নীলাঞ্জনা ও মির্জা পরিবারের প্রেম ও বিয়ের গল্প, যেখানে ভালোবাসা, পরিবার ও বন্ধুত্বের জটিলতা উঠে আসে।
Ask about this video. Answers come from its transcript only — with the timestamp, so you can check them.
Generated from the transcript and can be wrong — check the timestamp.
Key Takeaways
- নীলা ও ইরফানের বিয়ে মির্জা পরিবারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক অনুষ্ঠান।
- নীলার ব্যক্তিগত স্বপ্ন ও পছন্দ পরিবারের ঐতিহ্য ও সামাজিক প্রত্যাশার সঙ্গে সংঘর্ষে আছে।
- বন্ধুত্ব ও সম্পর্কের জটিলতা, যেমন আরশের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা, গল্পে আবেগের মাত্রা যোগ করে।
- প্যারিসে মিহাল খানের প্রতিশোধের আগুন গল্পে একটি রহস্য ও উত্তেজনা সৃষ্টি করে।
- পরিবারের সদস্যদের আবেগ ও সম্পর্কের গভীরতা গল্পের মূল আকর্ষণ।
What the video covers
- নীলা মিরজা মির্জা পরিবারের একমাত্র মেয়ে, যিনি তার চাচাতো ভাই ইরফানের সাথে বিয়ে করতে যাচ্ছে।
- নীলা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি পড়াশোনা করছে এবং শিক্ষিকা হওয়ার স্বপ্ন দেখছে।
- ইরফান প্যারিস থেকে ফিরে এসেছে এবং বাবার ব্যবসায় যুক্ত, তার সাথে নীলার বিয়ে নির্ধারিত।
- বাড়ি ফুল ও লাইট দিয়ে সাজানো হয়েছে, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধবরা উপস্থিত।
- নীলা তার বেস্ট ফ্রেন্ড আরশের সঙ্গে যোগাযোগ হারিয়েছে, যা তাকে মনক্ষুণ্ণ করে তোলে।
- প্যারিসে মিহাল খান নামের এক ব্যক্তি আছেন, যিনি অর্থনীতির অধ্যাপক এবং তার চোখে প্রতিশোধের আগুন জ্বলছে।
- নীলা তার বিয়ের জন্য নিজস্ব পছন্দের শাড়ি পরেছে, যদিও ইরফান নীল রঙ পছন্দ করে না।
- নীলা সাহসী, প্রতিবাদী এবং নিজের পছন্দের জন্য লড়াই করে।
- পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সম্পর্ক ও আবেগের জটিলতা স্পষ্ট, বিশেষ করে বাবার পুরনো স্মৃতির কারণে।
- বিয়ের প্রস্তুতি এবং সামাজিক অনুষ্ঠানগুলো ঘিরে গল্পের আবহ তৈরি হয়েছে।
Full Transcript — Download SRT & Markdown
Speaker A
এরপর বিষন্ন দিন বেজে [গান গাওয়া]। না, মন ভিন্ন অবসাদে ঘিরে থাকা সে দীর্ঘদিন। হাজার কবিতা বেকার সবিতা, হাজার কবিতা বেকার সবিতা, তার কথা কেউ বলে [গান গাওয়া] না। সে প্রথম প্রেম আমার নীলাঞ্জনা, সে প্রথম প্রেম আমার নীলাঞ্জনা [গান গাওয়া]।
Speaker A
রাত পহালে চাচাতো ভাইয়ের সাথে বিয়ে হবে নীলা মিরজার। সে খুশিতে ঘুমাতে পারছে না। কত ঝরঝাপটা পার করে সে সুখের মুখ দেখতে পাবে, তা কেবল সেই জানে। ছোট থেকে যাকে ভালোবেসে এসেছে, আগামীকাল তার সাথে বিয়ে হবে কথাটি ভাবতেই এক শিহরণ বয়ে যাচ্ছে শরীর দিয়ে।
Speaker A
চলুন পরিচয়টা দিয়ে নেই। নীলা মির্জা হলো মির্জা পরিবারের একমাত্র মেয়ে। তাই সে সবার এতদরের। তার বাবার নাম নিলায় মির্জা আর মায়ের নাম লায়লা ইসলাম। নিলায় মির্জারা তিন ভাই। নীলা মির্জা হল মেজো। আর ওনার বড় ভাইয়ের নাম ইমরান মির্জা এবং
Speaker A
তার স্ত্রীর নাম ইরিন। ইমরান মির্জার দুই ছেলে। একজনের নাম ইরফান মির্জা, আরেকজনের নাম ইবাদ মির্জা। ইরফান সাবে পড়াশোনা শেষ করে প্যারিস থেকে বাংলাদেশে ফিরেছে এবং বাবার ব্যবসায় হাত লাগিয়েছে। তার বয়স ২৭ বছর, লম্বাই ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি, গায়ের রং
Speaker A
শ্যামলা। তারপরেও কোন মেয়ের নজর কেড়ে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট। মূলত তার সাথে নীলার বিয়ে হবে। আর ইবাদের বয়স ১০ বছর। নীলার মির্জার ছোট ভাইয়ের নাম আকাশ মির্জা এবং স্ত্রীর নাম রবিন আক্তার। আকাশ মির্জার এক ছেলে যার নাম আবির মির্জা। সে ঢাকা
Speaker A
মেডিকেলে ডাক্তারি নিয়ে পড়াশোনা করছে। বয়স তার ২৬। তিন ভাই মিলে এক কোম্পানি চালায়। আর তাছাড়াও নিজেদের ব্যক্তিগত দোকান আছে, যা কর্মচারীরা দেখভাল করে। বেশ নাম ডাকাচ্ছে তাদের এই শহরে। পুরান ঢাকার ফরিদাবাদ এলাকায় থাকে তারা। নিজস্ব দোতলা বাড়ি যা তিন ভাই মিলে বানিয়েছে এবং এখনো
Speaker A
যৌধভাবে বসবাস করে যাচ্ছে। না, ঘুম আর আসছে না। শুধু শুধু শুয়ে থেকে লাভ নেই কথাটি বলে আলসামী ছেড়ে উঠে বসলো। নীলা দেয়াল ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখল ভোর তিনটা বাজে। চারিদিকে অন্ধকার এবং ঘন কয়াশে আচ্ছন্ন। এখন তেমন শীত পড়েনি, কেবল শীতের
Speaker A
আভাস পেতে এই অবস্থা। নীলা বিছানা ছেড়ে সুইচবোর্ডের দিকে গেল এবং রুমে লাইট জ্বালিয়ে ফেলল। তারপর আস্তে আস্তে হেঁটে আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। পরীনেতা তার লং টপ যার হাতে কবজি পর্যন্ত এবং নরমাল পায়জামা ওড়না সোফার উপর রাখা। নীলা নিজেকে বেশ ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে নিল।
Speaker A
গোল গোল চেহারার মাঝে খাড়া নাক, গায়ের রং উজ্জ্বল শ্যামলা, কোমর পর্যন্ত লম্বা চুল। হাসলেই বাম পাশের গজদাত দেখা যায় এবং তাকে যেন ভালোই মানিয়েছে এই গ্যাস দাঁতে। নীলার বয়স ২১ বছর। সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স থার্ড ইয়ারে অর্থনীতি বিভাগে পড়াশোনা করছে। অনেক
Speaker A
স্বপ্ন ছিল দেশের বাইরে যাবার, কিন্তু ইরফান না করেছে বিধায় যায়নি। ভালোবাসার মানুষটির জন্য এতটুকু তো করতেই পারে। পড়াশোনার পাশাপাশি সে বাবার কোম্পানি দেখে মাঝেমধ্যে। একমাত্র মেয়ে তো তাই, কিন্তু পেশায় তার শিক্ষিকা হবার ইচ্ছা এবং চাকরির জন্য পড়াশোনা শুরু করে
Speaker A
দিয়েছে। সে খুব প্রতিবাদী এবং সাহসী একজন মেয়ে। কথায় কথায় কান্না করা যেন তার সহ্য হয় না। নীলা সোফার উপর থেকে ওড়না নিয়ে মাথায় ঘুমটার মতন করে দিল। এখন তাকে অনেকটাই বউ বউ লাগছে। নিজেকে দেখে নিজেই লজ্জা পেয়ে গেল। তাড়াতাড়ি
Speaker A
করে বিছানায় বালিশের পাশে থাকা ফোন হাতে নিয়ে টপটপ করে নিজের কয়েকটা ছবি তুলে নিল। সে আবার খুব স্রেমী। নিজেকে সে সব থেকে বেশি ভালোবাসে। তাই তো সবসময় খুশি। তারপর হোয়াটসঅ্যাপে গিয়ে নিজের বেস্ট ফ্রেন্ডকে মেসেজ দিল। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে তার বেস্ট ফ্রেন্ড এখনো তার আগের মেসেজের
Speaker A
রিপ্লাই দেয়নি। গত তিনদিন যাবত সে তার বেস্ট ফ্রেন্ডকে মেসেজ দিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু কোন উত্তর পায়নি। তার বেস্ট ফ্রেন্ডের নাম আরশে ইসলাম। নীলা বেস্ট ফ্রেন্ডের কাছ থেকে মেসেজের রিপ্লাই না পেয়ে মনক্ষুণ্ণ হয়ে বিছানায় বসে পড়ে। কিন্তু পরক্ষণেই ফোনের ওয়ালপেপারের
Speaker A
দৃষ্টি যেতেই মনটা ভালো হয়ে ওঠে। কারণ সেখানে তো তার সুখ ভালোবাসা ভেসে আছে। প্যারিসের সপ্তম অ্যারন্ডেসমেন্টে আইফেল টাওয়ারের থেকে অনেকটা দূরে নিজস্ব অ্যাপার্টমেন্টের বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে মিহাল খান। সে এখনো তার পরিবার সমেত বসবাস করে। জানালার সামনে দাঁড়ালেই পুরো
Speaker A
চ্যাম্পে মার্স আর আইফেল টাওয়ার এক নজরে দেখা যায়। প্যারিস শহরের নরম সকালবেলার আলো তার ঘরে। সবসময় একটা কাব্যিক ছয় এনে তাই তার বাসা। নিচে রাস্তাটা ঠিক সিনেমার মত পাথরের রাস্তা, পাশেই ছোট্ট একটা বেকারি যেখানে সকালবেলা ক্রুসেন্টের গন্ধ ভেসে
Speaker A
আসে। আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অফ প্যারিসে সে ইকোনমিক্স বিভাগের অধ্যাপক। অবশ্য একসময় সে ইউনিভার্সিটির টিচার ছিল। তার বাড়ি থেকে এইউপি খুব কাছেই, গাড়ি দিয়ে গেলে সর্বোচ্চ ছয় কি সাত মিনিট। বয়স তার ৩০, উচ্চতায় ৬ ফুট হবে, গায়ের রং উজ্জ্বল। চোখের সামনে এত সুন্দর দৃশ্য থাকতেও তার
Speaker A
চোখে স্পষ্ট প্রতিশোধের আগুন দাউদা দাউ করে ত্বলছে। যার কারণ কেবল সে এবং আরেকজন ব্যক্তিই জানে। বাকিটা পরিচয় গল্পে পাওয়া যাবে। সম্পূর্ণ মির্জা বাড়ি ফুল এবং লাইট দিয়ে সাজানো। আর সাজানো থাকবে নাই বা কেন?
Speaker A
বাড়ির বড় ছেলে এবং একমাত্র মেয়ে বিয়ে হচ্ছে বলে কথা। অবশ্য বিয়েটা এখন খুবই সাধারণভাবে হবে। কাল বিকেলে গায়ে হলুদ হয়ে গেছে ঘরোয়াভাবে। আজ দুপুরে আকুত করা হবে। দেড় মাস দেরেক পর ঘটা করে অনুষ্ঠান হবে। সকাল থেকেই সবাই কাজে ব্যস্ত। বাড়ি ভর্তি
Speaker A
আত্মীয়স্বজন। ঘটা করে অনুষ্ঠান না হলেও বাড়ি আত্মীয় দিয়ে ভরে গেছে। আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব, পাড়া প্রতিবেশী, যাদের না বললেই নয়, সবাই উপস্থিত আছেন। বাবরচেরা বাগান ঘরে রান্না করছে। মানুষদেরকে বাগানে এবং ছাদে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। নীলা নিজ ঘরে বসে আছে। তার ঘরে তার সকল
Speaker A
বান্ধবী এবং কাজিনরা মিলে আড্ডা দিচ্ছে। পার্লারের মহিলারা তাকে সাজিয়ে দিচ্ছে। ইরফান বেশি সাজ পছন্দ করে না বলে নীলা তেমন একটা সাজলো না। তার আবার সাজগোজ খুব পছন্দ, কিন্তু নিজের পছন্দের মানুষের জন্য নিজ পছন্দকে প্রায়শই নীলা বিসর্জন দিতে দ্বিধাবোধ করে না। তার নামেই যেমন নীল আছে,
Speaker A
তেমনি তার মনেও আছে। অর্থাৎ তার নীল নাম ভীষণ প্রিয়। ছোটবেলা থেকেই শখ ছিল নিজের বিয়েতে। সে নীল রঙের শাড়ি পড়বে। অন্য মেয়েদের ছোটবেলায় স্বপ্ন থাকে বিয়ের সময় লাল টুকটুকের শাড়ি পড়বে। কিন্তু সে আবার একটু ভিন্ন ছিল। কিন্তু ইরফানের নীল
Speaker A
রং একদম পছন্দ না। তার পছন্দের জন্য আজ সে খয়রি রঙের শাড়ি পড়ল। নিজের পছন্দের মানুষের সাথে বিয়ে হচ্ছে। এর থেকে বেশি আর কি লাগে? টুংটং করে মেসেজের নোটিফিকেশন এলো নীলার ফোনে। তার ফোন ড্রেসিং টেবিলের উপরেই রাখা ছিল। নীলা যেইনা নিজের ফোন
Speaker A
নেওয়ার জন্য হাত বাড়ায়, অমনি তার খেলাতে বোন রুমি তার ফোন নিয়ে নেয় এবং মজার ছলে বলে, না নিলু, আজ আর তোকে ফোন দিচ্ছে না। বিয়ের পর নিজের প্রাণপ্রিয় বরের সাথে অনেক কথা বলতে পারবি। এখন শুধু অপেক্ষা কর। এত উতলা
Speaker A
হলে চলবে। তারা দুজনেই সমবয়সী। রুমের কথা প্রেক্ষিতে নীলা কিচ্ছু বলল না, কেবল লাজুক হাসলো। কিন্তু মোটা আনজান করছে, কাল রাত থেকে আর তার ইরফানের সাথে কথা বলা হয়নি। কিন্তু কিছুক্ষণ পর যে মানুষটি সম্পূর্ণরূপে তার হয়ে যাবে, সেই মানুষটির সাথে কথা বলার
Speaker A
জন্য না হয় আরো কিছুক্ষণ অপেক্ষা করল সে। তার স্বাদ সম্পূর্ণ করে পার্লারের মহিলারা যেতে না যেতেই নীলা নিজের ক্লাসমেট ইকরাকে বলল, আরশের খবর জানিস? গত তিনদিন যাবৎ আমাদের কোন যোগাযোগ নেই। হঠাৎ কি হলো তার?
Speaker A
আমার বিয়ে অথচ আমার বেস্ট [মিউজিক] ফ্রেন্ড অনুপস্থিত। ভালো লাগে না। নীলার কথা শুনে ইকরা আমতা আমতা করতে লাগল। ইকরাকে আমতা আমতা করতে দেখে নীলা বুঝে গেল ইকরা কি বলতে চায়। সে ইকরাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে নিজে বলে উঠল,
Speaker A
দেখ ইকরা, তুই আমার ফ্রেন্ড। আমি তোকে বিশ্বাস করি। কিন্তু তার থেকেও বেশি বিশ্বাস করি আমার বেস্ট ফ্রেন্ডকে। তাই তার সম্পর্কে কোন গুজব আমি কানে তুলবো না। হয়তো সে কোন সমস্যায় আছে। আমি পরে এই বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছি। বিয়ে খেতে এসেছিস,
Speaker A
চুপচাপ খাওয়া-দাওয়া কর আর আনন্দ কর। দয়া করে আনন্দ মাটি করার চেষ্টা করবি না। নীলার রুঢ় কথা শুনে ইকরার মুখ চুপসে যায়। কিন্তু সে তো নীলার ভালো চাই বলেই নীলাকে বারবার একটি বিষয় সম্পর্কে অবগত করতে আসছে। অথচ নীলা অন্ধবিশ্বাস করে নিজের
Speaker A
ক্ষতি নিজেই করছে। ইকরা দীর্ঘশ্বাস ফেলে রুম ত্যাগ করল। হুরমুর করে নীলার রুমে তার মা এবং বাবা প্রবেশ করল। মেয়েকে বউ সাজে দেখে চোখটা ভরে উঠলো তাদের। লায়লা ইসলাম কাছে এসে মেয়েকে বুকে জড়িয়ে নিলেন। কত দোয়া কত মানত করে তারা এই কন্য সন্তান
Speaker A
পেয়েছেন কেবল তারাই জানেন। ভেবেছিল হয়তো নিঃসন্তান থাকতে হবে। কিন্তু নীলা জন্মগ্রহণ করে তাদের প্রমাণিত করে। নীলা খান মেয়েকে নিজের স্ত্রীর কাছ থেকে নিয়ে নিজের বুকে আগলে ধরেন। মেয়ের মাথায় পরপর চুমু খান। তারপর বলেন, একদম মিনুর মত লাগছে আজ তোকে।
Speaker A
তিনি কি বলেছেন তা উপলব্ধি করতে পেরে সঙ্গে সঙ্গে জিভে কামড় বসান। লায়লা খান আতঙ্কিতজনক দৃষ্টিতে একবার স্বামীর পানে চান, তো আরেকবার নিজের মেয়ের পানে চান। নীলা নিজের বাবার মুখ থেকে বুক থেকে মাথা তুলে কৌতুহলজনক দৃষ্টিতে বাবার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল,
Speaker A
মিনু কে বাবা? নীলাই খান থমকে যান। পুরনো খাত আবার জেগে ওঠে। চোখের সামনে ভেসে ওঠে পুরনো স্মৃতি। লায়লা ইসলাম স্বামীর অবস্থা বুঝতে পেরে কথা কাটানোর জন্য তরিখড়ি করে বলেন, এসব কথা পরে হবে। কিন্তু একটা জিনিস দেখ আমরা কতটা ভাগ্যবান। বিয়ের পরেও নিজের মেয়েকে
Speaker A
নিজের চোখের সামনে দেখতে পাব। এইতো মনে হচ্ছে সেইদিন জন্মগ্রহণ করলি। অথচ দেখ আজ তোর বিয়ে। আর বেশি কথা বাড়িয়ে লাভ নেই। চুপচাপ বস। আমরা এসে নিয়ে যাব। তোর বর সেই সকালে বাহিরে গেছে, এখনো আসেনি। আমরা গিয়ে দেখছি সে এখন কোথায়। বিয়ের সময় তো
Speaker A
ঘনিয়ে এল। এই বলে নীলার কপালে জমুখে স্বামীর হাত ধরে রুম।
Speaker A
কে মিনু বাবার মুখে এই নামটি আমি আরো অনেকবার শুনেছি শুধুমাত্র বাবা নয় বড় চাচ্চু এবং ছোট চাচ্চুর মুখেও শুনেছি কিন্তু এই সম্পর্কে আমি কেন কিছু জানি না তার চিন্তাভাবনার মাঝে ছেদঘাটে তার বান্ধবী এবং কাজিনরা যখন তার বাবা রুমে
Speaker A
ঢুকেছিল তখন তাদেরকে প্রাইভেসি দিয়ে সবাই বাহিরে চলে গিয়েছিল তার মা-বাবা চলে যেতে সবাই আবার রুমে প্রবেশ করে নীলাও নিজের চিন্তাভাবনা ছেড়ে চুপচাপ খাটে বসে থাকে এখন তার মনে কেবল আনন্দ সে জায়গা দিবে কোন চিন্তাভাবনাকে না একের পর এক ফোন করে যাচ্ছে আবির ইরফানকে
Speaker A
কিন্তু ইরফান কারো ফোনই ধরছে না সবাই খুবই চিন্তিত বাড়ির পুরুষরা মিলে আত্মীয়স্বজনদের সামলাচ্ছে যে জায়গায় বিয়ে হবার কথা ছিল দুপুরে সে জায়গায় দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়ে গেল অথচ বরের আসার কোন খবর নেই এতক্ষণে আত্মীয়স্বজন পাড়া প্রতিবেশীদের কানাঘুষ শুরু হয়ে
Speaker A
গেছে কে বলছো কে বলছে বলছে হয়তো ছেলের কোন বিপদ হয়ে গেছে। কেউ বলছে হয়তো ছেলে এই বিয়েতে রাজি ছিল না। আবার কেউ বলছে হয়তো মেয়েতে কোন সমস্যা আছে। ঘুরে ফিরে আমাদের সমাজের মানুষ মেয়েদেরকেই দুঃসরপ করে। সবাই মিলে আত্মীয়স্বজনের মুখ বন্ধ করতে পারছে
Speaker A
না। কারণ মানুষের মুখ বন্ধ করা কখনোই সম্ভব না। নীলা নিজের রুমে বসে বসে কান্না করছে এবং ইরফানের জন্য দোয়া করছে। তার মন বলছে কিছু একটা খারাপ হতে চলেছে। ইকরা তাকে সান্ত্বনা দিচ্ছে। হঠাৎ করেই বাহির থেকে চিৎকার চাচামেচির আওয়াজ শোনা গেল।
Speaker A
নীলা স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছে তার বড় চাচ্চু ইরফানকে ধমকাচ্ছে। নীল আর দেরি না করে পরণের শাড়ির কচি ধরে দৌড় লাগালো ড্রইং রুমের দিকে। সে দোতলায় থাকে দোতলা থেকে সিড়ি দিয়ে দৌড়িয়ে নিচে নামে। চোখে মুখে তার আনন্দের ছাপু স্পষ্ট। সে চায় না
Speaker A
কেউ তার ইরফানকে বকা দিক। তার ইরফান তার কাছে ফিরে এসেছে। এতেই সে খুশি। এখন বিয়ে হয়ে গেলেই হবে। কিন্তু দরজার কাছে যাওয়ার পর দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা দুজন ব্যক্তিকে দেখে সে থমকে যায়। তার পুরো পৃথিবী যেন তার সাথে থমকে যায়।
Speaker A
মুহূর্তে সে নিজেকে নিঃশ্ব মনে করে। দাঁড়িয়ে থাকার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। কিন্তু তারপরও অনেক কষ্টে দাঁড়িয়ে থাকে। মাথা তার ঘুরতে শুরু করে। কিন্তু নিজেকে শক্ত রাখার জন্য শাড়ির রাজন অনেক শক্ত করে চেপে ধরে রেখেছে। চোখ অশ্রুতে ভরে গেছে। উপলব্ধি করতে পেরে আকাশের দিকে
Speaker A
তাকিয়ে চোখের পানি চোখেতেই শুকিয়ে ফেলল। তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে তার বেস্ট ফ্রেন্ড আরশি এবং তার ভালোবাসার মানুষ তার বাগদত্তা ইরফান যার সাথে আজ তার বিয়ে হবার কথা ছিল আরশিয়ের পোশাক পড়ে দাঁড়িয়ে আছে ইরফান শক্ত করে আরশির হাত ধরে রেখেছে দুজনের দৃষ্টি মাটির দিকে
Speaker A
বাড়ির সকলে হতবক হয়ে তাকিয়ে আছে তাদের দিকে কেবল ইরফানের পিতা চিৎকার চেচামেচি করছে নিলয় মির্জার বুক ফেটে যাচ্ছে মেয়ের কষ্টের কথা ভেবে কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে নীলা বলল বাড়ির ছেলে আর ছেলের বউকে বরণ করে তোমরা ঘরে তুলো আর কতক্ষণ এভাবে বাইরে দাঁড়
Speaker A
করিয়ে রাখবে নীলার কথা শুনে সবাই অবাক হয়ে গেল থেকে বেশি অবাক হয়েছে আরশি এবং ইরফান তারা তো ভেবেছিল নীলা কান্নাকাটি করবে চিৎকার চেচামেচি করবে অথচ নীলার এমন ঠান্ডা ব্যবহার দেখে সবাই অবাক নীলা কিছু না বলে খাবার টেবিলে চলে গেল
Speaker A
তারপর জোরে চিৎকার দিয়ে বলল উফ মা সেই সকাল থেকে না খেয়ে বসে আছি আমাকে তাড়াতাড়ি খাবার দাও লায়লা বেগম শাড়ির রাজন মুখে চেপে কেঁদে উঠলেন। মেয়ে তার উপর উপর যত শক্ত থাকার নাটক করুক না কেন। কিন্তু মনে মনে যে
Speaker A
একবারে ভেঙে পড়েছে তা তিনি স্পষ্ট বুঝতে পারছেন। নীলা যখন দেখল তার মা তাকে খাবার না দিয়ে কান্নাকাটি করছে তখন সে নিজেই উঠে পড়ল এবং প্লেট হাতে নিয়ে সব জায়গা থেকে একটু একটু করে খাবার তুলে নিল এবং সুন্দর করে খেতে লাগলো। খাবার খাওয়ার
Speaker A
সময় কি প্রশংসাটাই না করল সে। দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা দুই প্রতারক অবাক দৃষ্টিতে কেবল চেয়ে রইল তার দিকে। লজ্জা করে না নিজের বিয়ের দিন অন্য এক মেয়েকে বিয়ে করে আনতে। হুংকার দিয়ে কথাটি বলল ইমরান মির্জা নিজের ছেলেকে। ইরফান এখনো চুপ আছে। ইমরান
Speaker A
মির্জার স্ত্রী একবার নীলার দিকে দৃষ্টিপাত করল। দেখল নীলা তৃপ্তি সহকারে খাচ্ছে। প্রত্যেকদিন যেমনভাবে খাবার খাই তার থেকে আরামদায়কভাবে বসে খাচ্ছে। নীলার ধৈর্য সাহস আত্মমর্যাদা বোধ দেখে যেমন খুশি হলেন তিনি। ঠিক তেমনি মনক্ষুন্ন হলেন নিজের ছেলের করা কাজে। নীলাকে উনার ভীষণ
Speaker A
পছন্দ হয়েছিল। মেয়ে হিসেবে নীলা যেমন ভালো বউ হিসেবেও হতো। কিন্তু ওনার কপালে এমন লক্ষ্মী বউজ উঠলো না। রাগে দুঃখী দাঁত দাঁত চেপে নিজের ছেলেকে বললেন, দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা দিতে হয়। বানরের গলায় মুক্তার মালা মানায় না রে। তাই তো নীলাকে ছেড়ে ওই সাদা চামড়ার কাছে
Speaker A
গেলি। না আছে চেহারা না আছে ঘুম। খালি পারে পেও পেও করতে। তুই যেমন তোর পছন্দও তেমন। কি আছে এই মেয়ের মাঝে? শুধু সাদা চামড়াটাই তো। আরে তোকে যে নীলা বিয়ে করতে রাজি হয়েছিল এটাই তো তোর চৌদ্দগুষ্টির ভাগ্য। নিজের মায়ের কাছ থেকে এমন অপমান আশা
Speaker A
করেনি ইরফান। লজ্জায় সে মুখতুলি তাকাতে পারছে না। বেশি কিছু বলেই দেখা যাবে বাবা তাকে তেজ্যপুত্র করে দিবে। সকল আত্মীয়স্বজন বন্ধু-বান্ধব পাড়া প্রতিবেশী সবাই মিটমিট করে হাসছে ইরফান আর তার স্ত্রীর উপর নীলা মুখে থাকা খাবার খেয়ে পানি গিলে তারপর বাম হাতে টেবিলের
Speaker A
সাহায্যে তালি দিতে দিতে বলল বাহ বড় আম্মু জিজু তুলসি গ্রেট হোম নীলা তার বাবার বড় ভাই এবং তার স্ত্রীকে বড় আব্বু ও বড় আম্মু বলে ডাকে এবং ছোট ভাই ও তার স্ত্রীকে ছোট আম্মু ও ছোট আব্বু বলে ডাকে। নীলার কথা শুনে ইরফান রাগে
Speaker A
দৃষ্টিতে নীলার দিকে তাকালো। সেটা ইমরান মির্জা লক্ষ্য করতে ইরফানকে ধমক দিয়ে বলল, লজ্জা করছে না নীলার দিকে এইভাবে তাকাতে। তোকে তো আমার নিজের ছেলে বলতে লজ্জা করছে। নীলা এসব দেখে মিটি মিটি হাসছে আর খাবার খাচ্ছে। মেয়েরা এমন সহযোগিতা দেখে নিরাই
Speaker A
মির্জা নিজের ছোট ভাইকে বলেন আকাশ রে আমার মেয়েটা একদম মিনুর মত হয়েছে মিনু আমাদের মাঝে না থাকলেও তার এক ফিমেল ভার্সন রেখে গেছে আমার মেয়েটিকে যখন মিনু হসপিটালে কোলে নিয়েছিল তখন হয়তো নিজের গুণগুলি মেয়েটির মাঝে রেখে চলে গিয়েছিল
Speaker A
কথাগুলো বলতেই দুই ভাইয়ের চোখ ভরে উঠল আবির আর ইবাদত হেটে হেটে নীলার কাছে গেল আবির বোনের মাথায় হাত দিয়ে নরম সুরে জিজ্ঞেস করল বনু ঠিক আছিস তুই আবির নীলাকে একদম নিজের বোনের মত দেখে নীলা খাবার খেতে খেতে বলল
Speaker A
আমার একটা কাজ করে দিলে হয়তো ঠিক থাকব আবির কি কাজ করতে হবে তা জিজ্ঞেস না করেই রাজি হয়ে গেল তৎক্ষণৎ বলে উঠল আমি আমার বনের জন্য সবকিছু করতে পারি। নলা আবিরের কথা শুনে দাঁত বের করে হাসি দিল। তারপর আবিরকে কানাকানি কিছু একটা
Speaker A
বলল। আবিরের চক্ষু চরক গাছ হল নীলার কথা শুনে। এমন পরিস্থিতিতেও যে এই মেয়ের মাথায় এমন বুদ্ধি আসতে পারে তা কারোর কল্পনার বাইরে। ইবাদত নীলার কথা শুনে মিটিমিটি হাসছে। সে নীলাকে খুব পছন্দ করে। বাড়ির কারো কথা না শুনলেও নীলের কথা শোনে কেবল।
Speaker A
আর আশি অনেকবার এই বাড়িতে এসেছিল ইবাদত আরশিকে সে প্রথম থেকে অপছন্দ করে এসেছে আবিদ আর ইবাদত বাড়ির পেছনের দরজা দিয়ে বের হয়ে গেল নীলার বলা মতো কাজ করতে নীলার খাবার খাওয়া শেষ হতেই গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে বলল ছোট আম্মু চা দাও তো রুবিনা আক্তার দেরি
Speaker A
না করে চলে গেলেন নান্ন ঘরে বাড়ির সকল আত্মীয়স্বজনরা এখন ইরফান আরশিকে ছিছি করছে লায়লা ইসলাম স্বামীর কাছে গিয়ে ফিসফিস বললেন এখন যদি আমাদের মেয়ে কান্নাকাটি করতো ভেঙে পড়তো তাহলে সবাই তাকে দোষারোপ করতো অথচ দেখো মেয়ের এমন কঠিন রূপ দেখে কেউই
Speaker A
মেয়েকে দোষারোপ করার সাহস করছে না মেয়েদেরকে সমাজে দেখতে হলে শক্ত থাকতে হবে ভেঙ্গে পড়লে সবাই তাদের মাটির সাথে পিশে ফেলবে নিলয় মির্জা স্ত্রীর কথায় সয় দিলেন। মেয়ের দিকে একবার দৃষ্টিপাত করে গর্ভবোধ করলেন। এখন আর কোন আক্ষেপ নেই তার। তার
Speaker A
মেয়ে যে জায়গায় ঠিক আছে সেই জায়গায় সে ভেঙে পড়া মানে মেয়েকে ছোট করা। তাই নিলয় মির্জা নিজেকে স্বাভাবিক করে স্ত্রীকে বললেন শক্ত থাকতে। মম খাবার দাও তো। শার্টের হাতে ফোন করতে করতে সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে নিজের মাকে বলল মিহাল। বাবা
Speaker A
মায়ের একমাত্র সন্তান সে। মিহালের মা ছেলেরাও শুনে রান্নাঘর থেকে খাবারের ট্রে ড্রইং রুমে আনতে আনতে রাগান্বিত কন্ঠে ছেলেকে বললেন মিহান মায়ের কাছে এসে মাকে জড়িয়ে ধরে বলল সব একই ম ইসরাতুল ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললেন মিহাল ভদ্র ছেলের মত খেতে বসে পড়ল।
Speaker A
সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিল মিহালের বাবা মুবিন খান। তিনি খবরের কাগজে মুখ গুজেছিলেন। কিন্তু ছেলে আর বউয়ের কথাবার্তা ঠিকই তার কানে পৌঁছেছে। এটা অবশ্য নিত্যদিনের ঘটনা। তাই তিনি বেশি পাত্তা দিলেন না। খবরের কাগজ থেকে মুখ বের করে খাওয়ার দিকে মনোযোগ দিলেন। তিনজন
Speaker A
চুপচাপ বসে খাবার খাচ্ছে। কেবল পেট এবং চামিচের শব্দ। মিহাল পানি খাচ্ছিল। মবিন খান গলা খাকারি দিয়ে মিহালের উদ্দেশ্যে বললেন, তোমার সে বেস্ট ফ্রেন্ড। ওনার কথা সম্পূর্ণ হবার আগে মিহাল হাতে থাকা কাচের গ্লাস ফ্লোরে ছড়ে ফেলল। সঙ্গে সঙ্গে কাছের গ্লাস বিকট শব্দে ভেঙ্গে গুরু
Speaker A
গুরু হয়ে গেল। ইসরাতুল ভয়ে কেঁপে উঠলেন। মোবিন খান নিজের ছেলেকে কিছু বলতে যাবে তার আগে মিহাল হনহ নিয়ে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো এবং সামনের দিকে হাটা ধরলো। দরজার কাছে গিয়ে দাঁড়ালো এবং পিছনে না ফিরে শান্ত কন্ঠে বলল, আইম সরি ফর মাই রাফ বিহেভিয়ার।
Speaker A
সে যতই রোড হোক না কেন বাবা মাকে ভীষণ ভালোবাসে এবং শ্রদ্ধা করে। কথাটি বলে অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বের হয়ে গেল মিহাল। পিছনে রেখে গেল একজোড়া চিন্তিত মুখ। যদি সে পিছনে ফিরে তাকাতো তাহলে তার মা-বাবা তার রক্তিম চোখ দেখে হয়তো ভয় পেয়ে যেত।
Speaker A
সে অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বেরিয়ে পাড়ি দিল তার গন্তব্যে। মুবিন খান স্ত্রীর হাতের উপর হাত রেখে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য বললেন। চিন্তা করো না। দেখবে একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে। ইসরাতুন নীরবে চোখের পানি মুছে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছাড়লেন। হঠাৎ ফোন বেজে উঠল।
Speaker A
মবিন খান ফোন হাতে নিয়ে দেখলেন মা নামে সেভ করা নিজের স্ত্রীর দিকে ফোন এগিয়ে দিয়ে বললেন এই নাও মায়ের ফোন এসেছে মার সাথে কথা বলে মন হালকা হবে এই বলে তিনি স্থান ত্যাগ করলেন। বড় আম্মু এবং বড় আব্বু শুধু শুধু তোমরা নিজের ছেলে
Speaker A
এবং ছেলের বউকে বাহিরে দাড়া করিয়ে রেখেছো। তাদেরকে বরণ করে ভেতরে আনো। নীলার কথায় অবাক হলেন ইমরান মির্জা। কিন্তু কিছুই বলে না। এতক্ষণে রবিনা গরম চা বানিয়ে নিয়ে এসেছে নীলার জন্য। নীলার হাতে চা ছড়িয়ে দিতেই নীলা আবার অনুরোধের স্বরে বলল।
Speaker A
ছোট আম্মু একটু কষ্ট করে নতুন বর এবং বউকে বরণ করার ব্যবস্থা করো। নীলার কথা শুনে রুবিনার চোখ ভরে উঠলো। ঠোট কামড়ে নিজের কান্না চেপে ধরলেন। এই মেয়েকে এখন তার সালাম করতে ইচ্ছে করছে। এমন পরিস্থিতিতে এতটা কঠিন থাকা সম্ভব
Speaker A
নয়। কিন্তু এই অসম্ভবকে সম্ভব সম্ভব করল আজ নীলা। রুবিনা দেরি না করে বরণ করার জিনিসপত্র রেডি করতে লাগল। তারপর নিজের বড় জায়ের কাছে নিয়ে এসে ধরিয়ে দিলেন। এরন একবার নীলার দিকে তাকালো। নীলা নিজের চাচিকে চোখ দিয়ে আশ্বাস দিতেই তিনি দরজার
Speaker A
দিকে এগিয়ে গেলেন। মুখে গম্ভীরতা বজায় রেখে ছেলে এবং ছেলের বউকে বরণ করে নিলেন। মিষ্টি খাওয়ানোর সময় ইরফানের মুখের ভেতরে জড়ে চামচ গুজে দিলেন। ইরফান কিছুটা পিছিয়ে গেল। ব্যথাও পেয়েছিল বটে। নীলা চেয়ারে বসে বসে চা খাচ্ছিল। এই দৃশ্য দেখে মুখ থেকে চা পড়ে গেল। আশেপাশে সবাই
Speaker A
হেসে উঠল। নীলাও হাসতে লাগল। ইরফান চুপচাপ দাঁড়িয়ে সবকিছু সহ্য করে গেল। অন্যদিকে আসির কোন কিছুই সহ্য হচ্ছে না। ভেবেছিল বাড়ির বড় ছেলেকে বিয়ে করেছে। সবাই তার মন মত চলবে। অথচ এত বড় ছেলেকে নিজের মা-বাবা সবার সামনে অপমান করেছে। আর সে তো
Speaker A
পরের বাড়ির মেয়ে। এসব কথা ভাবতেই আরশি চেহারায় বিরক্তির ছাপ স্পষ্ট ফুটে উঠেছে। যা কেউ খেয়াল না করলেও নীলা করেছেন। নীলা আর সে চেহারায় বিরক্তির ছাপ দেখে বাঁকা হেসে মনে মনে বলল, যত যাই হোক দিনশেষে তুই আমারই বেস্ট ফ্রেন্ড। তোর সকল সমস্যা দুর্বলতা সবকিছুর
Speaker A
খবর আমার জানা আছে। আমি চাইলে এক্ষুনি তো নতুন সংসার শুরু হওয়ার আগেই শেষ [মিউজিক] করে দিতে পারি। কিন্তু এই নীলা মির্জা ভেতুদের মতন দুর্বল জায়গায় আঘাত করে না। পেছন থেকে ছুরি চালানোর অভ্যাস তোর এবং তোর নব্য স্বামীর হতে পারে কিন্তু নীলা
Speaker A
মির্জার না। আমি ময়দানে নেমে চোখে চোখ রেখে সোজা গুলি করব। নদীর ধারের ব্রিজে পকেটে হাত ঢুকে দাঁড়িয়ে মিহাল। তার দৃষ্টি পানি ঢেউয়েতে দেয়। বেস্ট ফ্রেন্ড মাই ফুট। মিহাল খানের সাথে প্রতারণা করার ফল তাকে তো হারে হারে টের পেতে হবে মিহাল খান কাউকে ক্ষমা করে না
Speaker A
যতক্ষণ না পর্যন্ত তার প্রাপ্য শাস্তি নিজ হাতে দেয় কথাগুলো বলার সময় মিহালের কপালে রাগ ফুটে উঠলো দাঁতে দাঁত চেপে একা একা কথাগুলো বলল সে তাকে কেউ কখনো এভাবে ঠকায়নি তাই প্রথমবার ঠকে যায় মিহাল ঠিক মেনে নিতে পারছে না পকেট থেকে ফোন বের করে কাউকে কল
Speaker A
দিল কল রিসিভ হতে মিহাল বলল আই ওয়ান্ট এভি সিঙ্গল ডিটেলস। অপর পাশে মানুষের থেকে উত্তর শুনে বাকা হাসলো মিহা ফোন কেটে পকেটে পড়ে ফেলল। মুখের বাকা হাসি বজায় রেখে বলল, কাউন্টিং। কথাটি বলেই ভয়ঙ্কর হাসি দিল সায়ান। তার হাসির শব্দের আশেপাশে থাকা কবুতর ভয়ে
Speaker A
একত্রে ঝাক বেধে উড়ে গেল। মন পেছন থেকে এক পৌরশালী কন্ঠ ভেসে উঠলো মনভীর কানে। মনভর কন্ঠটি চিনতে সমস্যা হলো না। এ যে তার অতি প্রাণপ্রিয় বন্ধুর কন্ঠ মনভ চেয়ার সমেত পেছনে ফিরল। তার ডেক্সের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটিকে দেখে
Speaker A
বাঁকা হাসলো। পরণে সাদা আপ্রণ খুলে চেয়ারের উপর রাখল। চেহারা ছেড়ে উঠে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তিটির দিকে এগিয়ে যেতে লাগলো। পেশায় সে একজন ডাক্তার। হসপিটাল ইউরোপিয়ান। জর্জের স্পিডতে সে একজন কার্ডিওলজিস্ট অর্থাৎ হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিটির একদম মুখোমুখি দাঁড়িয়ে শান্তক কন্ঠে বলল
Speaker A
মিহাল খান মাই ডিয়ার বেস্ট ফ্রেন্ড আই মিন এক্স বেস্ট ফ্রেন্ড মিট আফটার লং টাইম তো এখানে কি করে আসার মনফির বলা কথাগুলো শুনে মেহালের ঠোটেও স্মিত হাসি ফুটে উঠল এক জীবনে দুজন দুজনের জন্য জান দিয়ে দিতে প্রস্তুত ছিল আর এখন
Speaker A
দুজন দুজনে জান নিয়ে নিতে প্রস্তুত। কি অদ্ভুত এই বন্ধুক্ত মিহাল নিজের মস্তিষ্ক হতে অন্যান্য চিন্তাভাবনা দূর করে বলল, এখান দিয়ে যাচ্ছিলাম ভাবলাম নিজের শত্রুর খোঁজখবর নিয়ে যাই। যত যাই হোক এক জীবনে তো বেস্ট ফ্রেন্ড ছিলাম। মেহালের কথা শুনে মনভিঠুর তার ছেলের হাসি
Speaker A
ফুটে উঠল। সে বিদ্রুপ করে বলল, ছিলাম তো বেস্ট ফ্রেন্ড। একসময় অনেক ভালো বন্ধু ছিল। সেই বন্ধুত্বের হত্যা নিজ হাতে করেছিস তুই নিহাল। তাই এখন আমার তোকে মারতেও হাত কাঁপবে না। ঠিক যেমন তোর আমাদের বন্ধুত্বকে হত্যা করতে কাঁপেনি। মনভীর কথা শুনে মিহান ভেতরে ভেতরে
Speaker A
ক্ষতবিক্ষত হলেও তা প্রকাশ করল না। বরং শব্দ করে হেসে উঠল। তার রেহেনে কান্দে অবশ্য মনভ অবাক হলো না। ছোটবেলা থেকেই তাদের বন্ধুত্ব ছিল তো। তাই সে মিহালকে যতটা চেনে মিহাল নিজেও নিজেকে ততটা চেনে না। মেহাল নিজের হাসি আয়ত্তে এনে বলল
Speaker A
যখন বন্ধুত্ব ছিল তখন যদি সেই বন্ধুর জন্য মরতে পারি তাহলে এখন না হয় বন্ধুত্ব শেষ হয়ে জন্মে ওঠা শত্রুতা আমি শত্রুর হাতে মরবো। তফাৎ নেই তো কোন মেহালের কথাই বড় ক্ষুন্ন হলো মনভি এত সহজে কি বন্ধুক তো শেষ করা যায় যত সহজে
Speaker A
মিহাল বলল কথাটি কিন্তু সে মুখ ফুটে কিচ্ছু বলল না মনভিকে চুপ থাকতে দেখে মিহাল শান্ত কন্ঠে জিজ্ঞেস করল মিনু আন্টি কেমন আছেন মিহালের কথা শুনে মনভিকে ছোটটা স্বাভাবিক হল তারপর সেও শান্ত কন্ঠে উত্তর দিল আলহামদুলিল্লাহ ভালো আমার সাথে যাই হোক না
Speaker A
কেন মা তোকে খুব ভালোবাসে। সময় করে বাড়ি আসিস। মিহাল যেন এই কথাটি শোনার অপেক্ষায় ছিল। কেবল মাথা নাড়িয়ে মনভর কেবিন থেকে বের হয়ে এল। বের হয়ে বাহিরে থেকে দরজা মিশিয়ে দিল এবং নিজে দরজার সাথে পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে রইল। চোখ বন্ধ করে ঘন
Speaker A
ঘন নিঃশ্বাস নিতে লাগলো এবং যথাসম্ভব নিজের আবেগকে নিজের আয়ত্তে আনার চেষ্টা চালালো। যখন বুঝতে পারলো সে স্বাভাবিক হয়ে গেছে তখন স্বস্তির নিঃশ্বাস ছেড়ে বের করতে লাগলো। নেহাল খান নিজের আয়ত্তে সবকিছু রাখতে পারে এমনকি নিজের আবেগ কেও। কিন্তু পরক্ষণেই আহত কন্ঠে বলল,
Speaker A
আমি না হয় সত্য জানিনা। আমি না হয় সবকিছু শেষ করেছি। কিন্তু চাইলেই তো একবার আমাকে জড়িয়ে ধরে বলতে পারতি। নেহাল আমি কিছুই করিনি। তুই যা জানিস সব মিথ্যে। ট্রাস্ট মি মুন। সকল প্রমাণকে প্রত্যাখ্যান করে কেবল তোর কথা বিশ্বাস
Speaker A
করতাম। কিন্তু তুই কি করলি? আমাদের বন্ধুত্বের উপরে নিজের ইগোকে বেছে নিলি। এক্সপ্লেইন পর্যন্ত করলি না। কথাগুলো বলে মিহা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছাড়লো। তারপর গলাটা ঢিলা করতে করতে বলল। সত্য কখনো লুকানো যায় না। খুব শীঘ্রই আমি সত্যি জেনে ছাড়বো। কিন্তু এইসবের মাঝে যে
Speaker A
আমাদের বন্ধুত্ব নষ্ট হয়েছে তা কখনোই ঠিক হবে না। কথাগুলো বলে বিহাল হসপিটাল থেকে হনহনিয়ে বের হয়ে গেল। অন্যদিকে কেবিনের ভেতর বসে থাকা মুরভ আহত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে দরজার দিকে। তারপর তার ছেলের স্বরে বল ঠিকই তো আগের মতন অধিকার দেখিয়ে পারমিশন
Speaker A
না নিয়ে আমার কেবিনে ঢুকে পড়বিলি। অথচ যাওয়ার আগে একবারও পিছনে ফিরে প্রয়োজন বোধ করলি না। এই ছিল তোর বন্ধুত্ব। সত্য সত্য একদিন ঠিকই প্রকাশ পাবে। কিন্তু তখন অনেক দেরি হয়ে যাবে বিহাল। লীলা আবির এবং ইবাদ মিলে ইরফানার আশির
Speaker A
বাসর ঘর সাজাচ্ছে। বাড়ির সবাই অবাক না হয়ে পারছে না নীলাকে দেখে নীলা মির্জা দরজার ফাঁক দিয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মেয়েকে দেখছে যোগনার অস্ত্রশিক্ত হারিয়ে গেলেন পুরনো স্মৃতির মাঝে অতীত বড় আব্বু দেখো না ইরফান ভাইয়া তার এক বান্ধবীর সাথে কথা বলতে বলতে বাড়ি আসছে
Speaker A
সাত বছরে নীলা নিজের বড় চাচার কাছে এসে উনার ছেলের নামে বিচার দিল নীলার কথা শুনে উপস্থিত সকলে নীলার দিকে দৃষ্টিপাত করল। সেখানে নীলয় মির্জা, ইমরান মির্জা, আকাশ মির্জা সকলের উপস্থিত ছিল। ইমরান মির্জা নিজের ভাইজিকে কাছে টেনে নিজের পাছে বসে
Speaker A
আদরের স্বরে বললেন, কেন? আমার নীলা মা বুঝি কষ্ট হচ্ছে। নীলা মাথা নাড়িয়ে বলল, তুমিই তো বলেছিলে ইরফান ভাইয়ার সাথে আমার বিয়ে দেবে। তাই যাতে বড় হয়ে কখনো অন্য কোন ছেলের সাথে কথা না বলি। তাহলে ইরফান ভাইয়া কেন অন্য মেয়ের সাথে কথা বলবে? কই
Speaker A
আমি তো কোন ছেলের সাথে কথা বলি না। আমি আমার জিনিস আমি আমার জিনিস অন্য কারো সাথে ভাগ করতে পারবো না। আমার মানে সেইটা সম্পূর্ণ আমার। নীলার এমন অধিকারী কথা শুনে সবাই অবাক হয়ে গিয়েছিল। পুরনো কথা মনে পড়তেই নীলার মির্জার চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে
Speaker A
পড়ল। সাত বছরের নীলা তার ইরফান ভাইয়ের সাথে অন্য কোন মেয়েকে দেখতে পারতো না। অথচ আজ 21 বছরের নীলা নিজের হাতে তার ইরফান ভাইয়ের বাসর ঘর সাজাতে ব্যস্ত। এই দৃশ্য নিলয় মির্জা আর বেশিক্ষণ দেখতে পারলেন না। তার মেয়ে যতই শক্ত দেখাক না
Speaker A
কেন নিজেকে কিন্তু ভেতরে ভেতরে যে শেষ হয়ে গেছে তা তিনি বাবা হয়ে বেশ ভালোভাবে বুঝতে পারছেন। চোখের পানি মুছে নিজের ঘরের দিকে পা বাড়ালেন। বরণ হবার পর যে তিনি সে নিজের রুমে ঢুকেছিলেন একমাত্র। এরপর মাত্র বের হলেন মেয়ের খোঁজে। এখন মেয়েকে শক্ত হয়ে
Speaker A
থাকতে দেখে তিনি আরো বেশি ভেঙে পড়লেন। আর মেয়ের সামনে নিজের ভেভেজাও রূপ প্রকাশ করতে চান না বলে আপনার নিজের রুমে চলে গেলেন। পুরো রুম জবাফুল দিয়ে সাজালো নীলা। টুকটুকে লাল রঙের জবাফুল নীলার খুব পছন্দ। কিন্তু ইরফান জবাফুল পছন্দ করত না বলেই সে
Speaker A
নিজের পছন্দকে বিসর্জন দিয়েছিল কোন এক তালে। আজ সে নিজের হাতে ইরফানের বাসরঘর জবাফুল দিয়ে সাজালো। সাথে নীল রঙের জালি কাপড় যাতে ইরফানের মনে হয় এটা তার বসর ঘর না বরং সাজা পাওয়ার ঘর আবিরার নিবাত নীলার সাথে দাঁড়িয়ে পুরো রুম ভালো করে
Speaker A
চোখ বোলায় আবিরার বুকে মোচর দিয়ে উঠল আর এখানে তার বোনের থাকার কথা ছিল অথচ নিয়তির পরিহাসের ফলে তার বোন এইরুম সাজালো মুখ দিয়ে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছেড়ে তারপর নিলুর উদ্দেশ্যে বলল সাব্বাস নিলু সাব্বাস এ না হলে আমার বোন এবার বলে উঠলো
Speaker A
আয়নাঘরের দিন শেষ বাসরঘরকে সাজাঘরে পরিণত করে হলো বাংলাদেশ আবির শব্দ করে হেসে উঠল ইবাদের কথা শুনে নিলা বাকা হাসল তারপর বলল এখন সবাই জায়ার রুমে গিয়ে তৈরি হয়ে আসো বাসর ঘরে ঢুকতে দেওয়ার আগে পরের কাছ থেকে টাকা নিতে হবে তো
Speaker A
আবেগ আরেক দফা অবাক হল নীলার কথা শুনে আজ যেন অবাক দিবস। কিন্তু কিছু না বলে আবিরা নিজেদের ঘরে চলে গেল। নীলা একবার চোখ বুলিয়ে নিল ঘরটাতে। চোখের কোণে তার জল জমেছে খানিকটা। নলা রুমে থাকা ফুলগুলোতে আলত করে হাত বুলিয়ে আহত কন্ঠে বলল,
Speaker A
আমায় কেন ধোকা দিলে ইরফান ভাই? আমি কি দোষ করেছিলাম? আমার সত্যিকারের ভালোবাসার এত বড় পুরস্কার না দিলেও পারতে। কোন কুনজর নেই তোমার নতুন সংসারের প্রতি আর না আছে কোন অভিশাপ কিন্তু তোমরা আমাকে এমনভাবে ভেঙে দিয়েছো যে এখন আমি নতুন
Speaker A
নীলা হয়ে জন্মেছি কিন্তু আমার মনের ভালোবাসা বিশ্বাস অনুভূতি এগুলো আর কখনো কারোর জন্য জন্মাতে পারবে না আমাকে এমনভাবে না ভাঙলেও পারতে কথাগুলো বলতে বলতে নীলার চোখ দিয়ে অস্ব গড়িয়ে পড়ার আগে নীলা উপরের দিকে তাকালো চোখের পানি চোখে রয়ে গেল তারপর নিজেকে কে
Speaker A
স্বাভাবিক করে বলো তোমরা যদি ভেবে থাকা আমি পাঁচ 10 টা ন্যাকা মানুষের মতো বলবো অথচ আজও লাশ তার খুনিকে ভালোবেসে তাহলে তোমরা ভুল ভাবছো খুনের বদলে খুন করবো না বরং তোমাদের করা খুনের প্রতিশোধ নিব কথাটি বলে বাঁকা হেসে রুম ত্যাগ করল নীলা
Speaker A
পুরো মির্জা বাড়ি আজ থমথমে ইরফান আরসিম ইমরান মির্জার রুমে দাঁড়িয়ে আছে ইরফানের মা তো ছেলের দিকে তাকিয়েও দেখছে না। ইমরান খান নিজের ছেলের উদ্দেশ্যে আবার বলে উঠলেন, লজ্জা করলো না এমন নিচু কাজ করতে? বিয়েতে মজ ছিল না। তাহলে কেন মেয়েটির মন নিয়ে
Speaker A
খেললে? গায়ে হলুদের দিন কেন হাসতে হাসতে আনন্দ করলে? আর বিয়ের দিনেই কেন এমন কাজ করলে? একটা মেয়ের জন্য তার বিয়ের দিন বিয়ে ভেঙ্গে যাওয়ার কতটা অপমানজনক? তা কি তুমি জানো? অবশ্য তুমি কি করে জানবে?
Speaker A
তোমার তো নিজেরই কোন মান নেই বাবা ইরফান ডাকটি বলতে ইমরান খান ছেলেকে চুপ করিয়ে দিয়ে বলল আমাকে বারবার বাবা ডেকে মনে করিয়ে দিও না যে আমি তোমার মত কুলাঙ্গারকে জন্ম দিয়েছি যখন বেকার ছিলে তখন নীলা তোমার পাশে ছিল
Speaker A
আজ তুমি যতটুকু তার পেছনে কেবল রয়েছো নীলা আর তুমি সেই নীলা কেই এখন প্রত্যাখ্যান করল নীলাকে কে প্রত্যাখ্যান করার যোগ্যতা কি আদৌ আছে তোমার মাঝে ইরফান প্রতিউত্তরে বলার মত কিছু খুঁজে পেল না ইমরান মির্জা এবার নিজের পুত্রবধুর দিকে তাকিয়ে শান্তক কন্ঠে বললেন
Speaker A
যেখানে নিজের ছেলে দোষী সেখানে তুমি পরের মেয়ে তোমাকে আমি দোষারোপ করবো না কিন্তু একটা কথা মাথায় রাখবে যেই জায়গায় নীলা আমার ছেলেকে সাফল্যতা পেতে সাহায্য করেছে সেই জায়গায় আমার ছেলে নীলাকে ছেড়ে দিয়েছে তুমি তুচ্ছ নিলার সামনে ইমরান মির্জার কথা বেশ বিদল আরশির গায়ে সে
Speaker A
যে না মুখ খুলে কিছু বলতে নিবে তার আগে ইরফান তার হাতে চেপে ধরল ইমরান মির্জা তাতে উভয়ের উদ্দেশ্যে বলল যাও এখন নিজেদের ঘরে যাও ইরফান আরসি নির্লজ্জাদের মত ইমরান মির্জা রুম থেকে বের হয়ে গেল আস্তে আস্তে এগিয়ে যেতে লাগলো ইরফানের ঘরের দিকে ইরফান নিজের
Speaker A
ঘরের সামনে যেতেই গান শুনতে পেল কোন এক মেয়ে কন্ঠের নীলা ইরফানের ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে আছে তার একপাশে আবির এবং অন্যপাশে ইবা দাঁড়িয়ে আছে নীলার পরণে তার নীল শাড়ি এবং সাথে ম্যাচিং করা চুরি এবং জুয়েলারি নীলের হাতে রক্তজবা ফুল সে
Speaker A
রক্তজবা ফুলে হাত বোলাতে বোলাতে গান গাইল হাতে চুরি ছামছাম বাজে বসে না মন কোন কাজে প্রেম আসে যায় বনে তোকে না পাওয়ার কারণে দরজার সামনে থেকে সর তোরা ইরফান করো কন্ঠে বল নীলা ইরফানের চোখে চোখ রেখে বল কেন ভাইয়া আমাদের পরিবারের নিয়ম ভুলে
Speaker A
গেছো নাকি কারোর বিয়ে হলে ছোটরাই তো বাসর ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে থাকে টাকা নেয়ার জন্য কত কষ্ট করে আমরা তোমাদের বাসর ঘর সাজালাম এইটা তো আমাদের প্রাপ্তি নীলার কথা শুনে ইরফান এবং আরশি একসাথে সে অবাক হয়। তাদের বাসর ঘর নীলা সাজিয়েছে।
Speaker A
আর সে নিজেকে দমিয়ে না রেখে বলে উঠে তুই নিজ হাতে আমাদের বাসর ঘর সাজিয়েছিস?
Speaker A
নীলা স্মৃত হেসে জবাব দিল। কেন নয় ভাবি? এই [মিউজিক] এতটুকু তো করাই যায়। নীলার এমন সম্পর্ক রক্ষাজনক ডাক শুনে আরশি অবাক হয়। যেমন ঠিক তেমনি নীলাকে কষ্ট পেতে না দেখে ভেতরে ভেতরে রাগে জ্বলে উঠল। ইরফান এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে নীলার
Speaker A
দিকে। পরণে তার নীল রঙের শাড়ি। এই রং নীলার খুব পছন্দের। কিন্তু ইরফানের অপছন্দ বলে নীলা এই রঙের জিনিসপত্রে ধারির কাছেও যেত না। অথচ আজ সেই নীলা তার পছন্দকে উপেক্ষা করে নিজের পছন্দের কাজ করল। ইরফানের কাছে যেন এই নীলা অচেনা। ইরফান
Speaker A
রাগী কন্ঠে বলল, নীলা তোকে না বলছিলাম আমার নীল রং পছন্দ না। তাহলে এই রঙের শাড়ি কেন পড়ছিস?
Speaker A
নীলের কন্ঠে তার ছেলের হাসি ফুটে উঠলো। সে ইরফানের চোখে চোখ রেখে বলল, আমি কেন তোমার পছন্দ অপছন্দের খেয়াল রাখবো? তোমার বউ আছে তাকে বরং বল নীল রঙের জিনিস থেকে দূরে থাকতে। নীলার কথা শুনে ইরফান স্তব্ধ হয়ে গেল। নীলা কখনো তার মুখের উপর এভাবে কথা বলেনি।
Speaker A
নীলার কথা শুনে আর সে তৎক্ষণাৎ বলে উঠলো। না বাবা। আমার নীল রং অনেক পছন্দ। আমি কারোর জন্য নিজের পছন্দ বিসর্জন দিতে পারবো না। আর আমি ভীষণ ক্লান্ত। তোমাদের যা নেওয়ার আছে তা নিজেদের ভাইয়ের কাছ থেকে নাও। আমি রুমে গেলাম।
Speaker A
কথাগুলো বলি আসি নীলা। রিবাদের মাঝে রুমে চলে গেল। ইরফান এখনো স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কই নীলা তো কখনো এভাবে বলেনি যে সে নিজের পছন্দকে বিসর্জন দিতে পারবে না। অথচ আরশি কত সহজেই কথাগুলো বলে ফেলল। এ মুহূর্তে যদি আরশির জায়গায় নীলা
Speaker A
থাকতো তাহলে কখনোই ইরফানকে এভাবে ছেড়ে চলে যেত না। বরং বলতো আমিও যেমন ক্লান্ত আমার ইরফান ভাইও তেমন ক্লান্ত। ওকে কেউ বিরক্ত করো না। ইরফান নিজের চিন্তায় মগ্ন ছিল। তখনই আবির বলে উঠলো, ভাইয়া রুমে গিয়ে চিন্তাভাবনা করো। আপাতত আমাদেরকে টাকা দাও।
Speaker A
ইরফান নড়ে জড়ে উঠলো আবিরের কথায়। সে ভীষণ ক্লান্ত এবং বুকের মাঝে এক অজানা শূন্যতা অনুভব করছে। তাই আর কথা না বাড়িয়ে জিজ্ঞেস করল, কত টাকা?
Speaker A
আবিরার ইবাদত দাঁত বের করে হাসি দিয়ে বলল বেশি না মাত্র 10000 ইরফান পকেট থেকে টাকার বান্ডিল বের করে চেক করে দেখলো তার কাছে আছে কেবল 7000 টাকা নীলা বাকা হেসে বলল ভাইয়া এর থেকে বেশি তো আমার কাছে আছে যাই
Speaker A
হোক এগুলোই দাও আমার আমরা ম্যানেজ করে নিব ইরফানকে ছোট লজ্জা পেল নীলার কথায় আগে অনেক টাকা নিয়েছে নীলার কাছ থেকে কিন্তু কখনো লজ্জা পায়নি কিন্তু আজ পাচ্ছে ইরফান নীলার দিকে টাকাগুলো এগিয়ে দিতে নীলা আবিরকে উদ্দেশ্য করে বলল ভাইয়া টাকাগুলো নিয়ে ছাদে আসো আমরা
Speaker A
আড্ডা দিই কথাটি বলে নীলা জবাফুল কানের পেছনে গুঁজে সামনের দিকে এগিয়ে গেল ইরফান আহত দৃষ্টিতে কেবল চেয়ে রইল নীলার পানে ভাবল হয়তো নীলা অন্তত একবার পিছনে ফিরবে কিন্তু নীলা শুধু ছাদের দিকে চলে গেল মায়ের কোলে মাথা রেখে শুয়ে আছে মিহাল।
Speaker A
ইশরাতুল ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বললেন, কি হয়েছে বাবা? মিহল আহত কন্ঠে বলল, মিনু আন্টির কথা মনে পড়ছে। ইসরাতুল ঠিক বুঝতে পারলেন ছেলে তার মিনু আন্টির জন্য না বরং মিনু আন্টির ছেলে মনভর জন্য কষ্ট পাচ্ছে। কিন্তু মিনুর কথা শুনে
Speaker A
তার মনে পুরনো স্মৃতি জাগ্রত হল। অবশ্য এগুলো সে কখনোই ভোলেনি। মেহান মায়ের নীরবতার কারণ উপলব্ধি করতে পেরে বলল, তোমার ছেলের উপর ভরসা রাখো মা। আমি সব ঠিক করে দেবো। ইসরাতুল কিছু বলল না। কেবল ছেলের মাথায় হাত গুলিয়ে দিতে দিতে নীরবে চোখের জল
Speaker A
ফেলল। বাসর ঘরে ঢুকতেই ইরফানের যেন জানায় যায় অবস্থা। পুরো রুম জবা ফুল দিয়ে সাজানো সাথে নীল রঙের জারি কাপড়। আর সে এতখানি পরণের লাল রঙের শাড়ি খুলে ইরফানের শার্ট এবং ট্রাউজার পড়ে বসে আছে। তার খেয়ালই নেই যে এই রুমে তার স্বামী ঠিকমত দম নিতে
Speaker A
পারবে না। ইরফান আরশিকে কিছু বলতে যাবে তার আগে আরশি বলে উঠল ওহ কামন ইরফান। আজ কিছু হবে না। আমি অনেক ক্লান্ত। আর এমনিতেও তোমাদের বাড়ি আসার পর থেকে আমার পরিবার কম কথা শোনায়নি আমাকে। আজকে রাতে কিছু হবার আশা করো না।
Speaker A
আর এমন তো নয় যে আমাদের মাঝে কখনো কিছু হয়নি। এসব তো অনেক আগেও অনেকবার হয়েছে। তাই আমাকে এখন ঘুমাতে দাও। কথাগুলো বলে আসি বিছানায় শুয়ে বল গায়ে কমফর্টার জড়িয়ে। ইরফান রাগে দুঃখে গজগজ করতে করতে রুম থেকে বেরিয়ে ছাদের
Speaker A
উদ্দেশ্যে চলে গেল। তার রাগ মূলত আরশীর উপর কিন্তু নীলার উপর আসে তার সকল রাগ ছাড়বে। নীলা আবিরা নিবাদ মিলে ছাদে চেয়ার নিয়ে বসে আড্ডা দিচ্ছিল এবং আইসক্রিম খাচ্ছিল। এমন সময় ইরফান রাগে গজগজ করতে করতে ছাদে এল এবং নীলার হাত
Speaker A
থেকে আইসক্রিম কেড়ে নিয়ে মেঝেতে ফেলে দিল। তারপর দাঁতে দাঁত চেপে বলল, তুই চাস না আমি বাসর করি। তাই ইচ্ছে করে এমন করছিস তাই না?
Speaker A
ইরফানের কাজ দেখে আবির রেগে গেল। ইবাদত কেবল নীরব দর্শকের মত সবকিছু দেখতে লাগল। নীলা শব্দ করে হেসে উঠল। তার হাসি শুনে সবাই অবাক। নীলা হাসতে হাসতে বলল। তোমার বাসর করা নিয়ে আমার কোন সমস্যা নেই। ইরফান ভাইয়া। এখন তুমি আমার বেস্ট
Speaker A
ফ্রেন্ডের সাথে বাসর করবে নাকি রাস্তার কুকুরের সাথে সেটা নিয়া। সেটা নিতাম তোই তোমার ব্যাপার। নীলার কথা শুনে ইবাদ আর আবির শব্দ করে হেসে উঠলো। আর ইরফান আবারও স্তব্ধ হয়ে গেল। সে যেন এ নীলার রূপ ফতে অজ্ঞাত। সূর্যের তীব্র আলো জানালার পর্দা ভেদ করে
Speaker A
চোখে আসতেই নীলার ঘুম হালকা হয়ে যায়। রাতে ছাদ থেকে এসে কাপড় চেঞ্জ করে বিছানায় গায়ে লিয়ে দিতেই ঘুম এসে তার চোখে ভর করে। আস্তে আস্তে বিছানায় উঠে বসল নীলা। চোখ ডলে কিছুক্ষণ এভাবে ঝিম মেরে বসে রইল। ঘরের দিকে তাকিয়ে দেখল
Speaker A
কেবল নটা বাজে। এমনিতে নিলা ভোরে উঠে নামাজ আদায় করে সবসময়। কিন্তু কাল এত থাকল গেল তারপর দেরি করে ঘুমিয়েছে। সেই হিসেবে খুব তাড়াতাড়ি উঠে পড়েছে সে। হায় তুলতে তুলতে বিছানা ছেড়ে নেমে কাভার থেকে কাপড় নিয়ে সোজা ওয়াশরুমে চলে গেল।
Speaker A
একদম স্বয়নে রুম থেকে বের হবে সে। লায়লা ইসলাম রুটি বেলছেন। তার পাশে দাঁড়িয়ে তাই রুটি শেখছেন তার বড় যা ইরিন এবং পাশের চুলে সবজি রান্না করছেন তাদের ছোটজা রুবিনা আক্তার। তিনজা আপন তিন বোনের মতন। তাদের মাঝে যেমন ভালোবাসা আছে
Speaker A
তেমনি মনোমালিন্য আছে। কিন্তু নিজের সমস্যায় নিজেরাই মিটিয়ে নেন। শ্বশুর মশায় নীলার জন্মের আগেই মারা যান। এবং শাশুড়ি মারা যান যখন নীলার বয়স ছিল কেবল চার। শাশুড়ির ইচ্ছা ছিল নীলাকে নিজেদের মাঝে বিয়ে দেবেন। তাই মৃত্যু সজ্যায় থাকা অবস্থায় আরজে জানিয়ে যান যে
Speaker A
ইরফানের সাথে যেন নীলার বিয়ে দেওয়া হয়। এবং পরিবারের সবাইতে দ্বিমত পোষণ করেন না। এরপর থেকে ইরফানকে বলে দেওয়া হয়েছিল যে নীলা বড় হলেই নীলার সাথে তার বিয়ে দেওয়া হবে। ইরফানের বয়স ছিল তখন কেবল 10। এ সম্পর্কে অনেকটা ধারণা ছিল। তাই সেও
Speaker A
রাজি হয়ে যায়। নীলার যখন জন্ম হয় তখন সে ছিল ধবধবে সাদা। কিন্তু বেশিরভাগ সময় অসুস্থ থাকার কারণে আস্তে আস্তে গায়ের রং উজ্জ্বল সামলায় আসে এবং পরবর্তীতে এত শরীরের যত্ন নেয়া হয়নি তার। কিন্তু মা এতো মুখেই রয়ে যায়। ইরফান ছোট থেকে
Speaker A
ছোটবেলা থেকে নীলাকে খুব যত্ন রাখত। ইরফান নীলাকে একবার বলেছিল যে নীলা বড় হলে নীলাকে সে বিয়ে করবে। তখন নীলার বয়স ছিল কেবল ছয় বছর। বিয়ে মানে বুঝতো খাওয়া-দাওয়া নতুন কাপড়। ঠিক যেমন তার পুতুলের বিয়ে হয়। তখন সে ছোট্ট নীলা
Speaker A
ইরফানকে বলেছিল, ইরফান ভাইয়া, আমি তোমার পুতুল বউ হব এবং তুমি হবে আমার পুতুল জামাই। নীলার এমন কথা সবাই শুনে হাসলেও ইরফান খান খুব রাগারাগি করেছিলেন। নিজের ছেলের সাথে। তার আগের কারণ সবাই জানতে চাইলে তিনি প্রতিউত্তরে বলেছিলেন আমি চাইতাম না নীলা এসব সম্পর্কে জানুক সে
Speaker A
খুবই ছোট এবং নিষ্পাপ এখন তাকে যা বলা হবে সে তাই মনে রাখবে ভবিষ্যতেও যদি ইতি বিপরীত হয় তাহলে ওর নিষ্পাপ মন ভেঙ্গে যাবে তখন অবশ্য সবাই সান্ত্বনা দিয়েছিলেন এমন কিছু হবে না এই সকল চিন্তায় এতটাই মশগুল ছিলেন ইরিন যে তাও থাকা রুটি পড়ে যাচ্ছিল
Speaker A
তাতে তার কোন হেলদল নেই লায়লা ইসলাম তা লক্ষ্য করে রুটি বলা রেখে সঙ্গে সঙ্গে চুলা নিবে দিয়ে চিন্তিত স্বরে বললেন এই ভাবি কি হয়েছে তোমার কোন চিন্তায় মগ্ন ছিলে তুমি রুটি তো পুড়ে কয়লা হয়ে গেল লায়লা ইসলামের কথা শুনে রুবিনা আক্তার
Speaker A
চুলের আজ কমিয়ে তাদের দুজনের দিকে মুখ করলেন ইরিনা আক্তার হুশ ফিরতে টুকরে কেঁদে উঠলেন তাকে হঠাৎ এভাবে কাঁদতে দেখে দুই মিলে ব্যস্ত হয়ে উঠলেন। একজন তার মাথায় হাত বলিয়ে তাকে থামানোর চেষ্টা করছে তো আরেকজন তার পিঠে হাত বলিয়ে থামানোর
Speaker A
চেষ্টা করছে। ইরিন আক্তার কাঁদতে কাঁদতে বললেন উনি এই ভয়টাই পাচ্ছিলেন তা এখন সত্যি তো পরিণত হল। আমার নিষ্পাপ নিল নিষ্পাপ মন ভেঙে গেল। কথাগুলো বলে আবার কান্নায় ভেঙে পড়লেন। তার বলা কথাগুলো শুনে লায়লা ইসলাম ও রুবিনা আক্তার দুজনের চোখে অশ্রুশিক্ত
Speaker A
হয়ে গেল। কিন্তু পরক্ষণেই লাইলা ইসলাম নিজেকে সামনে বরজাকে ভরসা দেওয়ার জন্য বলল, আমার মেয়ে কি এতটাই দুর্বল নাকি? তার মাঝে যে আমি মিনু আপুর ছায়া দেখতে পাই। এত সহজে ভেঙে পড়ার মত মেয়ে আমাদের না নিলা। তার মাঝে যে মির্জা বংশের রক্ত
Speaker A
চলাচল করছে। তাহলে আমরা কান্নাকাটি করে কেন আমাদের মেয়েকে অপমান করব? লায়লা ইসলামের কথা শুনে ইরিন আক্তার চোখের মানিক পানি মুছে ফেলল। তারপর ঠোঁটে হাসি বজায় রাখার চেষ্টা করে বললেন, ঠিকই বলেছিস তুই। আমাদের মেয়ে তো কোন দোষ করেনি। তাহলে সে কেন কষ্ট পাবে? আমি পরের
Speaker A
মেয়েকেও দোষারোপ করব না। সব দোষ আমার নিজের ছেলে। যে নিজের জীবন নিজের হাতে নষ্ট করেছে। তার পাপের ফল সে ঠিকই পাবে। রুবিনা আক্তারও বড় দুইজয়ের কথায় সাই দিয়ে বললেন হয়েছে। এখন তাড়াতাড়ি রান্না করো তো। এমনিতেই দেরি হয়ে গেছে। সবারই তো ক্ষুদা
Speaker A
লেগেছে। আর তোমার ছেলে আর তার বউকেও তো দেখছি না। ইরিন আক্তার আবার চুলা ধরে রুটি শেখতে শেখতে বললেন, তাদের জীবন তারা বুঝে নিবে। তাদের নিয়ে আমার মাথা ব্যথা নেই। নিজের কেবিনে বসেছিল মেহাল। দরজায় নক শুনতেই আসার অনুমতি দিল। দরজা খুলে ভেতরে
Speaker A
প্রবেশ করল লিসা। পুরো নাম তার লিসা কায়নাত। সে এই ইউনিভার্সিটির একজন স্টুডেন্ট। অনস্থীতি বসে অর্থনীতি নিয়ে পড়ছে। তার বাবা মিস্টার ইমন কায়নাত ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক। বলতে গেলে ইউনিভার্সিটিতে তার মন মর্জিত হয় অনেক কিছুই। সে আবার মিহালকে পছন্দ করে। মিহাল
Speaker A
যখন প্রথমবার তাদের ক্লাস করিয়েছিল তখনই সে মিহালকে দেখে ক্রাশ খেয়েছিল। এরপর থেকে ক্লাসেই যে মেয়ে মিহালের দিকে তাকাতো সেই তাদের হুমকি দিত। কিন্তু তার আফসোস একটাই মেহাল তার দিকে কখনোই তাকাতো না। দেখতে সে যথেষ্ট সুন্দরী। গায়ের রং লাল
Speaker A
সুন্দর কোমর সমান চুল লেয়ার কাটিং করা। লালচে চুল সূর্যের আলোকে চিকচিক করে। ইউনিভার্সিটির সকল ছেলে তার পেছনে ঘুরে। মেহাল টেক্সের উপর রাখা কম্পিউটারে কিছু করছিল। তাই তার সামনে কে এসেছে তা সে চোখ তুলে দেখার প্রয়োজনবোধ করল না। লিসার
Speaker A
পরণে কালো শর্ট স্কার্ট এবং সাদা শার্ট। শার্টের প্রথম দুই দুটো প্রথম খোলা। শার্টে গায়ের সাথে একদম ফিটিং হয়ে লেগে আছে। লিসা একদম মিহালের ডেক্সের সামনে এসে দাঁড়ায়। মিহা তাকে চোখ তুলে না দেখাই সে মনে মনে রেগে যায়। কিন্তু নিজের কন্ট্রোল
Speaker A
করে মিষ্টি সুরে বলতে শুরু করল। স্যার আই এম লি লিসা নিজের কথা সম্পূর্ণ করার আগে মিহাল নিজের পৌরশালী গম্ভীর কন্ঠে বলল আইম নট ইন্টারেস্টেড ইন ইউর নেম জাস্ট টেলার মেহালের এমন রো আচরণে গা জ্বলে উঠল লিসার সে কিছু না বলেই হনহনি রুম থেকে বের হয়ে
Speaker A
গেল মেহাল একবার তাকিয়ে দেখারও প্রয়োজন মনে করল না বাড়ির সকল পুরুষরা খাওয়া করে বের হয়ে গেছে বাড়ি থেকে এখন বাড়ির মহিলারা এবং মেয়েরা বাকি নীলা গোসল করে ছাদে চলে গিয়েছিল কিন্তু ছাদে গিয়ে দেখল ইরফান ছাদে থাকা ছোট্ট চৌকি যেটাতে যেখানে
Speaker A
মূলত সবাই বসে আড্ডা দেয় সেখানে শুয়ে ঘুমাচ্ছে আর শীতে কাঁপছে কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে নীলার বিন্দুমাত্র খারাপ লাগলো না নীলা যতই বাহিরে থেকে শক্ত থাকুক না কেন মন তার খুবই নরম এমত অবস্থায় যে কোন মানুষকে দেখলেই তার খারাপ লাগতো আর
Speaker A
সেই জায়গাতেও তার প্রিয় প্রাণপ্রিয় ইরফান যার জন্য সে কোন এক সময় নিজের জান দিয়ে দিতে প্রস্তুত ছিল। কিন্তু নীলার মন মানসিকতা অনেকটাই ভিন্ন। যাকে ভালোবাসবে তার কাছ থেকে ভালোবাসা না পেলেও তার জন্য সে অনেক কিছু করতে রাজি। কিন্তু যদি নিজের
Speaker A
সবথেকে ভালোবাসার মানুষের কাছ থেকে একবার আঘাত পায় তাহলে তার দিকে ফিরে তাকাতেও সে রাজি না। এখন যেমন ইরফানের জন্য তার বিন্দুমাত্র কষ্ট হচ্ছে না। ছাদে না থেকে আবার নিজের ঘরে চলে আসলো। বারান্দায় টাও শোকাতে দিয়ে কিছুক্ষণ সেখানে দাঁড়িয়ে রইল।
Speaker A
নিজেকে এমন শক্ত থাকতে দেখে নিজেকে নিজেই প্রশ্ন করলো। ওই আমার তো বিন্দুমাত্র কষ্ট হচ্ছে না। আফসোস হচ্ছে যে নিজের মূল্যবান সময়ে মূল্যহীন অনুভূতি ভালোবাসা প্রতারকদের জন্য নষ্ট করেছি। কিন্তু একটু কষ্ট হচ্ছে না ধোকা পেয়ে। বরং নিজেকে ভাগ্যবতী মনে
Speaker A
হচ্ছে। কারণ প্রতারকদের আমি চিনতে পেরেছি। এবং এর সাথে সাথেই মানুষকে ভালোবাসা কিংবা বিশ্বাস করার সাহস হারিয়ে ফেলেছি। কথাগুলো বলে নীলা একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছাল। চুল শুকিয়ে মুখে ক্রিম। শরীরে রোশন লাগিয়ে মাথায় ঘুমটা দিয়ে নিচে চলে গেল। সে বরাবরই শালীনভাবে চলতেই পছন্দ করে। তার
Speaker A
মাথায় চুল বের করে মানুষকে দেখে হাঁটলেই সেটা স্টাইল হয়ে যায় না। গতকাল রাতেও তো শাড়ির সঙ্গে ম্যাচিং করে হিজাব পড়েছিল। এবং বিয়ের দিনেও হিজাব না পড়লেও মাথায় ঘুমটা দিয়েছিল। নীলা আস্তে আস্তে রুম থেকে বের হয়ে নিচে চলে গেল। ইরফানের ঘুম
Speaker A
ভাঙলো ইবাদের ডাকে। ইবাদত ছাদে এসে নিজের বড় ভাই ঠিক হয়ে শুয়ে থাকতে দেখে হাসলো। তারপর বলল ঠিকই আছে। রাজকন্যাকে রেখে যদি শাকচুন্নিকে বিয়ে করা হয় তাহলে কপালে ছাদে থাকাই লেখা আছে। কথাগুলো বলে নিজের ভাইকে ডাকতে লাগলো। ইরফান আস্তে আস্তে উঠে বসল। মাথা তার ভার
Speaker A
হয়ে আছে। ঠিকমত ঘুম হয়নি রাতে। তার উপর আবার রাতে শীত লেগেছিল ভীষণ। ইবাদত ভাইয়ের এমন অবস্থা দেখে খোঁচা দিয়ে বলল, যেমন কর্ম তেমন ফল। বলেই ছাদ থেকে নামার জন্য দৌড় দিল। ইরফান কিছু বলল না। কেবল দীর্ঘ নিশ্বাস ছাড়লো।
Speaker A
কাল নীলার বলা কথায় সে ভীষণ আঘাত পেয়েছিল। তার নীলা কখনোই তাকে আঘাত দিত [মিউজিক] না। সে ছোটবেলা থেকেই যদি সে ব্যথা পেত তাহলে তার কষ্ট দেখে নীলা কান্নাকাটি করতো। তার জ্বর হলেই তার মায়ের সাথে নীলাও সারারাত জেগে তার সেবা
Speaker A
করত। ছোট ছোট হাত দিয়ে মাথা টিপে দিত। অথচ কাল এমনভাবে অপমান করার পর একবারও তার দিকে না তাকিয়ে ছাদ থেকে হনহ নিয়ে চলে গেল। আর যাকে বিয়ে করে এনেছে সে একবারও তার খোঁজখবরও নিল না। ইরফান আর বসে না
Speaker A
থেকে নিজের রুমের উদ্দেশ্যে চলে গেল। নিজের ঘরে গিয়ে দেখল আর সে নীলার এক জামা পড়ে বসে বসে পিছনে ফোন চালাচ্ছে। ইরফানকে একবার দেখে তারপর আবার ফোনে মনোযোগ দিল। একবারও জিজ্ঞেস করল না সে সারারাত কোথায় ছিল। ইরফান আরশির সামনে গিয়ে জিজ্ঞেস করল।
Speaker A
নীলা জামা তুমি কেন পড়ছো? আসি নির্বিঘ্ন ভঙ্গিতে বলো বিয়ে করার সময় তো আর কোন কাপড় নিয়ে আসিনি আর তোমার শার্ট পড়ে তো আর সবার সামনে যেতে পারবো না তাই নীলার রুম থেকে গিয়ে কাভার থেকে জামা বের করে নিয়ে এসে পড়ে
Speaker A
ফেলেছি তার সবকিছু তো আমার জানা ইরফান অবাক হলো তারপর বলো নীল অনুমতি নিয়েছো আসি হেসে উঠল তারপর বলল নীলাকে ঠকিয়ে আমার কাছে আসার সময় তুমি কি একবারও নীলার অনুমতি নিয়েছিলে ইরফান স্তব্ধ হয়ে গেল তার ভেতর দিয়ে এক ঝড়
Speaker A
বয়ে গেল ভেতরটা কেমন খা করে উঠল প্রতিউত্তরে কিছু বলার জন্য খুঁজে পেল না তাই আর কথা না বলে কাবার থেকে নিজের কাপড় নিয়ে সোজা ওয়াশরুমে চলে গেল ডাইনিং টেবিলে বসে নীলা আবির আর ইবা তিনজন মিলে খাবার খাচ্ছে ইব নিচে এসেই সবার সামনে বলে দিল ইরফান
Speaker A
কাল সারারাত ছাদে কাটিয়েছে। কথাটি শুনে সকলেই নীলার দিকে দৃষ্টিপাত করল। কিন্তু নীলা নিজের মত খাবার খাচ্ছিল। এমন ভাব করছিল যেন সে কিছুই শোনেনি। অথচ কিছুক্ষণ আগে সে নিজ চোখেই দেখে এসেছিল। সবাই নীলরা ঠান্ডা ব্যবহার দেখে নিশ্চিত হলো যে তাদের
Speaker A
মেয়ে অনেক আগে নিজেকে সামনে নিয়েছে। তাই কেউ আর এই বিষয়ে কোন কথা বলো না। সিঁড়িতে দিয়ে নবদম্বত্তি নেমে আসছে। কেউ তাদের দিকে তাকিয়ে দেখার প্রয়োজন মনে করল না। সবাই মিলে একসাথে খেতে লাগল। ইরফান এসে নীলার সামনাসামনি বসল। দৃষ্টিতা
Speaker A
নীলার দিকে আটকে আছে। আর সে ইরফানের পাশের চেয়ারে বসল। ইবাদত খেয়াল করল। আর সে নীলার জামা পড়েছে। যা তার মোটেও পছন্দ হলো না। তাই আশির দিকে ভ্রুতচরা কুচকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল এই মহিলা আপনি আমার নীল আপুর জামা কেন
Speaker A
পড়েছেন? আসি ঠিক পছন্দ হলো না ইবাদের তাকে মহিলা বলে সম্বোধন করায়। কিন্তু সবার সামনে নিজেকে যথাসম্ভব স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করল। ইবাদের কথায় সবাই আরশির দিকে তাকালো। এমনকি নিলা নিজেও আসির পরণ তারকে সবথেকে পছন্দের ড্রেস দেখে তার ছেলের হাসি
Speaker A
ফুটে উঠলো তার মুখে আসি নেকামি করে বলল বারে আমি কি আমার বেস্ট ফ্রেন্ডের জামা পড়তে পারি না আর নীলার এই ড্রেসটি আমার খুব পছন্দ হয়েছে আর সম্পর্কে তো সে এখন আমার ননদ হয় এবং আমি নিজের কোন ড্রেস আনি
Speaker A
ন মুচকি হেসে বল কেন নয় ভাবি অবশ্যই তুমি পারো আর তাছাড়াও সব সময়ের মত তোমার নজর আমার ব্যবহার করা প্রিয় জিনিসের প্রতি রয়ে গেল এখন যদি তোমার সেকেন্ড হ্যান্ড জিনিস নিতে সমস্যা না হয় তাহলে আমারও তোমাকে দান করে নিতে কোন সমস্যা নেই সেকেন্ড
Speaker A
[মিউজিক] হ্যান্ড জিনিস আবার আমার স্ট্যান্ডার্ড এর স্ট্যান্ডার্ডের সাথে যায় না তুমি বরং তোমার কাছে রেখে দাও লিডার এবার কথায় আরশির মুখ চুপসে গেল। উপস্থিত সবাই মিটিমিটি করে হাসলো। কেবল অবাক নয়নে ইরফান নীলার দিকে তাকিয়ে রইল। তার জানামতে আরশি নীলার সবথেকে কাছের।
Speaker A
নীলা আরশির জন্য নিজের অনেক পছন্দের জিনিস বিসর্জন করেছে। কেউ যদি আরশির দিকে চোখ তুলে তাকিয়ে কথা বলেছে তাহলে নীলা তার প্রতিবাদ করেছে। অথচ আজ নীলা নিজের আরশিকে সকলের সামনে অপমান করল। সবাই আবার খাবার খেতে মনোনিবাস করল। এর মাঝখানে নীরবতা
Speaker A
ভেঙ্গে ইবাদত বলল জানো নীলা আপু আমার একটা গান মনে পড়ে নীলা ইবাদের দিকে তাকালো এবং মিষ্টি সুরে জিজ্ঞেস করল কোন গান ইবাদত সুর দিয়ে গাইতে লাগল
Topics:নীলাঞ্জনামির্জা পরিবারপ্রেম গল্পবিয়ের প্রস্তুতিঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়বাংলা রোমান্টিক গল্পবন্ধুত্বপরিবারের সম্পর্কপ্যারিসঅর্থনীতি অধ্যাপক











