রমাদান নিয়ে কিছু উত্তম নাসিহাহ | Shaikh Tamim Al Adnani

Full Transcript — Download SRT & Markdown

00:00
Speaker A
আতা দাইফুন ইউবাশিরু বিল জিনানি ওয়াফি আহশাহি দুরারুল মাআনি
00:14
Speaker A
নাদিউল কাফফি লাইসা লাহু শাবিহুন আজিমুশ শানি জাওহারাতুজ জামানি।
00:23
Speaker A
আলা রামাদানুন আনতা লানানতিসারু আলা নাফসিন গাওয়াহা আলফুজানি।
00:37
Speaker A
ওয়া মাওয়া কুল্লি মুত্তাকিরিন ইন্নাল হামদুলিল্লাহ ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আলা রাসূলিল্লাহ আম্মা বাদ।
00:44
Speaker A
গত বছরের এমন দিনেই আমরা রমাদানের আগমনের অপেক্ষায় ছিলাম।
00:54
Speaker A
সেই দিন থেকে আজ পর্যন্ত পূর্ণ একটি বছর অতিবাহিত হয়ে গেছে।
01:00
Speaker A
অথচ আমরা টেরই পেলাম না।
01:06
Speaker A
পূর্ণ একটি বছর তার স্বাভাবিক গতি ও রীতিতেই চলে গেছে আমাদের জীবন থেকে।
01:14
Speaker A
এই একটি বছরে আমরা ভালো মন্দ যা-ই কামাই করেছি, দিনগুলো কিন্তু থেমে থাকেনি।
01:21
Speaker A
আমাদের ভালো খারাপ আমলগুলো সহকারে সেগুলো অতিবাহিত হয়ে গেছে আমাদের জীবন থেকে।
01:30
Speaker A
আল্লাহ তা'আলা সত্যই বলেছেন, আর তিনিই তো সবচেয়ে বেশি সত্যবাদী।
01:35
Speaker A
তিনি বলেন, وَتِلْكَ الْأَيَّامُ نُدَاوِلُهَا بَيْنَ النَّاسِ
01:40
Speaker A
وَلِيَعْلَمَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَيَتَّخِذَ مِنْكُمْ شُهَدَاءَ
01:48
Speaker A
وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ الظَّالِمِينَ
01:53
Speaker A
আর এ দিনগুলো আমি মানুষের মধ্যে অদলবদল করি।
02:00
Speaker A
যাতে আল্লাহ মুমিনদের যাচাই করতে পারেন এবং তোমাদের মধ্য থেকে শহীদদের গ্রহণ করতে পারেন।
02:10
Speaker A
আল্লাহ জালিমদের ভালোবাসেন না।
02:13
Speaker A
(সূরা আলে ইমরান, আয়াত নং ১৪০)
02:16
Speaker A
ইবনে কাসীর রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আমাদের উপর দিয়ে দিনগুলো বয়ে যায়।
02:22
Speaker A
চলে যায় দিনের পর দিন, বছরের পর বছর।
02:30
Speaker A
এভাবে আমাদেরকে নির্দিষ্ট একটি সময়ের দিকে টেনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
02:36
Speaker A
যদি পাহাড় সমপরিমাণ স্বর্ণমুদ্রাও খরচ করি, তবুও আমাদের জীবন থেকে যে মিনিট সেকেন্ডগুলো অতিবাহিত হয়ে গেছে,
02:46
Speaker A
সেগুলো আর কখনোই ফিরে আসবে না।
02:50
Speaker A
অবশ্যই আমাদের জীবনের একটি সীমা আছে, যার পরে আর বেঁচে থাকা সম্ভব না।
02:57
Speaker A
আর আমার আপনার উপর আল্লাহর সবচেয়ে বড় নেয়ামত হলো, আমাদের জীবনকে তিনি দীর্ঘায়িত করেছেন।
03:07
Speaker A
এবং এই পবিত্র রমাদান মাস পর্যন্ত আমাদেরকে সুযোগ দিয়েছেন।
03:14
Speaker A
কত মানুষ তো এমনও আছে, যারা এই রমাদানের পূর্বেই মৃত্যুবরণ করেছে।
03:21
Speaker A
কত মানুষ এমনও আছে, যারা বিগত রমাদানে আমাদের সাথে একত্রে রোজা রেখেছে এবং ঈদ উদযাপন করেছে।
03:31
Speaker A
কিন্তু আজ তারা মাটির নিচে চাপা পড়ে আছে, মাটির গর্ভে তারা বিলীন হয়ে গেছে।
03:39
Speaker A
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
03:43
Speaker A
اغتنم خمسا قبل خمس: شبابك قبل هرمك، وصحتك قبل سقمك،
03:50
Speaker A
وغناك قبل فقرك، وفراغك قبل شغلك، وحياتك قبل موتك।
03:57
Speaker A
পাঁচটি বিষয় আসার পূর্বে পাঁচটি জিনিসের মূল্যায়ন করো।
04:03
Speaker A
মৃত্যুর পূর্বে জীবনের,
04:06
Speaker A
অসুস্থতার পূর্বে সুস্থতার,
04:09
Speaker A
ব্যস্ততার পূর্বে অবসরের,
04:12
Speaker A
বার্ধক্যের পূর্বে যৌবনের,
04:15
Speaker A
এবং দারিদ্রতার পূর্বে ধনাত্বতার।
04:19
Speaker A
মুস্তাদরাকে হাকিমে একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে।
04:23
Speaker A
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যখন জিজ্ঞেস করা হলো যে,
04:30
Speaker A
কোন মানুষ সর্বোত্তম?
04:33
Speaker A
তিনি বললেন,
04:35
Speaker A
مَنْ طَالَ عُمُرُهُ وَحَسُنَ عَمَلُهُ
04:38
Speaker A
‘যে দীর্ঘ হায়াত পেয়েছে এবং উত্তম আমল করেছে।’
04:43
Speaker A
(মুস্তাদরাকুল হাকিম, হাদিস নং ১২৬২)
04:46
Speaker A
হে ভাই, আপনিও রাসূলের এই হাদিসকে আপনার জীবনের মধ্যে বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করুন।
04:53
Speaker A
ইমাম আহমদ ও নাসায়ী রাহিমাহুল্লাহ হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু থেকে বর্ণনা করেন,
05:00
Speaker A
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাহাবীদেরকে রমাদানের আগমনের সুসংবাদ দিতেন।
05:08
Speaker A
তিনি তাদেরকে বলতেন,
05:11
Speaker A
قَدْ جَاءَكُمْ رَمَضَانُ شَهْرٌ مُبَارَكٌ افْتَرَضَ اللَّهُ عَلَيْكُمْ صِيَامَهُ
05:20
Speaker A
تُفْتَحُ فِيهِ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ وَيُغْلَقُ فِيهِ أَبْوَابُ الْجَحِيمِ وَتُغَلُّ فِيهِ الشَّيَاطِينُ
05:30
Speaker A
فِيهِ لَيْلَةٌ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ شَهْرٍ مَنْ حُرِمَ خَيْرَهَا فَقَدْ حُرِمَ
05:38
Speaker A
‘তোমাদের কাছে রমাদান মাস এসেছে।
05:43
Speaker A
এটি একটি বরকতময় মাস।
05:46
Speaker A
এই মাসে রোজা রাখা সকলের উপর ফরজ করে দেওয়া হয়েছে।
05:53
Speaker A
এই মাসে জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়।
06:01
Speaker A
শয়তানকে শিকলাবদ্ধ করে রাখা হয়।
06:05
Speaker A
এই মাসে এমন একটি রজনী আছে, যেটি এক হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।
06:13
Speaker A
যে এর কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হলো, সে বঞ্চিতই হলো।’
06:18
Speaker A
(মুসনাদু আহমদ, হাদিস নং ৭১৪৮)
06:21
Speaker A
ইবনে রজব রাহিমাহুল্লাহ বলেন, এই হাদিসটি মানুষকে রমাদান মাসের প্রতি উৎসাহিত করার জন্য,
06:29
Speaker A
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি হাদিস।
06:35
Speaker A
মুমিন কিভাবে এই মাসের সুসংবাদ গ্রহণ না করে থাকতে পারে,
06:43
Speaker A
যেখানে জান্নাতের দরজাগুলো উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
06:50
Speaker A
পাপীরা কেনই বা খুশি হবে না, যেখানে জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়।
06:57
Speaker A
বিবেকবান ব্যক্তি কেনই বা সুসংবাদ পাবে না, কেননা এই মাসে শয়তানকে বেঁধে রাখা হয়।
07:05
Speaker A
রমাদানের এই সময়গুলোর সাথে বছরের অন্য কোন সময়ের কোন তুলনাই হয় না।
07:12
Speaker A
মুআল্লা ইবনুল ফাজাল রাহিমাহুল্লাহ বলেন, তারা বছরের ছয় মাস আল্লাহ তা'আলার কাছে রমাদান মাস পাওয়ার জন্য দোয়া করতেন।
07:22
Speaker A
আর বাকি ছয় মাস তাদের কাছ থেকে রমাদানের আমলগুলো কবুল করার জন্য দোয়া করতেন।
07:30
Speaker A
ইয়াহিয়া বিন কাসীর রাহিমাহুল্লাহ বলেন,
07:33
Speaker A
তাদের একটি দোয়া ছিল:
07:36
Speaker A
اللَّهُمَّ سَلِّمْنِي مِنْ رَمَضَانَ، وَسَلِّمْ رَمَضَانَ لِي، وَتَسَلَّمْهُ مِنِّي مُتَقَبَّلًا
07:42
Speaker A
‘হে আল্লাহ, রমাদান পর্যন্ত আমাকে নিরাপদ রাখুন।
07:47
Speaker A
আমার জন্য রমাদানকে নিরাপদ করে দিন এবং আমার কাছ থেকে নিরাপদ রমাদানকে কবুল করে নিন।’
07:56
Speaker A
(আদ-দুআয়ু লিট তাবরানি, হাদিস নং ৯৯২)
07:59
Speaker A
এমন একটি বরকতময় মাস যেন আমাদের জীবনে সজীবতা আনয়ন করে।
08:06
Speaker A
রমাদান মাসের কতগুলো বৈশিষ্ট্য আছে।
08:11
Speaker A
যথা এই মাসে আসমানী কিতাবসমূহ নাযিল করা হয়েছে।
08:16
Speaker A
রোজা ও কুরআন মুমিনের জন্য সুপারিশ করবে।
08:21
Speaker A
এই মাসে তারাবি ও অধিক তাহাজ্জুদ পড়ার সুযোগ পাওয়া যায়।
08:27
Speaker A
এই মাসে তাওবা ও পাপ মোচন করা হয়।
08:30
Speaker A
শয়তানকে বেঁধে রাখা হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়।
08:37
Speaker A
একে অপরের প্রতি সহমর্মিতার সুযোগ বেড়ে যায়।
08:43
Speaker A
জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।
08:46
Speaker A
সবর, শোকর ও দোয়ার আমল বেশি বেশি করা যায়।
08:52
Speaker A
নেক কাজের বিনিময় বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়।
08:57
Speaker A
লাইলাতুল কদর লাভ করা যায়।
08:59
Speaker A
সুতরাং একজন মুমিন এমন এক বরকতময় মাস পেয়ে কেনই বা খুশি হবে না।
09:06
Speaker A
আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন,
09:09
Speaker A
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ
09:18
Speaker A
‘হে ঈমানদারগণ, তোমাদের পূর্ববর্তীদের জন্য যেমন রোজা ফরজ করা হয়েছে, তেমনই তোমাদের জন্যও তা ফরজ করা হলো;
09:27
Speaker A
যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।’
09:30
Speaker A
(সূরা আল-বাকারা, আয়াত নং ১৮৩)
09:33
Speaker A
ওলামায়ে কেরাম বলেন, রোজার মধ্যে আল্লাহ তা'আলার হেকমত এই নয় যে, তিনি মানুষকে খানাপিনা ও সহবাস থেকে বিরত রাখবেন।
09:42
Speaker A
বরং রোজার হেকমত হলো এর মাধ্যমে মানুষকে তাকওয়ার গুণ অর্জন করার সুযোগ করে দেওয়া হয়।
09:51
Speaker A
আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও এদিকে ইঙ্গিত করেছেন।
09:55
Speaker A
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
09:58
Speaker A
مَنْ لَمْ يَدَعْ قَوْلَ الزُّورِ وَالْعَمَلَ بِهِ وَالْجَهْلَ فَلَيْسَ لِلَّهِ حَاجَةٌ أَنْ يَدَعَ طَعَامَهُ وَشَرَابَهُ
10:07
Speaker A
‘যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা এবং মিথ্যা কাজ ও জাহালাতকে বর্জন করতে পারল না, তাহলে তার খানাপিনা বর্জন আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।’
10:18
Speaker A
(সহীহুল বুখারী, হাদিস নং ৬০৫৭)
10:21
Speaker A
এই হাদিস থেকেও প্রতিয়মান হয় যে, রোজার দ্বারা আল্লাহ তা'আলা মানুষকে সকল পাপাচার থেকে বিরত রাখতে চান।
10:29
Speaker A
সুতরাং আমার আপনার মধ্যে রোজা দ্বারা রাব্বুল আলামীনের তাকওয়া অর্জন করাই আসল উদ্দেশ্য।
10:38
Speaker A
কেননা আল্লাহর ভয় অর্জন করাই তো মানুষের সবচেয়ে বড় অর্জন।
10:43
Speaker A
আর আল্লাহ তা'আলার কাছেও পরকালের সুখ শান্তির একমাত্র হকদার হলো মুত্তাকীরা।
10:50
Speaker A
আসুন সালাফদের অবস্থা নিয়ে কিছু আলোচনা করা যাক।
10:54
Speaker A
ইমাম বুখারী রাহিমাহুল্লাহ বলেন,
10:58
Speaker A
যে দিন থেকে আমি বালেগ হয়েছি, সে দিন থেকে আমি কোন মুসলমানের গীবত করিনি।
11:05
Speaker A
শাফি রাহিমাহুল্লাহ বলেন,
11:08
Speaker A
আমি কখনো সত্য কিংবা মিথ্যা কোন বিষয়ে আল্লাহর নামে শপথ করিনি, যদিও আমার শপথ করার সুযোগ ছিল।
11:18
Speaker A
অনেকেই মুহাম্মদ বিন ওয়াসি রাহিমাহুল্লাহকে বলেছেন,
11:24
Speaker A
যে আপনি হেলান দেন না কেন?
11:27
Speaker A
তিনি উত্তরে বললেন, হেলান তো দেয় নিরাপদ ও নিশ্চিন্ত ব্যক্তি।
11:33
Speaker A
আমি তো এখনো পর্যন্ত ভীতসন্ত্রস্ত।
11:37
Speaker A
হযরত আব্দুল্লাহ বিন ওয়াহাব রাহিমাহুল্লাহ তার নিকট একবার,
11:43
Speaker A
وَإِذْ يَتَحَاجُّونَ فِي النَّارِ
11:46
Speaker A
এই আয়াত তিলাওয়াত করা হলে, তিনি অচেতন হয়ে পড়েন।
11:50
Speaker A
সালাফদের একজন বলেন,
11:54
Speaker A
যে দিন থেকে আমি জেনেছি যে, মিথ্যা বলার দ্বারা মিথ্যাবাদীর ক্ষতি হয়, সে দিন থেকে আমি মিথ্যা ছেড়ে দিয়েছি।
12:05
Speaker A
আবু সুলাইমান আদ-দারানি রাহিমাহুল্লাহ বলেন,
12:09
Speaker A
আমি প্রতিদিন আয়নার সামনে এসে আমার চেহারা দেখতাম এই ভয়ে,
12:18
Speaker A
যে না জানি গুনাহের কারণে আমার চেহারা কালো হয়ে গেছে।
12:23
Speaker A
ইয়াজিদ আর-রাক্কাশি নিজের হিসাব গ্রহণ করে বলতেন,
12:28
Speaker A
হে ইয়াজিদ, তোমার মৃত্যুর পর কে তোমার পক্ষ থেকে সালাত আদায় করবে?
12:34
Speaker A
হে ইয়াজিদ, তোমার মৃত্যুর পর কে তোমার পক্ষ থেকে সিয়াম পালন করবে?
12:40
Speaker A
হে ইয়াজিদ, তোমার মৃত্যুর পর কে তোমার পক্ষ থেকে কে তোমার রবকে সন্তুষ্ট করবে?
12:47
Speaker A
এরপর তিনি কেঁদে কেঁদে বলতেন, হে লোক সকল, তোমরা কি নিজেদের ব্যাপারে ক্রন্দন করবে না?
12:53
Speaker A
মৃত্যু যাকে খুঁজছে, কবর যার আবাস, মাটি যার বিছানা এবং কীট পতঙ্গ যার সঙ্গী।
13:02
Speaker A
এতকিছু সত্ত্বেও তাকে অন্ধকার কবরে প্রতীক্ষা করতে হবে সেই কিয়ামত দিবস পর্যন্ত।
13:10
Speaker A
তখন তার অবস্থা কেমন হবে?
13:12
Speaker A
এমনিই ছিল সালাফদের অবস্থা।
13:15
Speaker A
আমার আর আপনার অবস্থা তাহলে কি?
13:18
Speaker A
আমরা নতুন নতুন পোশাক পরিধান করি, মজাদার খাবার খাই।
13:24
Speaker A
সব সময় হারামে লিপ্ত থাকি।
13:28
Speaker A
আল্লাহর হুঁশিয়ারির কথা ভুলে যাই এবং লম্বা লম্বা আশা করে থাকি।
13:33
Speaker A
আল্লাহর রহমতের আশা করি।
13:36
Speaker A
এটা আমাদের কেমন আইসি জীবন?
13:40
Speaker A
কেন জীবনের প্রতি আমাদের এত মায়া?
13:45
Speaker A
আল্লাহর ভয়ে কেন আমাদের চোখ দিয়ে সামান্য এক ফোঁটা পানিও আসে না?
13:51
Speaker A
শেষ রাতে আল্লাহর সামনে আমরা আর এখন দণ্ডায়মান হই না।
13:57
Speaker A
জিকিরের মজলিসগুলোতে আমরা এখন আর ভিড় জমাই না।
14:02
Speaker A
আমরা নফল রোজাও রাখি না।
14:05
Speaker A
সাদাকাও করি না।
14:07
Speaker A
আমাদের জীবনের প্রকৃতি কেন এমন হয়ে গেল?
14:11
Speaker A
এগুলো ছাড়া কি প্রকৃত জীবনের স্বপ্ন দেখা যায়?
14:17
Speaker A
এই আমলগুলো না করলে কি সুখ-স্বাচ্ছন্দের দেখা মিলবে?
14:21
Speaker A
না, কখনো না।
14:23
Speaker A
যদি আপনি রাত্রিজাগরণ করতে না পারেন, শেষ রাতে আল্লাহর সামনে দণ্ডায়মান হতে না পারেন,
14:30
Speaker A
দিনের বেলায় নফল সিয়াম রাখতে অক্ষম হন,
14:35
Speaker A
তবে জেনে রাখুন, আপনি আল্লাহর রহমত থেকে মাহরুম হবেন।
14:41
Speaker A
আপনি অবশ্যই আল্লাহর রহমত থেকে মাহরুম হবেন।
14:44
Speaker A
আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন,
14:47
Speaker A
إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي جَنَّاتٍ وَنَهَرٍ فِي مَقْعَدِ صِدْقٍ عِنْدَ مَلِيكٍ مُقْتَدِرٍ
14:55
Speaker A
‘মুত্তাকীরা থাকবে জান্নাতে ও তার মধ্যস্থিত নদীতে; সত্যের আসনে, মহাশক্তিধর মালিক (আল্লাহর) সান্নিধ্যে।’
15:05
Speaker A
(সূরা আল-ক্বামার, আয়াত নং ৫৪-৫৫)
15:08
Speaker A
যে ব্যক্তি সালাফদের জীবনী পাঠ করে, সে অবশ্যই জানবে,
15:14
Speaker A
যে যুগে যুগে কি পরিমাণ মানুষ পরিপূর্ণ দ্বীন পালন করে।
15:20
Speaker A
এর সংখ্যা অতি নগণ্য।
15:22
Speaker A
তাই বর্তমানেও আমাদের মাঝে এই উত্তম গুণাবলী হাসিলের জন্য চাই সালাফদের জীবনী নিয়ে বেশি বেশি আলোচনা।
15:30
Speaker A
এবং গভীর অধ্যয়ন।
15:33
Speaker A
তাই আসুন, আমরা সালাফদের জীবনী নিয়ে আরো কিছু আলোচনা করি।
15:39
Speaker A
তারা কিভাবে আমলে ব্যস্ত থাকতেন সেই দৃশ্য দেখে আসি।
15:43
Speaker A
হযরত ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু থেকে বর্ণিত,
15:47
Speaker A
তিনি বলেন,
15:49
Speaker A
ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু মৃত্যু পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে রোজা রেখে গেছেন।
15:55
Speaker A
আর নেককারদের সরদার, পাপিষ্ঠদের হত্যাকারী,
16:01
Speaker A
হযরত উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু এর সম্পর্কে,
16:05
Speaker A
আবু নাইম বলেন,
16:07
Speaker A
দিনের বেলায় তিনি দান-খায়রাত ও রোজার আমল করতেন।
16:12
Speaker A
আর রাতের বেলায় সালাতে মনোযোগী থাকতেন।
16:16
Speaker A
বিপদ-আপদকে পরীক্ষা মনে করতেন।
16:20
Speaker A
এবং আল্লাহর সাথে একান্ত আলাপচারিতাকে নেয়ামত ভাবতেন।
16:25
Speaker A
জুবাইর বিন আব্দুল্লাহ তার দাদা থেকে বর্ণনা করেন,
16:30
Speaker A
যে হযরত উসমান রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু যুগ যুগ ধরে রোজা রাখতেন।
16:38
Speaker A
এবং রাতের শুরু ভাগে একটু ঘুমাতেন।
16:44
Speaker A
আর বাকি সময় সালাতে দণ্ডায়মান থাকতেন।
16:48
Speaker A
তাকে যখন শহীদ করা হয়, তখন তার হাতে পবিত্র কুরআনে কারীম ছিল।
16:56
Speaker A
এবং তখন তার দাড়ি ও গাল বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছিল।
17:01
Speaker A
রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অত্যন্ত প্রিয় সাহাবী ছিলেন তিনি।
17:06
Speaker A
সত্যের পক্ষে বলিষ্ঠ ছিলেন।
17:09
Speaker A
তিনি ইসলামের তৃতীয় খলিফা ছিলেন।
17:12
Speaker A
আর হযরত আবু তালহা আল-আনসারী রাদিয়াল্লাহু আনহু এর অবস্থা,
17:17
Speaker A
যার সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
17:21
Speaker A
صَوْتُ أَبِي طَلْحَةَ فِي الْجَيْشِ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ رَجُلٍ
17:26
Speaker A
‘সেনাদলের মধ্যে আবু তালহার আওয়াজ এক হাজার পুরুষের চেয়েও উত্তম।’
17:31
Speaker A
(মুস্তাদরাকুল হাকিম, হাদিস নং ৫২০৬)
17:34
Speaker A
তার ব্যাপারে হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু থেকে বর্ণিত আছে,
17:37
Speaker A
তিনি বলেন,
17:39
Speaker A
হযরত আবু তালহা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আমলে যুদ্ধের কারণে রোজা রাখতেন না।
17:47
Speaker A
অতপর যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকাল হয়ে যায়,
17:54
Speaker A
আমি তাকে দুই ঈদের দিন ছাড়া অন্য কোন সময় রোজা ভঙ্গ করতে দেখিনি।
18:02
Speaker A
হাকিমুল উম্মাহ, সাইয়্যেদুল কুররা,
18:06
Speaker A
হযরত আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বলেন,
18:10
Speaker A
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুয়ত প্রাপ্তির পূর্বে,
18:16
Speaker A
আমি ছিলাম একজন ব্যবসায়ী।
18:20
Speaker A
অতপর যখন তিনি নবুয়ত পেলেন, তখন আমি ব্যবসাও করতাম,
18:26
Speaker A
ইবাদতও করতাম।
18:28
Speaker A
অতপর যখন দুটিকে একত্রে পালন করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়,
18:36
Speaker A
তখন আমি ব্যবসাকে ছেড়ে ইবাদতকেই অগ্রাধিকার দিলাম।
18:40
Speaker A
তার ব্যাপারে তার স্ত্রী বলেন,
18:42
Speaker A
তার দুনিয়াবী কোন হাজত ছিল না।
18:45
Speaker A
তিনি রাতে সালাত আদায় করতেন আর দিনে সিয়াম পালন করতেন।
18:50
Speaker A
আর আল্লাহর জন্য সাদাকা করতেন।
18:52
Speaker A
শ্রেষ্ঠ আবেদ, ইমাম আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু এর ব্যাপারে,
18:56
Speaker A
নাফি রাহিমাহুল্লাহ বলেন,
18:58
Speaker A
ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু সফর অবস্থায় রোজা রাখতেন না।
19:02
Speaker A
আর মুকিম অবস্থায় রোজা ছাড়তেন না।
19:05
Speaker A
অবশ্যই তার ব্যাপারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি বাণীই যথেষ্ট।
19:10
Speaker A
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ব্যাপারে বলেন,
19:12
Speaker A
نِعْمَ الرَّجُلُ عَبْدُ اللَّهِ
19:14
Speaker A
‘আব্দুল্লাহ কতই না উত্তম বান্দা!’
19:17
Speaker A
(সহীহুল বুখারী, হাদিস নং ৩৭২২)
19:20
Speaker A
হযরত সাঈদ ইবনে জাবের রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু থেকে বর্ণিত,
19:24
Speaker A
তিনি বলেন,
19:26
Speaker A
যখন ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু এর মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এসেছে,
19:33
Speaker A
তখন তিনি কেঁদে কেঁদে বলছিলেন, দুনিয়ার কোন কিছুর জন্য আমার কোন কষ্ট নেই।
19:39
Speaker A
কোন আক্ষেপ নেই।
19:41
Speaker A
তবে তিনটি জিনিসের আক্ষেপ আমার রয়ে গেছে।
19:46
Speaker A
এক, রোজার সময় দ্বিপ্রহরের তৃষ্ণা।
19:52
Speaker A
দুই, ক্বিয়ামুল লাইলের সময় মধ্যরাতে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের মধুর অনুভূতি।
19:58
Speaker A
তৃতীয়টি হলো, অত্যাচারী গোষ্ঠীর সাথে আমার যুদ্ধ করতে না পারা।
20:05
Speaker A
যেমন হাজ্জাজ বিন ইউসুফ সহ এমন আরো যারা আছে।
20:09
Speaker A
এই তিনটি বিষয়ের জন্য আমার আফসোস রয়ে গেছে।
20:14
Speaker A
অর্থাৎ দিনের বেলায় আর কখনো রোজা রাখতে পারবো না।
20:19
Speaker A
রাতে আর কখনো দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করার সুযোগ হবে না।
20:25
Speaker A
এবং এই জালিমের সাথে আমি যুদ্ধ করতে পারলাম না।
20:29
Speaker A
হযরত রেযা বিন হায়াত থেকে বর্ণিত,
20:33
Speaker A
তিনি আবু উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন,
20:36
Speaker A
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার এক যুদ্ধ বাহিনী প্রস্তুত করছেন।
20:42
Speaker A
তখন আমি তার কাছে এসে বলেছি,
20:46
Speaker A
ইয়া রাসূলুল্লাহ, আমার জন্য শাহাদাতের দোয়া করুন।
20:50
Speaker A
তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,
20:52
Speaker A
اللَّهُمَّ سَلِّمْهُمْ وَغَنِّمْهُمْ
20:55
Speaker A
‘হে আল্লাহ, তাকে আপনি নিরাপদ রাখুন এবং গনিমতের অংশীদার করুন।’
21:00
Speaker A
(মুসনাদু আহমদ, হাদিস নং ২২৩৪০)
21:03
Speaker A
অতপর আমি যুদ্ধ করেছি, নিরাপদে ফিরে এসেছি এবং গনিমতও পেয়েছি।
21:09
Speaker A
এভাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনবার বলেছেন।
21:14
Speaker A
তারপর আমি তার কাছে এসে বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ, আমি আপনার কাছে তিন তিনবার এসেছি।
21:21
Speaker A
আমার শাহাদাত লাভের দোয়া করার জন্য।
21:24
Speaker A
কিন্তু আপনি আমার জন্য নিরাপদে যুদ্ধ থেকে ফিরে আসার এবং গনিমত লাভের দোয়া করেছেন।
21:30
Speaker A
আপনার দোয়া সত্য প্রমাণিত হয়েছে।
21:32
Speaker A
অতএব আপনি আমাকে এমন কোন আমলের কথা বলুন, যা দ্বারা আমি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবো।
21:38
Speaker A
তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,
21:41
Speaker A
عَلَيْكَ بِالصَّوْمِ فَإِنَّهُ لَا مِثْلَ لَهُ
21:45
Speaker A
‘তুমি রোজা রাখো। কারণ, এই আমলের কোনো তুলনা হয় না।’
21:50
Speaker A
(সুনানুন নাসায়ি, হাদিস নং ২২২০)
21:53
Speaker A
عَلَيْكَ بِالصَّوْمِ فَإِنَّهُ لَا مِثْلَ لَهُ
21:56
Speaker A
‘তুমি রোজা রাখো। কারণ, এই আমলের কোনো তুলনা হয় না।’
22:01
Speaker A
(সুনানুন নাসায়ি, হাদিস নং ২২২০)
22:04
Speaker A
তিনি বলেন,
22:06
Speaker A
অতপর অবস্থা এমন হয়েছে যে, আবু উমামার বাড়িতে দিনের বেলায় কোন মেহমান আগমন করা ছাড়া কখনো ধোঁয়া দেখা যেত না।
22:14
Speaker A
যখনই মানুষ তার বাড়িতে ধোঁয়া দেখতে পেত, তখন তারা বুঝে নিত যে, নিশ্চয়ই আবু উমামার বাড়িতে কোন মেহমান এসেছে।
22:21
Speaker A
হযরত আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু থেকে বর্ণিত,
22:25
Speaker A
তিনি বলেন,
22:27
Speaker A
একদা গ্রীষ্মকালে আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সফরে বের হয়েছি।
22:35
Speaker A
রোদের প্রখরতা এতটাই বেশি ছিল যে, লোকেরা মাথায় হাত দিয়ে রেখেছিল।
22:42
Speaker A
আমাদের মাঝে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও ইবনে রাওয়াহা রাদিয়াল্লাহু আনহু রোজাদার অবস্থায় ছিলেন।
22:50
Speaker A
আর হযরত মাসরুক রাদিয়াল্লাহু আনহু এর ব্যাপারে,
22:53
Speaker A
শাবি রাহিমাহুল্লাহ বলেন,
22:55
Speaker A
একদিন আমি তাকে দেখতে এসেছি, তখন তিনি রোজাদার অবস্থায় ছিলেন।
23:00
Speaker A
দীর্ঘ সিয়াম পালনের কারণে তিনি জীর্ণশীর্ণ হয়ে পড়েছিলেন।
23:05
Speaker A
তখন তার মেয়ে বলল,
23:07
Speaker A
বাবা, আপনি খেয়ে নিন এবং পানি পান করুন।
23:10
Speaker A
তিনি উত্তরে বললেন, হে মেয়ে, তুমি কি চাচ্ছো?
23:14
Speaker A
সে বলল, সহানুভূতি চাচ্ছি।
23:16
Speaker A
তিনি একথা শুনে মেয়েকে বললেন, হে আমার মেয়ে, আমি তো সেদিনের সহানুভূতি কামনা করছি, যখন একদিন হবে ৫০ হাজার বছরের সমান।
23:26
Speaker A
যখন একদিন হবে ৫০ হাজার বছরের সমান, হে মেয়ে, আমি সেদিনের সহানুভূতি কামনা করছি।
23:36
Speaker A
আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন,
23:39
Speaker A
فَوَقَاهُمُ اللَّهُ شَرَّ ذَلِكَ الْيَوْمِ وَلَقَّاهُمْ نَضْرَةً وَسُرُورًا وَجَزَاهُمْ بِمَا صَبَرُوا جَنَّةً وَحَرِيرًا مُتَّكِئِينَ فِيهَا عَلَى الْأَرَائِكِ لَا يَرَوْنَ فِيهَا شَمْسًا وَلَا زَمْهَرِيرًا
23:50
Speaker A
‘অতপর আল্লাহ তাদেরকে সেদিনের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করবেন এবং তাদেরকে দেবেন সজীবতা ও আনন্দ।
23:58
Speaker A
এবং তাদের সবরের প্রতিদানে তাদেরকে দেবেন জান্নাত ও রেশমী পোশাক।
24:06
Speaker A
তারা সেখানে সিংহাসনে হেলান দিয়ে বসে থাকবে।
24:10
Speaker A
সেখানে রৌদ্র ও শৈত্য অনুভব করবে না।’
24:13
Speaker A
(সূরা আল-ইনসান, আয়াত নং ১১-১৩)
24:16
Speaker A
অন্যত্র আল্লাহ তা'আলা আরো ইরশাদ করছেন,
24:19
Speaker A
إِنَّ الَّذِينَ سَبَقَتْ لَهُمْ مِنَّا الْحُسْنَى أُولَئِكَ عَنْهَا مُبْعَدُونَ لَا يَسْمَعُونَ حَسِيسَهَا وَهُمْ فِي مَا اشْتَهَتْ أَنْفُسُهُمْ خَالِدُونَ
24:30
Speaker A
‘যাদের জন্য প্রথম থেকেই আমার পক্ষ থেকে কল্যাণ নির্ধারিত হয়েছে, তারা জাহান্নাম থেকে দূরে থাকবে।
24:38
Speaker A
তারা তার ক্ষীণতম শব্দও শুনবে না এবং তারা তাদের মনের বাসনা অনুযায়ী চিরকাল সেখানে বসবাস করবে।’
24:46
Speaker A
(সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত নং ১০১-১০২)
24:49
Speaker A
لَا يَحْزُنُهُمُ الْفَزَعُ الْأَكْبَرُ وَتَتَلَقَّاهُمُ الْمَلَائِكَةُ هَذَا يَوْمُكُمُ الَّذِي كُنْتُمْ تُوعَدُونَ
24:59
Speaker A
‘মহা কঠিন দিনের ভয়াবহতা তাদেরকে চিন্তিত করবে না এবং ফেরেশতারা তাদেরকে অভ্যর্থনা জানাবে,
25:06
Speaker A
আজ তোমাদের দিন, যেই দিনের ওয়াদা তোমাদেরকে দেওয়া হয়েছিল।’
25:11
Speaker A
(সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত নং ১০৩)
25:14
Speaker A
আল্লাহ তা'আলা তাদের ব্যাপারে আরো বলেন,
25:17
Speaker A
إِنَّهُمْ كَانُوا يُسَارِعُونَ فِي الْخَيْرَاتِ وَيَدْعُونَنَا رَغَبًا وَرَهَبًا وَكَانُوا لَنَا خَاشِعِينَ
25:25
Speaker A
‘তারা সৎকর্মে ঝাঁপিয়ে পড়ত, তারা আশা ও ভীতি সহকারে আমাকে ডাকত এবং তারা ছিল আমার কাছে বিনীত।’
25:32
Speaker A
(সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত নং ৯০)
25:35
Speaker A
তিনি আরো বলেন,
25:37
Speaker A
وَأَقْبَلَ بَعْضُهُمْ عَلَى بَعْضٍ يَتَسَاءَلُونَ قَالُوا إِنَّا كُنَّا قَبْلُ فِي أَهْلِنَا مُشْفِقِينَ فَمَنَّ اللَّهُ عَلَيْنَا وَوَقَانَا عَذَابَ السَّمُومِ إِنَّا كُنَّا مِنْ قَبْلُ نَدْعُوهُ إِنَّهُ هُوَ الْبَرُّ الرَّحِيمُ
25:47
Speaker A
‘জান্নাতীরা একে অপরের কাছে এসে (বিভিন্ন বিষয়) জানতে চাইবে।
25:54
Speaker A
তারা বলবে, আমরা তো আগে (দুনিয়ার জীবনে) আমাদের পরিবার-পরিজনের মাঝে (আল্লাহর শাস্তি সম্পর্কে) শঙ্কিত ছিলাম।
26:03
Speaker A
অতপর আল্লাহ আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন এবং আমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করেছেন।
26:10
Speaker A
আমরা আগেও আল্লাহকে ডাকতাম।
26:14
Speaker A
নিশ্চয়ই তিনি পরম দানশীল, করুণাময়।’
26:17
Speaker A
(সূরা আত-তূর, আয়াত নং ২৫-২৮)
26:20
Speaker A
প্রিয় ভাই ও বোনেরা,
26:23
Speaker A
রোজাদারদের কয়েকটি ধরণ আছে।
26:28
Speaker A
যে ব্যক্তি পানাহার থেকে বিরত থেকেছে, তার রোজা পাবে অভ্যাসের কারণে।
26:34
Speaker A
যে ব্যক্তি রোজা অবস্থায় সুদ ও হারাম থেকে বেঁচে থাকে, অতপর হালাল খাদ্য দ্বারা ইফতার করে,
26:43
Speaker A
তাহলে তার রোজা অভ্যাসের সাথে সাথে ইবাদত হিসেবে গণ্য হবে।
26:48
Speaker A
যে গুনাহের কাজ এবং অবাধ্যতা থেকে দূরে থাকে এবং আল্লাহর আনুগত্য করা অবস্থায় ইফতার করে,
26:55
Speaker A
তাহলে সে এমন একজন রোজাদার, যার উপর আল্লাহ তা'আলা সন্তুষ্ট।
27:00
Speaker A
যে ব্যক্তি প্রবৃত্তি ও নফসের খাহেশাত থেকে দূরে থাকলো এবং শোকর ও সন্তুষ্টির উপর ইফতার করলো,
27:06
Speaker A
তাহলে সে একজন সফল রোজাদার।
27:09
Speaker A
ইবনুল কাইয়্যিম রাহিমাহুল্লাহ বলেন,
27:12
Speaker A
সিয়াম হলো মুত্তাকীদের জন্য লাগাম স্বরূপ।
27:16
Speaker A
যোদ্ধাদের জন্য ঢাল স্বরূপ।
27:19
Speaker A
আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের জন্য বাগান স্বরূপ।
27:23
Speaker A
রোজার গুরুত্ব বুঝানোর জন্য এত কিছু বলার প্রয়োজন নেই।
27:28
Speaker A
কেউ যদি সিয়ামের গুরুত্ব বুঝতে চায়, তাহলে তার জন্য এই কথাটি যথেষ্ট হবে,
27:34
Speaker A
যে আল্লাহ তা'আলা বলেন,
27:36
Speaker A
الصَّوْمُ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ
27:39
Speaker A
‘রোজা আমার জন্য। আর আমিই এর প্রতিদান দেবো।’
27:42
Speaker A
(সহীহুল বুখারী, হাদিস নং ৭৪৬২)
27:45
Speaker A
তারা বলে যে, রোজা হচ্ছে শ্রেষ্ঠ পুরুষত্ব এবং উচ্চ মনোশক্তি।
27:50
Speaker A
রমাদান মাস হলো গাইরুল্লাহ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার মাস।
27:54
Speaker A
আর গাইরুল্লাহ থেকে মুক্তি মানে হচ্ছে আল্লাহর পরিপূর্ণ দাসত্ব করা।
28:01
Speaker A
আর আল্লাহর পরিপূর্ণ দাসত্বের মাঝেই রয়েছে গাইরুল্লাহ থেকে পরিপূর্ণ মুক্তির পথ।
28:07
Speaker A
কেউ বলে রমাদান মাস হচ্ছে শক্তির মাস।
28:12
Speaker A
তাই সেই ব্যক্তি শক্তিশালী নয়, যে ক্রোধের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না।
28:18
Speaker A
বরং শক্তিশালী হলো সেই, যে ক্রোধের সময় নিজের নিয়ন্ত্রণ ঠিক রাখতে পারে।
28:24
Speaker A
তারা বলে,
28:27
Speaker A
সিয়াম হলো ধৈর্য, আনুগত্য, নিয়ম ও শৃঙ্খলার নাম।
28:31
Speaker A
কোন জাতি যদি এই গুণগুলো অর্জন করতে পারে, তাহলে তারা কখনো ধ্বংসের দিকে যাবে না।
28:37
Speaker A
কোন সৈন্যদল যদি এই উন্নত গুণাবলী অর্জন করতে পারে, তাহলে তাদের কখনো পরাজয়ের কবলে পড়তে হবে না।
28:43
Speaker A
সুতরাং একথা স্পষ্ট মনে রাখতে হবে যে, আল্লাহ তা'আলা সিয়ামের মাধ্যমে আপনাকে এমন শক্তিশালী হিসেবে গড়ে তুলতে চান।
28:50
Speaker A
অতএব খুবই সতর্কতা অবলম্বন করুন, যাতে এমন না হয়ে যায় যে, আপনার জীবন থেকে একটি রমাদান অতিবাহিত হয়ে গেছে।
28:58
Speaker A
অথচ আপনি এখনো অপরাধী ও পাপাচারী রয়ে গেলেন।
29:03
Speaker A
আপনার বিশৃঙ্খল জীবনে শৃঙ্খলা ফিরে আসলো না।
29:07
Speaker A
রমাদান মাস হচ্ছে ইবাদত এবং মুজাহাদার মাস।
29:11
Speaker A
আমাদের সালাফদের অবস্থা রমাদানের আগে এবং পরে একই রকম ছিল।
29:16
Speaker A
কিন্তু আজ আমাদের অবস্থা কি?
29:19
Speaker A
আমি রমাদান সম্পর্কে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের সাথে আলোচনা করেছি।
29:24
Speaker A
তারা আমাকে যা বলেছে, তা খুবই হতাশার।
29:28
Speaker A
তরুণরা আমাকে বলেছে, কোন দিক দিয়ে রমাদান আসে আর কোন দিক দিয়ে চলে যায়,
29:35
Speaker A
এ বিষয়ে তাদের কোন খোঁজই থাকে না।
29:39
Speaker A
কারণ রমাদানে তাদের রাত কাটে নেটফ্লিক্স, ইউটিউব আর ফেসবুকে সময় ব্যয় করে।
29:46
Speaker A
সকাল কাটে ঘুমে বিভোর থেকে।
29:49
Speaker A
এজন্য রমাদানও তাদের গুনাহ থেকে বিরত রাখতে পারে না।
29:54
Speaker A
ব্যবসায়ীরা আমাকে বলেছে, রমাদান আসলে তাদের ব্যস্ততা বেড়ে যায়।
30:00
Speaker A
কারণ ইবাদতের মৌসুমটা তাদের কাছে ব্যবসার মৌসুম হয়ে গেছে।
30:05
Speaker A
প্রিয় ভাইয়েরা,
30:07
Speaker A
আসলেই রমাদান আমাদের কাছে অনেক অবহেলার মাসে পরিণত হয়েছে।
30:12
Speaker A
শুরুর দশকে মসজিদে মুসল্লির বেশ ভিড় দেখা যায়।
30:17
Speaker A
কিন্তু দশ দিন না যেতেই সেই ভিড় আর চোখে পড়ে না।
30:21
Speaker A
মসজিদ আবার ফাঁকা হয়ে যায়।
30:23
Speaker A
রমাদানে অনেকে মুখে খোঁচা খোঁচা দাড়ি রাখে, সিগারেট ছেড়ে দেয়।
30:30
Speaker A
রমাদান শেষ হলে সেই তারাই আবার ক্লিন শেপ করে আমাদের সামনে এসে উপস্থিত হয়।
30:35
Speaker A
রমাদান আমাদের জন্য খাবার দাবার আর আড্ডার মাসে পরিণত হয়েছে।
30:40
Speaker A
রমাদানের শেষ দশকগুলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
30:46
Speaker A
অথচ আমরা সেই শেষ দশকটাই মার্কেটে ঘুরে ঘুরে কাটিয়ে দেই।
30:52
Speaker A
প্রিয় ভাই ও বোন,
30:55
Speaker A
এটাই হচ্ছে বর্তমানে আমাদের রমাদান পালনের অবস্থা।
31:00
Speaker A
কোথায় হারিয়ে গেল আমাদের ইবাদত আর নির্জনতা।
31:03
Speaker A
শেষ বারের মতো আপনাদের আহ্বান করছি।
31:07
Speaker A
হে প্রিয় মা, আফসোস আমাদের জন্য।
31:12
Speaker A
কিসে আমাদেরকে ধোঁকাগ্রস্ত করে রেখেছে?
31:16
Speaker A
কি কারণে আজ আমরা উদাসীন হয়ে আছি?
31:20
Speaker A
কে আমাদেরকে অজ্ঞতার সাগরে ডুবিয়ে মারছে?
31:24
Speaker A
কি জন্য আমাদের সৃষ্টি করা হয়েছে?
31:28
Speaker A
জান্নাতের জন্য নাকি জাহান্নামের জন্য?
31:31
Speaker A
হে উদাসীনতা আর অলসতার মেঘ, আমাদের অন্তর থেকে তুমি সরে যাও।
31:36
Speaker A
হে তাকওয়া ও ঈমানের সূর্য, আমাদের হৃদয়কে আলোকিত করে দাও।
31:41
Speaker A
নেককারদের আমলনামার পাতাগুলো বাড়তে থাকুক।
31:45
Speaker A
রোজাদারদের অন্তরগুলোতে আল্লাহর ভয় সৃষ্টি হোক।
31:50
Speaker A
তাহাজ্জুদ গুজারদের সময়গুলো সেজদার রুকুর মধ্যে বেয়ীত হোক।
31:55
Speaker A
তোমাদের চক্ষুগুলো জেগে থাকুক।
31:58
Speaker A
রবের কাছে প্রার্থনায়।
32:02
Speaker A
হে তাওবাকারীদের পাপগুলো, তোমরা এই জীবনে দ্বিতীয়বার আর ফিরে এসো না।
32:07
Speaker A
হে প্রবৃত্তির রাজ্য, তুমি তোমার রাজত্ব গুটিয়ে নাও।
32:10
Speaker A
হে আত্মা, তুমি পরিশুদ্ধ হয়ে যাও।
32:13
Speaker A
হে আল্লাহর পরিচয় জানা আত্মাগুলো, তোমরা উপভোগ করতে থাকো।
32:17
Speaker A
হে গাইরুল্লাহর প্রেমে মগ্ন আত্মাগুলো, তোমরা থেমে যাও।
32:20
Speaker A
প্রিয় ভাই ও বোন,
32:23
Speaker A
আমি আপনাদের সামনে রমাদানের জন্য কিছু উত্তম নসিহা পেশ করলাম।
32:28
Speaker A
আছে কি কেউ তা গ্রহণ করার মতো?
32:31
Speaker A
আল্লাহ তা'আলা বলেন,
32:33
Speaker A
يَا قَوْمَنَا أَجِيبُوا دَاعِيَ اللَّهِ وَآمِنُوا بِهِ يَغْفِرْ لَكُمْ مِنْ ذُنُوبِكُمْ وَيُجِرْكُمْ مِنْ عَذَابٍ أَلِيمٍ وَمَنْ لَا يُجِبْ دَاعِيَ اللَّهِ فَلَيْسَ بِمُعْجِزٍ فِي الْأَرْضِ وَلَيْسَ لَهُ مِنْ دُونِهِ أَوْلِيَاءُ أُولَئِكَ فِي ضَلَالٍ مُبِينٍ
32:42
Speaker A
‘হে আমাদের সম্প্রদায়, তোমরা আল্লাহর দিকে আহ্বানকারীর ডাকে সাড়া দাও।
32:48
Speaker A
এবং তার কথায় বিশ্বাস করো।
32:51
Speaker A
তাহলে আল্লাহ তোমাদের পাপ মার্জনা করবেন এবং যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি থেকে তোমাদেরকে রক্ষা করবেন।
32:57
Speaker A
আর যারা আল্লাহর দিকে আহ্বানকারীর ডাকে সাড়া দেবে না, তারা পৃথিবীতে (আল্লাহকে) অক্ষম করতে (অর্থাৎ আল্লাহর শাস্তি থেকে রেহাই পেতে) পারবে না।
33:06
Speaker A
এবং তিনি ছাড়া তাদের সাহায্যকারীও থাকবে না।
33:10
Speaker A
তারা সুস্পষ্ট বিভ্রান্তির মধ্যে রয়েছে।’
33:12
Speaker A
(সূরা আল-আহকাফ, আয়াত নং ৩১-৩২)
33:15
Speaker A
সুতরাং তাকে স্বাগত জানাচ্ছি,
33:18
Speaker A
যে এই আহ্বানে সাড়া দিল এবং তা থেকে উপকৃত হলো।
33:22
Speaker A
আর ধ্বংস সেই ব্যক্তির জন্য, যে তা ফিরিয়ে দিল।
33:26
Speaker A
আপনার জন্য কি আল্লাহ তা'আলার এই কথাটি যথেষ্ট নয়,
33:31
Speaker A
যে الصَّوْمُ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ
33:34
Speaker A
‘রোজা আমার জন্য। আর আমিই এর প্রতিদান দেবো।’
33:37
Speaker A
(সহীহুল বুখারী, হাদিস নং ৭৪৬২)

Transcribe Another YouTube Video

Paste any YouTube link and get the full transcript with timestamps for free.

Transcribe a YouTube Video