গবেষণা মতে সন্তান কে বকাঝকা নয় বুদ্ধি খাটিয়ে শিক্ষা দিন… — Transcript

বকাঝকা নয়, বুদ্ধি খাটিয়ে সন্তানকে শেখানোর ১০টি বিজ্ঞানভিত্তিক কৌশল ও এপিজে আব্দুল কালামের প্রেরণামূলক বক্তব্য।

Key Takeaways

  • বকাঝকা শিশুর মস্তিষ্ক ও আত্মবিশ্বাসের জন্য ক্ষতিকর।
  • বাচ্চাদের সাথে যুক্তি দিয়ে কথা বলা ও তাদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া তাদের চিন্তাশক্তি বাড়ায়।
  • ইমোশনাল লেভেলিং ও ভালোবাসা দিয়ে শেখানো শিশুর ভবিষ্যতের সফলতার চাবিকাঠি।
  • শান্ত পরিবেশ ও পজিটিভ রিইনফোর্সমেন্ট শিশুর শেখার আগ্রহ ও দায়িত্ববোধ বাড়ায়।
  • ডক্টর এপিজে আব্দুল কালামের মতে, সন্তানকে ভয় না দিয়ে স্বপ্ন দেখানো উচিত।

Summary

  • বকাঝকা করলে শিশুর মস্তিষ্কে কর্টিসল হরমোন বেড়ে আত্মবিশ্বাস ও শেখার ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
  • ডক্টর এপিজে আব্দুল কালাম বলেছেন সন্তানকে কখনো বকাঝকা করা উচিত নয়, তারা আমাদের ভবিষ্যতের ছবি।
  • বাচ্চাদের ভয় না পেয়ে চিন্তা করতে শেখানোর জন্য কৌতুহল তৈরি করা উচিত।
  • বাচ্চাদের যুক্তি দিয়ে বোঝানো এবং কেন প্রশ্নের উত্তর দেওয়া তাদের ক্রিটিক্যাল থিঙ্কিং বাড়ায়।
  • শিশুর আবেগ চেনানো ও ইমোশনাল লেভেলিং তাদের ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স উন্নত করে।
  • বাচ্চাদের কথা বেশি শুনুন, কম প্রতিক্রিয়া দিন এবং ধৈর্য ধরে শান্তভাবে উত্তর দিন।
  • পজিটিভ রিইনফোর্সমেন্ট ব্যবহার করে ভালো কাজের জন্য প্রশংসা দিন, শাস্তি নয়।
  • বাচ্চাদের বিকল্প দিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে দিন এবং কামডাউন কর্নার তৈরি করে তাদের শান্তির জায়গা দিন।
  • নিজেই ভালো রোল মডেল হয়ে আচরণ দেখান, আদেশ না দিয়ে উদাহরণ দিন।
  • ভালোবাসা দিয়ে শেখানো শুরু করুন, কারণ আগে এফেকশন তারপর কারেকশন করলে শিশুর শেখার ক্ষমতা বাড়ে।

Full Transcript — Download SRT & Markdown

00:00
Speaker A
আপনি কি জানেন প্রতিবার যখন আপনি আপনার সন্তানকে বকা ঝকা করেন, তখন তার মস্তিষ্কে এমন এক রাসায়নিক প্রতিক্রিয়া হয় যা তার আত্মবিশ্বাস এবং শেখার ক্ষমতাকে ধীরে ধীরে নষ্ট করে দেয়। তার মধ্যে একটা ভয় তৈরি হয়, সব সময় তার মধ্যে একটা ভয় কাজ করে।
00:17
Speaker A
ডক্টর এপিজে আব্দুল কালাম বলেছিলেন, সন্তানকে কখনো বকা ঝকা করো না। ওরা তোমার ভবিষ্যতের ছবি। আজকের এই ভিডিওটিতে আমরা জানবো বিজ্ঞান এবং মনোবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে কিভাবে সন্তানকে না বকেও সঠিক পথে আনা যায় তাদেরকে। আজকের এই ভিডিওটি কিন্তু ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ এবং অনেক অনেক
00:33
Speaker A
নতুন নতুন ইনফরমেশন আজকের এই ভিডিওটিতে থাকবে। ভিডিওটি কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেখবেন। কেননা আজকের এই ভিডিওটিতে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করব গবেষণায় প্রমাণিত ১০টি বুদ্ধিদীপ্ত কৌশল যা আপনার সন্তানকে করবে আত্মবিশ্বাসী, দায়িত্বশীল এবং সৃজনশীল। তো আসসালামু আলাইকুম ভিউয়ার্স। আমি জেসমিন বলছি। এই মুহূর্তে
00:50
Speaker A
আপনারা সবাই কানেক্টেড আছেন জেসমিনস বেবি ক্যাটগই চ্যানেলটির সাথে। তো চলুন কথা না বাড়িয়ে ঝটপট মূল ভিডিওটিতে চলে যাই। তো প্রথমেই জানবো বকাঝকা কেন কাজ করে না। গবেষণা কি বলছে? গবেষণা বলছে যখন বাবা-মায়েরা চিৎকার করে বকাঝকা করে, তখন শিশুর
01:09
Speaker A
ব্রেইনে কর্টিসল নামের যে স্ট্রেস হরমোনটা রয়েছে, সেটা অনেক বেড়ে যায়। হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি একটি গবেষণায় দেখা গেছে অতিরিক্ত বকাঝকা করা শিশুর ইমোশনাল ব্রেন রিজিয়ন, মানে এগডাল আমরা যেটাকে বলি, সেটাকে দুর্বল করে দেয়। ফলে কি হয়?
01:24
Speaker A
শিশুর শেখার ক্ষমতাটা অনেক বেশি কমতে থাকে। কমে যায়। শিশুর আত্মবিশ্বাস নষ্ট হয় এবং সবথেকে ভয়ঙ্কর যে বিষয়টা সেটা হচ্ছে সে মিথ্যা বলার প্রবণতা শিখে ফেলে। অর্থাৎ কি দাঁড়ালো? আপনি মানে বাবা-মা হিসেবে আমরা যত বেশি চিৎকার করব, গার্জিয়ানরা যত বেশি আমরা বকা ঝকা করব,
01:40
Speaker A
বাচ্চা তত বেশি ভয় পাবে এবং কি হবে? কম শিখবে। সুতরাং ভয় বেশি পাবে এবং কম শিখবে। সুতরাং বাচ্চাদেরকে বেশি বকা ঝকা করলে, চিৎকার চেঁচামেচি করলে, তাদের সাথে অনেক বেশি রাগারাগি করলে বাচ্চারা কিন্তু ভয় পায় এবং কম শিখে। এটাই হচ্ছে মূল
01:55
Speaker A
পয়েন্ট। বাচ্চারা অনেক বেশি ভয় পায় এবং কম শিখে। তো এখন বিজ্ঞানভিত্তিক ১০টি কৌশল আপনাদের সাথে শেয়ার করব। ১০টি কৌশল কিন্তু ভীষণ ভীষণ কার্যকরী। প্রথম কৌশল হচ্ছে বকা ঝকা নয়, কৌতুহল তৈরি করুন। যেমন ধরুন বাচ্চার দেয়াল রং করে ফেলল। আপনি
02:10
Speaker A
চিৎকার চেঁচামেচি বা রাগারাগি না করে বাচ্চাকে বললেন, তুমি কেন এই রংটাই বেছে নিলে? ভীষণ ইন্টারেস্টিং। এতে শিশু কিন্তু ভয় পাবে না। কি হবে? সে কিন্তু ভাবতে শিখবে। আপনি তাকে কোশ্চেন করছেন, প্রশ্ন করছেন। তুমি এই রংটাই কেন বেছে নিলে? অন্য
02:23
Speaker A
কোন রঙও তো তুমি চুজ করতে পারতে। অন্য কোন রংও তো তুমি নিতে পারতে। এই রংটাই তুমি কেন নিলে? তাহলে দেখুন বাচ্চা কিন্তু ভয় পাচ্ছে না। বরং সে চিন্তা করতে পারছে, সে ভাবতে পারছে। দু' নাম্বার কৌশলটি কিন্তু ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। সেটা হচ্ছে হোয়াই বা
02:36
Speaker A
কেন প্রশ্নের উত্তর দিবেন। গবেষণায় দেখা গেছে যেসব বাচ্চারা বাবা-মায়ের কাছ থেকে যুক্তি পায়, তারা অনেক বেশি ক্রিটিক্যাল থিঙ্কার হয়। একটু উদাহরণ দিয়ে বলি তাহলে হয়তো আপনি বুঝতে পারবেন। যেমন আপনি বাচ্চাকে বললেন আমরা এখন ঘুমিয়ে যাব। আমরা এখন ঘুমবো কারণ সকালে তাড়াতাড়ি
02:51
Speaker A
উঠতে হবে। আমরা এখন ডিম খাবো কারণ ডিম খেলে বুদ্ধি হয়। ঠিক এইভাবে আপনি বাচ্চার সাথে কথা বলবেন। সবসময় কারণ দিয়ে কথা বলবেন। আমরা এখন এটা করব কারণ এটা করলে এটা হবে। এইভাবে বাচ্চার সাথে কথা বলবেন। তাহলে কি হবে? বাচ্চা কিন্তু চিন্তা করতে
03:05
Speaker A
পারবে এবং আপনার সাথেও কিন্তু একটা গুড বন্ডিং তৈরি হবে। তিন নাম্বার কৌশলটিও কিন্তু ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। সেটা হচ্ছে ইমোশনাল লেভেলিং। মানে হচ্ছে শিশুকে তার আবেগ চেনাতে শেখান। একটু উদাহরণ দিয়ে বলি। যেমন আপনি আপনার বাচ্চাকে বললেন, তুমি এখন রেগে আছো। আমি কি ঠিক বলছি? এতে
03:20
Speaker A
করে কি হয়? ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স বাড়ে এবং সে কিন্তু বুঝতে পারছে যে আপনি তাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। এই যে এই কৌশলটি, এটা কিন্তু খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি কৌশল। ড্যানিয়েল গোলম্যানের গবেষণা অনুযায়ী এই যে কৌশলটির কথা বললাম, ইমোশনাল লেভেলিং এটা কিন্তু বাচ্চাদের ভবিষ্যতের সফলতার মূল
03:35
Speaker A
চাবি। চার নাম্বার কৌশলটাও কিন্তু ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। এটাতে কিন্তু দেখা যায় আমরা অনেকেই অবহেলা করে থাকি। সেটা কি?
03:41
Speaker A
লিসেন মোর রিয়েক্টলেস। মানে অনেক বেশি করে শুনুন, বাট রিএকশনটা কম দিবেন। কিন্তু আমরা কি করে ফেলি? আমরা ভুলবশত জেনে না জেনে বুঝে না বুঝে রিএকশনটা বেশি দিয়ে দেই, বাট আমরা কিন্তু বাচ্চার কাছ থেকে বেশি একটা শুনি না। কিন্তু আমাদেরকে কিন্তু
03:54
Speaker A
অনেক বেশি করে শুনতে হবে। এই কৌশলটা কিন্তু ভীষণ ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। এই কৌশলটির বিষয়ে ডক্টর এপিজে আব্দুল কালাম কি বলতেন? ডক্টর এপিজে আব্দুল কালাম বলতেন, শিশুরা তখনই শেখে যখন তুমি ওদের শোনো। তো এই যে চার নাম্বার কৌশলটি সংক্ষেপে যদি আমি এটার কথা
04:08
Speaker A
বলি, ৩০ সেকেন্ড চুপ করে বাচ্চার কথা শুনুন, তারপর শান্ত হয়ে নরমভাবে উত্তর দিন। পাঁচ নাম্বার কৌশলটির কথা বলব, যেটা কিন্তু অনেক গুরুত্বপূর্ণ এবং আমার রিসেন্ট আপলোড করা বেশ কিছু ভিডিওটিতেই কিন্তু আমি এই নিয়ে আপনাদের সাথে কথা বলেছি। সেটা হচ্ছে
04:21
Speaker A
পজিটিভ রিইনফোর্সমেন্ট। একটু বুঝিয়ে বলি, খারাপ কাজের জন্য কোন শাস্তি নয়। ভালো কাজের জন্য প্রশংসা দিন। একটু উদাহরণ দিয়ে বলি, যেমন বাচ্চাকে আপনি বললেন তুমি নিজে থেকেই আজ বই গুছিয়েছো। খুব ভালো। খুব খুশি হয়েছি। স্কিনারস অপারেন্ট কন্ডিশনিং থিওরি অনুযায়ী প্রশংসা আচরণকে
04:36
Speaker A
বারবার ঘটায়। মানে হচ্ছে আপনি যদি বাচ্চাকে প্রশংসা করেন, তাহলে দেখা যাবে সে ভালো কাজগুলো আরো বেশি বেশি করার জন্য অনুপ্রাণিত হচ্ছে। সে আরো বেশি করে কিন্তু ভালো কাজগুলো করতে উৎসাহিত বোধ করবে। ছ নাম্বার কৌশলটি হচ্ছে আদেশ নয়, বিকল্প
04:50
Speaker A
দিন। বাচ্চাকে সবসময় সিদ্ধান্ত নিতে অপশন দিবেন। যেমন আমি একটি ছোট্ট উদাহরণ দিয়ে বলি, তুমি এখন পড়বে নাকি ১০ মিনিট পরে পড়বে? তুমি এখন খাবে নাকি ১০ মিনিট পরে খাবে? তুমি কি এখন ঘুমোবে নাকি একটু খেলে তারপর তুমি ঘুমোবে? সাত নাম্বার কৌশলে চলে
05:04
Speaker A
যাব। সেটা হচ্ছে কামডাউন কর্নার তৈরি করে দিবেন বাচ্চার জন্য। একটু বুঝিয়ে বলি, বাচ্চাকে পানিশমেন্ট কর্নার নয়, কাম কর্নার দিন। মানে হচ্ছে বাচ্চার জন্য একটি কমফর্ট জোন তৈরি করে দিন। বাচ্চা যেখানে শান্ত হয়ে বসতে পারে, একটু খেলতে পারে, নিজের মত সময় কাটাতে পারে। গবেষণা কি
05:18
Speaker A
বলছে? এ বিষয়ে গবেষণা বলছে এটি শিশুদের ইমোশনাল রেগুলেশন শিখতে সাহায্য করে। আট নাম্বার কৌশলটি কিন্তু ভীষণ ইম্পরটেন্ট। আপনি যেমন আচরণ করবেন, সন্তান সেটাই কপি করবে। সহজ করে একটু বুঝিয়ে বলি। যেমন বাচ্চাকে চুপ করো এই কথাটি না বলে আপনি
05:31
Speaker A
নিজেই চুপ করে যান। এইভাবে আপনি নিজেই চুপ করে বাচ্চাকে উদাহরণ দিন এবং বাচ্চাকে বোঝান যে এটা হচ্ছে চুপ করে থাকা এবং এইভাবে চুপ করে থাকতে হয়। সুতরাং বাচ্চাকে সবসময় কমান্ড না করে আদেশ না করে আপনি নিজেই রোল মডেল হন। নয় নাম্বার
05:43
Speaker A
কৌশলটা ভীষণ ইম্পর্টেন্ট, সেটা হচ্ছে প্রবলেম সলভিং টুগেদার। একটু সহজ করে বলি, বাচ্চার ভুল নিয়ে আপনি আলোচনা করুন। আমরা কিভাবে এটা ঠিক করতে পারি? বাচ্চাকে সাথে নিয়ে বাচ্চার ভুলটা নিয়ে আপনি কথা বলুন। চমৎকার একটি বিষয়। এতে কি হয়? এতে কিন্তু
05:56
Speaker A
বাচ্চার মধ্যে দায়িত্ববোধ বাড়ে এবং সে কিন্তু বুঝতে পারে যে আপনি তার শত্রু নন। আপনি তার সহযোগী। লাস্ট বাট নট লিস্ট ১০ নাম্বার কৌশলে চলে যাব। সেটা হচ্ছে লাভ বিফোর টিচ। মানে বাচ্চাকে শেখানোর আগে তাকে একটু ভালোবাসুন। গবেষণা ভিত্তিক ভীষণ
06:08
Speaker A
ইন্টারেস্টিং একটি ফাইন্ডিংস রয়েছে। গবেষণা বলছে বাচ্চার জন্য আগে এফেকশন, তারপর কারেকশন। এটা কিন্তু দুর্দান্ত লেগেছে আমার। মানে বাচ্চাকে আগে এফেকশন দিতে হবে, তারপর বাচ্চার ভুল ত্রুটি নিয়ে কারেকশন করতে হবে এবং এটা করলে হবে কি? বাচ্চা কিন্তু অনেক বেশি রিসিপটিভ হবে।
06:22
Speaker A
বাচ্চা অনেক বেশি কিন্তু আপনি যা শেখান সেটাকে নিতে পারবে এবং বাচ্চা নেবে। আপনারা হয়তো অনেকেই বিষয়টা বুঝতে পারছেন না। আমি আরো একটু সহজ করে বলি। মনে করুন আপনি বাচ্চাকে জড়িয়ে ধরলেন, হাক করলেন, তারপর আপনি বাচ্চাকে বললেন তুমি যেটা করছো
06:33
Speaker A
সেটা ঠিক নয়, কিন্তু আমি তোমাকে ভালোবাসি। ডক্টর এপিজে আব্দুল কালাম বলেছিলেন, সন্তানকে ভয় নয়, স্বপ্ন দাও। তবেই সে বড় হয়ে পৃথিবী বদলে দিতে পারবে। আজ থেকেই বকা ঝকা নয়, ভালোবাসার বুদ্ধি দিয়ে সন্তানকে শেখানো শুরু করুন কারণ আপনার সন্তান শুধু আজকে শিশু নয়, সে হচ্ছে
06:48
Speaker A
আগামী দিনের নেতা, আগামী দিনের সুন্দর মনের মানুষ। সন্তানকে বকাঝকা করলে কি কি ক্ষতি হতে পারে? কি কি ক্ষতি হয়? ছয়টি ভয়ঙ্কর দিকের কথা এখন আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করব যা অবশ্যই সাইন্স বেসড, রিসার্চ বেসড, গবেষণা ভিত্তিক। তো প্রথম ক্ষতিটি হচ্ছে
07:04
Speaker A
মস্তিষ্কের বিকাশে বাধা, ব্রেন ডেভেলপমেন্ট ড্যামেজ। গবেষণায় কি দেখা গেছে? গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত বকাঝকা করলে বাচ্চার প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স বা বুদ্ধি নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র দুর্বল হয়ে যায়। এর ফলে কি হয়? এর ফলে বাচ্চার সমস্যা সমাধানে দুর্বল হয়, মনোযোগ হারায় আর শেখার আগ্রহ কমে যায়। একটি ছোট্ট
07:24
Speaker A
উদাহরণ দিই আপনাদেরকে। এক্সপেরিমেন্টে দেখা গেছে চিৎকার শোনা বাচ্চাদের আইকিউ গড়ে পাঁচ থেকে সাত পয়েন্ট কম থাকে শান্ত পরিবেশের বাচ্চাদের তুলনায়। ভেবেছেন? কতটুকু ভয়ঙ্কর এই বিষয়টা? দু' নাম্বার ক্ষতিটি হচ্ছে আত্মবিশ্বাস নষ্ট হয়ে যায়। লস অফ সেলফ এস্টিম। যখন আপনি
07:41
Speaker A
বলেন তুমি কিছুই পারো না, তখন শিশু বিশ্বাস করে সে সত্যিই অক্ষম। এতে ওর ভেতরে আমি পারি মনোভাব মরে যায়। পরে জীবনে সে ঝুঁকি নিতে ভয় পায়, চ্যালেঞ্জ এড়িয়ে চলে, এভয়েড করে। তো চিন্তা করেছেন এটাও কিন্তু বেশ গুরুত্বপূর্ণ।
07:56
Speaker A
তিন নাম্বার ক্ষতিটি হচ্ছে মানসিক চাপ এবং উদ্বেগ তৈরি হয়। ইমোশনাল স্ট্রেস এন্ড অ্যাংজাইটি। বকা ঝকার সময় বাচ্চার শরীরে কর্টিসল হরমোন বেড়ে যায়। এটাই কিন্তু স্ট্রেস হরমোন। আপনারা অলরেডি জানেন দীর্ঘমেয়াদে এটা ডিপ্রেশন, ভয় এবং ঘুমের সমস্যা তৈরি করে। একটি ছোট্ট উদাহরণ দিই।
08:14
Speaker A
অনেক বাচ্চা বকা ঝোঁকা পর আঁকা আঁকিতে কালো রং বেশি ব্যবহার করে। এটা কিন্তু চাপের ইঙ্গিত। তো আপনারা কি এই ইনফরমেশনটা জানতেন? এটা কিন্তু ভীষণ ইন্টারেস্টিং এবং এটা কিন্তু অবশ্যই আমাদেরকে খেয়াল রাখতে হবে। চার নাম্বার ক্ষতিটির কথা বলব। সেটা
08:28
Speaker A
হচ্ছে পিতামাতার প্রতি দূরত্ব তৈরি হয়। প্যারেন্ট চাইল্ড ডিসকানেক্ট। যে বাচ্চা বারবার বকুনি খায় সে ধীরে ধীরে ভাবতে শুরু করে। আমার মা-বাবা আমাকে ভালোবাসে না। ফলাফল কি হয়? সে গোপনীয় হয়ে যায়। মিথ্যা বলে। আর ছোটবেলাতেই সম্পর্কের দেয়াল তৈরি হয়। এটা কিন্তু আমরা বড়রা
08:45
Speaker A
না বুঝে না জেনে অনেকেই কিন্তু এরকমটা করে থাকি। আমরা বুঝতেই পারি না যে বাচ্চার সাথে আমাদের বন্ডিংটা উইক হয়ে যাচ্ছে। পাঁচ নাম্বার ক্ষতিটি কথা বলব। সেটা হচ্ছে আচরণে নীতিবাচকতা আসে। বিহেভিয়ারাল প্রবলেমস। যদি বাচ্চা দেখছি আপনি রেগে কথা বলছেন সেও শেখে রেগে প্রতিক্রিয়া দিতে।
09:03
Speaker A
তাই বকা ঝকা করা বাচ্চাকে শান্ত না করে বরং আরো জেদি ও আগ্রাসি করে তোলে। ছয় নাম্বার ক্ষতিটির কথা বলব সেটা হচ্ছে ভালোবাসার ভাষা হারিয়ে ফেলে। লস অফ ইমোশনাল ল্যাঙ্গুয়েজ। এটাই সবচেয়ে ভয়ঙ্কর দিক বলে আমি মনে করি। যে শিশুর
09:17
Speaker A
সাথে রাগের ভাষায় কথা বলা হয় সে ভালোবাসার ভাষা বোঝে না। পরে জীবনে সে সম্পর্ক, ভালোবাসা, সহানুভূতি সবকিছুতেই কিন্তু দুর্বল হয়ে পড়ে। ছোট্ট একটি সাইন্টিফিক নোট আপনাদের সাথে শেয়ার করি। হারভার্ড ইউনিভার্সিটির গবেষণা অনুযায়ী শিশুর সাথে সদয় আচরণ করলে ওর মস্তিষ্কে
09:33
Speaker A
নিউরন সংযোগ বৃদ্ধি পায়। যা ভবিষ্যতে বুদ্ধি, সহানুভূতি ও নেতৃত্বগুণ গড়ে তোলে। তো আপনাদের উদ্দেশ্যে যদি পজিটিভ প্যারেন্টিং টিপসের কথা বলি আমি একটাই কথাই আপনাদেরকে বলব প্রতিদিন একবার হলেও বলুন তুমি আমার গর্ব আমি তোমাকে ভালোবাসি। এটাই ওর আত্মবিশ্বাসের সবচেয়ে বড়
09:49
Speaker A
জ্বালানি বলে আমি মনে করি। কেমন লেগেছে আজকের ভিডিও? কতটুকু ইনফরমেটিভ ছিল অবশ্যই আমাকে কমেন্ট সেকশনে জানাবেন। আর এরকম ছোট বড় আরো অনেক ইনফরমেটিভ ভিডিওস পেতে আমার চ্যানেলের সাথে কানেক্টেড থাকবেন জেস বেবি ক্যাটক YouTube চ্যানেল। যদি ভিডিওটি ভালো লাগে অবশ্যই একটি লাইক করে দিবেন। শেয়ার
10:04
Speaker A
করে দিবেন আপনার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে, আপনার রিলেটিভসদের সাথে, আপনার ক্লোজ ওয়ানদের কাছে। সবাই ভালো থাকবেন। বাচ্চাদেরকে ভালো রাখবেন। আল্লাহ হাফেজ।
Topics:বকাঝকাশিশু শিক্ষাপ্যারেন্টিং টিপসএপিজে আব্দুল কালামমনোবিজ্ঞানবাচ্চার মস্তিষ্কআত্মবিশ্বাসইমোশনাল ইন্টেলিজেন্সপজিটিভ রিইনফোর্সমেন্টশিশু বিকাশ

Frequently Asked Questions

বকাঝকা করলে শিশুর মস্তিষ্কে কী প্রভাব পড়ে?

বকাঝকা করলে শিশুর মস্তিষ্কে কর্টিসল নামক স্ট্রেস হরমোন বেড়ে যায়, যা তাদের আত্মবিশ্বাস ও শেখার ক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং মস্তিষ্কের ইমোশনাল রিজিয়ন দুর্বল করে।

শিশুকে বকাঝকা না করে কিভাবে শেখানো যায়?

শিশুকে বকাঝকা না করে তাদের কৌতুহল সৃষ্টি করে প্রশ্ন করা, যুক্তি দিয়ে বোঝানো, আবেগ চেনানো, বেশি শুনে শান্তভাবে উত্তর দেওয়া এবং পজিটিভ রিইনফোর্সমেন্ট ব্যবহার করে শেখানো যায়।

ডক্টর এপিজে আব্দুল কালাম সন্তান শিক্ষায় কী পরামর্শ দিয়েছিলেন?

ডক্টর এপিজে আব্দুল কালাম বলেছিলেন সন্তানকে কখনো বকাঝকা করা উচিত নয়, তাদেরকে ভয় না দিয়ে স্বপ্ন দেখানো উচিত কারণ তারা আমাদের ভবিষ্যতের নেতা ও সুন্দর মনের মানুষ।

Get More with the Söz AI App

Transcribe recordings, audio files, and YouTube videos — with AI summaries, speaker detection, and unlimited transcriptions.

Or transcribe another YouTube video here →