মাছের পেটে ইউনুস নবীর জীবন কাহিনী| হযরত ইউনুস আঃ ও মাছ… — Transcript

হযরত ইউনুস নবীর মাছের পেটে থাকার অলৌকিক কাহিনী ও তার কওমের প্রতি দাওয়াত ও আল্লাহর গজবের ঘটনা।

Key Takeaways

  • আল্লাহর নির্দেশে নবী হিসেবে হযরত ইউনুস কওমকে ঈমানের আহ্বান জানান।
  • কওমের অবাধ্যতা ও বিদ্রুপের কারণে আল্লাহর গজব নাজিলের হুমকি।
  • হযরত ইউনুস অনুমতি ছাড়া দেশ ত্যাগ করেন যা আল্লাহর পছন্দ হয়নি।
  • কওম বিপদে পড়ে অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করে।
  • আল্লাহ দয়ালু, সৎ প্রার্থনার মাধ্যমে মানুষের প্রতি রহমত বর্ষণ করেন।

Summary

  • হযরত ইউনুস নবীকে আল্লাহ তার কওমকে হেদায়েতের জন্য পাঠান।
  • কওম তার উপদেশ অগ্রাহ্য করে দেব-দেবীর পূজা চালিয়ে যায়।
  • হযরত ইউনুস ৪০ বছর ধরে তাদেরকে ঈমান আনতে আহ্বান জানান।
  • কওমের অবাধ্যতার কারণে আল্লাহ তাদের উপর গজব নাজিল করবেন বলে জানানো হয়।
  • হযরত ইউনুস কওমের অবজ্ঞার কারণে দেশ ত্যাগ করেন অনুমতি ছাড়াই।
  • দেশে প্রলয়ঙ্কারী মেঘ ও বজ্রপাত দেখা দেয়, যা আল্লাহর গজবের নিদর্শন।
  • কওম বুঝতে পারে ইউনুস নবী সত্যিকারের নবী ছিলেন এবং তার কথা সত্য।
  • তারা আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা শুরু করে, অনুতপ্ত হয়ে নিজেদের ভুল স্বীকার করে।
  • হযরত ইউনুস আল্লাহর কাছে দোয়া করেন তাদের জন্য।
  • ভিডিওতে হযরত ইউনুস নবীর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে।

Full Transcript — Download SRT & Markdown

00:00
Speaker A
প্রিয় দর্শক, হযরত ইউনুস নবী কিভাবে মাছের পেটে গেলেন আর তিনি কিভাবে 40 দিন ধরে মাছের পেটে ছিলেন?
00:07
Speaker A
শেষে কিভাবে সেখান থেকে বের হলেন? এই সব রহস্যময় ঘটনা জানবো আজকের এই ভিডিওতে।
00:12
Speaker A
চলুন আর দেরি না করে শুরু করি আজকের ভিডিও।
00:15
Speaker A
একদা আল্লাহ রব্বুল আলামীন হযরত ইউনুস আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ওহীর মাধ্যমে জানিয়ে দিলেন, হে ইউনুস, তুমি তোমার কওমের লোকেদের নিকট হেদায়েতের জন্য তাদের দ্বীনের পথে আহ্বান করো।
00:25
Speaker A
যদি তোমার কওমের লোকগণ হেদায়েত কবুল না করে, তবে আমি তাদেরকে সেইভাবে ধ্বংস করে দিব, যেভাবে ইতিপূর্বে আদ ও সামুদ জাতিকে ধ্বংস করেছিলাম।
00:35
Speaker A
অতপর হযরত ইউনুস আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কওমের নিকট গিয়ে বললেন, হে আমার কওম, তোমরা স্বীকার করে নাও আল্লাহ রব্বুল আলামীন ব্যতীত আর কোন উপাস্য নেই।
00:46
Speaker A
আমি তার প্রেরিত রাসূল, তোমরা দেব-দেবীর পূজা পরিত্যাগ করে এক নিরাকার ও সর্বশক্তিমান আল্লাহ রব্বুল আলামীনের উপাস্য ও ইবাদত করো এবং আমার উপদেশ ও আদেশ অনুযায়ী কাজকর্ম করো।
00:56
Speaker A
কিন্তু কওমের লোকগণ তার কথার প্রতি কোন কর্ণপাতই করলো না।
01:00
Speaker A
বরং তারা জবাব দিল, হে ইউনুস, তুমি যদি আমাদেরকে টুকরো টুকরো করে ফেলো, তথাপিও আমরা তোমার কথা শুনে আমাদের পূর্বপুরুষদের ধর্ম ত্যাগ করবো না।
01:10
Speaker A
এবং আমরা কোনদিনই দেব-দেবীর উপাসনা ছাড়বো না।
01:14
Speaker A
হযরত ইউনুস আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা যে কথা বলছো তা তোমাদের জন্য ভীষণ বিপদের কারণ হবে।
01:20
Speaker A
তোমরা যদি আল্লাহ রব্বুল আলামীনের প্রতি ঈমান আনো এবং আমাকে নবী বলে স্বীকার করে নাও, এটা তোমাদের দুনিয়া ও আখিরাতের উভয় জাহান্নামের কল্যাণের কারণ হবে।
01:30
Speaker A
যদি তোমরা কল্যাণ ও মঙ্গল কামনা করো, তবে তোমাদের ভুল পথ পরিত্যাগ করে আল্লাহ রব্বুল আলামীনের ইবাদতে লিপ্ত হও।
01:37
Speaker A
আর নইলে অবশ্যই তোমাদের প্রতি আল্লাহ রব্বুল আলামীনের গজব নাজিল হবে।
01:43
Speaker A
আর আখিরাতে তোমরা অনন্তকাল ধরে দোজখের আগুনে জ্বলতে থাকবে।
01:49
Speaker A
এমন সময় একটি লোক হযরত ইউনুস আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলল, আচ্ছা ইউনুস,
01:55
Speaker A
তুমি যে কেবল গজবের কথা বলছো, গজবটা কিরকম বস্তু একটু বলতো শুনি।
02:00
Speaker A
হযরত ইউনুস আলাইহি ওয়াসাল্লাম জবাব দিলেন, গজব হলো
02:05
Speaker A
অতর্কিতভাবে আল্লাহ রব্বুল আলামীন তোমাদের উপর ভীষণ কোন বিপদ-আপদ অবতীর্ণ করে দিবেন।
02:14
Speaker A
যেমন ধরো প্রবল ভূমিকম্প, জলতুফান, বন্যা ও মহাপ্লাবন কিংবা আসমান হতে অগ্নিবৃষ্টির মাধ্যমে।
02:22
Speaker A
নানা রকমের গজব আল্লাহ রব্বুল আলামীন তোমাদের উপর নাজিল করতে পারেন।
02:28
Speaker A
হযরত ইউনুস আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই কথা শুনে অপর এক ব্যক্তি বিদ্রুপ করে বলে উঠলো,
02:34
Speaker A
আচ্ছা ইউনুস, এতগুলি গজবের মধ্যে কোনটি আমাদের উপর অবতীর্ণ হবে সেটা সঠিকভাবে বলো না।
02:41
Speaker A
হযরত ইউনুস আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আল্লাহর বান্দা,
02:47
Speaker A
কোনটি যে আসবে তা আমি সঠিকভাবে বলতে পারি না।
02:52
Speaker A
এর সঠিকতা কেবলমাত্র আল্লাহ রব্বুল আলামীনই বলতে পারেন।
02:56
Speaker A
তবে এই বিপদগুলির যেকোনো একটি যে আসবে তাতে কোন সন্দেহ নেই।
03:01
Speaker A
কেননা আল্লাহ রব্বুল আলামীন আমাকে তা জানিয়ে দিয়েছেন।
03:05
Speaker A
হযরত ইউনুস আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা শুনে সকলেই হেসে উঠলো।
03:10
Speaker A
এবং তারা বলল, ইউনুস ধোকাবাজ তোমার কথার কোন স্থিরতা নেই।
03:15
Speaker A
এরপর তারা বলল, আচ্ছা তবে এই কথাও তো বলো ওই গজব কোন দিন আসবে?
03:20
Speaker A
হযরত ইউনুস আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কোন দিন আসবে তাও আমি সঠিকভাবে বলতে পারি না।
03:25
Speaker A
অবশ্য এতে কোন সন্দেহ করার কারণ নেই।
03:28
Speaker A
কোন না কোনদিন আল্লাহ রব্বুল আলামীনের গজব হঠাৎ করে তোমাদের উপর এসে পড়তে পারে।
03:34
Speaker A
যদি না তোমরা আল্লাহ রব্বুল আলামীনের প্রতি ঈমান আনয়ন করো।
03:38
Speaker A
অবাধ্য কাফেররা তার কথা শুনে আবার অট্টহাসি দিয়ে উঠলো।
03:42
Speaker A
কেউ কেউ হযরত ইউনুস আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পাগল ও মূর্খ বলে তার গায়ে থুথু নিক্ষেপ করতে লাগলো।
03:49
Speaker A
আবার কেউ তার গায়ে ইট নিক্ষেপ করতে লাগলো।
03:53
Speaker A
অতপর হযরত ইউনুস আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যথিত মনে তাদের নিকট থেকে উঠে চলে গেলেন।
03:59
Speaker A
তাদের এইরূপ ব্যবহারের কারণে হযরত ইউনুস আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুবই ব্যথিত হয়েছিলেন।
04:04
Speaker A
কেননা তিনি যাদেরকে সৎ উপদেশ দিচ্ছিলেন তারা তো তার উপদেশের প্রতি কর্ণপাত করছেই না।
04:10
Speaker A
উপরন্তু তারা তাকে বিদ্রুপ ও উপহাস করছে।
04:13
Speaker A
এভাবে তিনি তার কওমের লোকেদেরকে একাধারে 40 বছর পর্যন্ত দাওয়াত দিলেন।
04:20
Speaker A
কিন্তু তার এই দাওয়াত ও প্রচেষ্টা সম্পূর্ণ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হলো।
04:25
Speaker A
কোন মানুষ আল্লাহ রব্বুল আলামীনের প্রতি ঈমান আনয়ন করলো না।
04:29
Speaker A
অতপর হযরত ইউনুস আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ রব্বুল আলামীনের দরবারে দুই হাত তুলে প্রার্থনা জানান।
04:35
Speaker A
হে মাবুদ, তুমি এই অবাধ্য লোকেদের উপর গজব নাজিল করো।
04:39
Speaker A
হযরত ইউনুস আলাইহি ওয়াসাল্লামের এইরূপ দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ রব্বুল আলামীনের তরফ থেকে।
04:45
Speaker A
তাকে জানিয়ে দেওয়া হলো, হে ইউনুস,
04:50
Speaker A
আমি যথাসময়ে তাদের উপর গজব নাজিল করবো।
04:55
Speaker A
এ ব্যাপারে তুমি তাড়াহুড়া করিও না।
04:57
Speaker A
হযরত ইউনুস আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে মাবুদ, আপনি কোন দিন তাদের উপর গজব নাজিল করবেন?
05:02
Speaker A
আল্লাহ রব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে তাকে উত্তর দেওয়া হলো, যখন সময় হবে।
05:08
Speaker A
ঠিকই আমি তাদের উপর গজব নাজিল করবো।
05:11
Speaker A
এরপর একদিন হযরত ইউনুস আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাস্তা দিয়ে কোথাও যাচ্ছেন।
05:16
Speaker A
এমন সময় তার সাথে কতিপয় কাফেরের দেখা হলো।
05:21
Speaker A
তারা তাকে বিদ্রুপের সঙ্গে জিজ্ঞাসা করলো, হে ইউনুস,
05:27
Speaker A
তোমার আল্লাহর তরফ থেকে আমাদের উপর গজব তো নাজিল হলো না, তোমার আল্লাহর তরফ থেকে আমাদের উপর নাকি গজব আসবে।
05:34
Speaker A
কিন্তু কই গজব তো আসছে না।
05:38
Speaker A
আমরা গজবের আশায় বসে আছি আর অপেক্ষা করতে করতে একেবারে অতিষ্ঠ হয়ে গিয়েছি।
05:44
Speaker A
তুমি তাড়াতাড়ি তোমার আল্লাহকে বলো আমাদের উপর যেন তিনি জলদি গজব নাজিল করেন।
05:49
Speaker A
নিত্যনিয়ত হযরত ইউনুস আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ধরনের বিদ্রুপমূলক কথা শুনতে শুনতে একেবারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠলেন।
05:56
Speaker A
তার আর সহ্য হচ্ছিল না।
05:58
Speaker A
ওদিকে আল্লাহ রব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকেও গজবের সুনির্দিষ্ট তারিখ সম্পর্কে তাকে কোন কিছুই আভাস দেওয়া হচ্ছিল না।
06:06
Speaker A
তার লজ্জা ও দুঃখ ক্রমশই বেড়ে চলল।
06:10
Speaker A
অবশেষে তিনি একদিন সিদ্ধান্ত নিলেন এই দেশ ছেড়ে তিনি চলে যাবেন।
06:16
Speaker A
সে মতে একদিন তিনি আল্লাহ রব্বুল আলামীনের অনুমতি ব্যতীতই নিজের পুত্র ও স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে পড়লেন।
06:24
Speaker A
চলে যাবেন অজানা কোন দূর দেশে।
06:27
Speaker A
কিন্তু হযরত ইউনুস আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই কাজটি আল্লাহ রব্বুল আলামীন তেমন পছন্দ করলেন না।
06:33
Speaker A
তখন তার উচিত ছিল আল্লাহ রব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে অনুমতি নেওয়ার।
06:38
Speaker A
আল্লাহ রব্বুল আলামীন তাকে অনুমতি দিলেন তারপর দেশ ত্যাগ করে অন্যত্র চলে যাওয়ার।
06:44
Speaker A
এদিকে হযরত ইউনুস আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্বদেশ ত্যাগ করার পরে হঠাৎ একদিন দুপুরবেলা সেই দেশে একটি ভীষণ অবস্থার সৃষ্টি হলো।
06:52
Speaker A
কোথা থেকে অনেকগুলো মেঘখন্ড এসে একত্রিত হলো এবং ঘোর কৃষ্ণবর্ণ ধারণ করে সারা দেশকে অন্ধকারাচ্ছন্ন করে ফেলল।
06:59
Speaker A
দেশের লোকজন এমন দৃশ্য আর কোনদিন দেখেনি।
07:03
Speaker A
এই দৃশ্য দেখে তারা অত্যন্ত ভীত ও শঙ্কিত হয়ে পড়ল, দেখতে দেখতে সেই মেঘরাশির ভেতর থেকে বিদ্যুৎ চমকাতে শুরু করল।
07:10
Speaker A
এবং কামানের গোলার ন্যায় গর্জন করে বজ্রপাত শুরু হয়ে গেল।
07:16
Speaker A
মনে হচ্ছিল যেন সেই প্রলয়ঙ্কারী প্রবল মেঘ দুনিয়ার সবকিছুই গ্রাস করে ফেলবে।
07:22
Speaker A
মেঘের গর্জন ক্রমশই এমন ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছিল যে তার একেকটি আওয়াজ মানুষ ও পশুপাখি সকলের হৃদয়ের মধ্যে প্রবল কম্পন ধরিয়ে দিচ্ছিল।
07:30
Speaker A
আতঙ্কে হতবুদ্ধি হয়ে মানুষ এদিক-সেদিক ছোটাছুটি করতে আরম্ভ করে দিল।
07:36
Speaker A
এই সর্বগ্রাসী বিপদ থেকে কোথায় গিয়ে আশ্রয় নিবে তারা তার ঠিক করতে পারছিল না।
07:42
Speaker A
সকলেরই মনে হতে লাগল যে এটা আর কিছুই নয় হযরত ইউনুস আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে তাদেরকে বারবার আল্লাহর গজবের ভয় দেখিয়েছিলেন।
07:49
Speaker A
নিশ্চয়ই এটা সেই আল্লাহ রব্বুল আলামীনের প্রেরিত গজব।
07:53
Speaker A
তখন তারা বুঝতে পারল হযরত ইউনুস আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
07:56
Speaker A
একজন আল্লাহর সত্য নবী ছিলেন এবং তার ভবিষ্যদ্বাণীও সত্য ছিল।
08:01
Speaker A
এরপরে তারা আর্তনাদ করতে লাগল।
08:04
Speaker A
হায় হায় এখন আমরা কি করব?
08:07
Speaker A
কে আমাদেরকে এই বিপদ থেকে রক্ষা করবে?
08:10
Speaker A
হযরত ইউনুস আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো দেশ ত্যাগ করে চলে গিয়েছেন।
08:15
Speaker A
দেশে থাকলে না হয় তার কাছে গিয়ে কান্নাকাটি করে তার হাত পা ধরে বলতাম।
08:20
Speaker A
হে ইউনুস, আমরা তোমার কথা না শুনে অন্যায় করেছি।
08:25
Speaker A
আর এখন থেকে আমরা তোমার সকল উপদেশ মেনে চলবো।
08:30
Speaker A
তুমি আল্লাহ রব্বুল আলামীনের নিকট সুপারিশ করো যাতে তিনি আমাদেরকে এই বিপদ থেকে রক্ষা করেন।
08:36
Speaker A
কিন্তু এখন আমরা হযরত ইউনুস আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কোথায় পাব?
08:41
Speaker A
তিনি তো দেশ ত্যাগ করে কোন সুদূর অজানা রাজ্যে চলে গিয়েছে।
08:46
Speaker A
আমরা তো তার কোন খোঁজ খবরই জানি না।
08:49
Speaker A
ইউনুস আলাইহি ওয়াসাল্লামের কওম এইভাবে সম্পূর্ণরূপে হতাশ ও নিরাশ হওয়ার পরে পরস্পর পরামর্শ করে একটি সিদ্ধান্ত নিল।
08:57
Speaker A
যে হে সম্প্রদায়ের লোকেরা আসুন আমরা একটি কাজ করি হযরত ইউনুস আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেভাবে মাথা নত করে আল্লাহ রব্বুল আলামীনের দরবারে প্রার্থনা করতেন।
09:04
Speaker A
আমরাও সেরূপ করে দেখি।
09:06
Speaker A
যদি এর মাধ্যমে আল্লাহ রব্বুল আলামীন আমাদের উপর রহম করেন এবং এই বিপদাপদ থেকে আমাদেরকে যদি মুক্তি দান করেন।
09:13
Speaker A
তাহলে এর চেয়ে উত্তম জিনিস আমাদের জন্য আর কি বা হতে পারে।
09:16
Speaker A
তখন সকলেই একত্রিত হয়ে সিজদাতে অবনীত হয়ে আল্লাহ রব্বুল আলামীনের দরবারে প্রার্থনা করতে লাগল।
09:22
Speaker A
হে আমাদের মালিক ও প্রতিপালক আমরা চরম অপরাধী।
09:26
Speaker A
আমাদের পাপের কোন শেষ নেই।
09:29
Speaker A
হযরত ইউনুস আপনার নবী আমাদেরকে সত্যের পথ দেখিয়েছিলেন।
09:34
Speaker A
কল্যাণ ও মঙ্গলের পথে আহ্বান করেছিলেন।
09:38
Speaker A
কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আমরা তার বিরোধিতা করেছিলাম এবং তার কোন কথাই আমরা গুরুত্ব দেইনি।
09:44
Speaker A
যার ফলশ্রুতিতে আমরা নিজেরাই নিজেদের ডেকে এনেছি।
09:48
Speaker A
হে আমাদের দয়াময় প্রভু।
09:51
Speaker A
আমরা আমাদের ভুল বুঝতে পেরেছি।
09:54
Speaker A
আমরা আপনার কাছে অনুতপ্ত ও লজ্জিত।
09:57
Speaker A
আমরা আর কোনদিনই এইরূপ ভুল করব না।
10:01
Speaker A
এবং আমরা অন্যায় পথ পরিত্যাগ করে আপনার খাঁটি বান্দায় পরিণত হব।
10:05
Speaker A
হে আমাদের মাবুদ, দয়া করে আপনি আমাদেরকে এই কঠিন বিপদ থেকে রক্ষা করুন।
10:10
Speaker A
আপনি তো বান্দার প্রতি মহাদয়াবান ও কৃপাশীল।
10:14
Speaker A
তাদের ঐরূপ করুন ও আন্তরিক প্রার্থনার ফলে তাদের প্রতি আল্লাহ রব্বুল আলামীনের দয়া হলো।
10:20
Speaker A
এবং তিনি তাদের উপর আসন্ন গজবকে প্রত্যাহার করে নিলেন।
10:24
Speaker A
অল্পক্ষণের মধ্যেই আকাশ পরিষ্কার হয়ে গেল।
10:28
Speaker A
এরই পর তাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসলো তারপর ইউনুস আলাইহি ওয়াসাল্লামের কওম সর্বত্র তাকে খুঁজতে লাগল।
10:34
Speaker A
কিন্তু কোথাও তারা তার কোন সন্ধান পেল না।
10:38
Speaker A
তখন তারা আল্লাহ রব্বুল আলামীনের দরবারে সকলে মিলে প্রার্থনা করল।
10:43
Speaker A
হে মাবুদ, তুমি আমাদের নবীকে আমাদের মাঝে আবার ফিরিয়ে দাও।
10:48
Speaker A
আমরা তাকে সাদরে গ্রহণ করব এবং তার সকল উপদেশগুলি মেনে চলবো।
10:52
Speaker A
হযরত ইউনুস আলাইহি ওয়াসাল্লামের কওমের মত এরূপ বিশাল একটি জাতি একত্রে ঈমান গ্রহণ করার ঘটনাটি ছিল।
11:00
Speaker A
সত্যি পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল।
11:03
Speaker A
হযরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু হতে বর্ণিত একটি হাদিসের মাধ্যমে জানা যায়।
11:10
Speaker A
হযরত রাসূল আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, হযরত ইউনুস আলাইহি ওয়াসাল্লামের কওমের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক ও বুদ্ধিমান পুরুষের সংখ্যা ছিল।
11:19
Speaker A
এক লক্ষ।
11:21
Speaker A
এছাড়া নারী ও বালক-বালিকার সংখ্যা ছিল প্রায় তিন লক্ষ।
11:25
Speaker A
এদিকে হযরত ইউনুস আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বদেশ ত্যাগ করা বের হয়ে কিছুদূর চলার পরে তিনি একটি নদীর তীরে গিয়ে উপস্থিত হলেন।
11:32
Speaker A
তখন তিনি তার দুই পুত্র ও স্ত্রীকে নিয়ে একত্রে নদী পার হওয়ার চিন্তাভাবনা করতে লাগলেন।
11:39
Speaker A
কিন্তু তিনি ভেবে দেখলেন সকলকে নিয়ে একত্রে নদী পার হওয়া সম্ভব নয়।
11:44
Speaker A
তাই তিনি তার বড় ছেলেটিকে নদীর তীরে দাঁড় করিয়ে রেখে ছোট ছেলেটিকে কাঁধে তুলে নিলেন এবং তার স্ত্রীর হাত ধরে নদী পার হতে লাগলেন।
11:51
Speaker A
প্রথমত নদীর মধ্যে কোন ঢেউই ছিল না।
11:54
Speaker A
কিন্তু যেই না হযরত ইউনুস আলাইহি ওয়াসাল্লাম নদীর মাঝ বরাবর পৌঁছালেন এমনি নদীতে প্রবল ঢেউয়ের শুরু হলো।
12:02
Speaker A
হঠাৎ করে এরকম বিপদে হযরত ইউনুস আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি করবেন?
12:07
Speaker A
কিছুই ঠিক করতে পারছিলেন না।
12:09
Speaker A
তিনি তার স্ত্রীকে শক্তভাবে ধরে রেখেছিলেন।
12:12
Speaker A
কিন্তু স্রোতের গতি এতই প্রবল ছিল যে তিনি আর তাকে ধরে রাখতে পারলেন না।
12:18
Speaker A
স্ত্রী তার হাত থেকে ফসকে চলে গেল।
12:20
Speaker A
স্ত্রীকে রক্ষা করতে গিয়ে যখন তিনি তার প্রতি মনোনিবেশ করেছিলেন তখন তার ঘাড়ের উপরে থাকা ছোট ছেলেটির প্রতি।
12:28
Speaker A
তিনি অন্যমনস্ক হয়ে পড়েছিলেন।
12:31
Speaker A
আর সেই কারণে তার ছোট ছেলেটিও ঘাড় থেকে পড়ে গিয়ে নদীর স্রোতের সাথে কোথায় যেন বিলীন হয়ে গেল।
12:38
Speaker A
তাদের মধ্যে কাউকেই তিনি উদ্ধার করতে সক্ষম হলেন না।
12:42
Speaker A
তখন নদীর পাড়ে রেখে আসা বড় ছেলেটিকে উদ্ধার করার জন্য যেই না নদীর পাড়ের নিকটবর্তী হলেন।
12:49
Speaker A
তখন তিনি দেখতে পেলেন একটি বাঘ তার ছেলেটিকে আক্রমণ করে তাকে ধরে নিয়ে দ্রুত জঙ্গলের মধ্যে চলে গেল।
12:57
Speaker A
তখন আর তিনি কি করবেন?
12:59
Speaker A
এভাবেই তিনি স্ত্রী পুত্রকে হারিয়ে শোকাহত মনে একাই নদীর পাড় ধরে সম্মুখে চলতে লাগলেন।
13:05
Speaker A
বহুদূর পথ অতিক্রম করার পর তিনি দেখতে পেলেন একটি বিরাট নদীর কোলে একটি জাহাজ নোঙ্গর করা রয়েছে।
13:12
Speaker A
বহু যাত্রী পূর্বে সেই জাহাজে আরোহণ করেছিল।
13:16
Speaker A
তিনিও তাতে আরোহণ করলেন।
13:18
Speaker A
অল্পক্ষণের মধ্যেই তা নদীর সীমানা পেরিয়ে সমুদ্রে গিয়ে উপনীত হলো।
13:23
Speaker A
সমুদ্রে উপনীত হয়ে কিছুক্ষণ জাহাজটি ভালোই চলছিল।
13:29
Speaker A
কিন্তু যেই না তারা সাগরের মাঝে উপনীত হলো তখন আর সেই জাহাজটি সামনে অগ্রসর হচ্ছিল না।
13:35
Speaker A
একই স্থানে সেটি আটকে থাকলো।
13:37
Speaker A
জাহাজের কাপ্তান ও নাগিকেরা অনেক চেষ্টা করলেও জাহাজটিকে সামনে নিতে সক্ষম হলো না।
13:43
Speaker A
তারা দেখল জাহাজের সবকিছুই ঠিকঠাক রয়েছে।
13:46
Speaker A
তারপরও জাহাজ সামনে অগ্রসর হচ্ছে না।
13:49
Speaker A
অতপর জাহাজের কাপ্তান, নাদিক এবং আরোহীগণ সকলেই অবাক হয়ে ভাবতে লাগল যে এরূপ হওয়ার কারণ কি?
13:58
Speaker A
ওই জাহাজে একজন ধর্মবীরু কামিল বুজুর্গ লোক ছিলেন।
14:05
Speaker A
তিনি বললেন, নিশ্চয়ই জাহাজে এমন একজন গোলাম আছে যে তার মালিকের কাছে না বলে পালিয়ে এসেছে।
14:13
Speaker A
এবং সে এই জাহাজে আরোহণ করেছে আর তার পাপের কারণে জাহাজ সামনে চলছে না।
14:18
Speaker A
সেই ব্যক্তিকে যতক্ষণ পর্যন্ত জাহাজ থেকে ফেলে না দেওয়া হবে ততক্ষণ পর্যন্ত জাহাজ বিপদ মুক্ত হবে না।
14:24
Speaker A
তখন এক এক করে জাহাজের প্রত্যেক আরোহীর কাছে জিজ্ঞাসা করা হলো যে।
14:29
Speaker A
তোমাদের মধ্যে কি কেউ এমন আছো যে তার মালিকের অনুমতি ব্যতীত পালিয়ে এসেছো?
14:35
Speaker A
কিন্তু সকল যাত্রীরা এ কথা অস্বীকার করল।
14:38
Speaker A
তখন হযরত ইউনুস আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভাবতে লাগলেন যে আমি তো মনিবের নিকট না বলে পালিয়ে এসেছি।
14:47
Speaker A
আমি আমার মহান প্রতিপালক সর্বশ্রেষ্ঠ আল্লাহ রব্বুল আলামীনের অনুমতি না নিয়েই।
14:52
Speaker A
স্বদেশ ত্যাগ করে বিদেশের পথে রওনা করেছি।
14:57
Speaker A
আমার মত এত বড় পাপী আর কে হতে পারে?
15:00
Speaker A
এই কথা চিন্তা করে তিনি জাহাজ কর্তৃপক্ষের নিকট গিয়ে বললেন।
15:06
Speaker A
বলেন আমি আমার মালিকের নিকট না বলে পালিয়ে এসেছি।
15:12
Speaker A
আপনারা আমাকে সাগরে ফেলে দিন আমাকে সাগরে নিক্ষেপ করা হলে।
15:17
Speaker A
জাহাজ চলতে শুরু করবে এবং আপনারা সকলেই বিপদ মুক্ত হয়ে যাবেন।
15:22
Speaker A
ইউনুস আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই কথা বললেও তার লাবণ্যময় চেহারা দেখে কেউই বিশ্বাস করতে পারল না যে।
15:27
Speaker A
তিনি কারো গোলাম হতে পারেন।
15:30
Speaker A
কোন গোলামেরই আচরণ এবং কথাবার্তা এরূপ হতে পারে না।
15:35
Speaker A
বরং তাকে সকলেই বিশেষ কোন সম্ভ্রান্ত লোক বলে মনে করতে লাগল।
15:40
Speaker A
কিন্তু হযরত ইউনুস আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নিজেকে বারবার অবাধ্য গোলাম বলে তাদের নিকট প্রকাশ করতে লাগল তখন জাহাজের লোকজন বাধ্য হয়ে একটি সিদ্ধান্ত নিল যে।
15:49
Speaker A
সেই অবাধ্য লোকটিকে ধরার জন্য লটারি করা হবে।
15:54
Speaker A
এরপর তারা লটারি করল।
15:57
Speaker A
কিন্তু যতবারই তারা লটারি করল প্রত্যেকবারই হযরত ইউনুস আলাইহি ওয়াসাল্লামের নাম উঠলো।
16:03
Speaker A
তখন তাদের কাছে হযরত ইউনুস আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সমুদ্রে নিক্ষেপ করা ছাড়া আর কোন উপায় ছিল না।
16:10
Speaker A
অতএব তারা তাকে সমুদ্রে নিক্ষেপ করল।
16:13
Speaker A
সমুদ্রে নিক্ষেপ করার সাথে সাথে জাহাজটি আবার পূর্বের নেই চলতে আরম্ভ করল।
16:19
Speaker A
এবং জাহাজের সকল যাত্রীরা বিপদ মুক্ত হয়ে গেল।
16:23
Speaker A
এদিকে হযরত ইউনুস আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সমুদ্রে নিক্ষেপ হলেন এরপরে।
16:29
Speaker A
এক বিরাট মাছ এসে তাকে গিলে ফেলল।
16:33
Speaker A
দুর্যোগের উপরে যেন মহাদুর্যোগ।
16:36
Speaker A
বিপদের উপর বিপদ।
16:38
Speaker A
হযরত ইউনুস আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেশ ত্যাগ করে বের হওয়ার পরে প্রথম তিনি নিজের স্ত্রী পুত্রকে হারিয়েছেন।
16:45
Speaker A
এরপর তিনি নিজেই সমুদ্রে নিক্ষেপ হয়ে মাছের পেটে চলে এসেছেন।
16:49
Speaker A
এর চেয়ে বড় বিপদ আর কি হতে পারে?
16:51
Speaker A
আল্লাহ রব্বুল আলামীনের একজন বিশিষ্ট নবী হওয়া সত্ত্বেও তার অনুমতি ব্যতি রেখে স্বদেশ ত্যাগ করার কারণেই।
17:00
Speaker A
আল্লাহ রব্বুল আলামীন তাকে এই কঠিন বিপদ ও বালা মুসিবত দিয়ে পরীক্ষা করছিলেন।
17:06
Speaker A
আল্লাহ রব্বুল আলামীন হযরত ইউনুস আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দুনিয়া থেকে তুলে নেওয়ার বদলে তাকে বাঁচিয়ে রাখার ইচ্ছা করলেন।
17:12
Speaker A
এ কারণে তিনি উক্ত মাছটিকে হুকুম করলেন, হে মৎস, আমার প্রিয় নবী তোমার পেটে আশ্রয় গ্রহণ করেছে।
17:21
Speaker A
সাবধান তার যেন কোন প্রকার কষ্ট বা অসুবিধা না হয়।
17:25
Speaker A
এদিকে তুমি সর্বদা লক্ষ্য রাখবে।
17:27
Speaker A
হযরত ইউনুস আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাছের পেটে যাওয়া মাত্রই কেঁদে কেঁদে আল্লাহ রব্বুল আলামীনের দরবারে ইস্তেগফার করতে লাগলেন।
17:34
Speaker A
এবং তিনি ফরিয়াদ করতে লাগলেন।
17:37
Speaker A
হে মাবুদ, তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও।
17:40
Speaker A
আমি আর কোনদিন তোমার অসন্তুষ্টিমূলক কোন কাজ করব না।
17:43
Speaker A
তুমি আমার এবারের অপরাধ অনুগ্রহপূর্বক মার্জনা করো।
17:46
Speaker A
তিনি এভাবেই আল্লাহ রব্বুল আলামীনের দরবারে কাকুতি মিনতি করছিলেন।
17:52
Speaker A
আর বারবার একটি দোয়া পড়ছিলেন।
17:55
Speaker A
লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জালিমিন।
18:02
Speaker A
হে আল্লাহ, আপনি ছাড়া কোন মাবুদ নেই।
18:05
Speaker A
আপনি পবিত্র আর আমি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত।
18:08
Speaker A
এভাবেই একাধারে হযরত ইউনুস আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাছের পেটে 40 দিন কাটালেন।
18:13
Speaker A
এবং ইউনুস আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাছের পেটে থেকে বিরতিহীনভাবে এই দোয়াটি পাঠ করে যেতে লাগলেন।
18:17
Speaker A
তিনি বুঝতে পারছিলেন না কখন দিন হচ্ছে আর কখন রাত হচ্ছে।
18:21
Speaker A
40 দিনে হযরত ইউনুস আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বমোট 1 লক্ষ 40 হাজার বার এই দোয়াটি পাঠ করেছিলেন।
18:28
Speaker A
শেষ পর্যন্ত আল্লাহ রব্বুল আলামীনের দয়া ও কৃপা হযরত ইউনুস আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য উঠে উঠলো।
18:35
Speaker A
তিনি তার প্রিয় বান্দার এইরকম অবস্থায় আর অবিচল থাকতে পারলেন না।
18:40
Speaker A
তখন তিনি ওহীর মাধ্যমে তাকে জানালেন, হে ইউনুস, তুমি যে দোয়াটি পাঠ করেছিলে।
18:45
Speaker A
এই দোয়াটি যদি তুমি পাঠ না করতে তাহলে কেয়ামতের আগ পর্যন্ত তুমি মাছের পেটেই থাকতে।
18:50
Speaker A
কোনদিন মুক্তি পেতে না।
18:51
Speaker A
আল্লাহ রব্বুল আলামীন কোরআনুল কারীমে ঘোষণা করেছেন, আমি ইউনুসের ডাকে সাড়া দিলাম।
18:57
Speaker A
এবং তাকে বিপদ মুক্ত করলাম।
19:00
Speaker A
আর এভাবেই আমি মুমিনদেরকে বিপদ মুক্ত করে থাকি।
19:03
Speaker A
40 দিন যাবত হযরত ইউনুস আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাছের পেটে কোন রকমের খাবার বা পানীয় গ্রহণ করেননি।
19:10
Speaker A
আল্লাহ রব্বুল আলামীনের তাসবিহ ছিল তার একমাত্র খোরাক।
19:13
Speaker A
আল্লাহ তা'আলা হযরত ইউনুস আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি কৃপা প্রদর্শন এবং তার দোয়া কবুল করার সঙ্গে সঙ্গে।
19:20
Speaker A
মাছটির পেটে অনেক ব্যথা ও বেদনা শুরু হয়ে গেল।
19:24
Speaker A
মাছটি ব্যথা ও যন্ত্রণায় অস্থির হয়ে পড়ল।
19:27
Speaker A
এরপর আল্লাহ রব্বুল আলামীনের নির্দেশে একটি জনমানবহীন মরুভূমি দ্বীপে মাছটি হযরত ইউনুস আলাইহি ওয়াসাল্লামকে উদ্গীরণ করে দিল।
19:33
Speaker A
এবং এভাবেই সে নিজের পেটের বেদনা থেকে মুক্তি লাভ করল।
19:36
Speaker A
আর শান্তি ও স্বস্তির মুখ দেখল।
19:39
Speaker A
হযরত ইউনুস আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন প্রায় জীবন্ত মৃত্যুর মত অবস্থা প্রাপ্ত হয়ে পড়েছিল।
19:43
Speaker A
সামুদ্রিক মাছ ইউনুস আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নির্জন দ্বীপে উদ্গীরণ করে দিয়ে সমুদ্রে চলে গেল।
19:49
Speaker A
মাছটি ইউনুস আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যে দ্বীপে উদ্গীরণ করে দিয়েছিল সেই দ্বীপে না ছিল কোন জনমানবের চিহ্ন।
19:55
Speaker A
এবং না ছিল কোন গাছ গাছালির চিহ্ন।
19:57
Speaker A
দীর্ঘ 40 দিন মাছের পেটে অবস্থা করার কারণে ইউনুস আলাইহি ওয়াসাল্লামের শরীরের চামড়াগুলি।
20:03
Speaker A
একেবারে পাতলা হয়ে গিয়েছিল।
20:05
Speaker A
দ্বীপটি মরুভূমি হওয়ায় এবং গাছপালা না থাকায় রৌদ্রের তাপ হযরত ইউনুস আলাইহি ওয়াসাল্লামের শরীরে সরাসরি পতিত হতে লাগল।
20:12
Speaker A
আর এতে তিনি অনেক কষ্ট ও যন্ত্রণা অনুভব করতে লাগলেন।
20:15
Speaker A
অপরদিকে ক্ষুধা ও তৃষ্ণাতেও তিনি একেবারে কাতর হয়ে পড়েছিলেন।
20:19
Speaker A
কিন্তু তিনি কি খাবেন?
20:21
Speaker A
সমুদ্রের পানি ছিল লবণাক্ত এবং আশেপাশে এমন কোন খাবারও নেই যেই খাবার খেয়ে তিনি নিজের শরীরের শক্তি ফিরিয়ে আনতে পারেন।
20:28
Speaker A
এমন প্রতিকূল পরিবেশে হযরত ইউনুস আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি আল্লাহ রব্বুল আলামীনের রহমত অবতীর্ণ হলো।
20:34
Speaker A
যেখানে তিনি অর্ধমৃত অবস্থায় শায়িত ছিলেন।
20:39
Speaker A
তার একেবারে নিকটে আল্লাহ রব্বুল আলামীন একটি লাউ গাছ উৎপন্ন করে দিলেন।
20:44
Speaker A
দেখতে দেখতে লাউ গাছটি বড় হয়ে গেল।
20:48
Speaker A
এবং বড় হয়ে ক্ষান্ত থাকলো না তা একটি ঝুপে পরিণত হলো।
20:52
Speaker A
আর হযরত ইউনুস আলাইহি ওয়াসাল্লামের শান্তির জন্য পরম আরামদায়ক ছায়া প্রদর্শন করতে লাগল।
20:58
Speaker A
আল্লাহ রব্বুল আলামীনের এই অশেষ কৃপায় ইউনুস আলাইহি ওয়াসাল্লাম অশেষ শুকরিয়া আদায় করলেন।
21:03
Speaker A
সেই অবস্থানে বিশ্রাম করে তার প্রাণ শীতল হয়ে গেল।
21:07
Speaker A
একটু পরেই তিনি দেখতে পেলেন।
21:10
Speaker A
সেই গাছে কতগুলি ফল ধরলো।
21:12
Speaker A
দেখতে দেখতে সেই ফলগুলি বড় হলো।
21:15
Speaker A
এই ফলগুলি দেখতে লাউয়ের মত হলেও সেগুলিতে ছিল অত্যন্ত মিষ্ট ও সুস্বাদু।
21:21
Speaker A
তার মধ্য থেকে আল্লাহ রব্বুল আলামীন একটি ফল হযরত ইউনুস আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ভক্ষণ করার ব্যবস্থা করে দিলেন।
21:27
Speaker A
সেই ফলটি ভক্ষণ করে ইউনুস আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেখলেন এমন সুমিষ্ট ও সুস্বাদু ফল।
21:33
Speaker A
তিনি জীবনে আর কখনো ভক্ষণ করেননি।
21:36
Speaker A
কারণ এটি ছিল জান্নাতি ফল।
21:38
Speaker A
এভাবেই আল্লাহ রব্বুল আলামীন তার ক্ষুধা দূর করলেন।
21:41
Speaker A
অতপর এবার চিন্তা করতে লাগলেন ক্ষুধা তো দূর হলো কিন্তু এবার তিনি তৃষ্ণা কিভাবে নিবারণ করবেন?
21:46
Speaker A
এই চিন্তা করার সাথে সাথে তিনি দেখতে পেলেন পুষ্টপৃষ্ঠ স্বাস্থ্যবান একটি বকরি তার দিকে ছুটে আসছে।
21:52
Speaker A
অতপর তিনি সেই বকরির দুধ পান করে তৃষ্ণা নিবারণ করলেন।
21:58
Speaker A
আর আল্লাহ রব্বুল আলামীনের দরবারে লাখ লাখ শুকরিয়া আদায় করলেন।
22:02
Speaker A
এভাবে কয়েকদিন পর্যন্ত হযরত ইউনুস আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুমিষ্ট ফল ও বকরির দুধ পান করে নিজের শরীরে যথেষ্ট শক্তি ও শান্তি অনুভব করতে লাগলেন।
22:08
Speaker A
এমন অবস্থায় আল্লাহ রব্বুল আলামীন তার নিকট ওহী প্রেরণ করলেন।
22:13
Speaker A
হে ইউনুস, তুমি যেই দ্বীপে অবস্থান করছো তার অনতি দূরেই একটি বস্তি রয়েছে।
22:20
Speaker A
তুমি গিয়ে তাদের কাছে দ্বীনের দাওয়াত দাও।
22:23
Speaker A
এরপরে তোমার কওমের লোকেদের কাছে ফিরে গিয়ে তাদেরকে হেদায়েত করতে থাকো।
22:28
Speaker A
আল্লাহ রব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে এরূপ আদেশ পেয়ে হযরত ইউনুস আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই দ্বীপ থেকে সামনে চলতে লাগলেন।
22:34
Speaker A
কিছুদূর অগ্রসর হওয়ার পরে তিনি একটি লোকালয়ের কাছে গিয়ে পৌঁছালেন।
22:39
Speaker A
সেখানকার মানুষদের চরিত্র ছিল খুবই উত্তম।
22:42
Speaker A
তারা ইতিপূর্বে হযরত ইউনুস আলাইহি ওয়াসাল্লামের নাম শুনেছিল।
22:48
Speaker A
এবং তাকে নিজেদের মধ্যে পাওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে বসেছিল।
22:53
Speaker A
সুতরাং হযরত ইউনুস আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের মধ্যে গিয়ে উপস্থিত হলেন।
22:57
Speaker A
তখন তারা আনন্দে আত্মহারা হয়ে গেল।
23:00
Speaker A
অতপর তিনি তাদের কাছে দ্বীনের বিধি-বিধান পেশ করলেন।
23:05
Speaker A
আর আল্লাহ রব্বুল আলামীনের দ্বীন কবুল করে হযরত ইউনুস আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতে পরিণত হলো।
23:10
Speaker A
অতপর হযরত ইউনুস আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই দেশের সর্বোচ্চ ভ্রমণ করে ওয়াজ নসিহত করতে লাগলেন।
23:15
Speaker A
একদা তিনি একটি মজলিসে ওয়াজ করছিলেন এমন সময় কোথা থেকে যেন নবীর স্ত্রী ও তার ছোট ছেলে সেখানে এসে উপস্থিত হলো।
23:21
Speaker A
নবী তাদেরকে দেখে অত্যন্ত অবাক হলেন এবং আল্লাহ রব্বুল আলামীনের দরবারে অশেষ শুকরিয়া আদায় করলেন।
23:27
Speaker A
অতপর তিনি তার স্ত্রীর নিকট তাদের বেঁচে থাকার ঘটনাটি জানতে চাইলেন।
23:32
Speaker A
স্ত্রী বললেন, আমরা আপনার হাত থেকে ছুটে পানির মধ্যে হাবুডুবু খাচ্ছিলাম।
23:37
Speaker A
প্রবল স্রোতে কখনো আমাদেরকে পানিতে তলিয়ে নিচ্ছিল আবার কখনো উপরে ভাসিয়ে রাখছিল।
23:43
Speaker A
আমরা অত্যন্ত ভীত হয়ে পড়েছিলাম।
23:45
Speaker A
এভাবে কয়েক ঘন্টা চলার পরে আমাদের পায়ের নিচে মাটি আসলো তখন আমরা সেখানে সোজা হয়ে দাঁড়ালাম।
23:51
Speaker A
আর এর মধ্যে স্রোতের প্রবলতা কিছুটা কমে গেল।
23:54
Speaker A
একটু পরেই আমরা দেখতে পেলাম সেখানকার পানি সম্পূর্ণরূপে শুকিয়ে গিয়েছে।
23:59
Speaker A
তখন আমরা সেখান থেকে উঁচু স্থানের দিকে হাঁটতে লাগলাম।
24:03
Speaker A
কিছুদূর হাঁটার পরে আমাদের সাথে কয়েকজন মানুষের দেখা সাক্ষাৎ হলো।
24:08
Speaker A
তারা আমাদেরকে অসহায় অবস্থায় দেখে আমাদের নিকট আসলো এবং আমাদের পরিচয় জিজ্ঞাসা করল।
24:13
Speaker A
আমি তখন আপনার নাম বলে পরিচয় দিলাম।
24:16
Speaker A
তারা আমাদেরকে যথেষ্ট সম্মান প্রদর্শন করে তাদের সঙ্গে নিয়ে চলল।
24:21
Speaker A
আমরা তাদের সাথে তাদের বাড়িতে গিয়ে পৌঁছালাম।
24:24
Speaker A
তারা আমাদেরকে সেখানে আশ্রয় দিল এবং আমাদের থাকা খাওয়ার সম্পূর্ণ ব্যবস্থা করে দিল।
24:29
Speaker A
এভাবেই দিন চলছিল।
24:31
Speaker A
একদিন আমি স্বপ্নে দেখলাম একজন শুভ্র পোশাক পরিহিত ব্যক্তি আমাকে বলছে, হে নবীর স্ত্রী তোমার স্বামীর উপর আল্লাহ রব্বুল আলামীনের পরীক্ষা শেষ হয়েছে।
24:39
Speaker A
অল্পদিনের মধ্যেই তার সাথে তোমার সাক্ষাৎ হবে।
24:43
Speaker A
এবং আল্লাহ রব্বুল আলামীন তোমাদের সুখের দিন ফিরিয়ে দিবেন।
24:47
Speaker A
এরপর একদিন আমরা জানতে পারলাম যে আপনি এই লোকালয়ে আগমন করেছেন।
24:53
Speaker A
আর এ খবর পেয়েই আমরা আপনার কাছে এসে উপস্থিত হলাম।
24:56
Speaker A
স্ত্রীর মুখে এই কাহিনী শুনে নবী অনেক খুশি হলেন।
25:01
Speaker A
এবং আল্লাহ রব্বুল আলামীনের দরবারে লাখ লাখ শুকরিয়া আদায় করলেন।
25:05
Speaker A
অতপর তিনি তার স্ত্রীর নিকট তাদের বেঁচে থাকার ঘটনাটি জানতে চাইলেন।
25:10
Speaker A
স্ত্রী বললেন, আমরা আপনার হাত থেকে ছুটে পানির মধ্যে হাবুডুবু খাচ্ছিলাম।
25:15
Speaker A
প্রবল স্রোতে কখনো আমাদেরকে পানিতে তলিয়ে নিচ্ছিল আবার কখনো উপরে ভাসিয়ে রাখছিল।
25:21
Speaker A
আমরা অত্যন্ত ভীত হয়ে পড়েছিলাম।
25:23
Speaker A
এভাবে কয়েক ঘন্টা চলার পরে আমাদের পায়ের নিচে মাটি আসলো তখন আমরা সেখানে সোজা হয়ে দাঁড়ালাম।
25:29
Speaker A
আর এর মধ্যে স্রোতের প্রবলতা কিছুটা কমে গেল।
25:32
Speaker A
একটু পরেই আমরা দেখতে পেলাম সেখানকার পানি সম্পূর্ণরূপে শুকিয়ে গিয়েছে।
25:37
Speaker A
তখন আমরা সেখান থেকে উঁচু স্থানের দিকে হাঁটতে লাগলাম।
25:41
Speaker A
কিছুদূর হাঁটার পরে আমাদের সাথে কয়েকজন মানুষের দেখা সাক্ষাৎ হলো।
25:46
Speaker A
তারা আমাদেরকে অসহায় অবস্থায় দেখে আমাদের নিকট আসলো এবং আমাদের পরিচয় জিজ্ঞাসা করল।
25:51
Speaker A
আমি তখন আপনার নাম বলে পরিচয় দিলাম।
25:54
Speaker A
তারা আমাদেরকে যথেষ্ট সম্মান প্রদর্শন করে তাদের সঙ্গে নিয়ে চলল।
25:59
Speaker A
আমরা তাদের সাথে তাদের বাড়িতে গিয়ে পৌঁছালাম।
26:02
Speaker A
তারা আমাদেরকে সেখানে আশ্রয় দিল এবং আমাদের থাকা খাওয়ার সম্পূর্ণ ব্যবস্থা করে দিল।
26:07
Speaker A
এভাবেই দিন চলছিল।
26:09
Speaker A
একদিন আমি স্বপ্নে দেখলাম একজন শুভ্র পোশাক পরিহিত ব্যক্তি আমাকে বলছে, হে নবীর স্ত্রী তোমার স্বামীর উপর আল্লাহ রব্বুল আলামীনের পরীক্ষা শেষ হয়েছে।
26:17
Speaker A
অল্পদিনের মধ্যেই তার সাথে তোমার সাক্ষাৎ হবে।
26:21
Speaker A
এবং আল্লাহ রব্বুল আলামীন তোমাদের সুখের দিন ফিরিয়ে দিবেন।
26:25
Speaker A
এরপর একদিন আমরা জানতে পারলাম যে আপনি এই লোকালয়ে আগমন করেছেন।
26:31
Speaker A
আর এ খবর পেয়েই আমরা আপনার কাছে এসে উপস্থিত হলাম।
26:34
Speaker A
স্ত্রীর মুখে এই কাহিনী শুনে নবী অনেক খুশি হলেন।
26:39
Speaker A
এবং আল্লাহ রব্বুল আলামীনের দরবারে লাখ লাখ শুকরিয়া আদায় করলেন।
26:43
Speaker A
একদিন পর হযরত ইউনুস আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক বৈঠকে বসে কয়েকজন লোককে উপদেশ প্রদান করছিলেন।
26:48
Speaker A
এমন সময় একজন লোক সেখানে এসে উপস্থিত হয়ে বললেন।
26:52
Speaker A
হুজুর কিছুদিনের আগের ঘটনা।
26:55
Speaker A
আমরা আট থেকে 10 জন লোক একটি জঙ্গলে কাঠ কাটার উদ্দেশ্যে গমন করলাম।
27:01
Speaker A
হঠাৎ আমরা দেখতে পেলাম একটি বাঘ একটি বালককে নিয়ে দ্রুত জঙ্গলের অভ্যন্তরে চলে যাচ্ছে।
27:08
Speaker A
তখন আমরা সকলে মিলে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বাঘটিকে ধাওয়া করলাম।
27:12
Speaker A
আমাদের ধাওয়া খেয়ে বাঘটি বালকটিকে ছেড়ে চলে গেল।
27:16
Speaker A
বালকটি সম্পূর্ণ মূর্ছ অবস্থায় পড়েছিল।
27:19
Speaker A
এরপর আমি ও আমার বন্ধুরা বালকটিকে বাড়িতে নিয়ে এসে অনেক চিকিৎসা ও সেবা যত্ন করলাম।
27:26
Speaker A
যার কারণে সে সম্পূর্ণরূপে আরোগ্য লাভ করল এবং সুস্থ হয়ে উঠলো।
27:31
Speaker A
সুস্থ হওয়ার পরে সে তার সম্পূর্ণ ঘটনা আমাদেরকে খুলে বলল।
27:36
Speaker A
এবং সে বলল যে আমি আল্লাহর নবী হযরত ইউনুস আলাইহি ওয়াসাল্লামের পুত্র।
27:39
Speaker A
তখন হযরত ইউনুস আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন আমার পুত্র কোথায়?
27:43
Speaker A
তাকে জলদি নিয়ে এসো।
27:44
Speaker A
লোকটি বলল হুজুর এখনই আমার সঙ্গের লোকজন তাকে নিয়ে আপনার কাছে উপস্থিত হবেন।
27:48
Speaker A
এর কিছুক্ষণ পরে হযরত ইউনুস আলাইহি ওয়াসাল্লামের ছেলেটিকে নিয়ে কিছু লোক তার কাছে উপস্থিত হলো।
27:54
Speaker A
ছেলেকে এভাবে অকল্পনীয়ভাবে ফিরে পেয়ে হযরত ইউনুস আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ রব্বুল আলামীনের দরবারে লাখ লাখ শুকরিয়া আদায় করতে লাগলেন।
28:01
Speaker A
এবং তার দুই চোখ দিয়ে অবিরল ধারায় আনন্দের অশ্রু বগলিত হতে লাগল।
28:06
Speaker A
স্ত্রী পুত্রকে ফিরে পাওয়ার পরে হযরত ইউনুস আলাইহি ওয়াসাল্লাম চিন্তা করলেন এবার তাকে স্বদেশ পানি ফিরে যেতে হবে।
28:12
Speaker A
কারণ এটাই ছিল আল্লাহ রব্বুল আলামীনের নির্দেশ।
28:15
Speaker A
অতপর তিনি সেই দেশের লোকজন কে বিদায় গা নিয়ে স্বদেশের পথে গমন করেন।
28:20
Speaker A
প্রিয় দর্শক, এই ছিল মহান আল্লাহর এক প্রিয় নবীর কাহিনী।
28:24
Speaker A
যার ধৈর্য, তওবা আর আল্লাহর প্রতি ভরসা আজও আমাদের জন্য বড় শিক্ষা।
28:30
Speaker A
আমরা যেন ইউনুস আলাইহিস সালামের মত বিপদে পড়ে আল্লাহকে ডাকি।
28:36
Speaker A
তওবা করি।
28:38
Speaker A
ধৈর্য ধরি।
28:40
Speaker A
এই দোয়া করি আল্লাহর দরবারে।
28:42
Speaker A
আল্লাহ যেন আমাদেরকে সত্য বোঝার ও সে অনুযায়ী জীবন গড়ার তৌফিক দেন।
28:48
Speaker A
আমিন।
28:50
Speaker A
ভিডিওটি যদি আপনার ভালো লেগে থাকে।
28:53
Speaker A
একটা লাইক দিন।
28:54
Speaker A
নিচে কমেন্ট করে মতামত জানান।
28:57
Speaker A
আর নতুন নতুন ইসলামিক কাহিনী পেতে সাবস্ক্রাইব করতে ভুলবেন না।
29:02
Speaker A
আল্লাহ হাফেজ।
29:03
Speaker A
দেখা হবে পরের ভিডিওতে ইনশাআল্লাহ।
Topics:হযরত ইউনুসইসলামিক কাহিনীমাছের পেটে ইউনুস নবীআল্লাহর গজবনবীদের জীবনীবাংলা ইসলামিক স্টোরিকওমের অবাধ্যতাদাওয়াত ও প্রার্থনাইসলামিক শিক্ষাকিসাসের আলো

Frequently Asked Questions

How did Prophet Yunus (AS) end up in the fish's belly?

The transcript states that Allah commanded Prophet Yunus (AS) to invite his people to the path of guidance. When his people rejected his message and refused to abandon idol worship, the video implies this led to the events where he ended up in the fish's belly, though the direct action of how he entered is not detailed in this excerpt.

What was Prophet Yunus's (AS) message to his people?

Prophet Yunus (AS) told his people to acknowledge that there is no god but Allah and that he was His messenger. He urged them to abandon idol worship and instead worship the one, formless, and almighty Allah, following his advice and commands.

How did Prophet Yunus's (AS) people react to his warnings of divine punishment?

His people completely disregarded his words, stating they would not abandon their ancestors' religion or idol worship even if he tore them to pieces. When he described the nature of divine punishment, they mocked him and laughed at his warnings.

Get More with the Söz AI App

Transcribe recordings, audio files, and YouTube videos — with AI summaries, speaker detection, and unlimited transcriptions.

Or transcribe another YouTube video here →