Speaker A
এবার বাচ্চাটি আর পড়া থেকে পালাতে পারবে না। কারণ বিকল্পগুলো পড়ার ভেতরেই রয়েছে। তার মস্তিষ্ক পড়া থেকে পালানোর বদলে কোন বিষয়টি আগে পড়বে তা ঠিক করতে ব্যস্ত হয়ে যায়। এটি এই কৌশলের আসল শক্তি। যখন আমাদের বিকল্প দেওয়া হয় তখন আমাদের মন শান্ত থাকে। এবং আমরা ভাবি সিদ্ধান্তটি আমরাই নিয়েছি। কারণ অনেক সময় মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো তাদের এটা অনুভব করানো যে তারা নিজেরাই নিয়ন্ত্রণে আছে। ল টু ফরবিডেন ফ্রুট এফেক্ট বা নিষিদ্ধ ফলের প্রভাব। মানুষের মনের একটি অদ্ভুত অভ্যাস হলো যে জিনিস সহজে পাওয়া যায় তার মূল্য প্রায়ই আমাদের কাছে কম মনে হয়। কিন্তু যখনই কোন জিনিসের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় তা হঠাৎ করেই অনেক বেশি আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। আদম এবং ইভের গল্পটি এই মনস্তত্বকে খুব গভীরভাবে তুলে ধরে। স্বর্গে তাদের সবকিছু উপভোগ করার অনুমতি ছিল। কিন্তু একটি গাছের ফল খেতে নিষেধ করা হয়েছিল। শুধু একটি নিষেধাজ্ঞা। আর ওই ফলটি সবচেয়ে আকর্ষণীয় হয়ে উঠল। মনোবিজ্ঞানী একে বলে ফরবিডেন ফ্রুট এফেক্ট। যখন কোন কিছুর উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়, তখন তার প্রতি আকর্ষণ বহুগুণ বেড়ে যায়। কারণ নিষেধাজ্ঞা শুধু নিয়ম তৈরি করে না। এটি কৌতুহলও জন্মায়। মার্কেটিং এ দুনিয়া এই নীতিটি খুব ভালো করে বোঝে। অনেক ব্র্যান্ড তাদের পণ্যের সাথে এমন কিছু শব্দ ব্যবহার করে যেমন লিমিটেড এডিশন, অনলি ফর মেম্বারস বা এক্সক্লুসিভ এক্সেস। এই শব্দগুলো শুধু তথ্য দেয় না। এগুলো আমাদের মস্তিষ্কে একটি সংকেত দেয় যে এই জিনিসটি সবার জন্য নয়। আর হঠাৎ করেই ওই সাধারণ জিনিসটি বিশেষ বা স্পেশাল মনে হতে থাকে। মানুষের মস্তিষ্ক নিষেধাজ্ঞাকে একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেয়। আমাদের মস্তিষ্ক বলে আমাকে যদি এটা করতে দেওয়া না হয় তবে হয়তো এর মধ্যে বিশেষ কিছু আছে। আর এই চিন্তাই আকাঙ্ক্ষাকে আরো তীব্র করে তোলে। ল থ্রি স্ট্র্যাটেজিক সারেন্ডার বা কৌশলগত আত্মসমর্পণ। বিজয় সবসময় শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে আসে না। মাঝে মাঝে সবচেয়ে শক্তিশালী কৌশল হলো এক ধাপ পিছিয়ে আসা। প্রথম দেখায় এটিকে হার বলে মনে হলেও অনেক সময় এই পদক্ষেপটি আসল জয়ের সূচনা করে। একে বলা হয় স্ট্রাটেজিক সারেন্ডার বা কৌশলগত হাল ছেড়ে দেওয়া। যত বেশি বিরোধিতা করা হবে তত বেশি প্রতিরোধ তৈরি হবে। কিন্তু বিরোধিতা কমে গেলেই মানুষের চিন্তাভাবনা বদলাতে শুরু করে। ধরুন দুজন মানুষ কোন বিষয়ে তর্ক করছে। আপনি যদি সাথে সাথে সামনের মানুষের কথা ভুল প্রমাণ করার চেষ্টা করেন তাহলে তর্ক আরো জোরালো হবে। কিন্তু ওই তর্কের মাঝেই যদি আপনি হঠাৎ করে বলেন, হয়তো তুমিই ঠিক। তাহলে তর্কের মোড় ঘুরে যায়। সামনের মানুষটি যে নিজেকে বাঁচানোর জন্য মানসিক দেওয়াল তৈরি করেছিল সে হঠাৎ শান্ত হয়ে যায়। তাকে আর লড়াই করার প্রয়োজন অনুভব করতে হয় না। আর তখন সে নিজেই নিজের কথাগুলো নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করে। প্রতিটি তর্ক যেতা জরুরি নয়। মাঝে মাঝে তর্কের বাইরে বেরিয়ে আসাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। ল ফোর পাওয়ার অফ সাইলেন্স বা নীরবতার শক্তি। প্রভাবশালী হওয়ার মানে এই নয় যে আপনাকে বেশি কথা বলতে হবে বা সবসময় জবাব দিতে হবে। অনেক সময় সবচেয়ে প্রভাবশালী শব্দগুলো হলো সেগুলো যেগুলো বলা হয় না। একেই বলে পাওয়ার অফ সাইলেন্স। নীরবতা একটি মানসিক চাপ তৈরি করে। ধরুন আপনি একটি ইন্টারভিউতে বসে আছেন। আপনি একটি প্রশ্নের উত্তর দিলেন এবং তারপর ইন্টারভিউয়ার আর কিছু বললেন না। তিনি শুধু আপনার দিকে তাকিয়ে থাকলেন। কয়েক সেকেন্ড পেরোলেই আপনি কিছুটা অস্বস্তি বোধ করতে শুরু করবেন। আপনি ভাববেন, আমার উত্তর কি অসম্পূর্ণ ছিল? এবং তখন আপনি নিজেই আরো বেশি কথা বলা শুরু করবেন। অনেক সময় আপনি প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তথ্য দিয়ে ফেলবেন। এটাই নীরবতার শক্তি। মানুষের মস্তিষ্ক খালি জায়গা বা নীরবতা পছন্দ করে না। আর এই খালি জায়গা পূরণ করতে মানুষ নিজেই কথা বলা শুরু করে। তাই সব প্রশ্নের উত্তর সাথে সাথে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। সঠিক সময়ে কয়েক সেকেন্ডের নীরবতা লম্বা ভাষণের চেয়েও বেশি শক্তিশালী হতে পারে। ল ফাইভ মিরর অফ নার্সিসিজম বা নার্সিসিজমের আয়না। প্রত্যেক মানুষের ভেতরে একটি সুপ্ত ইচ্ছা থাকে, নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করার ইচ্ছা। যখন আপনি কাউকে তার সবচেয়ে ভালো দিকটি বা তার একটি আইডিয়াল ইমেজ দেখান তখন সে প্রায়শই সেই ইমেজ অনুযায়ী আচরণ করতে শুরু করে। ধরুন আপনি কাউকে বললেন, আপনি খুব দায়িত্বশীল একজন মানুষ। এটি একটি সাধারণ প্রশংসার মতো শোনালেও এর পেছনে গভীর মনস্তত্ব কাজ করে। এই কথাটি শোনার সাথে সাথেই তার মনে একটি দায়িত্বশীল মানুষের ছবি তৈরি হয়। এরপর সে অবচেতন ভাবেই সেই ছবি বা ইমেজের মত আচরণ করার চেষ্টা করে। কারণ কেউই নিজের সম্পর্কে তৈরি করা ভালো ধারণা ভেঙে ফেলতে চায় না। তবে এই কৌশলটি তখনই কাজ করে যখন কথাগুলো সত্যি এবং স্বাভাবিক মনে হয়। কারণ মিথ্যে প্রশংসা মানুষ সহজেই ধরে ফেলে। ল সিক্স, ইগো চ্যালেঞ্জ টেকনিক বা অহংকারকে চ্যালেঞ্জ করার কৌশল। মাঝে মাঝে যুক্তি বা প্রশংসার চেয়ে মানুষের অহংকার বা ইগো অনেক বেশি শক্তিশালী অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। আপনি যদি কাউকে বলেন, হয়তো এ কাজটি তোমার সাধ্যের বাইরে। তখন অনেকেই এটাকে একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করে। তাদের ভেতরের সাথে সাথেই একটি আওয়াজ ওঠে, আমি কেন পারবো না? আর ঠিক সেই মুহূর্তেই তাদের ইগো সক্রিয় হয়ে যায়। তখন তাদের লক্ষ্য শুধু কাজটি করা থাকে না, নিজেকে প্রমাণ করাও তাদের মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়। খেলাধুলার জগতে কোচেরা প্রায়শই এই কৌশল ব্যবহার করেন। ক্লান্ত হয়ে পড়া খেলোয়াড়কে যখন কোচ বলেন হয়তো তুমি এই লেভেলের জন্য প্রস্তুত নও, তখন খেলোয়াড় নিজের ভেতরের সবটুকু শক্তি দিয়ে নিজেকে প্রমাণ করার চেষ্টা করে। ল সেভেন এংজাইটি অফ ফ্রিডম বা স্বাধীনতার উদ্বেগ। আমরা ভাবি যত বেশি অপশন বা বিকল্প থাকবে সিদ্ধান্ত নেওয়া তত সহজ হবে। কিন্তু অনেক সময় এর উল্টোটাই ঘটে। অত্যাধিক বিকল্প মানুষের মনে ভয় বা বিভ্রান্তি তৈরি করে। ধরুন আপনি একটি রেস্টুরেন্টে গেছেন। মেনুতে যদি পাঁচ ছয়টি আইটেম থাকে তবে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়। কিন্তু যদি ৫০টি আইটেম থাকে, তবে আপনি বিভ্রান্ত হয়ে যান। আপনি ভাবতে থাকেন কোনটি ভালো হবে। আর সিদ্ধান্ত নিতে অনেক বেশি সময় লেগে যায়। মনোবিজ্ঞানে একে বলা হয় চয়েস ওভারলোড। তাই মাঝে মাঝে সব অপশন দেখানোর চেয়ে অপশনগুলো সীমিত করে দেওয়া।