেয়ার কিনতে থাকল। একটি একটি করে শেয়ার তুলে নিতে থাকল । বাজারে বিক্রি করার মতো কোনো শেয়ার আর অবশিষ্ট ছিল না এবং তারপর এল
Speaker A
। ৩০ এপ্রিল ১৯৮২ শুক্রবারের সকাল। বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জে সেটেলমেন্টের দিন ছিল। মনু মানেকের কার্টেলের এখনও পুরো বিশ্বাস ছিল যে আজও ফ্রেন্ডস অফ রিলায়েন্স বদলা নিয়ে বিষয়টি পিছিয়ে দেবে। তারা নিশ্চিন্ত ছিল । কিন্তু যখন সেটেলমেন্টের সময় এল, তখন ফ্রেন্ডস অফ
Speaker A
রিলায়েন্স বোমা ফাটাল। তারা শান্তভাবে বলল, "আমাদের কোনো বদলা চাই না। আমাদের ১১ লক্ষ শেয়ারের ফিজিক্যাল ডেলিভারি চাই। এই নিন আপনার টাকা।" পুরো বাজারে স্তব্ধতা নেমে এল। মনু মানেকের পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গেল। তাদের কাছে দেওয়ার মতো একটিও আসল
Speaker A
শেয়ার ছিল না এবং বাজারে কেনার চেষ্টা করলেও কোনো বিক্রেতা ছিল না কারণ ফ্রেন্ডস অফ রিলায়েন্স গত ৪২ দিনে চুপচাপ সব শেয়ার কিনে ফেলেছিল। আইন অনুযায়ী, এখন মনু মানেককে সেই শেয়ার বাজার থেকে যেকোনো দামে কিনে ডেলিভারি দিতে হতো। কিন্তু শেয়ার
Speaker A
তো ছিলই না। বিয়ার কার্টেল বদলা চার্জ কমানোর অনুরোধ করল। ফ্রেন্ডস অফ রিলায়েন্স সাফ জানিয়ে দিল, প্রতিটি শেয়ারের ওপর ২৫ থেকে ৫০ টাকা উন্ধা বদলা জমা দাও, যাকে প্রযুক্তিগত ভাষায় ব্যাকওয়ার্ডেশন বলা হয়। সে যুগে এটি একটি বিশাল অংকের টাকা ছিল
Speaker A
। বদলা চার্জ কখনো ডাবল ডিজিটেও যেত না এবং এখানে প্রতি শেয়ার ৫০ টাকা দাবি করা হচ্ছিল। বাজারে এত বড় পেমেন্ট ক্রাইসিস তৈরি হলো যে বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জকে ইতিহাসের প্রথমবার টানা তিন ট্রেডিং দিনের জন্য পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হয়েছিল। ৩০ এপ্রিল
Speaker A
শুক্রবার সেটেলমেন্ট ক্রাইসিসের কারণে বাজার বন্ধ হয় এবং তার পরের দিনগুলো ৩ মে সোমবার বন্ধ, ৪ মে মঙ্গলবার বন্ধ, ৫ মে বুধবার বন্ধ এবং ৬ মে ১৯৮২ বৃহস্পতিবার, ছয় দিন পর বিএসই পুনরায় খোলে। এই দিনগুলোর মধ্যে কিছু বিশেষজ্ঞ বলেন
Speaker A
যে ধীরু ভাই দিল্লিতে তার রাজনৈতিক সংযোগও ব্যবহার করেছিলেন। তিনি ওপরমহলে পৌঁছে রেগুলেটরি অ্যাকশন বিলম্বিত করিয়েছিলেন এবং বাজারের পরিবেশ নিজের পক্ষে বজায় রেখেছিলেন। এই বিষয়টি বিতর্কিত হলেও সেই সময়ের সাথে পরিচিতরা এটিকে অস্বীকার করেন না। ৬ মে যখন বাজার খুলল, তখন
Speaker A
মনু মানেক তার পরাজয় সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিলেন। বিয়ার কার্টেলকে প্রতিটি শেয়ারের ওপর ভারী উন্ধা বদলা দিতে হয়েছিল। সব মিলিয়ে প্রায় ৫ কোটি ৫০ লক্ষ টাকার ধাক্কা লেগেছিল, যা সেই সময়ে একটি অনেক বড় অংক ছিল। কিন্তু এখন আসে এই পুরো গল্পের
Speaker A
সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে চমকপ্রদ টুইস্ট। যখন বাজার পুনরায় খুলল, তখন বিয়ারদের তাদের শর্ট পজিশন বন্ধ করার জন্য, অর্থাৎ যে শেয়ারগুলো তারা ধার নিয়ে বিক্রি করেছিল সেগুলো ফেরত কেনার জন্য বাজারে শেয়ার খুঁজতে হয়েছিল । এবং তারা এতটাই অসহায় ছিল যে যেকোনো
Speaker A
দামে কিনতে প্রস্তুত ছিল। এই অবাধ কেনাকাটা রিলায়েন্সের দর বাড়িয়ে ২০১ টাকার সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিল এবং এটি ছিল ধীরু ভাইয়ের শেষ আঘাত। বলা হয় যে ধীরু ভাই নিজেই ২০১ টাকার এই শিখরে বিয়ারদের কাছে শেয়ার বিক্রি করছিলেন। যেসব বিয়ার ১৩১
Speaker A
টাকায় শেয়ার বিক্রি করে ধীরু ভাইকে ধ্বংস করার চেষ্টা করেছিল, সেই বিয়ারদের কাছেই ২০১ টাকায় শেয়ার বিক্রি করে ধীরু ভাই মুনাফা অর্জন করেছিলেন। শত্রুকে তার নিজের জালে ফাঁসিয়ে তারপর তার থেকেই টাকা আয় করেছিলেন। এটি ছিল ধীরুভাই আম্বানির আসল মাস্টারস্ট্রোক
Speaker A
। কিন্তু একটি প্রশ্ন চিরকাল থেকে যায়। ধীরুভাই কি পুরোপুরি সঠিক ছিলেন? শেল কোম্পানি, রহস্যময় শাহ এবং রাজনৈতিক সংযোগ—এসব কি একজন সৎ ব্যবসায়ীর হাতিয়ার? নাকি এটি এমন একজন মানুষের গল্প যিনি সিস্টেমের প্রতিটি দুর্বলতা চিহ্নিত করেছিলেন এবং নির্মমভাবে তা ব্যবহার
Speaker A
করেছিলেন। সম্ভবত এটাই ধীরুভাই আম্বানির প্রকৃত সংজ্ঞা । পুরোপুরি নায়কও নন, পুরোপুরি খলনায়কও নন— এমন একজন মানুষ যিনি খেলার প্রতিটি নিয়ম জানতেন এবং প্রয়োজনে সেই নিয়মের সীমা লঙ্ঘন করতেও জানতেন।। ধীরুভাই আম্বানি সেদিন প্রমাণ করেছিলেন যে একজন ব্যবসায়ীর আসল শক্তি তার
Speaker A
ব্যাংক ব্যালেন্সে নয়, বরং তার ছোট বিনিয়োগকারীদের আস্থার মধ্যে থাকে। আজ বাজার পুরোপুরি ডিজিটাল হয়ে গেছে। কিন্তু দালাল স্ট্রিটের দেয়ালে আজও ১৯৮২ সালের সেই শর্ট স্কুইজের প্রতিধ্বনি শোনা যায়। বন্ধুরা, যদি ব্ল্যাক কোবরা এবং ধীরুভাই আম্বানির এই মহাযুদ্ধের পুরো কাহিনী
Speaker A
আপনাদের ভালো লেগে থাকে, তবে ভিডিওটিতে অবশ্যই একটি লাইক দিন। কমেন্টে আমাদের জানান যে আপনারা হর্ষদ মেহতা এবং মনু মানের অজানা যুদ্ধ নিয়েও কোনো ভিডিও দেখতে চান কি না। চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করতে ভুলবেন না যাতে শেয়ার বাজার এবং ব্যবসার দুনিয়ার কোনো
Speaker A
মাস্টারস্ট্রোকই আপনাদের মিস না হয়। ততক্ষণ পর্যন্ত নিজের রিসার্চ মজবুত রাখুন এবং নিজের বিনিয়োগের খেয়াল রাখুন। দেখা হবে পরের ঐতিহাসিক ডকুমেন্টারিতে । জয় হিন্দ।
Topics:ধীরুভাই আম্বানিমনু মানেকরিলায়েন্সবোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জশর্ট সেলিংবিয়ার কার্টেলবাজার যুদ্ধফ্রেন্ডস অফ রিলায়েন্সস্টক মার্কেট ইতিহাসভারতীয় শেয়ার বাজার











