কেন হযরত নূহ আঃ এর নাম শুনলে সাপ, বিচ্ছু ভয়ে পালায়?

Full Transcript — Download SRT & Markdown

00:00
Speaker A
কেন হযরত নূহ আলাইহিস সালামের নাম শুনলে
00:03
Speaker A
পৃথিবীর সকল সাপ বিচ্ছু সবাই ভয় পেয়ে যায়?
00:07
Speaker A
আজও উম্মতে মুহাম্মদী তথা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতেরাও রাস্তাঘাটে যেখানেই সাপ বিচ্ছু দেখবে
00:15
Speaker A
হযরত নূহ আলাইহিস সালামের প্রতি এক বিশেষ দোয়া পড়া মাত্রই সাপ বিচ্ছু সাথে সাথে সরে যাবে রাস্তা থেকে।
00:24
Speaker A
এটা পরীক্ষিত একটা আমল।
00:27
Speaker A
প্রিয় দর্শক, এর পেছনে ইতিহাস আছে কেন হযরত নূহ আলাইহিস সালামের নাম শুনলেই সাপ বিচ্ছুরা ভয় পেয়ে যায়।
00:33
Speaker A
ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায় আল্লাহর নবী হযরত নূহ আলাইহিস সালাম দিনের পর দিন ধরে তার উম্মতকে আল্লাহ তাআলার পয়গাম শোনাতে থাকলেন।
00:44
Speaker A
তাদেরকে নসিহত করতে থাকলেন, তারা যেন একে অপরের প্রতি জুলুম না করে এক এবং অদ্বিতীয় আল্লাহর প্রতি অনুগত হয়।
00:50
Speaker A
তারা যেন এই সকল মূর্তির পূজায় নিজেদেরকে ব্যস্ত না রাখে, পরস্পরের মধ্যে সম্প্রীতি এবং ভালোবাসার বন্ধন কায়েম রাখে।
00:58
Speaker A
জাতপাত এবং বংশগত মিথ্যা ভেদাভেদের নামে একে অপরকে আঘাত না করে, তারা যেন আত্মীয়তার সম্পর্কের মূল্যায়ন করে।
01:07
Speaker A
কিন্তু হযরত নূহ আলাইহিস সালামের কওম সর্বদাই তার সাথে ঠাট্টা বিদ্রুপ করতে লাগলো।
01:13
Speaker A
কখনো কখনো তারা হযরত নূহ আলাইহিস সালামের উপর এত বেশি পাথর ছুড়ে মারতো যে হযরত নূহ আলাইহিস সালাম কয়েকদিন পর্যন্ত পাথরের স্তুপের নিচে চাপা পড়ে থাকতেন।
01:25
Speaker A
তারপর দুই একদিন পর যখন তার জ্ঞান ফিরে আসতো একটু একটু করে তিনি পাথরের নিচ থেকে নিজের শরীরকে বের করে নিয়ে আসতেন এবং সুস্থ হওয়ার পর পুনরায় আল্লাহ তাআলার দ্বীনের দাওয়াত দেওয়া শুরু করতেন।
01:40
Speaker A
এ যেন এক অসীম ধৈর্যের অধিকারী ছিলেন আল্লাহর নবী নূহ, এভাবে 950 বছর পার হয়ে গেল।
01:49
Speaker A
সবশেষে আল্লাহর নবী হযরত নূহ আলাইহিস সালাম দুহাত তুলে আল্লাহর কাছে দোয়া করলেন, তিনি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলেন, হে আল্লাহ আমার এই উম্মত কখনোই হেদায়েত পাবে না, হে রব্বুল আলামীন আমার কওম তোমার আজাব এবং শাস্তির কথা শুনে ঠাট্টা বিদ্রুপ করে এদেরকে তুমি আমার আজাব দর্শন করাও এদেরকে দেখিয়ে দাও তুমি কতটা ক্ষমতাবান।
02:11
Speaker A
প্রিয় দর্শক বলা হয়ে থাকে 950 বছর পর আল্লাহর নবী নূহ এতটাই রাগান্বিত হয়েছিলেন যে পৃথিবীর ইতিহাসে কোন নবী এত বেশি রাগান্বিত হন নাই।
02:24
Speaker A
এত কষ্ট এত আঘাত সহ্যর পর পিঠ যখন দেয়ালে ঠেকে গিয়েছিল এক পর্যায়ে তিনি এত ভয়াবহ রকম বদদোয়া করেছিলেন তার কওমের প্রতি আল্লাহর আরশ কেঁপে উঠে সাথে সাথে এই বদদোয়া কবুল হয়ে যায়।
02:36
Speaker A
অতএব হযরত নূহ আলাইহিস সালামের প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্দেশ হলো হে নূহ তুমি একটি নৌকা তৈরি করো এবং সেই নৌকার মধ্যে দুনিয়ার সমস্ত জীবজন্তু পশুপাখি হতে এক এক জোড়া এবং যে সকল মানুষেরা তোমার প্রতি ঈমান এনেছে তাদেরকে উঠিয়ে নাও।
02:50
Speaker A
ইতিহাস থেকে জানা যায় নৌকা তৈরির শুরু থেকেই হযরত নূহ আলাইহিস সালাম ছিলেন পরিপূর্ণরূপে যেটাকে ইংরেজি ভাষায় বলতে পারি অ্যাংরি মুডে তার মানে হচ্ছে রাগান্বিত স্বভাবে।
03:04
Speaker A
আল্লাহর নবী নূহর চেহারা থেকে সেই 950 বছরের ধৈর্য সহ্য সব হারিয়ে গিয়েছিল।
03:10
Speaker A
তিনি প্রচন্ড রকম রাগান্বিত ছিলেন, যদিও তার কওমের লোকেরা এই নৌকা নিয়ে ঠাট্টা বিদ্রুপ করতো এদের অনেকে আবার ঠাট্টাচ্ছলে নৌকার কাছে এসে নৌকায় উঠতে চাইতো।
03:26
Speaker A
আল্লাহর নবী নূহর সামনে যখনই তারা এরকম কাজ করতে যেত আল্লাহর নবী নূহ তাদের বিরুদ্ধে কঠিন অ্যাকশন গ্রহণ করতেন।
03:35
Speaker A
এদের অনেকে গোপনে নূহ নবীর নৌকার উপরে মল ত্যাগ করেছিল তাদেরও পরিণতি ভয়াবহ হয়েছিল আল্লাহ পাক তাদেরকে আবার এই ময়লার খাগাড়ে নিক্ষেপ করলেন।
03:44
Speaker A
এভাবে 100 বছর পর সেই নৌকা প্রস্তুত হয়ে গেল, নৌকা তৈরি হয়ে গেলে হযরত নূহ আলাইহিস সালাম দুনিয়ার সমস্ত জীবজন্তু পশুপাখি হতে এক জোড়া এক জোড়া করে সে নৌকার মধ্যে তুলছিলেন।
03:59
Speaker A
এমন সময় সাপ এবং বিচ্ছু হযরত নূহ আলাইহিস সালামের কাছে আসলো, হযরত নূহ আলাইহিস সালাম যেহেতু তখন খুব রাগান্বিত ছিলেন তখন তাদেরকে বললেন দূর হয়ে যাও তোমরা মানুষকে কষ্ট দিয়ে থাকো।
04:09
Speaker A
তোমাদের জন্য আমার নৌকায় কোন স্থান নেই।
04:12
Speaker A
তারা করুন স্বরে বলল হে আল্লাহর নবী আমাদেরকেও আপনার এই সকল প্রাণীদের মধ্যে শামিল করে নিন, তখন আল্লাহর নবী নূহ বললেন মানুষকে দংশন করো কষ্ট দাও এর বিনিময়ে তোমাদেরকে নৌকায় আশ্রয় দিব।
04:27
Speaker A
তখন সাপ এবং বিচ্ছু কেঁদে কেঁদে আল্লাহর নবী হযরত নূহ আলাইহিস সালামের কাছে ফরিয়াদ করতে লাগলো, হে আল্লাহর নবী আজ আমরা অসহায়, আমরা জেনে গিয়েছি মহান প্রভুর তরফ থেকে এক বিশেষ আজাব আসছে।
04:45
Speaker A
দুনিয়ার বুকে আপনার এই নৌকা ব্যতীত বাইরে যত প্রাণ আছে সব ধ্বংস হয়ে যাবে, যদি আমরা আজ বেঁচে না থাকি তাহলে আমাদের ভবিষ্যৎ বংশধরে পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাবে, আবারও আল্লাহ পাকের নাফরমানদেরকে ধ্বংস করার জন্য আমাদের অস্তিত্ব থাকবে না।
05:00
Speaker A
আমরা আপনার সাথে ওয়াদা করছি যেকোনো মানুষ সালামুন আলা নূহিন ফিল আলামিন এই দোয়া পাঠ করবে আমরা আমাদের অস্তিত্ব এবং আমাদের সৃষ্টিকর্তার নামে কসম করে বলছি আমরা সেই মানুষকে কোন কষ্ট দিব না।
05:13
Speaker A
এই ওয়াদার পর আল্লাহর নবী নূহ আলাইহিস সালাম সাপ এবং বিচ্ছুর এক জোড়াকেও নৌকায় তুলে নিলেন, সেই বিশাল নৌকার মধ্যে যে সকল মানুষ সাওয়ার হয়েছিল যত জীবজন্তু পশুপাখি সাওয়ার হয়েছিল তারা ব্যতীত জমিনের বাকি সমস্ত প্রাণী আল্লাহর সেই আজাব মহাপ্লাবনে ধ্বংস হয়ে গেল।
05:28
Speaker A
তুফান থেমে যাওয়ার পর আল্লাহর নবী নূহ আলাইহিস সালাম জমিনে অবতরণ করলেন এবং পুনরায় এই জমিনকে আবাদ করলেন সমস্ত সৃষ্টিকূল পৃথিবীতে জীবনযাপন করতে শুরু করলো।
05:39
Speaker A
কিন্তু সেই ওয়াদাটিকে কোন মানুষ বা জানোয়াররা আজ পর্যন্ত ভুলে যায়নি এবং আল্লাহ তাআলার কোরআনুল কারীমে সূরা সাফফাত এর 79 নম্বর আয়াতে এই দোয়াটিকে সংরক্ষণ করে রাখলেন আল্লাহ তাআলা।
05:50
Speaker A
সেখানে বলা হয়েছে সালামুন আলা নূহিন ফিল আলামিন।
05:56
Speaker A
এই আয়াতের সঠিক অর্থ হচ্ছে শান্তি বর্ষিত হোক হযরত নূহ আলাইহিস সালাম ও তার বংশধরগণের উপর।
06:04
Speaker A
আজও যখন কোন মানুষ যদি বন জঙ্গল অথবা কোন নির্জন প্রান্তরে কোন সাপ বিচ্ছুর আতঙ্কে থাকে তারা যদি চায় যে সাপ বিচ্ছু হাত থেকে তারা রক্ষা পাবে।
06:16
Speaker A
তখনই এই সকল হিংস্র জন্তু জানোয়ারের মুখোমুখি হওয়া থেকে নিজেকে রক্ষা করতে একবার শুধু দিল থেকে পড়বে সালামুন আলা নূহিন ফিল আলামিন।
06:26
Speaker A
সাথে সাথেই আল্লাহ পাক তাকে যাবতীয় বিচ্ছু সাপ ও হিংস্র জন্তু জানোয়ারের হাত থেকে রক্ষা করবেন ইনশাআল্লাহ।

Transcribe Another YouTube Video

Paste any YouTube link and get the full transcript with timestamps for free.

Transcribe a YouTube Video