একজন ব্যবসায়ীর সম্পদ হারিয়ে আল্লাহর প্রতি অবিচল বিশ্বাস ও ধৈর্যের গল্প, যা জীবনের কঠিন পরীক্ষায় সুমিষ্ট ফল বয়ে আনে।
Ask about this video. Answers come from its transcript only — with the timestamp, so you can check them.
Generated from the transcript and can be wrong — check the timestamp.
Key Takeaways
- আল্লাহর উপর সত্যিকারের বিশ্বাস ও ভরসা জীবনের কঠিন পরীক্ষায় শক্তি দেয়।
- সততা ও ন্যায্যতা ব্যবসা ও জীবনে দীর্ঘস্থায়ী সাফল্যের মূল।
- দুঃখ ও অপমানের মাঝেও বিশ্বাস ও ধৈর্য হারানো উচিত নয়।
- আল্লাহ যখন কিছু নেন, তখন নতুন কিছু দেয়ার জন্য হাত খালি করে দেন।
- সত্যিকারের তাওয়াক্কুল মানে মুখে নয়, অন্তরে অবিচল বিশ্বাস রাখা।
What the video covers
- ইউসুফ ইবনে কামাল ছিলেন আরবের একটি মরুভূমি শহরের সম্মানিত কাপড় ব্যবসায়ী।
- এক ঝড়ে তার সমস্ত কাফেলা ডুবে যাওয়ায় সম্পদ ও সম্মান হারায়।
- শহরের মানুষ তাকে অবজ্ঞা ও অবহেলা করলেও তার বিশ্বাস ছিল আল্লাহর প্রতি অবিচল।
- ঋণের বোঝায় ডুবে গিয়ে পরিবারসহ একটি ভাঙা ঘরে আশ্রয় নেয়।
- কঠিন সময়েও ইউসুফ আল্লাহর উপর ভরসা রেখে ধৈর্য ধারণ করেন।
- ছেলের অসুস্থতায় আল্লাহর কাছে সাহায্যের প্রার্থনা করেন এবং অবশেষে একজন হাকিমের সাহায্য পান।
- একদিন বাজারে এসে একজন বয়স্ক ব্যবসায়ী আবু সালেম তার সততা ও বিশ্বাসযোগ্যতা দেখে তাকে কাজের প্রস্তাব দেন।
- ইউসুফ নতুনভাবে ব্যবসা শুরু করে এবং সততা ও ন্যায্যতার মাধ্যমে মানুষের বিশ্বাস অর্জন করেন।
- গল্পটি আল্লাহর প্রতি তাওয়াক্কুল ও ধৈর্যের গুরুত্ব তুলে ধরে।
- শেষে ইউসুফের জীবনে নতুন সূচনা হয়, যা তার বিশ্বাসের সুমিষ্ট ফল।
Full Transcript — Download SRT & Markdown
Speaker A
একটি প্রশ্ন দিয়ে শুরু করি আজকের গল্প।
Speaker A
যদি এক রাতের মধ্যে তোমার সবকিছু চলে যায়?
Speaker A
সম্পদ, সম্মান, পরিচয়, তুমি কি তখনও আল্লাহর উপর ভরসা রাখতে পারবে?
Speaker A
এই গল্পটি এমন একজন মানুষের, যার সবকিছু চলে গিয়েছিল, যাকে মানুষ পাগল বলেছিল।
Speaker A
যাকে তার নিজের শহর থুথু দিয়ে তাড়িয়ে দিয়েছিল, কিন্তু সে জানতো একটাই কথা, আল্লাহ দেখছেন।
Speaker A
আর সেই বিশ্বাসের ফল সুমিষ্ট হয়েছিল, এত সুমিষ্ট যে শুনলে তোমার চোখে পানি আসবেই।
Speaker A
বহু বছর আগের কথা, আরবের বুকে এক মরুভূমি শহর ছিল, নাম ছিল আল-ওয়াদি।
Speaker A
মরুভূমির বালির মাঝে গড়ে ওঠা এই ছোট্ট শহরে ছিল একটি বড় বাজার, একটি পুরনো মসজিদ আর কয়েকশো পরিবারের জীবন।
Speaker A
সেই শহরে বাস করতো ইউসুফ ইবনে কামাল।
Speaker A
বয়স তখন তার ৪০ এর কোঠায়, মাথা ভর্তি কালো চুলে সামান্য পাক ধরেছে।
Speaker A
চোখে সবসময় এক ধরনের শান্তি, যেন ভেতর থেকে কেউ আলো জ্বেলে রেখেছে।
Speaker A
ইউসুফ ছিলেন এই শহরের সবচেয়ে সম্মানিত কাপড়ের ব্যবসায়ী।
Speaker A
তার দোকানে দূর-দূরান্ত থেকে কাফেলা আসতো, ইয়েমেন থেকে আসতো রেশমি কাপড়, পারস্য থেকে আসতো রঙিন শাল।
Speaker A
মিশর থেকে আসতো সুতার বান্ডিল।
Speaker A
কিন্তু ইউসুফের সবচেয়ে বড় সম্পদ ছিল তার চরিত্র।
Speaker A
প্রতিদিন ফজরের আযানের আগে সে উঠতো।
Speaker A
অন্ধকারে একা বসে কাঁদতো আল্লাহর সামনে।
Speaker A
দোকান খোলার আগে দুই রাকাত নামাজ পড়তো।
Speaker A
কেউ বাকিতে কিনতে চাইলে সে না বলতো না।
Speaker A
গরিব এলে সে কাপড় দিতো টাকা না নিয়ে।
Speaker A
শহরের মানুষ বলতো,
Speaker A
ইউসুফের দোকানে গেলে বরকত আসে।
Speaker A
আর ইউসুফ হাসতে বলতো, বরকত আল্লাহর কাছ থেকে আসে, আমি শুধু উসিলা।
Speaker A
তার স্ত্রী মারিয়াম ছিলেন তার জীবনের আলো।
Speaker A
দুটি ছেলে।
Speaker A
বড়জন আদম, ছোটজন ইব্রাহিম।
Speaker A
সংসার ছিল হাসিতে ভরা।
Speaker A
রাতে চাঁদের আলোয় আঙিনায় পরিবার একসাথে খেতো, গল্প করতো, কোরআন পড়তো।
Speaker A
জীবন ছিল যেন স্বর্গের একটুকু ছায়া।
Speaker A
কিন্তু মানুষ ভুলে যায়, দুনিয়ার সুখ কখনো স্থায়ী নয়।
Speaker A
আল্লাহ মাঝে মাঝে তার প্রিয় বান্দাকে পরীক্ষায় ফেলেন, কারণ সোনাকে খাঁটি করতে হলে আগুনের ভেতর দিয়ে যেতে হয়।
Speaker A
শীতের এক রাত।
Speaker A
ইউসুফ মসজিদ থেকে এশার নামাজ পড়ে ফিরছিলেন।
Speaker A
আকাশে তারা ছিল।
Speaker A
বাতাসে ঠান্ডার কামড় ছিল।
Speaker A
মনে ছিল প্রশান্তি।
Speaker A
বাড়ির কাছে আসতেই দেখলেন, দূর থেকে কেউ দৌড়ে আসছে।
Speaker A
তার দোকানের কর্মচারী হামিদ।
Speaker A
মুখ ফ্যাকাসে, চোখে আতঙ্ক।
Speaker B
ওস্তাদ, ওস্তাদ!
Speaker A
কি হয়েছে হামিদ?
Speaker A
থামো, দম নাও।
Speaker B
ওস্তাদ, কাফেলা, কাফেলা ডুবে গেছে।
Speaker A
ইউসুফের বুকের ভেতরটা একটু কেঁপে উঠলো।
Speaker A
সেই মৌসুমে তিনি তার জীবনের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ করেছিলেন, পুরো সঞ্চয় দিয়ে একটি বিশাল কাফেলায় মাল পাঠিয়েছিলেন।
Speaker A
ইয়েমেন থেকে বিরল কাপড়ের চালান।
Speaker A
সেই মাল বিক্রি হলে তিনি তার বাড়ির ঋণ শোধ করতেন, ছেলেদের মাদ্রাসায় পাঠাতেন, একটি নতুন দোকান নিতেন।
Speaker A
কিন্তু সেই রাতে লোহিত সাগরে ঝড় উঠেছিল, কাফেলার জাহাজ ডুবে গিয়েছিল।
Speaker A
সব মাল, সব টাকা তলিয়ে গিয়েছিল অন্ধকার পানির নিচে।
Speaker A
ইউসুফ একটু চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলেন।
Speaker A
হামিদ ভয়ে কাঁদছিল, ভাবছিল ওস্তাদ হয়তো মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়বেন, চিৎকার করবেন অথবা অজ্ঞান হয়ে যাবেন।
Speaker A
কিন্তু ইউসুফ শুধু আকাশের দিকে তাকালেন।
Speaker A
তারপর ধীরে ধীরে বললেন,
Speaker A
ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
Speaker A
আমরা আল্লাহর জন্য আর আল্লাহর কাছেই আমাদের ফিরে যেতে হবে।
Speaker A
হামিদ অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো।
Speaker A
ইউসুফ বাড়ির দিকে পা বাড়ালেন।
Speaker A
পরের দিন সকাল থেকেই শহরে খবর ছড়িয়ে গেল।
Speaker A
ইউসুফের সব শেষ।
Speaker A
পুরো সম্পদ গেছে।
Speaker A
ঋণের বোঝায় ডুবে যাবে।
Speaker A
বাজারে যারা আগে সালাম দিতো, তারা এখন রাস্তা পাল্টে হাঁটে।
Speaker A
যারা তার দোকানে চা খেতো, তারা এখন অন্য দোকানে বসে।
Speaker A
যারা বলতো, ইউসুফ ভাই, মাশাআল্লাহ, কত নেককার মানুষ।
Speaker A
তারাই এখন বলছে,
Speaker A
এত বড় লোকসান মানে বুঝতেই পারছো কোথাও গুনাহ আছে।
Speaker A
মানুষ এরকমই।
Speaker A
সুখে পাশে থাকে, দুঃখে পিঠ দেখায়।
Speaker A
কিন্তু আসল পরীক্ষা তখনও আসেনি।
Speaker A
কয়েক সপ্তাহ পর ইউসুফের বাড়ির মালিক এসে বললো,
Speaker A
বাড়ি ছেড়ে দাও, ঋণ শোধ করতে পারবে না তাই বাড়ি নেবো।
Speaker A
দোকানের ঘরের মালিক বললো, দোকান খালি করো।
Speaker A
একে একে সব চলে গেল।
Speaker A
স্ত্রী মারিয়াম চোখের পানি আটকে রাখলেন।
Speaker A
ছেলেরা বুঝতে পারছিল না কি হচ্ছে।
Speaker A
ছোট ইব্রাহিম বাবার হাত ধরে বললো,
Speaker B
আব্বু, আমরা কোথায় যাবো?
Speaker A
ইউসুফ ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন,
Speaker A
আল্লাহর কাছে।
Speaker A
সেই রাতে তারা শহরের বাইরে একটি পুরনো ভাঙা ঘরে আশ্রয় নিলেন।
Speaker A
কোনো চাদর নেই, কোনো বালিশ নেই।
Speaker A
মেঝেতে বালি।
Speaker A
ছাদে ফাটল, রাতের ঠান্ডা বাতাস ঢুকছিল।
Speaker A
মারিয়াম কাঁদছিলেন নিঃশব্দে।
Speaker A
ইউসুফ উঠে দাঁড়ালেন।
Speaker A
অন্ধকারে দু হাত তুললেন।
Speaker A
ইয়া আল্লাহ, তুমি দিয়েছিলে তুমি নিয়েছো।
Speaker A
তুমি আমার রব, তোমার ফয়সালায় আমি রাজি।
Speaker A
তুমি যা রেখেছো তা যথেষ্ট, তুমি যা নিয়েছো তার মালিক তুমিই ছিলে।
Speaker A
শুধু এটুকুই বললেন।
Speaker A
তারপর মেঝেতে সিজদায় পড়ে গেলেন।
Speaker A
দীর্ঘ সময় কাঁদলেন, কিন্তু সেই কান্না অভিযোগের নয়, ছিল আত্মসমর্পণের।
Speaker A
পরের কয়েক মাস ছিল ইউসুফের জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়।
Speaker A
তিনি বাজারে কাজ খুঁজলেন, কেউ দিল না।
Speaker A
তিনি পুরনো বন্ধুদের কাছে গেলেন, দরজা বন্ধ পেলেন।
Speaker A
একদিন রাস্তায় হাঁটছিলেন, একজন পুরনো পরিচিত তাকে দেখে জোরে বললো, দেখো, এই হলো সেই বড় ব্যবসায়ী, এখন পথে পথে ঘুরছে।
Speaker A
হাসির শব্দ উঠলো চারিদিক থেকে।
Speaker A
ইউসুফ থামলেন না, মাথা নিচু করলেন না, শুধু ভেতর ভেতর বললেন,
Speaker A
ইয়া আল্লাহ, তুমি শুনছো, তুমি দেখছো।
Speaker A
আর সামনে হাঁটলেন।
Speaker A
এটাই তাওয়াক্কুল।
Speaker A
শুধু মুখে বলা নয়, সত্যিকারের বিশ্বাস হলো সেটা যেটা অপমানের মাঝেও টলে না, দুঃখের মাঝেও ভাঙে না।
Speaker A
একদিন মসজিদের ইমাম সাহেব ইউসুফকে ডাকলেন।
Speaker A
বললেন, ইউসুফ, তোমাকে দেখছি, তোমার চোখে এখনও সেই আলো আছে।
Speaker A
কিভাবে?
Speaker A
ইউসুফ বললেন, হুজুর, আমি একটা কথা বুঝেছি।
Speaker A
আল্লাহ যখন কিছু নেন, তখন হাত খালি করেন, আর হাত খালি হলেই তো আল্লাহ নতুন কিছু দিতে পারেন।
Speaker A
ভরা হাতে নতুন কিছু ধরা যায় না।
Speaker A
ইমাম সাহেব চুপ করে রইলেন।
Speaker A
তারপর বললেন,
Speaker A
ইউসুফ, তোমার মতো বিশ্বাস আমি কম মানুষে দেখেছি।
Speaker A
মাস পেরিয়ে গেল।
Speaker A
ইউসুফ ছোটখাটো কাজ করতে লাগলেন।
Speaker A
কখনো কারো বাগানে পানি দিতেন, কখনো বাজারে মাল বহন করতেন।
Speaker A
সন্ধ্যায় যা পেতেন তাই দিয়ে পরিবার চালাতেন।
Speaker A
একদিন ফিরে দেখলেন মারিয়াম কাঁদছেন।
Speaker A
কি হয়েছে?
Speaker A
ইব্রাহিম দুদিন ধরে জ্বরে পড়েছে।
Speaker A
ওষুধের টাকা নেই।
Speaker A
ইউসুফের বুকটা কেঁপে উঠলো।
Speaker A
সন্তানের কষ্ট, এটা সহ্য করা সবচেয়ে কঠিন।
Speaker A
তিনি বাইরে বেরিয়ে গেলেন।
Speaker A
একজনের কাছে গেলেন, দু'জনের কাছে গেলেন, কেউ সাহায্য করলো না।
Speaker A
রাত হয়ে আসছিল।
Speaker A
অবশেষে মসজিদের সামনে এসে দাঁড়ালেন।
Speaker A
ভেতরে ঢুকলেন।
Speaker A
একা অন্ধকারে বসে দু হাত তুললেন।
Speaker A
ইয়া আল্লাহ,
Speaker A
আমি ক্লান্ত, কিন্তু তোমার উপর আমার বিশ্বাস ক্লান্ত হয়নি।
Speaker A
আমার ছেলেকে সুস্থ করো।
Speaker A
তুমি শাফি, তুমি কাফি।
Speaker A
তুমি ছাড়া আমার আর কেউ নেই।
Speaker A
দীর্ঘ সময় কাঁদলেন।
Speaker A
তারপর উঠে দাঁড়ালেন।
Speaker A
মসজিদ থেকে বেরোতেই দেখলেন দরজার কাছে একজন বৃদ্ধ লোক দাঁড়িয়ে।
Speaker A
অপরিচিত চেহারা।
Speaker A
পথিক মনে হচ্ছে।
Speaker A
গায়ে ধুলো, হাতে লাঠি।
Speaker A
বৃদ্ধ বললেন,
Speaker C
বাছা, তোমার চোখে কান্নার চিহ্ন।
Speaker C
কি হয়েছে?
Speaker A
ইউসুফ বললেন, কিছু না চাচা।
Speaker A
আল্লাহর কাছে দোয়া করছিলাম।
Speaker C
ছেলে অসুস্থ?
Speaker A
ইউসুফ চমকে গেলেন।
Speaker A
আপনি জানলেন কি করে?
Speaker A
বৃদ্ধ শুধু হাসলেন।
Speaker A
তারপর তার ঝোলা থেকে একটি কাপড়ের পুটলি বের করলেন।
Speaker C
এটা নাও।
Speaker C
আমি একজন হাকিম।
Speaker C
এই ভেষজ দিয়ে পানি গরম করে খাওয়াও, ইনশাআল্লাহ সকালে জ্বর নামবে।
Speaker A
ইউসুফ বললেন, চাচা আমার কাছে টাকা নেই।
Speaker C
আমি চাইনি।
Speaker A
তারপর চলে গেলেন।
Speaker A
ইউসুফ ঘরে ফিরলেন।
Speaker A
ভেষজ দিয়ে পানি গরম করলেন।
Speaker A
ইব্রাহিমকে খাওয়ালেন।
Speaker A
ভোরের আলো ফোটার আগেই ইব্রাহিমের জ্বর নেমে গেল।
Speaker A
ইউসুফ সিজদায় পড়ে গেলেন।
Speaker A
এবার কান্না ছিল কৃতজ্ঞতার।
Speaker A
এখানে একটু থামুন।
Speaker A
ভাবুন এই মুহূর্তে ইউসুফের কাছে কি ছিল?
Speaker A
টাকা নেই, বাড়ি নেই, সম্মান নেই, কাজ নেই।
Speaker A
কিন্তু আল্লাহ ছিলেন, আর আল্লাহ থাকলে সত্যিই কি আর কিছু লাগে?
Speaker A
এই প্রশ্নটা নিজেকে জিজ্ঞেস করুন।
Speaker A
কারণ গল্পের সবচেয়ে বড় মোড় এখনও আসেনি।
Speaker A
একটা কথা আছে, রাত যখন সবচেয়ে গভীর হয়,
Speaker A
তখনই ভোরের আলো সবচেয়ে কাছে থাকে।
Speaker A
ইউসুফ জানতেন না, তার জীবনের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন মাত্র কয়েকদিন দূরে।
Speaker A
সেদিন সকালে বাজারে গিয়েছিলেন ছোটখাটো কাজের আশায়।
Speaker A
বাজারে ঢুকতেই দেখলেন একটা বড় কাফেলা এসে থেমেছে।
Speaker A
উটের সারি, মালের বোঝা, সঙ্গে অনেক লোক।
Speaker A
দূরদেশের পোশাক, অপরিচিত চেহারা।
Speaker A
কাফেলার সর্দার ছিলেন একজন বয়স্ক ব্যবসায়ী, নাম আবু সালেম।
Speaker A
চোখে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি, গলায় কর্তৃত্বের সুর।
Speaker A
তিনি বাজারে ঢুকে চারদিকে তাকাচ্ছিলেন।
Speaker A
হঠাৎ ইউসুফের দিকে চোখ পড়লো।
Speaker A
কাছে এলেন, জিজ্ঞেস করলেন,
Speaker C
তুমি কি এই শহরের মানুষ?
Speaker A
জি।
Speaker C
কাপড়ের ব্যবসা জানো?
Speaker A
ইউসুফ একটু থামলেন, তারপর বললেন,
Speaker A
আগে করতাম।
Speaker A
আবু সালেম তার চোখের দিকে তাকিয়ে রইলেন কিছুক্ষণ।
Speaker A
মানুষ চেনার অভিজ্ঞতা যাদের আছে, তারা চোখ দেখেই বুঝতে পারেন সামনের মানুষটা বিশ্বাসযোগ্য কিনা।
Speaker A
তিনি বললেন,
Speaker C
আমার সাথে এসো।
Speaker A
কাফেলার তাবুতে বসলেন দু'জন।
Speaker A
আবু সালেম বললেন,
Speaker C
আমি বহু দেশ ঘুরেছি।
Speaker C
মানুষ চিনি।
Speaker C
তোমার চোখে একটা জিনিস আছে যা আমি খুব কম মানুষে দেখেছি, সততা এবং প্রশান্তি।
Speaker C
আমার একজন বিশ্বস্ত প্রতিনিধি দরকার এই শহরে।
Speaker C
আমার মাল দেখবে, বিক্রি করবে, হিসাব রাখবে, বিনিময়ে লাভের একটা অংশ পাবে।
Speaker A
ইউসুফ চুপ করে রইলেন।
Speaker A
আবু সালেম বললেন,
Speaker C
কি ভাবছো?
Speaker A
ইউসুফ বললেন, ভাবছি আল্লাহর শুকরিয়া কিভাবে আদায় করবো।
Speaker A
আবু সালেম থমকে গেলেন।
Speaker A
তারপর,
Speaker A
ধীরে হাসলেন।
Speaker A
বললেন,
Speaker C
তোমার মতো মানুষই আমার দরকার ছিল।
Speaker A
সেই দিন থেকে ইউসুফের নতুন যাত্রা শুরু হলো।
Speaker A
আবু সালেমের মালের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ শুরু করলেন।
Speaker A
ছোট্ট একটি জায়গায় মাল রাখলেন।
Speaker A
বিক্রি শুরু করলেন।
Speaker A
কিন্তু এবার তিনি আগের চেয়েও বেশি সতর্ক ছিলেন।
Speaker A
প্রতিটি লেনদেনে সততা, প্রতিটি ক্রেতার সাথে ন্যায্য ব্যবহার।
Speaker A
কারো সাথে প্রতারণা নয়।
Speaker A
কারো হক মারা নয়।
Speaker A
এবং প্রতিদিন ফজরের আগে উঠে সেই একই দোয়া।
Speaker A
ইয়া আল্লাহ, তুমি আমার রিজিকের মালিক।
Speaker A
আমি শুধু তোমার উপর ভরসা করি।
Speaker A
কয়েক মাসের মধ্যে মানুষ আবার তার কাছে আসতে শুরু করলো।
Speaker A
এবার শুধু কাপড় কিনতে নয়, পরামর্শ নিতেও।
Speaker A
ইউসুফ ভাই, আমার ছেলের বিয়েতে কোন কাপড় নেবো?
Speaker A
ইউসুফ ভাই, এই ব্যবসায় কিভাবে শুরু করবো?
Speaker A
মানুষ আবার সম্মান করতে শুরু করলো।
Speaker A
কিন্তু ইউসুফ এবার আর সম্মানে গলে গেলেন না, কারণ তিনি শিখে গিয়েছিলেন মানুষের সম্মান আর অসম্মান দুটোই অস্থায়ী।
Speaker A
শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টি চিরস্থায়ী।
Speaker A
এক বছর পেরোলো।
Speaker A
আবু সালেম আবার এলেন।
Speaker A
ইউসুফের কাজ দেখে মুগ্ধ হলেন।
Speaker A
বললেন,
Speaker C
ইউসুফ, আমি তোমাকে একটা প্রস্তাব দিতে চাই।
Speaker C
আমার ব্যবসায় তুমি অংশীদার হও।
Speaker C
তোমার নামে একটা দোকান খোলো।
Speaker C
লাভ ভাগ করবো।
Speaker A
ইউসুফের চোখে পানি এসে গেল।
Speaker A
মনে পড়লো সেই রাতের কথা যখন সব হারিয়েছিলেন।
Speaker A
মনে পড়লো সেই ভাঙা ঘরের কথা।
Speaker A
মনে পড়লো সেই বৃদ্ধ হাকিমের কথা যিনি বিনা পয়সায় ওষুধ দিয়েছিলেন।
Speaker A
বললেন,
Speaker A
আবু সালেম ভাই, এই সুযোগ আমি নিজে তৈরি করিনি।
Speaker A
আল্লাহ তৈরি করেছেন।
Speaker A
আমি রাজি।
Speaker A
দোকান খুললো।
Speaker A
এবার শুধু আল-ওয়াদি নয়, আশেপাশের শহর থেকেও মানুষ আসতে লাগলো।
Speaker A
ইউসুফের নাম ছড়িয়ে পড়লো।
Speaker A
সৎ ব্যবসায়ী, ন্যায্য দাম, বিশ্বস্ত মানুষ।
Speaker A
একদিন দোকানে এলেন একজন বৃদ্ধ।
Speaker A
ইউসুফ তাকে দেখতেই চমকে উঠলেন।
Speaker A
সেই বৃদ্ধ, যিনি সেই রাতে মসজিদের দরজায় দাঁড়িয়েছিলেন।
Speaker A
যিনি ইব্রাহিমের জন্য ভেষজ দিয়েছিলেন।
Speaker A
চাচা, আপনি!
Speaker A
বৃদ্ধ হাসলেন।
Speaker C
তোমাকে খুঁজে পেলাম অবশেষে।
Speaker A
কে চাচা আপনি?
Speaker A
সেই রাতে আপনি কোথা থেকে এসেছিলেন, আমি আপনাকে আর খুঁজে পাইনি।
Speaker A
বৃদ্ধ চুপ করে রইলেন কিছুক্ষণ।
Speaker A
তারপর বললেন,
Speaker C
বাছা, আমি একজন সাধারণ পথিক।
Speaker C
কিন্তু সেই রাতে আমি মসজিদের বাইরে দাঁড়িয়ে তোমার দোয়া শুনেছিলাম, তুমি এত কষ্টে ছিলে কিন্তু আল্লাহর বিরুদ্ধে একটি কথাও বলোনি।
Speaker C
শুধু চেয়েছিলে।
Speaker A
আমার মন গলে গিয়েছিল।
Speaker A
ইউসুফের চোখ ভিজে এলো।
Speaker A
বৃদ্ধ বললেন,
Speaker C
জানো, আমি আবু সালেমের বাবা।
Speaker A
ইউসুফ থমকে গেলেন।
Speaker C
আমি আবু সালেমকে বলেছিলাম এই শহরে যেতে।
Speaker C
তোমার কথা বলেছিলাম।
Speaker C
বলেছিলাম এই মানুষটির সাথে ব্যবসা করো, জীবনে ক্ষতি হবে না।
Speaker A
ইউসুফ কিছু বলতে পারলেন না।
Speaker A
শুধু অনুভব করলেন আল্লাহ কিভাবে কাজ করেন।
Speaker A
সেই রাতে যখন তিনি একা মসজিদে কাঁদছিলেন, আল্লাহ তখনই তার সাহায্যের ব্যবস্থা করে রেখেছিলেন।
Speaker A
একজন পথিক বৃদ্ধের মাধ্যমে যার ছেলে ছিলেন এক বড় ব্যবসায়ী।
Speaker A
মানুষ ভাবে সাহায্য আসে না।
Speaker A
আসলে সাহায্য আসছেই, শুধু আল্লাহর নির্ধারিত সময়ে।
Speaker A
কয়েক মাস পরের কথা।
Speaker A
বাজারে ইউসুফের দোকান এখন সবচেয়ে পরিচিত।
Speaker A
সেই পুরনো পরিচিত মানুষরা, যারা একদিন রাস্তা বদলে হাঁটতো, তারাই এখন আসছে।
Speaker A
একজন এসে বললো,
Speaker D
ইউসুফ ভাই, আপনি বড় হয়েছেন।
Speaker D
মাফ করে দিন আমাদের।
Speaker A
ইউসুফ হাসলেন।
Speaker A
বললেন,
Speaker A
ভাই, আমি কাউকে দোষ দিইনি।
Speaker A
তুমি যা করেছিলে সেটা মানুষের স্বভাব।
Speaker A
আর আমি যা পেয়েছি সেটা আল্লাহর রহমত।
Speaker A
দুটো আলাদা বিষয়।
Speaker A
লোকটা লজ্জায় মাথা নিচু করলো।
Speaker A
ইউসুফ বললেন,
Speaker A
বসো, চা খাও।
Speaker A
এটাই ইসলাম।
Speaker A
কষ্ট দেওয়া মানুষকেও ক্ষমা করা।
Speaker A
কারণ যে ক্ষমা করতে পারে, সে বুঝেছে আসল হিসাব আল্লাহর কাছে।
Speaker A
মানুষের কাছে নয়।
Speaker A
দুই বছর পেরিয়ে গেল।
Speaker A
ইউসুফের দোকান এখন শহরের সবচেয়ে বড় কাপড়ের দোকান।
Speaker A
আবার বাড়ি হয়েছে, এবার আগের চেয়েও বড়।
Speaker A
আবার পরিবার একসাথে, আবার হাসি, আবার কোরআন, আবার শান্তি।
Speaker A
কিন্তু এবারের সুখ আগের চেয়ে আলাদা।
Speaker A
আগে সুখে একটা ভয় ছিল, হারিয়ে যাবে তো না?
Speaker A
এখন সেই ভয় নেই।
Speaker A
কারণ ইউসুফ এখন বোঝেন সুখ-দুঃখ দুটোই আল্লাহর দান, দুটোতেই আল্লাহর পরিকল্পনা আছে, দুটোতেই কল্যাণ আছে।
Speaker A
একদিন রাতে।
Speaker A
আঙিনায় বসে ইউসুফ আর তার দুই ছেলে।
Speaker A
আদম জিজ্ঞেস করলো,
Speaker E
আব্বু, যখন সব চলে গিয়েছিল, তখন তোমার মনে কি কখনো রাগ হয়নি আল্লাহর উপর?
Speaker A
ইউসুফ অনেকক্ষণ চুপ থাকলেন।
Speaker A
তারপর বললেন,
Speaker A
বাবা, একটা কথা বলি।
Speaker A
মনে আছে তুমি যখন ছোট ছিলে?
Speaker A
একদিন খেলতে গিয়ে পড়ে গেলে।
Speaker A
হাঁটুতে রক্ত বেরিয়েছিল।
Speaker A
আমি ওষুধ লাগিয়েছিলাম।
Speaker A
সেটা জ্বলেছিল।
Speaker A
তুমি কাঁদছিলে।
Speaker A
কিন্তু আমি থামাইনি।
Speaker A
কারণ জানতাম, একটু কষ্ট না হলে ক্ষত সারবে না।
Speaker A
আদম মাথা নাড়লো।
Speaker A
আল্লাহ আমাদের পিতার চেয়েও বেশি ভালোবাসেন।
Speaker A
তিনি যখন কষ্ট দেন, তখন বুঝতে হবে তিনি আমাদের কোথাও সারিয়ে তুলছেন।
Speaker A
হয়তো আমার অহংকার ছিল।
Speaker A
হয়তো আমি ভুলে যাচ্ছিলাম যে সম্পদ তার, আমি শুধু আমানতদার।
Speaker A
কষ্ট এসে সেটা মনে করিয়ে দিয়েছে।
Speaker A
ছোট ইব্রাহিম বললো,
Speaker E
আব্বু, তাহলে কষ্ট কি ভালো জিনিস?
Speaker A
ইউসুফ হাসলেন।
Speaker A
বললেন,
Speaker A
কষ্ট ভালো না খারাপ, সেটা নির্ভর করে তুমি সেটা নিয়ে কি করো তার উপর।
Speaker A
যদি কষ্ট পেয়ে আল্লাহর কাছে যাও, সেটা রহমত।
Speaker A
যদি কষ্ট পেয়ে আল্লাহ থেকে দূরে যাও,
Speaker A
সেটা বিপদ।
Speaker A
চাঁদের আলো আঙিনায় পড়েছিল।
Speaker A
তিনজন চুপ করে বসে রইলেন।
Speaker A
সেই নীরবতায় ছিল এক গভীর শান্তি।
Speaker A
একদিন এক তরুণ ব্যবসায়ী এসে বললো,
Speaker D
ইউসুফ চাচা, আমার ব্যবসায় এখন অনেক ক্ষতি হচ্ছে।
Speaker D
মনে হচ্ছে আর পারবো না।
Speaker D
আল্লাহ কি আমাকে ছেড়ে দিয়েছেন?
Speaker A
ইউসুফ তার কাঁধে হাত রাখলেন।
Speaker A
বললেন,
Speaker A
বাবা, আল্লাহ কাউকে ছাড়েন না।
Speaker A
তিনি শুধু পরীক্ষা করেন, আর পরীক্ষায় যে ধৈর্য ধরে সে পায় এমন কিছু যা সে কল্পনাও করেনি।
Speaker A
তরুণটি বললো,
Speaker D
কিন্তু আমি ভয় পাচ্ছি।
Speaker A
বললেন,
Speaker A
ভয় পাওয়া স্বাভাবিক, কিন্তু ভয় পেয়ে আল্লাহর দিকে ফিরে যাও, পালিয়ে যেও না।
Speaker A
কারণ পালানোর জায়গা নেই কোথাও।
Speaker A
আল্লাহ ছাড়া আশ্রয় নেই, আল্লাহ ছাড়া আশ্রয়ী নেই।
Speaker A
তরুণটির চোখে পানি এসে গেল।
Speaker A
ইউসুফ বললেন,
Speaker A
আমার গল্প শুনতে চাও?
Speaker A
সেদিন ইউসুফ তরুণটিকে তার পুরো গল্প বললেন।
Speaker A
সেই রাতের কথা।
Speaker A
সেই ভাঙা ঘরের কথা।
Speaker A
সেই অপমানের কথা।
Speaker A
সেই মসজিদের কথা।
Speaker A
সেই বৃদ্ধের কথা।
Speaker A
গল্প শেষ করে বললেন,
Speaker A
বাবা,
Speaker A
আমি একটা জিনিস বুঝেছি।
Speaker A
তাওয়াক্কুল মানে এই নয় যে তুমি কিছু করবে না, বসে থাকবে।
Speaker A
তাওয়াক্কুল মানে হলো তুমি তোমার সাধ্যমতো চেষ্টা করবে।
Speaker A
তারপর ফলাফল আল্লাহর উপর ছেড়ে দেবে।
Speaker A
দরজায় কড়া নাড়বে, কিন্তু দরজা খুলে কিনা সেটা আল্লাহর ইচ্ছা।
Speaker A
আর সবচেয়ে বড় পুরস্কার কি জানো?
Speaker A
সম্পদ ফিরে আসা নয়।
Speaker A
সবচেয়ে বড় পুরস্কার হলো সেই প্রশান্তি যেটা কষ্টের মাঝেও থাকে।
Speaker A
সেই বিশ্বাস যেটা ঝড়েও টলে না।
Speaker A
এটা আল্লাহ দেন শুধু তার বিশেষ বান্দাদের।
Speaker A
তরুণটি চলে গেল।
Speaker A
ইউসুফ একা দোকানে বসে রইলেন।
Speaker A
বাইরে সূর্য ডুবছিল।
Speaker A
আকাশ লাল হয়ে গেছে।
Speaker A
আযানের সুর ভেসে আসছিল দূর থেকে।
Speaker A
ইউসুফ উঠে দাঁড়ালেন।
Speaker A
আবার সেই একই কাজ, দোকান বন্ধ করে মসজিদের দিকে হাঁটা।
Speaker A
পথে একটু থামলেন।
Speaker A
আকাশের দিকে তাকালেন।
Speaker A
মনে মনে বললেন,
Speaker A
ইয়া আল্লাহ, তুমি নিয়েছিলে, তুমি দিয়েছো।
Speaker A
কিন্তু সবচেয়ে বড় যা দিয়েছো, তা হলো তোমার উপর ভরসা রাখার শক্তি।
Speaker A
এই শক্তি যার আছে, সে কখনো সত্যিকার অর্থে গরিব নয়।
Speaker A
প্রিয় বন্ধু, আজকের এই গল্প শুধু ইউসুফের নয়।
Speaker A
এটা তোমার আমার সবার গল্প।
Speaker A
আমরা সবাই কোনো না কোনো সময় সেই ভাঙা ঘরে থাকি।
Speaker A
যেখানে অন্ধকার থাকে, ঠান্ডা বাতাস থাকে, আর মনে হয় আর পারবো না।
Speaker A
কিন্তু সেই মুহূর্তে একটাই কাজ করো।
Speaker A
হাত তোলো।
Speaker A
আল্লাহর দিকে তাকাও।
Speaker A
বলো,
Speaker A
ইয়া আল্লাহ, তুমি আছো।
Speaker A
আমি তোমার উপর ভরসা করি।
Speaker A
ব্যাস।
Speaker A
এটুকুই যথেষ্ট।
Speaker A
কারণ আল্লাহ কখনো তার বান্দাকে ছেড়ে দেন না।
Speaker A
তিনি শুনছেন, তিনি দেখছেন।
Speaker A
তিনি পরিকল্পনা করছেন তোমার জন্য, তোমার কল্যাণে।
Speaker A
আর বিশ্বাসের ফল সত্যিই সুমিষ্ট।
Topics:আল্লাহর উপর ভরসাবিশ্বাসের গল্পইসলামী শিক্ষাতাওয়াক্কুলধৈর্যসততাব্যবসায়িক নৈতিকতাপরীক্ষা ও ধৈর্যইসলামিক অনুপ্রেরণাবাংলা ইসলামিক গল্প











