Skip to content

Self-Control শিখলে জীবন পুরো বদলে যাবে! | The Power of Self-Control | Audio Book Summary

সেলফ কন্ট্রোল শেখার মাধ্যমে জীবনের প্রতিটি সিদ্ধান্ত ও ভবিষ্যত বদলে যায়, যা স্থায়ী সফলতার মূল চাবিকাঠি।

Key Takeaways

  • সেলফ কন্ট্রোল জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি যা স্থায়ী সফলতার জন্য অপরিহার্য।
  • মনকে নিয়ন্ত্রণ করাই জীবনের সঠিক পথ নির্ধারণ করে।
  • ছোট ছোট নিয়ন্ত্রণের অভ্যাস গড়ে তোলা জীবনের বড় পরিবর্তন আনে।
  • সেলফ কন্ট্রোল মানে শুধু ইচ্ছাশক্তি নয়, এটি মনের একটি প্রোগ্রামিং।
  • নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে কেউ আপনাকে থামাতে পারে না।

What the video covers

  • নিজের চিন্তা, আবেগ ও সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ না করলে জীবনে স্থায়ী সফলতা আসেনা।
  • সেলফ কন্ট্রোল একটি শক্তি যা শিখলে জীবনের ছোট বড় সব সিদ্ধান্ত বদলে যায়।
  • মনকে নিয়ন্ত্রণ করলে জীবন গড়ে ওঠে, মনকে অনুসরণ করলে জীবন নষ্ট হয়।
  • ছোট ছোট নিয়ন্ত্রণ যেমন রাগে জবাব না দেওয়া, ভয়ে পিছিয়ে না যাওয়া, আলসেমি এড়ানো জীবনে বড় পরিবর্তন আনে।
  • সেলফ কন্ট্রোল মানে নিজের ভেতরের শান্তি রক্ষা করা এবং আবেগের দাস না হওয়া।
  • সেলফ কন্ট্রোল মানুষের মনের অদৃশ্য স্টিয়ারিং হুইল, যা জীবনের দিক নির্ধারণ করে।
  • ভেতরের নিয়ন্ত্রণ না থাকলে নতুন কাজ বা পরিকল্পনা দীর্ঘস্থায়ী হয় না।
  • পরিচয় বদলানোর মাধ্যমে মানুষ নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে শিখে।
  • সেলফ কন্ট্রোল তিন সেকেন্ডের মধ্যেই সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা দেয়।
  • ছোট ছোট নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জীবনের বড় সফলতা অর্জিত হয়।

Answers

Questions about this video

সেলফ কন্ট্রোল কেন জীবনে গুরুত্বপূর্ণ?

সেলফ কন্ট্রোল জীবনের প্রতিটি সিদ্ধান্ত ও আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে, যা স্থায়ী সফলতা এবং মানসিক শান্তি অর্জনে সাহায্য করে।

কিভাবে সেলফ কন্ট্রোল শেখা যায়?

ছোট ছোট নিয়ন্ত্রণের অভ্যাস গড়ে তোলা, যেমন রাগে জবাব না দেওয়া, ভয়ে পিছিয়ে না যাওয়া, এবং নিজেকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করেই সেলফ কন্ট্রোল শেখা যায়।

সেলফ কন্ট্রোল কি শুধুমাত্র ইচ্ছাশক্তির ব্যাপার?

না, সেলফ কন্ট্রোল শুধু ইচ্ছাশক্তি নয়, এটি মনের একটি প্রোগ্রামিং যা নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে গড়ে ওঠে।

Full Transcript — Download SRT & Markdown

00:00
Speaker A
আপনি কি জানেন মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় সফলতাকে আটকে রাখে তার নিজের নিয়ন্ত্রণহীন মন? আপনি যতই চেষ্টা করুন, যদি নিজের চিন্তা, আবেগ আর সিদ্ধান্তকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারেন, তাহলে জীবনের কোন ক্ষেত্রেই আপনি স্থায়ী সফলতা পাবেন না। কিন্তু সুখবর হলো সেলফ কন্ট্রোল এমন একটি শক্তি যা একবার শিখে গেলে আপনার জীবন, আপনার ভবিষ্যৎ, এমনকি আপনার প্রতিদিনের ছোট ছোট সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ বদলে যেতে শুরু করে। আর ঠিক সেই জীবন বদলে দেওয়া শক্তিটাই সহজ ভাষায় বুঝিয়ে বলে দ্যা পাওয়ার অফ সেলফ কন্ট্রোল বইটি। আজ আপনি সময়ের ডাকের সাথে এই বইয়ের এমন সব বাস্তব শিক্ষা শুনবেন, যা আপনার জীবনকে আরো শক্তিশালী, স্থির এবং সফল করে তুলতে সাহায্য করবে। সেলফ কন্ট্রোল শুধু একটি শব্দ নয়, আপনার পুরো জীবনের দিক বদলে দেওয়ার ক্ষমতা। মানুষ জীবনে যত বড় হোক, যত সফল হোক, যত দক্ষ হোক, একটি জায়গায় হারলে সব হারিয়ে যায়। আর সেটি হলো নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ। এই বইটি খুব সহজ একটি সত্য শেখায়। আপনার জীবনকে বদলে দিতে কারো প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন শুধু আপনাকেই নিয়ন্ত্রণে আনা। জীবনে সমস্যা আসে কারণ মন সবসময় আপনাকে ভুল জায়গায় নিয়ে যেতে চায়। যেমন ধরুন কাজ করার সময় হঠাৎ মন চাইলো একটু সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল করি। পড়াশোনার সময় মন চাইলো একটু বিশ্রাম নেই। রাগের সময় মন বলে উঠলো এখনই জবাব দাও। আপনি যদি মনকে অনুসরণ করেন, মন আপনাকে পথে নামিয়ে দেবে। কিন্তু আপনি যদি মনকে নিয়ন্ত্রণ করেন, মন আপনাকে সঠিক পথে পৌঁছে দেবে। এখানেই শুরু হয় সেলফ কন্ট্রোলের শক্তি। একজন মানুষের গল্প ভাবুন। সে প্রতিদিন সিদ্ধান্ত নেয় আজকে একটু ভালো হব। একটু বেশি শিখবো, একটু বেশি কাজ করব। কিন্তু সকালে উঠেই মন তাকে বলে, আজ থাক, কালকে থেকে শুরু করো। সে কালকের অপেক্ষায় থাকে আর কাল কখনো আসে না। মন তার স্বপ্নকে ধ্বংস করে দেয়। কিন্তু আরেকজন আছে যাকে এই বইয়ে বোঝানো হয়েছে। সে জানে মনকে অনুসরণ করলে জীবন নষ্ট হয়। কিন্তু মনকে নিয়ন্ত্রণ করলে জীবন গড়ে ওঠে। তাই সে মনকে বলে তুমি যা চাও আমি তা করবো না। আমি যা সঠিক সেটাই করব। এই এক সিদ্ধান্ত পুরো জীবনটাই বদলে দেয়। মানুষ ভাবে সেলফ কন্ট্রোল মানে কঠিন কিছু। কিন্তু আসলে এটি ছোট ছোট সিদ্ধান্তের সমষ্টি। যেমন রাগ এলে জবাব না দেওয়া, ভয় এলে পিছিয়ে না যাওয়া, আলসেমি এলে কাজ শুরু করা, নেশা এলে নিজেকে থামানো, ব্যর্থতা এলে দাঁড়িয়ে থাকা। এই ছোট নিয়ন্ত্রণগুলো ধীরে ধীরে মানুষকে ভিতর থেকে শক্তিশালী করে তোলে। বইটি বলে আপনি যতদিন নিজের আবেগের দাস হয়ে থাকবেন, ততদিন পৃথিবীর কোন নিয়ম, কোন পরিকল্পনা, কোন কোর্স, কোন বই আপনাকে সাহায্য করতে পারবে না। কারণ শত্রু বাইরে নয়। শত্রু আপনার নিজের ভেতরে। যেদিন আপনি শত্রুকে নিয়ন্ত্রণ করলেন, সেইদিন আপনার প্রকৃত যাত্রা শুরু হবে। আকর্ষণীয় একটি উদাহরণ বইটিতে পাওয়া যায়। একজন ট্রেডার যার সিদ্ধান্ত সবসময় আবেগ দিয়ে নিয়ন্ত্রিত হতো। ভয় তাকে বিক্রি করাতো, লোভ তাকে ভুল সময় কিনতে বাধ্য করত। বছর শেষে সে সব হারিয়ে ফেলতো। একদিন সে নিজের জীবন থামিয়ে একটি প্রশ্ন করল। আমি কি সত্যি সিদ্ধান্ত নিচ্ছি? নাকি আবেগ আমাকে দিয়ে সিদ্ধান্ত করাচ্ছে? সেই প্রশ্ন তাকে বদলে দেয়। সে নিজের আবেগকে পর্যবেক্ষণ করতে শুরু করল। রাগ এলে ৩০ সেকেন্ড চুপ থাকা। ভয় এলে গভীর শ্বাস নেওয়া, লোভ আসলে নিজের লক্ষ্য মনে করানো। এই ছোট নিয়ন্ত্রণগুলো তাকে ধীরে ধীরে নতুন জীবন দিল। বছর শেষে সে আগের জীবনের চেয়েও ভালো অবস্থায় পৌঁছে গেল। কারণ সে বাজারকে নয়, নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে শিখেছিল। এই বইটি বলে দুনিয়াতে দুই ধরনের মানুষ আছে। একদল তাদের জীবনের গতি নিজেদের হাতে রাখে। আরেকদল মন ও আবেগের স্রোতে ভেসে যায়। যারা নিয়ন্ত্রণ রাখে তারা জয়ী হয়। যারা ভেসে যায় তারা হারিয়ে যায়। আপনি কোন দলে থাকবেন তা নির্ধারণ করে আপনার প্রতিদিনের ছোট নিয়ন্ত্রণ। আজ একটু এগোনো, আজ একটু থামা, আজ একটু সহ্য করা, আজ একটু বুদ্ধিমত্তার সাথে থাকা। জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করতে সেলফ কন্ট্রোল সবচেয়ে বড় সুপার পাওয়ার। কেউ জন্ম থেকে এটি জানে না। কিন্তু সবাই শিখতে পারে। এবং একবার শিখে গেলে আপনার পরবর্তী প্রতিটি দিন আলাদা হবে। আপনার কাজ, আপনার সম্পর্ক, আপনার আর্থিক অবস্থা, আপনার ভবিষ্যৎ সবকিছুই আলাদা রূপ নেবে। আপনি যদি নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ আনতে পারেন, তাহলে পৃথিবীর কেউ নেই যে আপনাকে থামাতে পারবে। সেলফ কন্ট্রোল নিয়ে মানুষ সাধারণত ভাবে এটি শুধু একটি অভ্যাস অথবা একটু শক্ত ইচ্ছাশক্তির ব্যাপার। কিন্তু সত্য কথা হলো সেলফ কন্ট্রোল হলো আপনার মনের ভেতরে থাকা অদৃশ্য স্টিয়ারিং হুইল। যে স্টিয়ারিং হুইল যার হাতে থাকে, সেই তার জীবনের দিক ঠিক করে। আর বইটি এই জায়গাটা সবচেয়ে গভীরভাবে ব্যাখ্যা করে, যেটা অনেকেই বুঝতে পারেন না। আপনার জীবন কেন আজ যেখানেই আছে, তার মূল কারণ আপনার সিদ্ধান্ত নয়, আপনার সিদ্ধান্তের পেছনের নিয়ন্ত্রণ। যেমন ধরুন দুইজন মানুষ সকাল ছয়টা বাজে উঠতে চায়। একজন উঠে পড়ে, আরেকজন উঠে পড়তে পারে না। দুজনের ইচ্ছা একই, প্ল্যান একই। কিন্তু নিয়ন্ত্রণ ভিন্ন। যে নিয়ন্ত্রণে থাকে সে যেতে পারে, আর যে নিয়ন্ত্রণে থাকে না সে নিজের ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও হেরে যায়। বইটি বলে সেলফ কন্ট্রোল আসলে আপনার অভ্যন্তরীণ পরিবেশ বদলে দেয়। মানুষ ভাবে বাইরে পরিবর্তন আনলেই জীবন বদলাবে। নতুন কাজ, নতুন রুটিন, নতুন লক্ষ্য। কিন্তু ভেতরটা না বদলালে বাইরেরটা স্থায়ী হয় না। তাই একজন মানুষ অনেক প্ল্যান করে, কিন্তু কয়েকদিন পরেই ছিটকে পড়ে। কারণ ভেতরে নিয়ন্ত্রণ নেই। এখানে বইটি একটি চমৎকার ধারণা দেয়। মানুষ পরিবর্তন করে না কাজ দিয়ে, মানুষ পরিবর্তন করে পরিচয় দিয়ে। মানে আপনি যদি নিজেকে মনে প্রাণে বোঝাতে পারেন যে আপনি একজন নিয়ন্ত্রিত মানুষ, তাহলে আপনার কাজও সেই পরিচয়ের সঙ্গে মিলে যাবে। আপনি নিজের কাছে নিজেকে হারাবেন না। এখানে একটি শক্ত গল্প আসে। একজন ছাত্র ছিল যে খুব দ্রুত রেগে যেত। ছোট কথায় ভেঙে পড়তো। কেউ ভুল কিছু বললে সে পুরোদিন নষ্ট করতো। একদিন তার শিক্ষক তাকে একটি গ্লাস পানি দিলেন এবং বললেন এই গ্লাসটাকে এমনভাবে নিয়ে হাঁটবে যাতে এক ফোঁটা পানি না পড়ে। ছাত্র হাঁটতে হাঁটতে বুঝলো পানি না ফেলতে চাইলে তাকে চারপাশ না দেখে শুধু গ্লাসটার দিকে মনোযোগ দিতে হবে। শিক্ষক তাকে বললেন, জীবনে সেলফ কন্ট্রোল মানে হচ্ছে বাইরের শব্দ নয়, নিজের ভেতরের গ্লাসকে ধরে রাখা। মানুষ কখন রেগে যায়? যখন বাইরে যা হচ্ছে সেটা নিজের ভেতরে ঢুকিয়ে ফেলে। মানুষ কখন ভেঙ্গে পড়ে? যখন বাইরের শব্দের কাছে নিজের স্থিরতা হারায়। এবং মানুষ কখন জিতে যায়? যখন সে ভেতরের পানিটা না ফেলতে শেখে। বইটি আরো বলে সেলফ কন্ট্রোল শুধু খারাপ অভ্যাস নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং নিজের ভেতরের শান্তিকে রক্ষা করা। এমন একটি শান্তি যেটা মানুষকে এমন সব সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে যা অন্যেরা নিতে পারে না। অনেক সফল মানুষের সাফল্যের পেছনে ঠিক এই দক্ষতা থাকে। তারা কখনো তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নেয় না। তারা কখনো চাপে নষ্ট হয় না। তারা কখনো উত্তেজনায় ভেসে যায় না। তারা জানে আমি যতক্ষণ ভেতর থেকে স্থির, ততক্ষণ বাইরে যা ঘটুক আমি পথ বদলাবো না। এখানে বইটি মনস্তত্ত্ব ব্যবহার করে বোঝায় আমাদের মস্তিষ্ক তিন সেকেন্ডের মধ্যেই সিদ্ধান্ত নেয় আমরা কি করব? কিন্তু একজন নিয়ন্ত্রিত মানুষ ওই তিন সেকেন্ডকে নিজের পক্ষে কাজে লাগায়। রাগ এলে সে তিন সেকেন্ড থামে। ভয় এলে তিন সেকেন্ড শ্বাস নেয়। আলসেমি এলে তিন সেকেন্ড নিজেকে প্রশ্ন করে এটা কি আমার ভবিষ্যতের মানুষটাকে সাহায্য করবে? আর এই তিন সেকেন্ডই সাধারণ মানুষ এবং অসাধারণ মানুষের পার্থক্য তৈরি করে। আরেকটি গভীর গল্প আছে। একজন যুবক তার জীবন গোছাতে পারছিল না। কাজে মন বসে না, সম্পর্ক ভালো না, নিজের উপর রাগ। সে প্রায়ই ভাবতো আমি কি কিছুই পারি না? একদিন সে একটি কথা শুনল যে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, সে নিজের ভবিষ্যৎকেও নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। সে নিজের আচরণ পর্যবেক্ষণ শুরু করল। কখন সে ভেঙে পড়ে, কখন সে পিছিয়ে যায়, কখন সে মনোযোগ হারায়। তারপর সে প্রতিদিন একটি ছোট বিষয় নিয়ন্ত্রণ করার প্রতিজ্ঞা নিল। আজ ১০ মিনিট পড়বে, আজ ১৫ মিনিট হাঁটবে, আজ ফোনের স্ক্রোল পাঁচ মিনিট কমাবে। এই ছোট নিয়ন্ত্রণগুলো তাকে বদলে দিল। ছয় মাস পরে সে সেই মানুষ আর আগের মানুষ আর ছিল না, কারণ সে সময়কে নয়, নিজেকেই নিয়ন্ত্রণ করতে শিখল। বইটি বলে সেলফ কন্ট্রোল শুধু একটি দক্ষতা নয়, এটি আপনার ভবিষ্যতের নির্মাতা। যেদিন আপনি বুঝতে পারবেন যে আপনি আপনার চিন্তা, আচরণ, আবেগ এবং সিদ্ধান্তের মালিক, সেদিন আপনি বদলে যাবেন। আপনার ভেতরের নিয়ন্ত্রণ যত বাড়বে, তত আপনার জীবনের গতি পরিষ্কার হবে। বইটি যে বিষয়টি সবচেয়ে জোর দিয়ে বলে তা হলো জীবনের বড় সাফল্য বড় নিয়ন্ত্রণ থেকে আসে না, ছোট নিয়ন্ত্রণ থেকে আসে। দিনের শুরুতে ছোট সিদ্ধান্ত, দিনের শেষে ছোট আচরণ এবং প্রতিদিন ছোট উন্নতি। এই ছোট ছোট জিনিসগুলোই সবচেয়ে বড় বিজয় সৃষ্টি করে। আপনি যদি এই বইয়ের ধারণা নিজের জীবনে একটু একটু করে প্রয়োগ করতে শুরু করেন, আপনি দেখে অবাক হবেন আপনার জীবন ঠিক সেই দিকে হাঁটতে শুরু করবে যেদিকে আপনি সত্যিই যেতে চান। মানুষ ভাবে সেলফ কন্ট্রোল মানে শুধু নিজের ইচ্ছেকে চেপে রাখা। কিন্তু বইটি দেখায় এটি আসলে আপনার মনের অদৃশ্য চালক, যেটা ঠিক করে আপনি কতদূর যাবেন, কোথায় থামবেন আর কোথায় ভুল করবেন। এই অধ্যায়ে সেলফ কন্ট্রোলকে একটি অভ্যাস নয়, বরং মাইন্ড প্রোগ্রামিং হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। কারণ আপনার মস্তিষ্ক নিয়মিত যেসব সংকেত পায়, আপনার আচরণ ঠিক সেগুলোর প্রতিক্রিয়া। তাই সেলফ কন্ট্রোল বাড়াতে প্রথম শর্ত হলো মস্তিষ্ককে নতুন সংকেত দেওয়া। এখানে বইটি একটি গভীর সত্য তুলে ধরে।
00:20
Speaker A
একটি শক্তি যা একবার শিখে গেলে আপনার জীবন আপনার ভবিষ্যৎ এমনকি আপনার প্রতিদিনের ছোট ছোট সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ বদলে যেতে শুরু করে। আর ঠিক সেই জীবন বদলে দেওয়া শক্তিটাই সহজ ভাষায় বুঝিয়ে বলে দ্যা পাওয়ার অফ সেলফ কন্ট্রোল বইটি। আজ আপনি
00:37
Speaker A
সময়ের ডাকের সাথে এই বইয়ের এমন সব বাস্তব শিক্ষা শুনবেন, যা আপনার জীবনকে আরো শক্তিশালী, স্থির এবং সফল করে তুলতে সাহায্য করবে। সেলফ কন্ট্রোল। শুধু একটি শব্দ নয়, আপনার পুরো জীবনের দিক বদলে দেওয়ার ক্ষমতা। মানুষ জীবনে যত বড় হোক,
00:53
Speaker A
যত সফল হোক, যত দক্ষ হোক, একটি জায়গায় হারলে সব হারিয়ে যায়। আর সেটি হলো নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ। এই বইটি খুব সহজ একটি সত্য শেখায়। আপনার জীবনকে বদলে দিতে কারো প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন শুধু আপনাকেই নিয়ন্ত্রণে আনা। জীবনে সমস্যা আসে কারণ
01:11
Speaker A
মন সবসময় আপনাকে ভুল জায়গায় নিয়ে যেতে চায়। যেমন ধরুন কাজ করার সময় হঠাৎ মন চাইলো একটু সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল করি। পড়াশোনার সময় মন চাইলো একটু বিশ্রাম নেই। রাগের সময় মন বলে উঠলো এখনি জবাব দাও। আপনি যদি মনকে অনুসরণ করেন মন আপনাকে
01:28
Speaker A
পথে নামিয়ে দেবে। কিন্তু আপনি যদি মনকে নিয়ন্ত্রণ করেন মন আপনাকে সঠিক পথে পৌঁছে দেবে। এখানেই শুরু হয় সেলফ কন্ট্রোলের শক্তি। একজন মানুষের গল্প ভাবুন। সে প্রতিদিন সিদ্ধান্ত নেয় আজকে একটু ভালো হব। একটু বেশি শিখবো, একটু বেশি কাজ করব।
01:46
Speaker A
কিন্তু সকালে উঠেই মন তাকে বলে, আজ থাক কালকে থেকে শুরু করো। সে কালকের অপেক্ষায় থাকে আর কাল কখনো আসে না। মন তার স্বপ্নকে ধ্বংস করে দেয়। কিন্তু আরেকজন আছে যাকে এই বইয়ে বোঝানো হয়েছে। সে জানে মনকে অনুসরণ করলে জীবন নষ্ট হয়। কিন্তু মনকে
02:05
Speaker A
নিয়ন্ত্রণ করলে জীবন গড়ে ওঠে। তাই সে মনকে বলে তুমি যা চাও আমি তা করবো না। আমি যা সঠিক সেটাই করব। এই এক সিদ্ধান্ত পুরো জীবনটাই বদলে দেয়। মানুষ ভাবে সেলফ কন্ট্রোল মানে কঠিন কিছু। কিন্তু আসলে এটি ছোট ছোট সিদ্ধান্তের সমষ্টি। যেমন রাগ এলে
02:24
Speaker A
জবাব না দেয়া, ভয় এলে পিছিয়ে না যাওয়া, আলসেমি এলে কাজ শুরু করা, নেশা এলে নিজেকে থামানো, ব্যর্থতা এলে দাঁড়িয়ে যাওয়া। এই ছোট নিয়ন্ত্রণগুলো ধীরে ধীরে মানুষকে ভিতর থেকে শক্তিশালী করে তোলে। বইটি বলে আপনি যতদিন নিজের আবেগের দাস হয়ে থাকবেন ততদিন পৃথিবীর কোন
02:42
Speaker A
নিয়ম, কোন পরিকল্পনা, কোন কোর্স, কোন বই আপনাকে সাহায্য করতে পারবে না। কারণ শত্রু বাইরে নয়। শত্রু আপনার নিজের ভেতরে। যেদিন আপনি শত্রুকে নিয়ন্ত্রণ করলেন সেইদিন আপনার প্রকৃত যাত্রা শুরু হবে। আকর্ষণীয় একটি উদাহরণ বইটিতে পাওয়া যায়। একজন ট্রেডার যার সিদ্ধান্ত সবসময়
03:01
Speaker A
আবেগ দিয়ে নিয়ন্ত্রিত হতো। ভয় তাকে বিক্রি করাতো লোভ তাকে ভুল সময় কিনতে বাধ্য করত। বছর শেষে সে সব হারিয়ে ফেলতো। একদিন সে নিজের জীবন থামিয়ে একটি প্রশ্ন করল। আমি কি সত্যি সিদ্ধান্ত নিচ্ছি? নাকি আবেগ আমাকে দিয়ে সিদ্ধান্ত করাচ্ছে? সেই
03:18
Speaker A
প্রশ্ন তাকে বদলে দেয়। সে নিজের আবেগকে পর্যবেক্ষণ করতে শুরু করল। রাগ এলে 30 সেকেন্ড চুপ থাকা। ভয় এলে গভীর শ্বাস নেওয়া, লোভ আসলে নিজের লক্ষ্য মনে করানো। এই ছোট নিয়ন্ত্রণগুলো তাকে ধীরে ধীরে নতুন জীবন দিল। বছর শেষে সে আগের জীবনের
03:34
Speaker A
চেয়েও ভালো অবস্থায় পৌঁছে গেল। কারণ সে বাজারকে নয় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে শিখেছিল। এই বইটি বলে দুনিয়াতে দুই ধরনের মানুষ আছে। একদল তাদের জীবনের গতি নিজেদের হাতে রাখে। আরেকদল মন ও আবেগের স্রোতে ভেসে যায়। যারা নিয়ন্ত্রণ রাখে তারা জয়ী হয়। যারা ভেসে যায় তারা হারিয়ে
03:53
Speaker A
যায়। আপনি কোন দলে থাকবেন তা নির্ধারণ করে আপনার প্রতিদিনের ছোট নিয়ন্ত্রণ। আজ একটু এগনো, আজ একটু থামা, আজ একটু সহ্য করা, আজ একটু বুদ্ধিমত্তার সাথে থাকা। জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করতে সেলফ কন্ট্রোল সবচেয়ে বড় সুপার পাওয়ার। কেউ জন্ম থেকে এটি জানে না। কিন্তু সবাই শিখতে পারে। এবং
04:12
Speaker A
একবার শিখে গেলে আপনার পরবর্তী প্রতিটি দিন আলাদা হবে। আপনার কাজ আপনার সম্পর্ক আপনার আর্থিক অবস্থা আপনার ভবিষ্যৎ সবকিছুই আলাদা রূপ নেবে। আপনি যদি নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ আনতে পারেন তাহলে পৃথিবীর কেউ নেই যে আপনাকে থামাতে পারবে। সেলফ কন্ট্রোল নিয়ে মানুষ সাধারণত ভাবে এটি
04:31
Speaker A
শুধু একটি অভ্যাস অথবা একটু শক্ত ইচ্ছাশক্তির ব্যাপার। কিন্তু সত্য কথা হলো সেলফ কন্ট্রোল হলো আপনার মনের ভেতরে থাকা অদৃশ্য স্টিয়ারিং হুইল। যে স্টিয়ারিং যার হাতে থাকে সেই তার জীবনের দিক ঠিক করে। আর বইটি এই জায়গাটা কি সবচেয়ে গভীরভাবে
04:47
Speaker A
ব্যাখ্যা করে যেটা অনেকেই বুঝতে পারেন না। আপনার জীবন কেন আজ যেখানেই আছে তার মূল কারণ আপনার সিদ্ধান্ত নয়। আপনার সিদ্ধান্তের পেছনের নিয়ন্ত্রণ। যেমন ধরুন দুইজন মানুষ সকাল ছয়টা বাজে উঠতে চায়। একজন উঠে পড়ে আরেকজন উঠে পড়তে পারে না।
05:03
Speaker A
দুজনের ইচ্ছা একই প্ল্যান একই। কিন্তু নিয়ন্ত্রণ ভিন্ন। যে নিয়ন্ত্রণে থাকে সে যেতে আর যে নিয়ন্ত্রণে থাকে না সে নিজের ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও হেরে যায়। বইটি বলে সেলফ কন্ট্রোল আসলে আপনার অভ্যন্তরীণ পরিবেশ বদলে দেয়। মানুষ ভাবে বাইরে পরিবর্তন আনলেই জীবন বদলাবে। নতুন কাজ,
05:22
Speaker A
নতুন রুটিন, নতুন লক্ষ্য। কিন্তু ভেতরটা না বদলালে বাইরেরটা স্থায়ী হয় না। তাই একজন মানুষ অনেক প্ল্যান করে। কিন্তু কয়েকদিন পরেই ছিটকে পড়ে। কারণ ভেতরে নিয়ন্ত্রণ নেই। এখানে বইটি একটি চমৎকার ধারণা দেয়। মানুষ পরিবর্তন করে না কাজ দিয়ে। মানুষ পরিবর্তন করে পরিচয় দিয়ে।
05:41
Speaker A
মানে আপনি যদি নিজেকে মনে প্রাণে বোঝাতে পারেন যে আপনি একজন নিয়ন্ত্রিত মানুষ তাহলে আপনার কাজও সেই পরিচয়ের সঙ্গে মিলে যাবে। আপনি নিজের কাছে নিজেকে হারাবেন না। এখানে একটি শক্ত গল্প আসে। একজন ছাত্র ছিল যে খুব দ্রুত রেগে যেত। ছোট কথায় ভেঙে
05:57
Speaker A
পড়তো। কেউ ভুল কিছু বললে সে পুরোদিন নষ্ট করতো। একদিন তার শিক্ষক তাকে একটি গ্লাস পানি দিলেন এবং বললেন এই গ্লাসটাকে এমনভাবে নিয়ে হাঁটবে যাতে এক ফোঁটা পানি না পড়ে। ছাত্র হাঁটতে হাঁটতে বুঝলো পানি না ফেলতে চাইলে তাকে চারপাশ না দেখে শুধু
06:12
Speaker A
গ্লাসটার দিকে মনোযোগ দিতে হবে। শিক্ষক তাকে বললেন, জীবনে সেলফ কন্ট্রোল মানে হচ্ছে বাইরের শব্দ নয় নিজের ভেতরের গ্লাসকে ধরে রাখা। মানুষ কখন রেগে যায়?
06:23
Speaker A
যখন বাইরে যা হচ্ছে সেটা নিজের ভেতরে ঢুকিয়ে ফেলে। মানুষ কখন ভেঙ্গে পড়ে? যখন বাইরের শব্দের কাছে নিজের স্থিরতা হারায় এবং মানুষ কখন জিতে যায় যখন সে ভেতরের পানিটা না ফেলতে শেখে। বইটি আরো বলে সেলফ কন্ট্রোল শুধু খারাপ অভ্যাস নিয়ন্ত্রণ
06:38
Speaker A
নয় বরং নিজের ভেতরের শান্তিকে রক্ষা করা। এমন একটি শান্তি যেটা মানুষকে এমন সব সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে যা অন্যেরা নিতে পারে না। অনেক সফল মানুষের সাফল্যের পেছনে ঠিক এই দক্ষতা থাকে। তারা কখনো তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নেয় না। তারা
06:53
Speaker A
কখনো চাপে নষ্ট হয় না। তারা কখনো উত্তেজনায় ভেসে যায় না। তারা জানে আমি যতক্ষণ ভেতর থেকে স্থির ততক্ষণ বাইরে যা ঘটুক আমি পথ বদলাবো না। এখানে বইটি মনস্তত্ব ব্যবহার করে বোঝায় আমাদের মস্তিষ্ক তিন সেকেন্ডের মধ্যেই সিদ্ধান্ত নেয় আমরা কি করব? কিন্তু একজন
07:10
Speaker A
নিয়ন্ত্রিত মানুষ ওই তিন সেকেন্ডকে নিজের পক্ষে কাজে লাগায়। রাগ এলে সে তিন সেকেন্ড থামে। ভয় এলে তিন সেকেন্ড শ্বাস নেয়। আলসেমি এলে তিন সেকেন্ড নিজেকে প্রশ্ন করে এটা কি আমার ভবিষ্যতের মানুষটাকে সাহায্য করবে? আর এই তিন সেকেন্ডই সাধারণ মানুষ এবং অসাধারণ
07:26
Speaker A
মানুষের পার্থক্য তৈরি করে। আরেকটি গভীর গল্প আছে। একজন যুবক তার জীবন গোছাতে পারছিল না। কাজে মন বসে না সম্পর্ক ভালো না নিজের উপর রাগ। সে প্রায়ই ভাবতো আমি কি কিছুই পারি না? একদিন সে একটি কথা শুনল যে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না সে
07:41
Speaker A
নিজের ভবিষ্যৎকেও নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। সে নিজের আচরণ পর্যবেক্ষণ শুরু করল। কখন সে ভেঙে পড়ে কখন সে পিছিয়ে যায় কখন সে মনোযোগ হারায় তারপর সে প্রতিদিন একটি ছোট বিষয় নিয়ন্ত্রণ করার প্রতিজ্ঞা নিল আজ 10 মিনিট পড়বে আজ 15 মিনিট হাঁটবে আজ
07:56
Speaker A
ফোনের স্ক্রোল পাঁচ মিনিট কমাবে এই ছোট নিয়ন্ত্রণগুলো তাকে বদলে দিল ছয় মাস পরে সে সেই মানুষ আর আগের মানুষ আর ছিল না কারণ সে সময়কে নয় নিজেকেই নিয়ন্ত্রণ করতে শিখল বইটি বলে সেলফ কন্ট্রোল শুধু একটি দক্ষতা নয় এটি আপনার ভবিষ্যতের
08:12
Speaker A
নির্মাতা যেদিন আপনি বুঝতে পারবেন যে আপনি আপনার চিন্তা আচরণ, আবেগ এবং সিদ্ধান্তের মালিক সেদিন আপনি বদলে যাবেন। আপনার ভেতরের নিয়ন্ত্রণ যত বাড়বে তত আপনার জীবনের গতি পরিষ্কার হবে। বইটি যে বিষয়টি সবচেয়ে জোর দিয়ে বলে তা হলো জীবনের বড়
08:27
Speaker A
সাফল্য বড় নিয়ন্ত্রণ থেকে আসে না। ছোট নিয়ন্ত্রণ থেকে আসে। দিনের শুরুতে ছোট সিদ্ধান্ত, দিনের শেষে ছোট আচরণ এবং প্রতিদিন ছোট উন্নতি এই ছোট ছোট জিনিসগুলোই সবচেয়ে বড় বিজয় সৃষ্টি করে। আপনি যদি এই বইয়ের ধারণা নিজের জীবনে একটু একটু করে প্রয়োগ করতে শুরু করেন
08:43
Speaker A
আপনি দেখে অবাক হবেন আপনার জীবন ঠিক সেই দিকে হাঁটতে শুরু করবে যেদিকে আপনি সত্যিই যেতে চান। মানুষ ভাবে সেলফ কন্ট্রোল মানে শুধু নিজের ইচ্ছেকে চেপে রাখা। কিন্তু বইটি দেখায় এটি আসলে আপনার মনের অদৃশ্য চালক। যেটা ঠিক করে আপনি কতদূর যাবেন,
09:01
Speaker A
কোথায় থামবেন আর কোথায় ভুল করবেন। এই অধ্যায়ে সেলফ কন্ট্রোলকে একটি অভ্যাস নয় বরং মাইন্ড প্রোগ্রামিং হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। কারণ আপনার মস্তিষ্ক নিয়মিত যেসব সংকেত পায় আপনার আচরণ ঠিক সেগুলোর প্রতিক্রিয়া। তাই সেলফ কন্ট্রোল বাড়াতে প্রথম শর্ত হলো মস্তিষ্ককে নতুন সংকেত
09:23
Speaker A
দেওয়া। এখানে বইটি একটি গভীর সত্য তুলে ধরে। মানুষ তার জীবনে যা ঘটায় তার 80% সিদ্ধান্ত নেয় আবেগের উপর ভিত্তি করে। আর মাত্র 20% আসে যুক্তি থেকে। সেলফ কন্ট্রোল হলো সেই শক্তি যা আবেগকে থামিয়ে যুক্তিকে সামনে নিয়ে আসে। কখনো কি খেয়াল করেছেন?
09:44
Speaker A
একটা ভুল কথা শুনে আপনি এমন কাজ করে ফেলেছেন যার জন্য পরে নিজেই লজ্জা পেয়েছেন অথবা একদিন আলসেমির কারণে কোন গুরুত্বপূর্ণ কাজ হারিয়ে ফেলেছেন। সেই মুহূর্তগুলোতে আপনার জীবন নয় আপনার আবেগ আপনাকে চালিয়েছে। আর বইটি এই জায়গাটাই ভেঙে নতুন আপনাকে তুলে আনে। বইতে বলা
10:06
Speaker A
হয়েছে যে মানুষ নিজের আবেগের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারে তাকে কেউ হারাতে পারে না। মানুষ নিজের সিদ্ধান্তগুলো ঠান্ডা মাথায় নেয় তাকে কেউ ভুল পথে নিতে পারে না। যে মানুষ নিজের নাম, লক্ষ্য, ভবিষ্যৎ সবকিছু রক্ষা করতে পারে সেই সেলফ কন্ট্রোলড ব্যক্তি। এখানে একটি অত্যন্ত
10:26
Speaker A
শক্তিশালী গল্প আছে। একজন সংগীত শিল্পী ছোটবেলায় খুব চঞ্চল ছিল। যেকোনো ছোট কথায় রেগে যেত, ভুল সিদ্ধান্ত নিত এবং নিজের ক্যারিয়ার নষ্ট করে ফেলত। একদিন তার গুরু তাকে বললেন, তুমি তোমার জীবনের নটরাজ কিন্তু তোমার ভেতরের ঢোল সবসময় বেজে ওঠে বলে তুমি নাচ সামলাতে পারো না।
10:46
Speaker A
এই কথা শুনে সে প্রতিদিন 10 মিনিট নিজের শ্বাসের উপর মনোযোগ দিতে শুরু করল। কয়েক মাস পর সে এমন একটি মানুষ হয়ে উঠলো যার সামনে কেউ উচ্চস্বরে কথা বললেও সে শান্ত থাকে। এর ফল তার ক্যারিয়ার আবার উঠে দাঁড়ালো। তার জীবন বদলালো। কারণ সে
11:03
Speaker A
প্রথমবার নিজের আবেগকে নিজের অধীনে আনতে পেরেছে। বইতে বলা হয়েছে সেলফ কন্ট্রোল মানে রাগ না হওয়া নয় বরং রাগ এলেও সেটাকে নিজের ক্ষতি করতে না দেওয়া। ভয় না পাওয়া নয় বরং ভয় এলেও তা আপনাকে পিছিয়ে দিতে না দেওয়া। আলসেমি না থাকা
11:21
Speaker A
নয় বরং আলসেমি এলেও আপনি কাজ থামিয়ে না দেওয়া। সেলফ কন্ট্রোল আপনাকে অসফলতার হাত থেকে বাঁচায়। প্রতিযোগিতার আগে শক্তিশালী করে এবং প্রতিটি সিদ্ধান্তে পরিণত করে তোলে। আরেকটি জায়গা বইটি অসাধারণভাবে তুলে ধরে জীবনের সেলফ কন্ট্রোল না থাকলে মানুষ নিজের ভবিষ্যৎ বিক্রি করে দেয়।
11:41
Speaker A
বর্তমানের আরামদায়ক একটি অনুভূতির জন্য। এটি হয় যখন আপনি মোবাইল স্ক্রল করেন, যখন আপনি কাজ ফেলে ঘুমিয়ে পড়েন, যখন আপনি সামান্য কষ্টে হাল ছেড়ে দেন। এই মুহূর্তগুলোয় আপনি নিজের ভবিষ্যতে সোনা বিনিময় করেন কিছু মিনিটের সামান্য মজা বা আরামের জন্য। আর সেলফ কন্ট্রোল ঠিক এখানেই
12:00
Speaker A
আপনাকে থামিয়ে দেয়। মনে করিয়ে দেয়, তুমি এখন যে সিদ্ধান্ত নিচ্ছ, তা তোমার ভবিষ্যতের মানুষটাকে কেমন করবে? এই অধ্যায় আরেকটি শক্ত শিক্ষা দেয়, সেলফ কন্ট্রোল কোন প্রতিভা নয়। এটা একটা প্রশিক্ষণ। যেমন একজন খেলোয়াড় প্রতিদিন অনুশীলন করে শক্তিশালী হয় তেমনি একজন
12:17
Speaker A
মানুষও প্রতিদিন ছোট সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ করে বড় নিয়ন্ত্রণ তৈরি করে। আপনি আজ পাঁচ মিনিট আগে উঠেন এটাই সেলফ কন্ট্রোল। আজ মোবাইল 10 মিনিট কম স্ক্রল করলেন এটাই সেলফ কন্ট্রোল। আজ রাগে এলে কথা কম বললেন এটাই সেলফ কন্ট্রোল। এই ছোটগুলো জমে
12:35
Speaker A
একসময় আপনার চরিত্র তৈরি করে দেয়। সেলফ কন্ট্রোল শিখতে পারলে মানুষ শুধু সফল হয় না। মানুষ শান্ত হয়। আপনি নিজের ভেতরে যুদ্ধ জিতে গেলে বাইরের কোন যুদ্ধ হারা যায় না। আপনি যত শক্তিশালী হন ভিতর থেকে আপনার জীবন তত গঠন পায় বাহিরে। মেন হু
12:53
Speaker A
মাস্টার সেলফ কন্ট্রোল মাস্টার দার এন্টায়ার ডেস্টিনি। সময়ের ডাক বলছে, জীবনের সত্যিকার শক্তি আসে সেই মুহূর্ত থেকে, যখন আপনি নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ নেওয়া শুরু করেন। মানুষ যত বড় সমস্যাতেই থাকুক, যত বিশৃঙ্খলেই দিন কাটুক, তার ভেতরে যদি সামান্য সেলফ কন্ট্রোল থাকে,
13:13
Speaker A
তবে সে যেকোন দিক থেকে বেরিয়ে আসতে পারে। কারণ বাহিরের পৃথিবী সবসময় আপনার ইচ্ছামতো চলবে না| কিন্তু আপনার ভেতরের পৃথিবীকে আপনি চাইলে পুরোপুরি নিজের হাতে গড়ে নিতে পারেন। আর যে মানুষ নিজের ভেতরের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে সে নিজের জীবনকেও নিজের ইচ্ছায় সাজাতে পারে।
13:32
Speaker A
এই বইয়ের সবচেয়ে গভীর শক্তি হলো এটি আপনাকে শেখায় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা মানে নিজের স্বাধীনতা বৃদ্ধি করা। আপনি যখন রাগ থেকে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করেন তখন আপনি শান্তির স্বাধীনতা পান। আপনি যখন লোভ থেকে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করেন তখন আপনি স্থিরতার স্বাধীনতা পান। আপনি যখন ভয়কে নিয়ন্ত্রণ
13:53
Speaker A
করেন তখন আপনি সাহসের স্বাধীনতা পান। আর আপনি যখন আলসেমিকে নিয়ন্ত্রণ করেন তখন আপনি ভবিষ্যতের দরজা খুলে দেন। মানুষ ভাবে সেলফ কন্ট্রোল মানে নিজেকে বন্দি করা। কিন্তু সত্য হলো সেলফ কন্ট্রোল আপনাকে আপনার নিজের জীবনের নেতা বানিয়ে দেয়। বইটিতে একটি অসাধারণ ধারণা বলা হয়েছে
14:13
Speaker A
আপনি যদি নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণ না করেন আপনার মনই আপনাকে নিয়ন্ত্রণ করবে। জীবনের যেকোন ব্যর্থতা, ভুল সিদ্ধান্ত, সম্পর্ক নষ্ট হওয়া, চাকরি হারানো, অর্থনৈতিক ভেঙে পড়া এসবের পেছনে মন নিয়ন্ত্রণ হারানোর মুহূর্ত থাকে। আপনি যখন আবেগকে সিদ্ধান্ত নিতে দেন তখন সিদ্ধান্ত ভুল হয়। আপনি যখন
14:34
Speaker A
পরিস্থিতিকে আপনার মাথায় ঢুকতে দেন তখন চিন্তা ভুল হয়। আর আপনি যখন মুহূর্তের আরামকে ভবিষ্যতের স্বপ্নের চেয়ে বড় মনে করেন তখন জীবন ভুল পথে চলে যায়। বইটি বোঝায় আপনি আজ যেখানে আছেন সেটা আপনার অতীতের নিয়ন্ত্রণহীন সিদ্ধান্তের ফল। আর আপনি আগামীকাল কোথায় থাকবেন তা নির্ভর
14:54
Speaker A
করবে আজ আপনি কতটুকু সেলফ কন্ট্রোল দেখাতে পারেন। জীবন বদলানোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হলো সেই মুহূর্ত যখন আপনি বুঝতে পারেন আপনার সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দী আপনি নিজেই এবং যখন আপনি নিজের ভেতরের মানুষটাকে জিতে ফেলেন তখন বাহিরের দুনিয়া আপনাকে হারাতে পারে না। একটি বাস্তব গল্প
15:12
Speaker A
আছে। এক যুবক নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব দুর্বল অনুভব করত। ছোটর আগে বড় ক্ষতি ছোট আলসেমিতে বড় সুযোগ হারানো সবকিছু মিলিয়ে ভিতরে ভেঙে পড়েছিল একদিন সে পড়ল সেলফ কন্ট্রোল নিয়ে একটি লাইন ইফ ইউ কন্ট কন্ট্রোল হোয়াট ইউ ফিল নাউ ইউ উইল লুজ
15:30
Speaker A
হোয়াট ইউ ওয়ান্ট মোস্ট এই লাইনটি তার মাথার ভেতরে ঝড় তুলল সে বুঝলো তার স্বপ্নগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে তার বর্তমানের দুর্বল সিদ্ধান্তের কারণে সে নিজের উপর ছোট নিয়ন্ত্রণ নেওয়া শুরু করল আজ 10 মিনিট ফোন কম ব্যবহার আজ পাঁচ মিনিট
15:46
Speaker A
চোখ বন্ধ করে গভীর শ্বাস আজ রাগ এলে 30 সেকেন্ড চুপ থাকা আজ কাজে বসলে 20 মিনিট শুধু ফোকাস এই ছোট ছোট নিয়ন্ত্রণগুলো কয়েক মাস পর তাকে এমনভাবে বদলে দিল যে তার আগের নিজেকে সে চিনতেই পারলো না তার পরিবার বন্ধুরা অবাক হয়ে বলল তুমি এমন
16:04
Speaker A
কিভাবে হলে আর তার উত্তর ছিল একটাই আমি নিজেকে হারাতে হারাতে শেষ পর্যন্ত নিজেকেই খুঁজে পেলাম সময়ের ডাক আপনাকে মনে করিয়ে দিচ্ছে সেলফ কন্ট্রোল আপনাকে শুধু সফলতা দেয় এটি আপনাকে সম্মান, শান্তি, ধৈর্য, স্থিরতা এবং শক্তিময় মানসিকতা দেয়। আপনি যত নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ আনবেন তত আপনার
16:25
Speaker A
জীবন পরিষ্কার হতে থাকবে। লক্ষ্যের পথ দেখাবে, মানুষের আচরণ বুঝতে সাহায্য করবে এবং নিজের ভেতরের শক্তিকে জাগিয়ে তুলবে। এখন আপনি যদি এতক্ষণ মন দিয়ে শুনে থাকেন, তবে আপনি সেই মানুষদের একজন যারা নিজের জীবনকে সত্যিকারে উন্নতি করতে চান। আর যদি
16:42
Speaker A
আজকের এই সারাংশ আপনাকে সামান্য হলেও বদলে দেয় তাহলে সময়ের দাগ আপনাকে সম্মানের সঙ্গে অনুরোধ করছে একটি লাইক দিন। এই লাইকটি শুধু ভিডিওর জন্য নয় এটি আপনার নিজের জীবনের প্রতি দেওয়া একটি প্রতিজ্ঞার মতো হবে। আমি আজ থেকে আমার আচরণ, চিন্তা এবং সিদ্ধান্তকে নিয়ন্ত্রণে
17:00
Speaker A
আনবো। আর যদি আপনার মনে হয় এই কথাগুলো আপনার কোন বন্ধু, ভাই, বোন বা পরিবারের কারো জীবনেও আলো আনতে পারে তাহলে ভিডিওটি শেয়ার করুন। হয়তো আপনার এই ছোট শেয়ারটাই কারো ভেঙে পড়া মনকে নতুন শক্তি দেবে। কমেন্টে আপনার অনুভূতি লিখে রাখুন। লিখলে
17:18
Speaker A
আপনি শুধু আপনার অনুভূতি প্রকাশ করছেন না বরং নিজের ভেতরের পরিবর্তনকেও শব্দে শক্তি দিচ্ছেন। এবং ভাই যদি আপনি সত্যি নিজের উন্নতি চান, নিজের মনের শক্তি বাড়াতে চান, নিজের ভবিষ্যৎকে দৃঢ় করতে চান, তাহলে সময়ের ডাক চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে রাখুন। কারণ সময়ের ডাক শুধু ভিডিও বানায়
17:37
Speaker A
না। আপনার ভেতরে ঘুমিয়ে থাকা শক্তিকে জাগিয়ে তোলে। আপনাকে সেই মানুষ বানায় যাকে একদিন আপনি নিজেই সম্মান করবেন। ধন্যবাদ সময়ের ডাকের সাথে থাকার জন্য। মনে রাখবেন নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে আপনি আপনার পুরো ভবিষ্যৎকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।
Topics:সেলফ কন্ট্রোলনিজ নিয়ন্ত্রণআবেগ নিয়ন্ত্রণসফলতামনস্তত্ত্বআত্মশক্তিজীবন পরিবর্তনআত্মনিয়ন্ত্রণআত্মউন্নতিসময়ের ডাক

Get More with the SozAI App

Transcribe recordings, audio files, and YouTube videos — with AI summaries, speaker detection, and unlimited transcriptions.

Or transcribe another YouTube video here →