৫০০০ টাকা থেকে ৪৫,০০০ কোটি টাকার যাত্রা, রাকেশ ঝুনঝুনওয়ালার স্টক মার্কেট সাফল্যের গল্প।
Key Takeaways
- লং টার্ম ইনভেস্টমেন্টে ধৈর্য ও বিশ্বাসই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।
- বাজারের ওঠাপড়া বুঝে ঝুঁকি নেওয়া প্রয়োজন, কিন্তু তা গবেষণা ও আত্মবিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে হতে হবে।
- দেশীয় বাজার ও কোম্পানির প্রতি বিশ্বাস রাখতে হবে, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মত নয়।
- শর্ট সেলিং অল্পমেয়াদী লাভের জন্য, দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগে ভবিষ্যত গড়ে ওঠে।
- ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে সঠিক সিদ্ধান্ত ও নৈতিকতা বজায় রাখা জরুরি।
What the video covers
- রাকেশ ঝুনঝুনওয়ালা ১৯৮৫ সালে মাত্র ৫০০০ টাকা নিয়ে স্টক মার্কেটে প্রবেশ করেন।
- তিনি টাটা টি, সেসা গোয়া (বর্তমানে বেদান্ত) এর মতো শেয়ারে বড় বিনিয়োগ করে বিপুল লাভ অর্জন করেন।
- ১৯৯২ সালের হর্ষদ মেহতা স্ক্যামের সময় শর্ট সেলিং করে বড় মুনাফা করেন এবং লং টার্ম ইনভেস্টমেন্টের গুরুত্ব বুঝতে পারেন।
- রেয়ার এন্টারপ্রাইজেস প্রতিষ্ঠা করে নিজের অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি গড়ে তোলেন।
- ২০০২ সালে টাইটানের শেয়ার প্যানিক অবস্থায় কিনে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের মাধ্যমে বিশাল সফলতা পান।
- রাকেশ ঝুনঝুনওয়ালা ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি অনুপ্রেরণার উৎস এবং ‘বিগ বুল’ নামে পরিচিত।
- তিনি বাজারের ওঠাপড়া বুঝে ধৈর্য ধরে বিনিয়োগের মাধ্যমে সম্পদ গড়ার গুরুত্ব শিখিয়েছেন।
- বাজারের ঝুঁকি নেওয়ার সাহস এবং দেশের প্রতি বিশ্বাস তার সাফল্যের মূল চাবিকাঠি ছিল।
- টাইটান, ক্রিসিল, লুপিন, ফার্মা, পাজ ইন্ডাস্ট্রিজ ও ভোল্টাসের মতো কোম্পানিতে তার বিনিয়োগ ছিল উল্লেখযোগ্য।
- তিনি আইনি ঝামেলা এড়িয়ে সেবির সাথে সেটলমেন্ট করে বাজারের নৈতিকতা বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন।
Chapters
- 00:00২০০২ সালের টাইটান শেয়ার চুক্তি ও রাকেশ ঝুনঝুনওয়ালার পরিচয়
- 01:06রাকেশ ঝুনঝুনওয়ালার শৈশব ও স্টক মার্কেটে আগ্রহ
- 02:14শুরু থেকে প্রথম বড় সফলতা: টাটা টি শেয়ার
- 03:27সেসা গোয়া বিনিয়োগ ও কোটিপতি হওয়ার যাত্রা
- 05:36ব্যক্তিগত জীবন ও বিনিয়োগের নীতি
- 06:37হর্ষদ মেহতা স্ক্যাম ও শর্ট সেলিংয়ের শিক্ষা
- 07:42রেয়ার এন্টারপ্রাইজেস প্রতিষ্ঠা ও লং টার্ম ইনভেস্টমেন্ট
- 08:50মর্গান স্ট্যানলির প্রত্যাহার ও রাকেশের সুযোগ গ্রহণ
- 09:50টাইটানের দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ ও সাফল্যের রহস্য
- 11:05বাজারের নৈতিকতা, আইনি লড়াই ও রাকেশ ঝুনঝুনওয়ালার উত্তরাধিকার
Full Transcript — Download SRT & Markdown
Speaker A
২০০২ সাল, মুম্বাইয়ের এক অলস দুপুর, দালাল স্ট্রিটে নিস্তব্ধতা ছিল, কিন্তু রাকেশ জির অফিসের ফোনের ঘণ্টা সেই শান্তি ভেঙে দিল। ফোনের ওপাশে এক ব্রোকার ছিল, যার গলায় স্পষ্ট আতঙ্ক শোনা যাচ্ছিল। রাকেশ ভাই, মর্গান স্ট্যানলি এখন প্যানিকে আছে। তারা টাইটানের
Speaker A
৯০ লক্ষ শেয়ারের ব্লক বিক্রি করতে চলেছে। যদি আপনি মাত্র ৫ লক্ষ শেয়ার তুলে নেন, তবে আমি আপনাকে মার্কেটের রেটের চেয়ে নিচে মাত্র ৩২ টাকায় পাইয়ে দেব। সেই সময় পুরো বাজার টাইটান থেকে দূরে পালাচ্ছিল। কোম্পানি লোকসানে ছিল, ম্যানেজমেন্ট নিয়েও প্রশ্ন
Speaker A
ছিল। কিন্তু রাকেশ ঝুনঝুনওয়ালাজি সিগারের একটি লম্বা টান দিলেন এবং চোখের পলক না ফেলে বললেন, ডিল পাকা করো, সব শেয়ার তুলে নাও। এটি শুধু একটি ট্রেডিং কল ছিল না। এটি সেই সাম্রাজ্যের ভিত্তি ছিল, যাকে আজ আমরা ৪৫,০০০ কোটি
Speaker A
টাকার পোর্টফোলিও বলি। ১৯৯২ সালে হর্ষদ মেহতা যে ‘বিগ বুল’-এর মুকুট ছুঁয়েছিলেন, সেই মুকুট আগামী ৩০ বছর নিজের মুঠোয় ধরে রাখা একমাত্র ব্যক্তি ছিলেন তিনি। এমন একজন মানুষ, যিনি তখন ভারতের ওপর বাজি ধরেছিলেন যখন বিশ্ব ভারতকে গরীব বলে মনে করত। আজ
Speaker A
আমরা ৫০০০ টাকা থেকে ৪৫,০০০ কোটি টাকার সেই যাত্রার প্রতিটি পর্যায় বুঝব, যা রাকেশ ঝুনঝুনওয়ালাজিকে ভারতের ওয়ারেন বাফেটে পরিণত করেছিল। চলুন শুরু করি ‘বিগ বুল’ রাকেশ ঝুনঝুনওয়ালার এই অজানা কাহিনী। রাকেশ জির জন্ম ৫ জুলাই ১৯৬০ সালে হায়দ্রাবাদে হয়েছিল। তার
Speaker A
পরিবার রাজস্থানের ঝুনঝুনু থেকে ছিল এবং এই সম্পর্কের কারণেই তার নামের শেষে ঝুনঝুনওয়ালা যুক্ত হয়। তার বাবা রাধেশ্যাম ঝুনঝুনওয়ালা একজন ইনকাম ট্যাক্স অফিসার ছিলেন। প্রায়ই সন্ধ্যায় বাড়িতে তার বন্ধুরা আসতেন এবং স্টক মার্কেট নিয়ে আলোচনা হতো। ১৫ বছর বয়সী রাকেশজি
Speaker A
প্রতিদিন লুকিয়ে লুকিয়ে এসব কথা শুনতেন। একদিন তিনি বাবাকে জিজ্ঞেস করলেন, বাবা, শেয়ারের দাম প্রতিদিন কেন ওঠানামা করে? বাবা উত্তর দিলেন, বাবা, খবরের কাগজ পড়ো। খবর এবং শেয়ারের দামের সম্পর্ক বোঝার চেষ্টা করো। তুমি ধীরে ধীরে সব বুঝতে পারবে।
Speaker A
এটাই সেই মুহূর্ত যখন রাকেশ জির মাথায় প্রথমবার স্টক মার্কেটের বীজ বোনা হয়েছিল। কিন্তু বাবা একটি শর্ত রেখেছিলেন, আগে পড়াশোনা শেষ করো। রাকেশজি সিডিনাম কলেজ থেকে বিকম করেন এবং ১৯৮৫ সালে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট হয়ে যান। বাবা চাইতেন ছেলে একটি
Speaker A
স্থিতিশীল চাকরি করুক। কিন্তু রাকেশ জির মন তো দালাল স্ট্রিটেই পড়ে থাকত। যখন তিনি বাবার কাছে মার্কেটে নামার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন এবং কিছু টাকা চাইলেন, তখন বাবা সরাসরি না করে দিলেন, আমার কাছে টাকা চাইবে না এবং কোনো বন্ধুর কাছ থেকেও ধার
Speaker A
নেবে না। রাকেশজি নিজের পকেট খুঁজলেন, তখন তার কাছে জমানো মাত্র ৫,০০০ টাকা ছিল। কিন্তু মার্কেটে নামার এক বিশাল নেশা তার মাথায় চেপে বসেছিল। ১৯৮৫ সালে মাত্র ৫,০০০ টাকা নিয়ে তিনি স্টক মার্কেটে পা রাখলেন। সেই সময় সেনসেক্স ছিল মাত্র ১৫০
Speaker A
এর কাছাকাছি। তিনি শুরুতে ছোট ছোট কিছু ট্রেড নিতেন, যার ফলে তিনি বাজারের গতিবিধি বুঝতে শুরু করেন। এই সময়ে তার বড় ভাই, যিনি নিজে একজন সিএ ছিলেন, তিনি রাকেশজির কাছে একজন ধনী মহিলাকে নিয়ে আসেন। সেই মহিলা তার টাকা
Speaker A
সঠিক জায়গায় বিনিয়োগ করতে চাইছিলেন। সেই সময়ে ব্যাংকগুলো এফডিতে ১২ থেকে ১৩ শতাংশ সুদ দিত। কিন্তু রাকেশজি সেই মহিলাকে ১৮ শতাংশ সুদ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন এবং তার থেকে ৫ লক্ষ টাকার বিনিয়োগ নেন। এরপর আরও কিছু ক্লায়েন্টের মাধ্যমে তিনি মোট ১ লক্ষ
Speaker A
টাকার তহবিল জমা করেন এবং তারপর আসে ১৯৮৬ সাল। রাকেশজি তার প্রথম বড় বাজি ধরেন টাটা টি-এর শেয়ারে। তিনি ৪৩ টাকা দরে ৫০০০ শেয়ার কিনেছিলেন। মাত্র ৩ মাসের মধ্যে টাটা টি-এর দাম ১৪৩ টাকা পর্যন্ত পৌঁছে যায়। সরাসরি ৫
Speaker A
লক্ষ টাকার মুনাফা। এটি ছিল তার প্রথম বড় জয়, কিন্তু আসল ছবি দেখা তখনও বাকি ছিল। ১৯৮৯ সালে ভারতের মাইনিং কোম্পানি সেসা গোয়া, যাকে আজ আমরা বেদান্ত নামে চিনি, সেটি বৈশ্বিক সংকটের কারণে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছিল। শেয়ারের দাম কমে মাত্র ২৮
Speaker A
টাকায় নেমে এসেছিল। রাকেশজি তার জমানো সব পুঁজি এবং কিছু টাকা ধার করে মোট ১ কোটি টাকা সংগ্রহ করেন এবং পুরো টাকা তিনি সেসা গোয়ার শেয়ারে বাজি হিসেবে লাগিয়ে দেন। একবার ভাবুন, সেই সময়ে একজন মধ্যবিত্ত ছেলের জন্য ১ কোটি টাকা কত বড়
Speaker A
অঙ্কের টাকা ছিল। কিন্তু রাকেশজির নিজের গবেষণার ওপর পূর্ণ আস্থা ছিল। এটি ছিল তার জীবনের সবচেয়ে বড় এবং বিপজ্জনক ঝুঁকি। কিন্তু ভাগ্য তার সহায় ছিল। দেখতে দেখতে কয়েক বছরের মধ্যে এই শেয়ার রকেটের মতো বেড়ে ২২০০ টাকার স্তরে পৌঁছে যায়।
Speaker A
সেসা গোয়ার শেয়ার রাকেশজিকে কোটিপতি বানিয়ে দেয়। যে ছেলের পকেটে একসময় মাত্র ৫০০০ টাকা ছিল, সে সেই বছর প্রথমবার ২০ লক্ষ টাকা আয়কর জমা দেয়। এই সময়ের মধ্যেই রাকেশজির জীবনের একটি অত্যন্ত আবেগপূর্ণ এবং বিখ্যাত ঘটনা জড়িত আছে। ১৯৮৭ সালে তার বিয়ে
Speaker A
হয় রেখাজির সাথে। রেখাজি এক ধনী পরিবার থেকে এসেছিলেন, যেখানে এসি এবং গাড়ির মতো সব সুখ-সুবিধা ছিল। কিন্তু বিয়ের পর রাকেশজির বাড়িতে তখন এসি ছিল না। রেখাজি প্রায়ই এসির দাবি করতেন। কিন্তু রাকেশজি তখন বাজারে টাকা খাটাচ্ছিলেন এবং নিজের
Speaker A
মূলধন বাড়াচ্ছিলেন। তারপর আসে ১৯৯০ সাল, তখন ভিপি সিংজির সরকার ছিল। দিল্লির অলিতে-গলিতে হইচই ছিল কারণ অর্থমন্ত্রী মধু দণ্ডবতে বাজেট পেশ করতে চলেছিলেন। বাজার ভীত ছিল। সবার মনে হয়েছিল বাজেটটি ব্যবসা-বিরোধী হবে। কিন্তু রাকেশজির বিশ্বাস ছিল যে ভিপি সিংয়ের সরকার এমনটা
Speaker A
করবে না। রাকেশজি সেদিন তার সর্বশক্তি দিয়ে ট্রেডিং করেছিলেন এবং এক অলৌকিক ঘটনা ঘটেছিল। সেই এক রাতেই তার নেটওয়ার্ক কয়েক কোটি থেকে বেড়ে কয়েক কোটি হয়ে গিয়েছিল। পরদিন সকালে তিনি রেখাঞ্জিকে একটি চমৎকার এসি উপহার দেন এবং একটি বড় কথা
Speaker A
বলেন, শখ সবসময় ইনভেস্টমেন্টের লাভ থেকে পূরণ করা উচিত, নিজের মূল পুঁজি থেকে নয়। এখন প্রশ্ন ওঠে যে, রাকেশজি এত বড় ঝুঁকি নেওয়ার সাহস কোথায় পেলেন?
Speaker A
আসলে দালাল স্ট্রিটে তার সাক্ষাৎ হয়েছিল এমন দুজন দিকপালের সঙ্গে, যারা তার চিন্তাধারা বদলে দিয়েছিল। প্রথমজন ছিলেন রাধাকিশন দামানি, যিনি বর্তমানে ডি-মার্টের মালিক। রাকেশজি তাকে নিজের গুরু এবং বড় ভাই মনে করতেন এবং দ্বিতীয়জন ছিলেন মনু মানেক, যাকে
Speaker A
বাজারে ব্ল্যাক কোবরা বলা হতো। মনু মানেক ছিলেন একজন বিখ্যাত বিয়ার, অর্থাৎ শর্ট সেলার, যিনি মার্কেট পড়লে টাকা আয় করতেন। রাকেশজিও কিছু সময়ের জন্য মনু মানেকের গ্রুপে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু ১৯৯১ সালে হর্ষদ মেহতা যখন তার বুল রান শুরু করেন, তখন
Speaker A
মার্কেটকে এত উঁচুতে নিয়ে যান যে বিয়ার কার্টেল বড় ক্ষতির মুখে পড়ে। রাকেশজি এবং দামানিজিকেও সেই সময় বেশ বড় লোকসান সহ্য করতে হয়েছিল। কিন্তু ১৯৯২ সালে হর্ষদ মেহতার স্ক্যাম যখন সামনে আসে, তখন পুরো মার্কেট তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে।
Speaker A
যেখানে সবাই কাঁদছিল, সেখানে রাকেশজি এই পতনের সুযোগ কাজে লাগিয়ে দেদার শর্ট সেলিং করেন। সে সময় তিনি প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ কোটি টাকা আয় করেছিলেন, কিন্তু এখান থেকেই তার চিন্তাধারা বদলে যায়। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে শর্ট সেলিং অল্প সময়ের
Speaker A
খেলা। ভারতের আসল ভবিষ্যৎ তো লং টার্ম ইনভেস্টিংয়ে লুকিয়ে আছে। ১৯৯২ সালের হর্ষদ মেহতা স্ক্যামের অস্থিরতা এবং মনু মানেকের বিয়ার কার্টেল থেকে আলাদা হওয়ার পর রাকেশজি নিজের একটি নতুন পরিচয় তৈরির সিদ্ধান্ত নেন। তিনি নিজের অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির ভিত্তি স্থাপন
Speaker A
করেন, যার নাম দেওয়া হয় রেয়ার এন্টারপ্রাইজেস। এই নামের পেছনে একটি খুব মিষ্টি এবং ব্যক্তিগত রহস্য লুকিয়ে ছিল। রেয়ার শব্দটি আসলে এটি রাকেশজি এবং তার সহধর্মিণী রেখাঞ্জির নামের ওপর ভিত্তি করে রাখা হয়েছিল। আর-এর অর্থ ছিল রেখা এবং আর-এ-
Speaker A
এর অর্থ ছিল রাকেশ। এই কোম্পানি কেবল কাগজের ফার্ম ছিল না, বরং রাকেশজির সাম্রাজ্যের সেই নার্ভ সেন্টার ছিল, যেখান থেকে তিনি ভারতীয় কোম্পানিগুলোর ভাগ্য এবং নিজের ভাগ্য নির্ধারণ করতেন। এই সেই সময়কাল যখন রাকেশজি একজন শর্ট টার্ম ট্রেডারের ভাবমূর্তি পেছনে ফেলে
Speaker A
একজন পরিণত লং টার্ম ইনভেস্টর হওয়ার দিকে পা বাড়ান। ১৯৯৪ সালে আমেরিকান সংস্থা মর্গান স্ট্যানলি ভারতের প্রথম বিদেশি মিউচুয়াল ফান্ড লঞ্চ করে। মানুষ ভেবেছিল যে এখন বিদেশি কোম্পানিগুলোই আমাদের বাজার চালাবে। কিন্তু ঠিক তখনই মন্দা আসে এবং মর্গান স্ট্যানলি
Speaker A
ভারত থেকে তাদের টাকা তুলে নিতে শুরু করে। এটাই সেই সুযোগ ছিল যখন রাকেশ জি বিশ্বকে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছিলেন। তিনি গর্বের সাথে বলেছিলেন, বিদেশিরা কী জানে? ভারত একটি ঘুমন্ত সিংহ, যা এখন জেগে উঠেছে। যখন সবাই ভয়ে শেয়ার বিক্রি
Speaker A
করছিল, রাকেশ জি তখন দেদারসে কিনেছিলেন এবং প্রমাণ করেছিলেন যে একজন ভারতীয় বিনিয়োগকারীর নিজের দেশের ওপর সবচেয়ে বেশি ভরসা আছে। এবার সেই ফোন কলের চুক্তির কথা বলা যাক, যার উল্লেখ আমরা শুরুতে করেছিলাম। ২০০২ সালের টাইটানের সেই ৩২ টাকার চুক্তি। সে সময়
Speaker A
এটি একটি সুইসাইড মিশনের মতো মনে হয়েছিল কারণ টাইটান কোম্পানি তখন লোকসানে চলছিল। আসলে মর্গান স্ট্যানলির মতো বাঘা বিনিয়োগকারী টাইটান থেকে বেরিয়ে আসতে চেয়েছিল। তাদের মনে হয়েছিল যে কোম্পানির জুয়েলারি ব্যবসা, অর্থাৎ তানিশক কখনোই মুনাফা করতে পারবে না। ঘড়ির
Speaker A
ব্যবসাও ঝিমিয়ে পড়েছিল এবং মর্গান স্ট্যানলির ভয় ছিল যে তাদের সব টাকা হয়তো ডুবে যাবে। তাই তারা তাদের সমস্ত হোল্ডিং বিক্রি করে বাজার থেকে পালাতে চেয়েছিল। কিন্তু রাকেশ জি শুধু চার্ট দেখেননি। তিনি টাইটানের এমডি ভাস্কর ভাট জির সাথে দেখা করেন
Speaker A
এবং কোম্পানির আসল শক্তি বুঝতে পারেন। তিনি টাটা ব্র্যান্ডের ট্রাস্ট ভ্যালু এবং ভারতের মধ্যবিত্তের ক্রমবর্ধমান শখকে চিনতে পেরেছিলেন। তিনি নিশ্চিত ছিলেন যে তানিশক, যা আজ লোকসানে চলছে, সেটিই ভবিষ্যতে ভারতের সবচেয়ে বড় জুয়েলারি চেইন হবে। রাকেশ জি টাইটানের ৫ লক্ষ শেয়ার
Speaker A
কিনেছিলেন এবং তারপরও থেমে থাকেননি। ত
Speaker A
তাঁর কেনা ছিল ৩২ থেকে ৩৫ টাকার মধ্যে। আসলে ২০১১ সালে যখন শেয়ার স্প্লিট হয়, তখন তাঁর একটি শেয়ার ১০ টি ভাগে ভাগ হয়ে যায়। যার ফলে তাঁর ৩০ টাকার কেনা মূল্যের শেয়ার কাগজে- কলমে মাত্র ৩ টাকায় নেমে আসে
Speaker A
। এটাই হলো কম্পাউন্ডিংয়ের আসল জাদু। তিনি ২০ বছর ধরে সেই শেয়ারগুলো নিজের সিন্দুকে আগলে রেখেছিলেন। আজ তাঁর পরিবারের কাছে টাইটানের ৫ শতাংশেরও বেশি শেয়ার রয়েছে। যার মূল্য হাজার হাজার কোটিতে। রাকেশ জি প্রায়ই বলতেন, বাজারে টাকা মস্তিষ্ক দিয়ে নয়, বরং হৃদয় ও
Speaker A
সাহস দিয়ে তৈরি হয়। বাজারের আসল খেলোয়াড় সেই, যে যেকোনো বড় ঝড়েও নিজের গবেষণায় অটল থাকে। কিন্তু বন্ধুরা, যেমনটা বলা হয়, প্রতিটি মুদ্রারই দুটি দিক থাকে। রাকেশ জি কোনো ঈশ্বর ছিলেন না যে তাঁর ছোঁয়াতেই সবকিছু সোনা হয়ে যাবে। তিনিও জীবনে বড়
Speaker A
ধরনের লোকসানের মুখোমুখি হয়েছেন। ২০১৯ সালে ডিএইচএফএল-এ তাঁর প্রায় ১৭৮ কোটি থেকে ২২১ কোটি টাকার বিশাল ক্ষতি হয়েছিল। যখন সেই কোম্পানি কেলেঙ্কারি এবং ঋণের সংকটে জড়িয়ে পড়েছিল। শুধু এখানেই শেষ নয়, বলিউডের দাবাং সালমান খানের কোম্পানি মানডানা রিটেইল, যা আজ
Speaker A
আমরা বিইং হিউম্যান নামে চিনি। সেখানেও রাকেশজিকে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছিল। তার আরও কিছু বিনিয়োগ যেমন ডিবি রিয়ালিটি এবং আরও অনেক ছোট কোম্পানিও তাকে হতাশ করেছিল। কিন্তু তার বিশেষ গুণ ছিল যে তিনি নিজের ভুল দ্রুত স্বীকার করতেন
Speaker A
এবং তা থেকে শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে যেতেন। এই লোকসানের পরেও রাকেশজির পোর্টফোলিও সবসময় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকত। তিনি কেবল টাইটানের ভরসায় বসে ছিলেন না। তিনি বাজারের প্রতিটি সেক্টরে তার তীক্ষ্ণ নজর রেখেছিলেন। ক্রিসিল, লুপিন, ফার্মা, পাজ ইন্ডাস্ট্রিজ এবং ভোল্টাসের মতো ডজনখানেক
Speaker A
শক্তিশালী কোম্পানিতে তিনি বড় বিনিয়োগ করেছিলেন। তার কৌশল একদম পরিষ্কার ছিল। এমন কোম্পানি খুঁজে বের করা, যার মূল্য আজ বাজারের চোখে কম হলেও, যার ভবিষ্যৎ সরাসরি ভারতের উন্নতির সাথে জড়িত। উদাহরণস্বরূপ, তিনি লুপিনে সেই সময় বিনিয়োগ করেছিলেন যখন ভারতের ফার্মা
Speaker A
সেক্টর বিশ্বে নিজেদের পরিচয় তৈরি করছিল। রাকেশজি প্রায়শই তার অকপট ভাষায় একটি উদাহরণ দিতেন যে, যদি কোনো মেয়ে সুন্দরী হয়, তবে বিয়ের প্রস্তাব এমনিতেই চলে আসবে। অর্থাৎ, যদি কোম্পানির ব্যবসা এবং ম্যানেজমেন্ট শক্তিশালী হয়, তবে আজ না হোক কাল বাজার তার
Speaker A
আসল মূল্য ঠিকই চিনে নেবে। তিনি কেবল শেয়ার কিনতেন না। তিনি ভারতের গ্রোথ স্টোরির একটি অংশ কিনতেন। সমস্যাগুলো কেবল লোকসানের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। ২০২১ সালে রাকেশজির স্বচ্ছ ক্যারিয়ারে একটি বিতর্কিত অভিযোগের ছায়া পড়েছিল। অ্যাপটেক শেয়ারের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ইনসাইডার
Speaker A
ট্রেডিংয়ের অভিযোগ উঠেছিল । সেবি অভিযোগ করেছিল যে, রাকেশজি এবং তার ঘনিষ্ঠরা এমন তথ্যের ভিত্তিতে ট্রেড করেছিলেন যা সাধারণ মানুষের কাছে ছিল না। কিন্তু রাকেশজি আইনি লড়াইয়ে না গিয়ে সেবির সাথে প্রায় ৩৭ কোটি টাকার সেটলমেন্ট করেছিলেন। তিনি কোনো অপরাধ স্বীকার
Speaker A
না করেই আইনি প্রক্রিয়া শেষ করার জন্য এই অর্থ প্রদান করেছিলেন। সেই সময় পুরো বাজারে এটি আলোচনার বিষয় ছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি সবসময় বড় কেলেঙ্কারি থেকে দূরে ছিলেন এবং লং টার্ম ইনভেস্টর হিসেবে নিজের পরিচয় বজায় রেখেছিলেন। জীবনের শেষ
Speaker A
সময়ে শারীরিক অসুস্থতা এবং ডায়ালিসিসে থাকা সত্ত্বেও রাকেশজির মনোবল কমেনি। ২০২১ সালে তিনি তার জীবনের শেষ এবং সবচেয়ে আবেগপ্রবণ ঝুঁকি নিয়েছিলেন আকাশা এয়ার শুরু করার। অনেকে হেসেছিলেন, অনেকে মজা উড়িয়েছিলেন যে এয়ারলাইন্সের ব্যবসায় বড় বড় মানুষের টাকাও ডুবে যায়। কিন্তু
Speaker A
রাকেশজি নির্ভয়ে বলেছিলেন, "আমি চাই ভারতের সাধারণ মানুষও যেন সস্তায় বিমান ভ্রমণের স্বপ্ন পূরণ করতে পারে।" ভাগ্য দেখুন। তার মৃত্যুর ঠিক এক সপ্তাহ আগে, ২০২২ সালের ৭ আগস্ট আকাশা এয়ারের প্রথম ফ্লাইট আকাশে পাড়ি দিয়েছিল। আর ১৪ ই আগস্ট ২০২২, দালাল
Speaker A
স্ট্রিটের সিংহ চিরতরে নিস্তব্ধ হয়ে গেল। কিডনির অসুখ ভারতের সবচেয়ে বড় বুলকে আমাদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিল। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন যে, সঠিকটি কিনুন এবং ধৈর্য ধরে থাকুন। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, যদি নিজের ও দেশের ওপর বিশ্বাস থাকে, তবে ৫,০০০ টাকাও
Speaker A
৪৫,০০০ কোটি টাকা হতে পারে। রাকেশ ঝুনঝুনওয়ালাজি চলে গেলেন। কিন্তু বাজারের প্রতিটি পতনে যখন কেউ সাহস হারায়, তখন তাঁর কণ্ঠস্বর বেজে ওঠে। বাজারই সর্বেসর্বা। বাজার সবার উপরে। যদি 'দ্য বিগ বুল'-এর এই অনুপ্রেরণামূলক যাত্রা আপনাদের ভালো লেগে থাকে, তবে ভিডিওটিতে
Speaker A
অবশ্যই একটি লাইক দিন। আমাদের চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করতে ভুলবেন না, যাতে ফিন্যান্স এবং শেয়ার বাজার সম্পর্কিত এমন অজানা ও সত্য কাহিনী আপনাদের কাছে পৌঁছাতে থাকে। নোটিফিকেশন বেলটি অবশ্যই অন করবেন যাতে পরের গল্পটি মিস না হয়। ততক্ষণ পর্যন্ত নিজেদের বিনিয়োগ এবং
Speaker A
টাকার খেয়াল রাখুন। দেখা হবে পরের ভিডিওতে। জয় হিন্দ।
Topics:রাকেশ ঝুনঝুনওয়ালাবিগ বুলস্টক মার্কেটলং টার্ম ইনভেস্টমেন্টটাইটান শেয়ারভারতীয় বিনিয়োগহর্ষদ মেহতা স্ক্যামরেয়ার এন্টারপ্রাইজেসশর্ট সেলিংমর্গান স্ট্যানলি











